আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে এলাইলাম পাওয়া আরও কঠিন! ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ০:৪৯
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের  আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে আর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা এর আশ্রয় কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তাদের আবেদন সরাসরি অভিবাসন আদালতে পাঠানো যাবে, যেখানে মামলার শুনানি হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত বহিষ্কারের  প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

 

মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মকে ট্রাম্প প্রশাসন আশ্রয়ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের জট কমানোর উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন নীতির ফলে যেসব আবেদন আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বিচারকের কাছে পাঠানো সম্ভব হবে। 

 

তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই পরিবর্তনের ফলে আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের আবেদন ব্যাখ্যা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাবেন। আগে আশ্রয় কর্মকর্তা আবেদনকারীর বক্তব্য শুনে প্রাথমিক মূল্যায়ন করতেন। নতুন ব্যবস্থায় অনেক আবেদনকারী সেই ধাপ ছাড়াই সরাসরি অভিবাসন আদালতের মুখোমুখি হবেন, যেখানে প্রত্যাখ্যাত হলে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। 

 

শরণার্থী সহায়তা সংস্থা হিয়াসের প্রধান নির্বাহী বেথ ওপেনহাইম বলেন, এই নীতির প্রভাব নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা মানুষের জন্য গুরুতর হতে পারে। তার মতে, এতে এমন মানুষও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়বেন, যারা বাস্তবে নির্যাতন বা প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকে পালিয়ে এসেছেন। 

 

অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলছে, আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার পাওয়ার কোনো আইনগত অধিকার নেই। সংস্থাটির দাবি, নতুন নিয়মের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আদালতের মাধ্যমে তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। 

 

এই নীতিগত পরিবর্তন এমন সময় এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে। গত এক বছরে শতাধিক অভিবাসন বিচারক চাকরি হারিয়েছেন বা পদ ছেড়েছেন, আবার নতুন বিচারকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন কমানো এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে আশ্রয়প্রার্থীদের ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ মশা
যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ মশা, নতুন অভিনব উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ছড়ানো মশার সংখ্যা কমাতে চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ৬ লাখ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা পুরুষ মশা অবমুক্ত করা হচ্ছে। মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোল প্রথমবারের মতো এই জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যার লক্ষ্য রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই রোগবাহী মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা।   প্রতিষ্ঠানটির ছাড়া পুরুষ মশাগুলো ওলবাকিয়া নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া বহন করে। এসব পুরুষ মশা মানুষের রক্ত খায় না এবং কামড়ায়ও না। তবে তারা যখন বন্য স্ত্রী মশার সঙ্গে প্রজনন করে, তখন স্ত্রী মশার পাড়া ডিম আর ফুটে না। ফলে ধীরে ধীরে রোগবাহী মশার সংখ্যা কমে আসে।    বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোলের মালিক টড মন্টগোমারি বলেন, একবার প্রজননের পর আক্রান্ত স্ত্রী মশাটি কার্যত সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যা হয়ে যায়। সে পরে যত ডিমই দিক, সেগুলো থেকে আর নতুন মশা জন্মায় না। এই কারণে পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদে মশার সংখ্যা কমাতে কার্যকর বলে আশা করা হচ্ছে।    এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এশিয়ান টাইগার মশা, যা যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বিস্তার লাভ করা একটি আক্রমণাত্মক প্রজাতি এবং ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন ভাইরাস ছড়াতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজাতির সংখ্যা কমাতে পারলে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।    এ ধরনের প্রযুক্তি নতুন নয়। ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে *ওলবাকিয়া*ভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ইতোমধ্যে সফল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এই পদ্ধতির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এটি প্রচলিত কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে আরও বড় পরিসরে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ২:৫
গ্রিন কার্ডের আবেদন শুরুর আগেই জেনে নিন কোন খাতে কত ডলার লাগবে

গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন দেখছেন? আবেদন শুরুর আগেই জেনে নিন কোন খাতে কত ডলার লাগবে

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে এলাইলাম পাওয়া আরও কঠিন! ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া

আমেরিকার উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় হিজাবি তরুণী

আমেরিকার উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় হিজাবি তরুণী, ইতিবাচক বার্তা মুসলিম কমিউনিটিতে

