যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী, ভিসার আবেদন করতে ইচ্ছুকদের জন্য বিভিন্ন ধাপে কত সরকারি ফি দিতে হবে, সে বিষয়ে হালনাগাদ নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, আবেদনকারীদের ভিসা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে আলাদা আলাদা ফি পরিশোধ করতে হবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব অর্থ ফেরতযোগ্য নয়, আবেদন অনুমোদিত হোক বা না হোক।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-১৩০ অনলাইনে জমা দিলে ফি ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী আবেদনের জন্য ফর্ম আই-১৪০-এর ফি ৭১৫ ডলার। আবেদন অনুমোদনের পর মামলাটি ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে পাঠানো হয়, যেখানে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার জন্য ১২০ ডলার এবং অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য ৩২৫ ডলার দিতে হয়।
ভিসার ধরন অনুযায়ী আবেদন ফিতেও পার্থক্য রয়েছে। পারিবারিক ভিত্তিক অভিবাসী ভিসার আবেদন ফি ৩২৫ ডলার, কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার জন্য ৩৪৫ ডলার এবং ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি লটারি) বিজয়ীদের জন্য প্রসেসিং ফি ৩৩০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ প্রত্যেক আবেদনকারীকেই পৃথকভাবে এই ফি পরিশোধ করতে হবে।
ভিসা অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে আরও একটি বাধ্যতামূলক ফি দিতে হয়। গ্রিন কার্ড তৈরি ও ডাকযোগে পাঠানোর জন্য ইউএসসিআইএস ইমিগ্রান্ট ফি হিসেবে ২৩৫ ডলার পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস, গ্রিন কার্ড হারানোর পর ট্রান্সপোর্টেশন লেটার কিংবা নির্দিষ্ট ধরনের ওয়েভার আবেদনের জন্য অতিরিক্ত সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসা পরীক্ষা, টিকাদান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, নথি অনুবাদ এবং ভ্রমণ ব্যয় সরকারি ফি-এর বাইরে আবেদনকারীকেই বহন করতে হবে। এছাড়া সময়ে সময়ে ফি পরিবর্তন হতে পারে। তাই অর্থ পরিশোধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা থাকলে আবেদনকারীদের শুরু থেকেই পুরো প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। এতে নথিপত্র প্রস্তুত করা, ফি পরিশোধ এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিশুকে জন্ম থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত লালন-পালন করতে এখন গড়ে ৩ লাখ ৩ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যবিমা, পোশাক, পরিবহন ও শিশু পরিচর্যার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সন্তান প্রতিপালনের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। লেন্ডিংট্রির গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটি শিশুর পেছনে বছরে গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৫৭ ডলার। তবে শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে খরচ আরও বেশি, কারণ এ সময় ডে কেয়ার ও পরিচর্যা ব্যয়ই সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্য হাওয়াই। সেখানে ১৮ বছরে একটি শিশুর পেছনে আনুমানিক ৪ লাখ ১২ হাজার ৬৬১ ডলার খরচ হয়। এর পরেই রয়েছে আলাস্কা ও মেরিল্যান্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মিসিসিপি, আলাবামা ও সাউথ ডাকোটা। ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া অঞ্চলেও শিশু লালন-পালনের ব্যয় দেশের অনেক অংশের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে আবাসন ও শিশু পরিচর্যার খরচ এই অঞ্চলের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। গবেষকরা হিসাব করতে গিয়ে বাড়িভাড়া, খাবার, শিশুর পোশাক, পরিবহন, স্বাস্থ্যবিমা, ডে কেয়ার এবং প্রযোজ্য কর-সুবিধা বিবেচনায় নিয়েছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সন্তান লালন-পালনের মোট ব্যয় এখনও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। শিশু পরিচর্যার ব্যয় নিয়ে আলাদা এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি নবজাতক ও চার বছর বয়সী একটি শিশুর বার্ষিক পরিচর্যা ব্যয় গড়ে ২৮ হাজার ডলারের বেশি। এই ব্যয়কে আয়ের ৭ শতাংশের মধ্যে রাখতে হলে একটি পরিবারের বছরে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন, যা অধিকাংশ পরিবারের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়, ডে কেয়ারের মূল্য এবং আবাসন সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালন অনেক পরিবারের জন্য আগের চেয়ে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় বৈচিত্র্যের একটি দৃশ্য নজর কেড়েছে। জর্জিয়ার অন্যতম বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি তাদের কম্পিউটিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে হিজাব পরা এক তরুণীকে সামনে এনেছে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে কম্পিউটারের সামনে ওই তরুণীর ছবি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের তাদের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানাচ্ছে। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রচারিত বিজ্ঞাপনটিতে লেখা হয়েছে, “Explore KSU’s Master’s Degrees in Computing।” সেখানে অনলাইন, সরাসরি ক্যাম্পাসে এবং হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস করার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটিংয়ের মাস্টার্স পর্যায়ে কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। আটলান্টার উত্তরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির এসব প্রোগ্রাম প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। বিজ্ঞাপনটিতে হিজাব পরা একজন নারীকে প্রযুক্তি শিক্ষার প্রচারণার দৃশ্যমান মুখ হিসেবে ব্যবহার করায় বিষয়টি মুসলিম কমিউনিটির জন্যও ইতিবাচক প্রতিনিধিত্বের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার একটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারণায় হিজাবি