নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন পাওয়ার সুযোগ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি আবাসন প্ল্যাটফর্ম ‘হাউজিং কানেক্ট’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে লটারির ভিত্তিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হাউজিং কানেক্ট কর্মসূচির আওতায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য নির্ধারিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়। আগ্রহী আবেদনকারীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রুকলিনে কম ভাড়ায় দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোনো আবাসনের ভাড়া, ইউনিটের ধরন কিংবা যোগ্যতার শর্ত নির্ভর করে নির্দিষ্ট প্রকল্পের ওপর। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা জরুরি।
হাউজিং কানেক্টের মাধ্যমে পরিচালিত এসব কর্মসূচিতে আবেদনকারীদের পারিবারিক আয়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। নির্বাচিত ব্যক্তিদের পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসন ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন কর্মসূচিগুলো অনেক বাসিন্দার কাছে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রকল্পে নিয়মিত আবেদন গ্রহণ করা হয়।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং কানেক্ট ওয়েবসাইটে চলমান ও আসন্ন আবাসন লটারির বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যাবে। কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শুধুমাত্র সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে এবং এ ধরনের আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো ফি প্রদান না করার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি-আমেরিকান রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান রিয়েলটরস অব নিউইয়র্ক (আবার্নি)-এর ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের ভোটে নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাব্বির আহমেদ। সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাদির খান, সম্পাদক ইমরান ভূঁইয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাজনীন মির্জা। নবনির্বাচিত বোর্ড অব ডিরেক্টরস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাজী হোসেন, কবির মুন্সী, হাসান ইমাম এবং তৌহিদুল ইসলাম। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে আবার্নির বার্ষিক ইনস্টলেশন ও অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে সদস্যদের আবেদন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৌহিদুল ইসলামকে পরিচালক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। পরিচালক পদে আগ্রহ প্রকাশকারী সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ কবির, সাকিল আহমেদ এবং বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ রহমান নতুন নেতৃত্বকে দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। এক বিবৃতিতে বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ রহমান নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠন আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটি সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি সংগঠনের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং কমিউনিটির সবাইকে নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানাতে এবং তাদের সফলতার জন্য সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। মোহাম্মদ রহমান বলেন, সবাই মিলে পেশাকে আরও শক্তিশালী করা, সদস্যদের উন্নয়নে কাজ করা এবং কমিউনিটির সেবা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই সংগঠন এগিয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় দেশের অনেক এলাকার তুলনায় বেশি। তবে এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর-সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে এসব সুবিধা কেবল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, বাস্তবে অনেক কর্মসূচি শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও উন্মুক্ত। নিউইয়র্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে অথবা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে এসব কর্মসূচি বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ এবং শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রতি বছর হাজারো পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসে। কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় অনেক সময় বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্কে শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। যোগ্য পরিবারগুলো শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা অনুমোদিত পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ কিংবা উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। এর ফলে অনেক অভিভাবক নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন। নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধা নিউইয়র্কের অন্যতম আলোচিত কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ অথবা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার জন্য কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি গ্রহণ করতে পারেন। পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এই কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। যেসব পরিবার সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়ে, তারা খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটাতে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। শীতপ্রধান এই অঙ্গরাজ্যে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয় কমাতে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্রপাতি মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবীণদের স্বাধীন ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও নিউইয়র্কে বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যাকারী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য বেকারত্বকালীন সহায়তা নিউইয়র্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবাও গ্রহণ করতে পারেন। শিক্ষার্থী এবং শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি। বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার, শিক্ষা সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে শিশু কর-সুবিধার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা স্টেট সরকারের সুবিধার পাশাপাশি নগর প্রশাসনের বিভিন্ন বিশেষ সেবাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি সহায়তা, সামাজিক সেবা, অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিচয়পত্র, আইনি সহায়তা, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়সেবা এবং বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক সুবিধা। বর্তমানে এসব সেবার বড় অংশ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, ফলে আবেদন