সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে লেমনেড স্টল ডাকাতি, ১৪ বছর বয়সী কিশোর গ্রেপ্তার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৭:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের সাউথ বোস্টন এলাকায় শিশুদের একটি লেমনেড স্টলে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বন্দুকের মুখে দুই শিশুর কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার তাকে আটক করা হয়।

 

বোস্টন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ভুক্তভোগী দুই শিশু ডেভিড বার্ন (১২) ও জুলিয়েট বার্ন (১১) গ্রীষ্মের ছুটির আগে বাড়তি অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে নিজেদের বাড়ির কাছে ওয়েস্ট নাইনথ স্ট্রিটের ফুটপাতে লেমনেড স্টল বসিয়েছিল। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে দুই কিশোর একাধিকবার স্টলের পাশ দিয়ে ঘোরাফেরা করার পর সেখানে আসে বলে জানায় পুলিশ।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বোস্টন পুলিশ বিভাগ জানায়, সন্দেহভাজনরা শিশুদের কাছে জানতে চায় তারা অ্যাপল পে গ্রহণ করে কি না। এরপর একজন তার কোমরে লুকানো কালো আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এবং অন্যজন ক্যাশ বক্সটি ছিনিয়ে নেয়।

 

ভুক্তভোগী ডেভিড বার্ন সিবিএস নিউজ বোস্টনকে বলেন, “সে এখানে এসে বলল, ‘আমাকে বাক্সটা নিতে হতে পারে’ এবং এক হাতে সেটি তুলে নেয়। তারপর সে বন্দুক দেখায়।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমার বোন হাত তুলে দেয়, আর আমি বলি, তুমি এটা নিতে পারো। পরে আমরা একটু বিরক্ত হয়েছিলাম, কারণ আমরা ১২ আর ১১ বছরের শিশু, এমনটা হওয়া উচিত নয়।”

 

ঘটনার পর প্রায় ৫০ ডলারসহ ক্যাশবক্সটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে পুলিশ বাক্সটি উদ্ধার করলেও সেটি খালি অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বোস্টন ডটকম।

 

ঘটনার পর শিশু দুটি তাদের বাবাকে বিষয়টি জানালে তিনি ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় কমিউনিটি শিশুদের পাশে দাঁড়ায়। শুক্রবার ডেভিড ও জুলিয়েট আবারও তাদের লেমনেড স্টল চালু করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সিটি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কার্যক্রম চালায়, যেখানে বোস্টনের মেয়র মিশেল উও-ও উপস্থিত ছিলেন।

 

জুলিয়েট বলেন, “আমি ভাবিনি এত মানুষ আসবে। এতে আমি সত্যিই খুশি হয়েছি।”

 

বোস্টন সিটি কাউন্সিলর এড ফ্লিন জানিয়েছেন, শুক্রবার সংগৃহীত অর্থের অর্ধেক একটি স্থানীয় বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধমূলক সংস্থায় দান করা হবে।

 

বোস্টন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের বিরুদ্ধে দুটি সশস্ত্র ডাকাতি এবং দুটি বেআইনি অস্ত্র বহনের অভিযোগ আনা হবে। তাকে বোস্টন জুভেনাইল কোর্টে হাজির করা হবে।

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত দ্বিতীয় সন্দেহভাজন এখনো পলাতক রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪০ থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব
৪০ ঘণ্টার বদলে সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টা কাজ! যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব আবারও কংগ্রেসে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মার্ক তাকানো এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ৮ সেপ্টেম্বর ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ নামে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করেন। তাকানো প্রথমবার ২০২১ সালে এই প্রস্তাব দেন। বিলটিতে ফেয়ার লেবার স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট সংশোধন করে নন-এক্সেম্পট কর্মীদের জন্য সপ্তাহের নিয়মিত কর্মঘণ্টা ৪০ থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব রয়েছে। ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ওভারটাইম হিসেবে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। প্রস্তাবটির সমর্থকদের যুক্তি, প্রযুক্তি, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। কিন্তু সেই উৎপাদনশীলতার সুফল কর্মীদের সময় ও মজুরিতে যথেষ্ট প্রতিফলিত হয়নি বলে তারা মনে করেন। তাকানো বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলে গেছে, তাই শ্রম আইনও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হওয়া দরকার। বিল অনুযায়ী, কর্মঘণ্টা কমলেও কর্মীদের বেতন বা সুবিধা কমানোর কথা নয়। অর্থাৎ ৩২ ঘণ্টাকে নিয়মিত কর্মসপ্তাহ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, আর এর বেশি কাজ করলে ওভারটাইমের বিধান কার্যকর হবে। বিলটি মূলত নন-এক্সেম্পট কর্মীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিলের আগের সংস্করণগুলোতে ৪০ ঘণ্টা থেকে ৩২ ঘণ্টায় যেতে তিন বছরের সময়সীমা রাখা হয়েছিল। নতুন বিলের বিস্তারিত বিধানেও কর্মসপ্তাহ কমানোর পাশাপাশি ৩২ ঘণ্টার পর ওভারটাইম দেওয়ার কাঠামো রাখা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, একই মজুরি রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে নিয়োগকর্তাদের শ্রম ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্যের ও সেবার দামের ওপর পড়তে পারে বলে তারা মনে করেন। বিলটি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমর্থন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এএফএল-সিআইও, ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স, সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন, ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেড এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টসসহ আরও কয়েকটি সংগঠন। এটি এখনো একটি প্রস্তাবিত আইন; কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পর্যায়ে প্রচলিত ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহই বহাল রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৫:৫৮
দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু বিদেশি নাগরিকের ওপর নতুন ভিসা বিধিনিষেধ

দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য ভিসায় বড় পরিবর্তন আনল ট্রাম্প প্রশাসন

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে গু/লিতে নি/হত ভারতীয় নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান, বাড়ছে প্রবাসী হওয়ার প্রবণতা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট, রোগীসেবায় প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের টুইন সিটিজ এলাকায় অলিনা হেলথের দুটি হাসপাতালে প্রায় ১৫০ জন ইউনিয়নভুক্ত চিকিৎসক সোমবার চার দিনের ধর্মঘট শুরু করেছেন। কুন র‍্যাপিডসের মার্সি হাসপাতাল এবং ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাসে কর্মরত এসব চিকিৎসকের এই কর্মবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের হাসপাতাল চিকিৎসকদের প্রথম ধর্মঘট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের ইউনিয়ন ডক্টরস কাউন্সিল-এসইআইইউ বলছে, দীর্ঘদিনের চুক্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কর্মপরিবেশ, রোগীসেবায় চিকিৎসকদের ভূমিকা এবং কর্মীদের অধিকার নিয়ে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   চিকিৎসকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ছুটির সুযোগের অভাব চিকিৎসকদের বার্নআউট বাড়াচ্ছে। তাদের দাবি, চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশ সরাসরি রোগীসেবার মানের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে তারা শুধু বেতন ও বেনিফিট নয়, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের আরও বেশি মতামতের সুযোগ, পেইড সিক ডে এবং ছুটির মতো বিষয়েও চুক্তিতে সুরক্ষা চান।   মার্সি হাসপাতালের কুন র‍্যাপিডস ও ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাসের চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্ব করছে ডক্টরস কাউন্সিল-এসইআইইউ। ইউনিয়নটি ২০২৪ সালের শুরুতে স্বীকৃতি পেলেও চিকিৎসকদের প্রথম চুক্তি নিয়ে অলিনা হেলথের সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে আলোচনা চলছে। জুনে ইউনিয়নের সদস্যদের ৯১ শতাংশ ধর্মঘটের পক্ষে ভোট দেন। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের নোটিশ দিয়ে জানায়, ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি হবে।   এই ইউনিটে হাসপাতালিস্ট, অবসটেট্রিকস ও গাইনোকলজি বিশেষজ্ঞ, সাইকিয়াট্রিস্ট এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় রোগীসেবার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় চিকিৎসকদের মতামত যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।   অলিনা হেলথ অবশ্য চিকিৎসকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ইউনিয়নটি দুই হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের সবাই ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন না। ধর্মঘটের সময় রোগীসেবা চালু রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, কুন র‍্যাপিডসের মার্সি হাসপাতাল ও ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাস স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং রোগীদের সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটার কথা নয়।   অলিনা হেলথ আরও বলেছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। তবে বেতন ও বেনিফিট নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাড়তে থাকা ব্যয়, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্লেইম প্রত্যাখ্যানের চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন চুক্তির প্রভাব রোগীসেবার খরচ ও ভবিষ্যতে সেবার প্রাপ্যতার ওপরও পড়তে পারে।   ধর্মঘটটি এমন সময়ে শুরু হয়েছে, যখন অলিনা হেলথের প্রায় ৬০ জন হসপিস নার্সও আলাদা শ্রম বিরোধে কর্মসূচিতে রয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের ধর্মঘট হাসপাতালের নার্সদের ওই কর্মসূচি থেকে আলাদা। চিকিৎসকদের চার দিনের কর্মবিরতি শেষ হওয়ার কথা ১৭ সেপ্টেম্বর। এদিকে অলিনা হেলথ ও ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সাটার হেলথের মধ্যে সম্ভাব্য অধিগ্রহণ চুক্তির বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় রয়েছে।   মিনেসোটার এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসকদের ইউনিয়নভিত্তিক শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে চিকিৎসকেরা বলছেন, পর্যাপ্ত ছুটি, কাজের পরিবেশ এবং রোগীসেবার সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাড়তি ব্যয় ও আর্থিক চাপের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। ধর্মঘট চলাকালে রোগীসেবায় বাস্তবে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটিও এখন দুই পক্ষের দাবির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১:৩৯
ডে-কেয়ারে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল জালিয়াতি!

