আমেরিকা

আইসিই হেফাজত থেকে মুক্তির পর বাসস্টপে মৃত্যু, তরুণীর মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলল যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেল পরীক্ষক

Unknown প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ২১:৫০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)–এর হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মারা যাওয়া ৩১ বছর বয়সী ড্যাফি মিশেলের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অ্যালেগেনি কাউন্টির মেডিকেল পরীক্ষক তার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাইপোথার্মিয়া বা অতিরিক্ত ঠান্ডাজনিত শারীরিক বিপর্যয়কে চিহ্নিত করেছেন।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিএই এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত নথি অনুযায়ী, গত ২ মার্চ পিটসবার্গের স্মিথফিল্ড স্ট্রিট ব্রিজের কাছে একটি বাসস্টপে ড্যাফি মিশেলকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

 

মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ঠান্ডার মধ্যে থাকার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হোমিসাইড’ বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকলাপ কিংবা অবহেলা মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।

 

ড্যাফি মিশেলের পরিবারের আইনজীবী জোসেফ মারফি বলেন, “তিনি ছিলেন ৩১ বছর বয়সী একজন সুস্থ নারী। যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা আর তার জীবন ফিরিয়ে আনতে পারব না।”

তদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে ছয় মাস ধরে তিনি ওয়াশিংটন কাউন্টি কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা লঘু অপরাধের অভিযোগ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালত খারিজ করে দেয়। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, মুক্তি পাওয়ার পর তারা তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন।

তবে পরিবারের অজান্তেই তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন সংক্রান্ত ‘আইসিই ডিটেইনার’ জারি ছিল। ফলে কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে সরাসরি আইসিইর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

আইসিই জানিয়েছিল, ড্যাফি মিশেলকে ‘অল্টারনেটিভস টু ডিটেনশন’ কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয় এবং একই দিন তার পায়ে ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বা অ্যাঙ্কল মনিটর পরিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, মুক্তির পর তিনি নিজের পরিচিত পরিবেশ থেকে অনেক দূরে একা পড়ে যান। পরে তাকে পিটসবার্গের একটি বাসস্টপে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত্যুর আগে তিনি ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিলেন।

ড্যাফি মিশেলের চাচাতো বোন লিন্ডা মিশেল বলেন, “আমি শুধু কল্পনা করতে পারি, তিনি কতটা ঠান্ডায় কষ্ট পেয়েছিলেন। এমন একটি দেশে কাউকে এভাবে কষ্ট পেতে হবে, এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”

 

পরিবারের আইনজীবী মারফির ভাষ্য, ড্যাফির ভাই তাকে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। মাত্র ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিলেই তিনি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারতেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তাকে এমন একটি জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তিনি কাউকে চিনতেন না এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অবস্থায়ও ছিলেন না।

তিনি বলেন, “তাকে যদি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন।”

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অ্যালেগেনি কাউন্টির নির্বাহী কর্মকর্তা সারা ইনামোরাতোও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ড্যাফি মিশেলের মৃত্যু একটি মর্মান্তিক ঘটনা এবং সামান্য মানবিকতা দেখানো হলে এটি এড়ানো সম্ভব ছিল।

 

তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন কাউন্টি কারাগার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করে আইসিইকে খবর দেয় এবং পরে আইসিই তাকে নিজ বাড়ির পরিবর্তে অপরিচিত একটি এলাকায় ছেড়ে দেয়। এসব সিদ্ধান্ত একজন সহায়তাপ্রয়োজন ব্যক্তির প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে।

সারা ইনামোরাতো আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে অভিবাসীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে অতীতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও জবাবদিহি, তদারকি এবং নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন।

ড্যাফি মিশেলের মৃত্যুর পর মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়া একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব কতটুকু এবং সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না।

 

এদিকে মেডিকেল পরীক্ষকের ‘হত্যাকাণ্ড’ রায়ের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ড্যাফি মিশেলের পরিবারও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে।

 

ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় মানবিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চলমান বিতর্ককেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
প্রবল ঝড়ে উত্তর জর্জিয়ায় উপড়ে পড়েছে গাছপালা। ছবি: সংগৃহীত
প্রবল ঝড়ে লণ্ডভণ্ড উত্তর জর্জিয়া, বিদ্যুৎহীন হাজারো বাসিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের পর গাছ ও বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত হাজারো গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন। ঝড়ের সময় একাধিক তীব্র বজ্রঝড়ের সতর্কতার পাশাপাশি দুটি টর্নেডো সতর্কতাও জারি করা হয়। একই সঙ্গে একটি এলাকায় প্রধান পানি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাসিন্দাদের ফুটিয়ে পানি পান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   মঙ্গলবার রাতে উত্তর জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফা শক্তিশালী বজ্রঝড় বয়ে যায়। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জানায়, ঝড়ের সময় উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষ, গাছ উপড়ে পড়া এবং বাড়িঘর ও যানবাহনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।   বুধবার সকাল পর্যন্ত হ্যাবারশাম কাউন্টিতে ১ হাজার ৫০৩ জন, হোয়াইট কাউন্টিতে ১ হাজার ১৮ জন এবং টাউনস কাউন্টিতে ৯৫০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝড়ের রাতের তুলনায় বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা কিছুটা কমলেও অনেক এলাকায় এখনো পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে।   এদিকে গিলমার কাউন্টিতে ঝড়ের কারণে প্রধান পানি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিউ হোপ চাপ অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য ফুটিয়ে পানি পান করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি সরবরাহ লাইনের ক্ষতিতে সংরক্ষণ ট্যাংকের পানির স্তর কমে যায় এবং অনেক এলাকায় পানির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ফুটানো বা বোতলজাত পানি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।   হ্যাবারশাম কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়া এবং সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অসংখ্য খবর পাওয়া গেছে। আন্ডারউড ফার্ম রোডের একটি বাড়ির ওপর একটি গাছ পড়লেও প্রাথমিক তথ্যে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেরামতের কাজ চলছে।   কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সড়কে জমে থাকা পানি, উপড়ে পড়া গাছ, ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের লাইন এবং জরুরি সেবা ও মেরামতকর্মীদের উপস্থিতির কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১০:৮
নিহত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করলেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি ও এনওয়াইপিডি কমিশনার

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে পিচট্রি সিটির এসআর-৭৪ ও এসআর-৫৪ সড়কের ব্যস্ত মোড়ে ট্রাফিক নিয়মে বড় বদল আসছে। ছবি: সংগৃহীত

স্কুল খোলার আগে জর্জিয়ার ব্যস্ত মোড়ে বদলে যাচ্ছে যান চলাচলের নিয়ম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