ও তথ্য সংগ্রহ আরও সহজ হয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্কে কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য কর-সুবিধা, শিশুদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা, প্রবীণদের জন্য সম্পত্তি কর-ছাড় এবং বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তার জন্য যোগ্য না হলেও এসব কর-সুবিধা ও পরিবারভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো কেবল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা শিশু, পরিবার, কর্মজীবী মানুষ, প্রবীণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে। তবে প্রতিটি কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড রয়েছে এবং আবেদনকারীর আয়, পারিবারিক অবস্থা, বসবাসের স্থান এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সুবিধা প্রদান করা হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার এই সময়ে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের এসব সহায়তা কর্মসূচি লাখো মানুষের জন্য আর্থিক স্বস্তি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিশু থেকে প্রবীণ, শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবী পরিবার—জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। অনেকের কাছে এসব কর্মসূচি শুধু সরকারি সুবিধা নয়, বরং কঠিন সময়ে জীবনকে স্থিতিশীল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি নির্মাণের খরচ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তবে শুধু নির্মাণসামগ্রী, শ্রমিকের মজুরি বা জমির দামই নয়, বাড়তি ব্যয়ের বড় একটি অংশ এখন আসছে বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন, নির্মাণবিধি, পরিদর্শন প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক নিয়মকানুন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম বিল্ডার্স (এনএএইচবি)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব নিয়ন্ত্রক ব্যয় এখন একটি নতুন একক-পরিবারের বাড়ির মোট বিক্রয়মূল্যের ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ডলার সরাসরি বিভিন্ন অনুমোদন, ফি, বিধিনিষেধ, পরিদর্শন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে যুক্ত হয়েছে। গবেষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটের মুখোমুখি। দেশজুড়ে কয়েক মিলিয়ন আবাসন ইউনিটের ঘাটতি রয়েছে এবং বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য আবাসন ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এনএএইচবির চেয়ারম্যান বিল ওয়েন্স বলেন, অতিরিক্ত এবং ব্যয়বহুল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেশের আবাসন সক্ষমতা সংকটকে আরও গভীর করছে। তার মতে, এসব নিয়মকানুনের কারণে নির্মাতাদের পক্ষে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি নীতিনির্ধারকদের প্রতি অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, অনেক নিয়ম এমনভাবে খরচ বাড়াচ্ছে যে সাধারণ ক্রেতারা আবাসন বাজার থেকে কার্যত ছিটকে পড়ছেন এবং নতুন প্রকল্পের গতি কমে যাচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে আবাসন নির্মাণে নিয়ন্ত্রক ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে এসব ব্যয় একটি নতুন বাড়ির ক্ষেত্রে গড়ে ৬৫ হাজার ২২৪ ডলার ছিল, ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৭০ ডলারে। বর্তমানে সেই ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার ডলারেরও বেশি। নির্মাণ খাতে নিয়ন্ত্রণের ধরনও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। আগে জমি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বড় ব্যয়ের কারণ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্মাণবিধি, নকশা সংক্রান্ত শর্ত এবং অতিরিক্ত পরিদর্শন প্রক্রিয়ার খরচ আরও দ্রুত বেড়েছে। এনএএইচবির জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮৮ শতাংশ আবাসন উন্নয়নকারী জানিয়েছেন, তাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নকশা-সংক্রান্ত শর্ত মানতে হয়, যা প্রচলিত জোনিং বিধির বাইরের বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্পের একটি অংশ জনসাধারণের ব্যবহার বা সরকারি প্রয়োজনে সংরক্ষিত রাখার বাধ্যবাধকতাও থাকে। এছাড়া সময়ক্ষেপণও বড় ব্যয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৪ শতাংশ উন্নয়নকারী জানিয়েছেন, বিভিন্ন অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে। ফলে উন্নয়ন ঋণের সুদ বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত বাড়ির ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণবিধির পরিবর্তন বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্যয়-সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর একটি। বাড়ির বাইরের আবরণ, বেড়া, প্রবেশপথ কিংবা ভবনের অবস্থান নির্ধারণের মতো নানামুখী নকশাগত শর্তও নির্মাতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করছে। আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের আরেকটি বড় অভিযোগ হলো বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মকানুনের ব্যাপক বৈচিত্র্য। ডালাসভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান আরআরইএএফ হোল্ডিংসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জেফ হোলজম্যান বলেন, তারা যেসব অঙ্গরাজ্যে কাজ করেন সেখানে মোট প্রকল্প ব্যয়ের ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক খাতে ব্যয় হয়। তার মতে, সমস্যা শুধু খরচ নয়; বরং একেক শহর ও অঞ্চলে একেক ধরনের নিয়ম থাকায় পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ আরও জটিল হয়ে পড়ে। কোথাও যানবাহন চলাচল-সংক্রান্ত সমীক্ষা বাধ্যতামূলক, কোথাও আবার জোনিং অনুমোদন পেতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। হোলজম্যান বলেন, ব্যবসায়ীরা তখনই নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হন, যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট ও পূর্বানুমানযোগ্য থাকে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তা প্রকল্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থমাস জেমস হোমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ শ্লাগেটারও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন শহরে নিয়ম ও ব্যাখ্যার ধরন আলাদা। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিবেশগত মূল্যায়ন ও উপকূলীয় উন্নয়ন-সংক্রান্ত অনুমোদন প্রকল্পের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। বাড়তি ব্যয় ও দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে নতুন সরবরাহ বৃদ্ধির গতি কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নির্মাণ ব্যয় বাড়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রকল্প সীমিত করছে অথবা বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পথে হাঁটছে। আবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট নিরসনের জন্য শুধু নতুন বাড়ি নির্মাণ বাড়ালেই হবে না; বরং নির্মাণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন আরও দূরে সরে যেতে পারে।