মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২ কোটি ভোটারের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করেছে। তার দাবি, এতে নাগরিকদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলের পরিচয় এবং ভোটার নিবন্ধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। এই অভিযোগকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, চীন ২০২০ সালের নির্বাচনী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। তার ভাষায়, এই তথ্য ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধন জালিয়াতি বা অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরনের আপস বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা। ট্রাম্পের অভিযোগ অনুযায়ী, হাতিয়ে নেওয়া তথ্যের মধ্যে ভোটারদের নাম, বাসার ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলের পরিচয় এবং ভোটার নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, এসব তথ্য অপব্যবহার করা হলে তা নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এই অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ভোটার তালিকার মৌলিক তথ্য—যেমন নাম, ঠিকানা ও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রেকর্ড হিসেবে পাওয়া যায়। ফলে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা আর ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। চীনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগের জবাবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বা অন্য কোনো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এদিকে ২০২১ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি অবমুক্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের নির্বাচনে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট, ভোট গণনা বা নির্বাচনের ফলাফলের মতো প্রযুক্তিগত দিক পরিবর্তন করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেই মূল্যায়নের সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পার্থক্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ এক নয়। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের শতকোটিপতি বা ধনকুবেরদের ওপর সাময়িকভাবে অতিরিক্ত কর আরোপের একটি বিতর্কিত প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে। এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকা শ্রমিক ইউনিয়ন সমালোচকদের তীব্র চাপ উপেক্ষা করে চূড়ান্ত লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। 'বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স' বা ধনকুবের কর নামে পরিচিত এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় অঙ্কের তহবিল নিশ্চিত করা। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছে সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ওয়েস্ট নামক একটি প্রভাবশালী সংগঠন। এই নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী যেসব ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের বেশি, তাদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা মূলত কেন্দ্রীয় অনুদান হ্রাসের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিকেড স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যয় করা হবে। ইউনিয়নের এই প্রস্তাবের পক্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন থাকলেও খোদ ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং ইউনিয়নের অনেক পুরনো মিত্র এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের যুক্তি, এটি একটি স্থায়ী সমস্যার সাময়িক সমাধান মাত্র। এর ফলে অতি-ধনী ব্যক্তিরা ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারেন, যার ফলে রাজ্য সরকার নিয়মিত আয়কর বাবদ কোটি কোটি ডলারের স্থায়ী রাজস্ব হারাবে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদের দুই সম্ভাব্য পদপ্রার্থীও এই করের বিরোধিতা করেছেন। ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসা, শিক্ষা এবং আবাসন খাতের বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়ে এই করের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছে। তাদের মতে, এই বিপজ্জনক কর ব্যবস্থা রাজ্যের রাজস্ব পরিস্থিতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলবে। এতে স্কুল, ক্লিনিক, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। অদলীয় আইনসভা বিশ্লেষক অফিসও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে প্রথম কয়েক বছর ভালো রাজস্ব এলেও পরবর্তী সময়ে বার্ষিক আয়কর কমতে শুরু করবে। অন্যদিকে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনীরা এই বিলিয়নিয়ার কর ঠেকাতে ইতিমধ্যেই কোটি কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছেন। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রচারণার জন্য একাই ৮২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া মূলত তার শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর আয়করের ওপর প্রায় অর্ধেক নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটারদের একটি অংশ এই করের পক্ষে থাকলেও নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এবং আইনি জটিলতা তৈরি হবে, এর সমর্থন তত কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদের রিপাবলিকান প্রার্থী ভিক্টর মার্ক্সের নির্বাচনী তহবিলে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ অনুদান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে নিজেকে নির্বাচনী দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে দাবি করলেও এখন তাকে হাজার হাজার ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কলোরাডোর রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কর্মী ডার্সি শোয়েনিং গত ৮ মাস ধরে ভিক্টর মার্ক্সের নির্বাচনী প্রচারণার শত শত পাতার আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই জালিয়াতি উন্মোচন করেছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি এককভাবে সর্বোচ্চ ১,৪৫০ ডলার অনুদান দিতে পারেন। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, ১৫২ জন দাতা নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ডলার বেশি অর্থ দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন দাতা সীমা লঙ্ঘন করে একাই ৬,০০০ ডলার দিয়েছেন এবং অপর এক দাতা চার বছর আগে মারা গেলেও তার নাম ব্যবহার করে ২,০০০ ডলার অনুদান দেখানো হয়েছে। ডার্সি শোয়েনিং এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই মার্ক্সের প্রচারণামূলক দল ৮৫টি অবৈধ অনুদানের বিষয়টি স্বীকার করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া বা যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে তাদের জীবনসঙ্গীর নামে সংশোধন করার কাজ শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী এই অবৈধ টাকা তারা নিজের কাছে রাখতে পারবে না। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সংগৃহীত তহবিলের সিংহভাগ টাকাই ভোটারদের পেছনে খরচ না করে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত বিলাসিতায় উড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে পরামর্শক ফি বাবদ ৮ লাখ ৬৬ হাজার ডলার, নতুন পোশাক কেনাকাটায় ১ লাখ ১২ হাজার ডলার, বিমান টিকিট ও হোটেলে ২৮ হাজার ডলার এবং আরও অর্থ তোলার প্রচারণায় ১৩ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছে। এছাড়া গত মাসে জমাদিয়া প্রতিবেদনে একই নাম ও ঠিকানার ভিন্ন ভিন্ন শহরের হাজার হাজার ভুয়া দাতার তালিকাও পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে তারা প্রত্যাহার করে নেয়। রিপাবলিকান দলের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় ১৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তর জানিয়েছে, ভুল সংশোধনের জন্য প্রার্থীকে আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পুরোপুরি প্রমাণিত হলে ভিক্টর মার্ক্সকে ২ লাখ ১৬ হাজার থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে, যা বর্তমানে তার ব্যাংকে থাকা মোট তহবিলের চেয়েও অনেক বেশি। ভিক্টর মার্ক্সের মুখপাত্র অবশ্য এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের প্রচারণা দল সমস্ত নির্বাচনী আর্থিক আইন মেনে চলেছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তরের সাথে কাজ করছে। কলোরাডোর গভর্নর পদের দলীয় মনোনয়নের জন্য ভিক্টর মার্ক্স ছাড়াও আরও দুই রিপাবলিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনে সংশয় তৈরি এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একটি গোপন তহবিল থেকে লাখ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নতুন কিছু ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার পর জানা গেছে, ‘ফেয়ার ইলেকশন ফান্ড’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমাতে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার ও বড় অঙ্কের অর্থায়ন করেছে। ফাঁস হওয়া সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেলাওয়্যারে নিবন্ধিত এই শক্তিশালী তহবিলটির পরিচালক হিসেবে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আইনজীবী ক্লেটা মিচেল এবং গবেষক হিদার হানি সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। ক্লেটা মিচেল ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন উল্টে দেওয়ার ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রচেষ্টায় সরাসরি আইনি সহযোগিতা করেছিলেন। অন্যদিকে, হিদার হানি বর্তমানে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে (ডিএইচএস) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। অতীতে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প যে সমস্ত জালিয়াতির মনগড়া অভিযোগ করেছিলেন, তার পেছনে হানির তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ গবেষণাই মূল উপাদান হিসেবে কাজ করেছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে ‘আমেরিকান প্রিন্সিপলস প্রজেক্ট ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংস্থাকে এই তহবিল থেকে ৩ লাখ ডলার দেওয়া হয়। ওই সংস্থাটি পেনসিলভেনিয়া ও নেভাদাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করেছিল যে, স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন বা চূড়ান্ত করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর; মার্কিন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন করা কর্মকর্তাদের জন্য আইনি বাধ্যতাবাধকতা। ট্রাম্প হেরে গেলে নির্বাচনের ফলাফলকে বিতর্কিত করার এবং ভোট গণনা আটকে দেওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই মূলত এই ভয় ও সংশয় ছড়ানো হয়েছিল। এছাড়া, ‘ফেয়ার ইলেকশন ফান্ড’ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটারদের অধিকার সংকুচিত করার একটি বিলের পক্ষে জনমত গড়তে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের পেছনে ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার ব্যয় করে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় অভিবাসী বিরোধী বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ট্রাম্পের আরেক কট্টর সহযোগী মাইক ডেভিসের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার দেওয়া হয়। এই তহবিলের পেছনে মূল অর্থদাতা হিসেবে কাজ করেছে ‘কনজারভেটিভ পার্টনারশিপ ইনস্টিটিউট’ (সিপিআই), যা ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের অনুগতদের অন্যতম প্রধান নীতি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালে সিপিআই এই ফান্ডে ৬০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দেয়। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন যখন দেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার সততা নিয়ে আবারও অন্যায্য প্রশ্ন তুলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প শিবিরের এই কোটি কোটি ডলারের গোপন প্রচারণার তথ্য সামনে এল। ওয়াচডগ বা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন এবার বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধা মতো নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কারচুপির ভুয়া দাবি এবং ক্যাপিটল হিল দাঙ্গাকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে ক্ষুব্ধ হয়ে এনবিসি নিউজের 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানের একটি সাক্ষাৎকার মাঝপথে বর্জন করেছেন। গত শুক্রবার উইসকনসিনে ধারণ করা এই সাক্ষাৎকারটি গত রবিবার সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সাথে তীব্র বাদানুবাদের একপর্যায়ে ট্রাম্প আকস্মিকভাবে সেখান থেকে চলে যান। সাক্ষাৎকার চলাকালীন ট্রাম্প ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচন নিয়েও ভোট জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। উপস্থাপিকা ওয়েলকার ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিয়ম ব্যাখ্যা করে ট্রাম্পের দাবির সপক্ষে প্রমাণ চাইলে ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রবীণ এই নারী সাংবাদিককে 'দুর্নীতিবাজ' বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, "তারা দুর্নীতিবাজ, ঠিক যেমন আপনি এবং আপনার সংবাদমাধ্যম দুর্নীতিবাজ।" উপস্থাপিকা নিজেকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করলে ট্রাম্প আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, "আপনি হয় দুর্নীতিবাজ, না হয় বোকা।" একপর্যায়ে তিনি 'আমি অনেক সহ্য করেছি' বলে নিজের গায়ের মাইক্রোফোন খুলে ফেলেন এবং সাক্ষাৎকার সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান। অথচ এই সাক্ষাৎকারের জন্য সাংবাদিক ওয়েলকারকে বিশেষ সফরে উইসকনসিনে যেতে হয়েছিল। এর আগে সাক্ষাৎকারের শুরুর দিকে ট্রাম্প ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় পুলিশ-কে আক্রমণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন যে, দাঙ্গাকারীদের মূলত এফবিআই এজেন্টরাই ক্যাপিটল ভবনে ডেকে নিয়েছিল। তারা দীর্ঘ মেয়াদে জেলে যাওয়ার ভয়েই আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।