ডে-কেয়ারে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল জালিয়াতি! গ্রেপ্তার ১২ অভিবাসী

বাস দুর্ঘটনার নিউজ করতে গিয়ে এনবিসি সংবাদমাধ্যমের  হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

বাস দুর্ঘটনার নিউজ করতে গিয়ে এনবিসি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ

এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রোগ্রামের আওতায় আয়ভেদে ইউটিলিটি বিলে ছাড় দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ২৫ লাখ পরিবারের জন্য ইউটিলিটি বিলে ৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ

নিউইয়র্কে ইউটিলিটি বিলের খরচ কমাতে নতুন করে প্রায় ২৫ লাখ পরিবারের জন্য ৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তার ঘোষণা এসেছে। স্টেটের সম্প্রসারিত এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রোগ্রামের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক ইউটিলিটি বিলের ওপর ছাড় পেতে পারে। আয় ও পরিবারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বছরে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।    মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই কর্মসূচিতে আরও বেশি পরিবারকে যুক্ত করতে রাজ্যব্যাপী নতুন এনরোলমেন্ট উদ্যোগের ঘোষণা দেন। স্টেটের হিসাবে, প্রায় ১০ লাখ পরিবার ইতোমধ্যে এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রোগ্রামের সুবিধা পাচ্ছে। নতুন করে আরও প্রায় ২৫ লাখ পরিবার এই মাসিক ইউটিলিটি বিল ছাড়ের জন্য যোগ্য হতে পারে।    তবে এই সুবিধাকে সবার জন্য নিশ্চিত ৫০০ ডলারের নগদ সহায়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত ইউটিলিটি বিলের ওপর মাসিক ছাড়। পরিবারের আয় অনুযায়ী ছাড়ের পরিমাণ নির্ধারিত হবে এবং কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যোগ্য পরিবারের বার্ষিক আয়ের তুলনায় সাধারণ ইউটিলিটি খরচ ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা।    ২০২৬ সালে কর্মসূচিটির যোগ্যতার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়মে স্টেট বা সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের নিচে থাকা আরও অনেক পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। ফলে আগে যোগ্য না থাকা কিছু পরিবারও এখন ইউটিলিটি বিলের ছাড়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।    স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, কিছু পরিবার অন্য সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে থাকার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিটি প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা হিপ, মেডিকেইড, সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই, ফেডারেল পাবলিক হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্স এবং ভেটেরান্সের নির্দিষ্ট সুবিধার মতো কর্মসূচি রয়েছে। তবে কোন কর্মসূচির সুবিধাভোগী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবেন আর কাদের নিজে অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে, তা প্রোগ্রাম ও ইউটিলিটি কোম্পানির নিয়মের ওপর নির্ভর করে।    যারা ইতোমধ্যে হিপের সুবিধা পান, তারা নিজেদের ইউটিলিটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিটি প্রোগ্রামে অ্যাকাউন্টটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারেন। অন্যদিকে আয়ভিত্তিক যোগ্য গ্রাহকরা সরাসরি তাদের ইউটিলিটি কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।    আবেদনের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় ও যোগ্যতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে। নির্দিষ্ট কাগজপত্র ইউটিলিটি কোম্পানি ও আবেদনকারীর যোগ্যতার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের ইউটিলিটি কোম্পানির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নিউইয়র্ক স্টেটের হিসাবে, নতুন ও পুরোনো সুবিধাভোগী মিলিয়ে রাজ্যের প্রায় অর্ধেক পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় মাসিক ইউটিলিটি বিল ছাড় পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। যোগ্য পরিবারগুলো এখনই তাদের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ২২:৪৬
থিও সাবোর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা-মা মিহাইল ও আনকা সাবো গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

৫ বছরের সন্তানকে গাড়িতে রেখেই পার্টিতে বাবা-মা, অতিরিক্ত গরমে শিশুর মৃত্যু

ইলিনয়ের মনমাউথে স্মিথফিল্ড ফুডসের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

সহকর্মীর মৃত্যুর পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ, ক্ষোভে কারখানা ছাড়লেন শতাধিক শ্রমিক

পাখির ডাক নকল করে পরিচিতি পাওয়া ১২ বছরের স্যামুয়েল হেন্ডারসন। ছবি: সংগৃহীত

১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে পারে ১২ বছরের স্যামুয়েল, তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ নেট দুনিয়া

0 Comments