অবশেষে ফাঁস হলো বাইডেনের গোপন রেকর্ডিং
অবশেষে ফাঁস হলো বাইডেনের গোপন রেকর্ডিং! কী আছে সেই অডিওতে? নতুন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দীর্ঘদিন গোপন রাখা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশের পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নিজের স্মৃতিকথা লেখার সময় ঘোস্টরাইটার মার্ক জভোনিটজারের সঙ্গে হওয়া এসব কথোপকথনে বাইডেনকে একাধিকবার সম্ভাব্য শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফায়েড) তথ্য ও নথির প্রসঙ্গ তুলতে শোনা যায়।    প্রকাশিত প্রায় ৭০ ঘণ্টার অডিওতে এক পর্যায়ে বাইডেনকে বলতে শোনা যায়, "এর কিছু হয়তো শ্রেণিবদ্ধ হতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।" আরেকটি অংশে তিনি বলেন, "পরের বিষয়টি শ্রেণিবদ্ধ।" তবে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় কোনো শ্রেণিবদ্ধ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেনি।    এই রেকর্ডিংগুলো ২০২৪ সালে বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট হারের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তদন্তে বাইডেনের বাড়ি ও ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালের কিছু শ্রেণিবদ্ধ নথি পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। প্রতিবেদনে হার উল্লেখ করেছিলেন, বিচারক বা জুরি বাইডেনকে "সদুদ্দেশ্যসম্পন্ন কিন্তু দুর্বল স্মৃতিশক্তির একজন বয়স্ক ব্যক্তি" হিসেবে দেখতে পারেন, যা দণ্ডাদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে।    অডিও প্রকাশের পথ তৈরি হয় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর। একটি ফেডারেল আপিল আদালত জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেকর্ডিং প্রকাশে বাধা দেওয়ার বাইডেনের আবেদন খারিজ করে। পরে বাইডেনও এ বিষয়ে করা নিজের মামলা প্রত্যাহার করে নেন, ফলে রেকর্ডিং প্রকাশের আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।    সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেকর্ডিংয়ে বাইডেনকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, সিআইএ এবং হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নোট নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। তবে বাইডেন আগেও দাবি করেছিলেন, তিনি তার ঘোস্টরাইটারের কাছে কোনো শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করেননি এবং কীভাবে কিছু নথি তার বাড়িতে চলে এসেছিল, সে বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না।    নতুন করে প্রকাশিত এই অডিও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি গোপন নথি সংরক্ষণ, সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা এবং বাইডেনের স্মৃতিশক্তি নিয়ে বহুদিনের রাজনৈতিক বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ০:৯
ছবি:  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রতীকীভাবে তৈরি করা হয়েছে।

নিউইয়র্কে সার্কাসের খেলা দেখাতে গিয়ে শিল্পীর ঘাড়ে ঢুকে গেল তীর, হেলিকপ্টারে করে নেওয়া হলো হাসপাতালে

সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান ও পরিবার

নিউইয়র্কে ক্যানসারের সঙ্গে তিন মাসের লড়াই শেষে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খানের ইন্তেকাল

টেনেসির প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত চালক জেমস ব্রিউইংটন জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবার, গুরুতর আহত মা-মেয়ে: গ্রেপ্তারের পর অপরাধীর অদ্ভুত হাসি