নারীর উপস্থিতি দেশটির উচ্চশিক্ষাঙ্গনে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দৃশ্যমানতার একটি প্রতিফলন। তবে ছবিতে থাকা তরুণীর ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিজ্ঞাপনে কোনো তথ্য দেয়নি। তিনি হিজাব পরিহিত একজন তরুণী এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রচারণায় তাকে সেভাবেই দেখা যাচ্ছে। কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি ছোট কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফল সেমিস্টারে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৫১ হাজার ৩৭৫ জন। এর মধ্যে ৪৬ হাজার ৬৯ জন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং ৫ হাজার ৩০৬ জন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে এটি জর্জিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। মেট্রো আটলান্টার কেনেসো ও মেরিয়েটায় বিশ্ববিদ্যালয়টির দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে। ১১টি কলেজের মাধ্যমে ১৯০টির বেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স, ডক্টরাল ও সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। কার্নেগি শ্রেণিবিন্যাসে কেনেসো স্টেট একটি আরটু ডক্টরাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে মোট শিক্ষার্থী বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচারণায় বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও পটভূমির শিক্ষার্থীদের তুলে ধরা নতুন নয়। তবে প্রযুক্তির মতো দ্রুত বিকাশমান একটি ক্ষেত্রের উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় হিজাব পরা একজন নারীকে সামনে আনা মুসলিম নারীদের দৃশ্যমান প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি শিক্ষাঙ্গনের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার স্ত্রী ও আট বছরের কন্যাসন্তান গুরুতর আহত হওয়ার আট মাস পর অভিযুক্ত চালক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের তোলা ছবির (মাগশট) জন্য পোজ দিতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি জিভ বের করে এক অদ্ভুত ও বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিমা করেন, যা ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত করেছে। আদালত ও স্থানীয় মেট্রোপলিটন ন্যাশভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের নথির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ চ্যানেল ৫ ন্যাশভিল এ খবর প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত চালকের নাম জেমস ব্রিউইংটন জুনিয়র (৬১)। গত বছরের নভেম্বরে ক্লার্কসভিল পাইকে একটি বেপরোয়া ওভারটেকিং করতে গিয়ে তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটান। ব্রিউইংটন তার নিসান টাইটান পিকআপ ট্রাকটি নিয়ে আরেকটি গাড়ির পাশ কেটে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি জিপকে সজোড়ে ধাক্কা দেন। জিপটিতে ডাস্টিন ম্যাকলিওড (৪১), তার স্ত্রী অ্যাশলে এবং তাদের ৮ বছর বয়সী মেয়ে ডাকোটা চড়ে এক বয়স্ক স্বজনের বাড়িতে ক্রিসমাসের আলো জ্বালাতে যাচ্ছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় স্মিথভিলের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী ডাস্টিন ম্যাকলিওড ঘটনাস্থলেই আশঙ্কাজনকভাবে আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্ত্রী অ্যাশলে ও কন্যা ডাকোটা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও গুরুতর আঘাত পান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে অ্যাশলে জানান, দুর্ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে কিছু বুঝে ওঠার সময় পাননি তারা। লাল রঙের একটি গাড়ির ঝিলিক দেখার পরপরই যেন সবকিছু ধীরগতিতে ঘটতে শুরু করে। তিনি বলেন, "হঠাৎ দেখতে পেলাম আমার মেয়ের শরীর সিটবেল্টের মধ্যে পেঁচিয়ে যাচ্ছে, আমার স্বামী সামনের দিকে ছিটকে পড়লেন। এয়ারব্যাগটি আমার বুকে এসে সজোড়ে আঘাত করে।" অ্যাশলে আরও বলেন, "গাড়িটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল, ডাস্টিন কোনো সাড়া দিচ্ছিল না, আর পেছনের সিটে আমার ছোট মেয়েটা ভয়ে চিৎকার করছিল।" দুর্ঘটনায় অ্যাশলের গোড়ালির হাড় ভেঙে যায়, হাঁটুর মালাইচাক ভেঙে যায় এবং শরীরে বহু গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তার একাধিক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়েছে। অন্যদিকে, আট বছরের ডাকোটার বুকের খাঁচার হাড়, কলারবোন ও ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কের গোড়ালি সংলগ্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার দীর্ঘ আট মাস পর অভিযুক্ত চালক জেমস ব্রিউইংটন আত্মসমর্পণ করার পর যখন পুলিশ তার ছবি প্রকাশ করে, তখন তা দেখে শিউরে ওঠেন নিহত ডাস্টিনের বিধবা স্ত্রী। এলমেলো দাড়ি ও বিশৃঙ্খল চেহারার ব্রিউইংটন পুলিশের ক্যামেরার সামনে অসংবেদনশীলভাবে জিভ বের করে রেখেছিলেন। ছবিটি দেখে অ্যাশলে বলেন, "আমি আজই প্রথমবার এই লোকটার মুখ দেখলাম। গ্রেপ্তারের খবর কিছুটা স্বস্তি দিলেও তার এই ছবিটি দেখা অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও মানসিক যন্ত্রণার।" আহত মা ও মেয়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিপুল খরচ বহন করতে গিয়ে ডাস্টিনের পরিবার বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে। চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের খরচ জোগাতে তাদের ঘর ভাড়া পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এ পর্যন্ত তাদের সহযোগিতায় একটি গোফান্ডমি (GoFundMe) ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যা, বেপরোয়া জীবন বিপন্ন করা এবং মারাত্মক আক্রমণের তিনটি অভিযোগে জেমস ব্রিউইংটনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। এর আগে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এতদিন তাকে সরাসরি হাজতে নেওয়া হয়নি। বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার বন্ডে তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।