দিন যাচ্ছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিম্ন পর্যায়ে নামছে, নির্বাচনের আগেই চিন্তায় রিপাবলিকানরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
লিন্ডসে গ্রাহামকে ‘আমেরিকার অনন্য দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামকে ‘আমেরিকার সত্যিকারের এক অনন্য দেশপ্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মর্যাদার স্মরণসভায় ট্রাম্প বলেন, গ্রাহাম ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং দেশের জন্য কাজ করতেই তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।   ট্রাম্প বলেন, লিন্ডসে গ্রাহাম এমন একজন নেতা ছিলেন, যার প্রভাব ছাড়া ওয়াশিংটনে বড় কোনো আইন পাস করা কঠিন ছিল। তিনি ছিলেন একজন অকপট রাজনীতিক, দক্ষ আলোচক এবং এমন এক বন্ধু, যাকে কখনও ভোলা যাবে না।   ট্রাম্প আরও স্মরণ করেন, একসময় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পরবর্তীতে গ্রাহাম তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীতে পরিণত হন। তিনি বলেন, গ্রাহাম যেমন রসবোধে সবাইকে হাসাতে পারতেন, তেমনি রাজনৈতিক লড়াইয়েও ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়।   লিন্ডসে গ্রাহাম ২০০৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রতিনিধিত্ব করেন। গত ১১ জুলাই ৭১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষায় জানানো হয়েছে, তার মৃত্যুর কারণ ছিল অর্টিক ডিসেকশন—যেখানে শরীরের প্রধান ধমনী অর্টায় ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে গুরুতর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে।   শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ক্যাপিটলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা উপস্থিত হন। অনেককে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। সিনেটর ক্রিস কুনস কফিনের সামনে ক্রুশচিহ্ন আঁকেন, আর সাবেক সিনেটর রিচার্ড বার কফিনে চুম্বন করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।   স্মরণসভায় যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার সদস্য, কংগ্রেসের বর্তমান ও সাবেক সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বুধবার গ্রাহামের মরদেহ তার নিজ অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলাইনায় নেওয়া হবে, সেখানে আরও কয়েকটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।   এদিকে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রাহাম ছিলেন ইউক্রেনের একজন প্রকৃত বন্ধু। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তিনি একাধিকবার কিয়েভ সফর করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।   দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় সিনেটে দায়িত্ব পালনকারী লিন্ডসে গ্রাহামকে যুক্তরাষ্ট্রের সমকালীন রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তার অবস্থান ও সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি দেশ-বিদেশে পরিচিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ৯:২১
টেক্সাসের রিচার্ডসনে একটি বড় আকারের ব্যাপটিস্ট চার্চ কিনে ইসলামিক স্কুল ও মসজিদ বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে মুসলিম সংগঠন। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় গীর্জা কিনে মসজিদ-মাদরাসা বানাচ্ছেন মুসলিমরা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতকড়া। ছবি:সংগৃহীত

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীর পরিচয় চুরি করে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ আত্মসাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

পুলিশের ধাওয়ার সময় উল্টে গেলো গাড়ি, আটক চালক

দাবানলের দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শ'ঙ্কায় ফ্রান্স, সরানো হলো দুই লাখের বেশি মানুষ

প্রচণ্ড খরা, শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র দাবদাহের কারণে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ফ্রান্সের দাবানল পরিস্থিতি। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত কাজ করছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এর মধ্যেই আবহাওয়া বিভাগ নতুন তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ফরাসি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ বড় তাপপ্রবাহ শুরু হতে যাচ্ছে, যার ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম, শুষ্ক গাছপালা ও বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।   ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ ধরনের অসম লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চারজন অগ্নিনির্বাপক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।   শুধু জিরোন্দ এলাকাতেই বর্তমানে প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার একদিনেই ওই এলাকায় ১৪টি নতুন স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।   দাবানলের কারণে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী স্পেন ও পর্তুগালের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও দাবানলের প্রভাব দেখা দিয়েছে।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত বোর্দো অঞ্চল। আগুন শহরের কাছাকাছি প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছালেও এখনো সরাসরি নগর এলাকায় প্রবেশ করেনি। তবে পুরো অঞ্চল ঘন ধোঁয়া ও ছাইয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।   দূষিত বাতাসের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। দাবানলের প্রভাবে পর্যটন কমে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ ব্যবসা ও ওয়াইন শিল্পও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।   ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, দাবানলের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণ রয়েছে এমন অভিযোগে ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।   স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং ঘরের ভেতরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বাতাসের গতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ৮:২৮
বহুজাতিক ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি ইউনিলিভার (Unilever)-এর বিশ্বব্যাপী প্রধান সদরদপ্তর। ছবি:সংগৃহীত

চাকরি হারানোর ভয় কমল,৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির পর ইউনিলিভার কর্মীদের দিল দুই বছরের নিশ্চয়তা

একজন শিশু। ছবি সংগৃহীত

টানা তৃতীয় বছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষুধার্ত অঙ্গরাজ্য টেক্সাস

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামকে। শেষকৃত্যে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা জানান। ছবি:সংগৃহীত

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্য, শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধা

0 Comments