মায়ের মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বিটার দুই মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ২২ বছর ধরে গ্রিনকার্ড থাকা নারীকে আটক করল আইসিই, মায়ের মুক্তির জন্য লড়ছেন দুই মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈধভাবে বসবাসকারী এক গ্রিনকার্ডধারী নারীকে গত এক বছর ধরে কারাগারে আটকে রেখেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ ধরে নিয়ে যাওয়া ওই নারীর মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তার দুই কন্যা। প্রায় ১২ মাস ধরে বন্দি থাকা এই নারীর মুক্তি ও ডিপোর্টেশন (দেশত্যাগ) ঠেকানোর চেষ্টায় এখন আন্তর্জাতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম শিকাগো ট্রিব্রিউন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   আটক ওই নারীর নাম বেয়াটা সিমিওনকোভিক। তিনি পোল্যান্ডের নাগরিক হলেও ১৯৯৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। ২০০৩ সালে তিনি দেশটির স্থায়ী বাসিন্দার অনুমোদন বা গ্রিনকার্ড অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করেছিলেন তিনি। পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও প্রবীণদের সেবিকা বেয়াটা তার দুই মেয়েকে নিয়ে রাউন্ড লেক এলাকায় বসবাস করতেন।   ঘটনাবলির সূত্রপাত ২০২৫ সালের আগস্টে। শিকাগোর শহরতলি ডেস প্লেইনসে নিজ মেয়ের বাড়ির বাগানে গাছপালার পরিচর্যা করছিলেন বেয়াটা। সে সময় হঠাৎ সাধারণ পোশাকে মুখে মাস্ক পরা দুই আইসিই কর্মকর্তা সেখানে হাজির হয়ে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। সেদিনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে তার মেয়ে ক্লাউদিয়া (২৫) জানান, খবরটি প্রথম তারা জানতে পারেন তাদের সত্-বাবা জনের ফোনের মাধ্যমে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের জানিয়েছিলেন, চোখের সামনে থেকে মুহূর্তের মধ্যে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তার কিছুই করার ছিল না।   গ্রেপ্তারের পর তাকে কেন্টাকির ক্যাম্পবেল কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রায় ৬০ জন নারীর সঙ্গে গাদাগাদি করে তাকে রাখা হয়, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী। নোংরা পরিবেশ, অপরিস্কার সেল এবং এমনকি মারাত্মক অপরাধীদের সঙ্গে রাখা হয়েছিল তাকে।   আইসিই সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ২০০৫ এবং ২০১১ সালে দোকানে ছোটখাটো চুরির অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বেয়াটার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০০১ সালে অভিবাসন সুবিধার জন্য ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তার পরিবার ও আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, বহু বছর আগেই জরিমানা এবং আদালতের নজরদারির মেয়াদ শেষ করে সেই পুরনো আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছিল। কঠিন সময়ে সন্তানদের জন্য ছোটখাটো চুরির ভুলের এত বছর পর এমন কঠোর পদক্ষেপকে অন্যায় বলে দাবি করছেন তার পরিবার।   তবে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র শিকাগো ট্রিব্রিউনকে বলেছেন, "গ্রিনকার্ড থাকা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ। দেশের আইন লঙ্ঘন বা অপব্যবহার করা হলে সেই অনুমোদন বাতিল করার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে।" গত বছরের ডিসেম্বরে অভিবাসন আদালত তার ডিপোর্টেশনের নির্দেশ দিলেও তার পরিবার এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে।   এদিকে বেয়াটার মতোই একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন ডোনা হিউজ-ব্রাউন নামের এক আইরিশ নাগরিক। তবে সম্প্রতি তার ওপর থেকে ডিপোর্টেশনের আদেশ বাতিল করে আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছে। ডোনা এখন বেয়াটার মুক্তির জন্য জোর দাবি তুলছেন এবং আশা করছেন যে তার মামলার আইনি নজির ব্যবহার করেই বেয়াটাকে আইসিই-এর বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।   মায়ের আইনি লড়াইয়ের খরচ চালানো এবং ঘরের বন্দক পরিশোধ করতে গিয়ে ছোট মেয়ে গ্যাবি (২১) তার নার্সিং পড়াশোনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। দুই বোন মিলে মায়ের আইনি লড়াই ও ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইলিনয়ের প্রভাবশালী সিনেটর ডিক ডারবিনের কার্যালয়ও এই পরিবারটিকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।   নিজের জন্মভূমি পোল্যান্ডে এখন আর বেয়াটার চেনা কেউ নেই। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার, সন্তান ও জীবন ছেড়ে তাকে আবারও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২১:৫১
ডিমেনশিয়া আক্রান্ত বৃদ্ধাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে প্রশংসিত হয়েছে ১৪ বছরের রয়্যাল ক্যাথরুন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৯.৪ ডিগ্রি তাপেও হাল ছাড়েনি কিশোর, পথ হারানো বৃদ্ধাকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিল পরিবারের কাছে

অনলাইন আবেদনে ১৬ হাজারের বেশি স্বাক্ষরের পরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় মেয়র মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

৯/১১ স্মরণানুষ্ঠানে মেয়র মামদানিকে না চেয়ে ১৬ হাজারের বেশি স্বাক্ষর, তবুও অংশ নেওয়ার ঘোষণা

স্বাস্থ্যসেবা মূল্যায়নের জাতীয় প্রতিবেদনে জর্জিয়ার অবস্থান দেশের নিচের সারিতে। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যসেবায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ রাজ্যগুলোর একটি জর্জিয়া, অবস্থান ৪৯তম

0 Comments