যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতিপত্র, যা সাধারণভাবে ‘গ্রিন কার্ড’ নামে পরিচিত, সেটি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখো মানুষ। অনেকের ধারণা গ্রিন কার্ড পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো বিয়ে বা লটারি। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার একাধিক বৈধ পথ রয়েছে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, পারিবারিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ সক্ষমতা কিংবা মানবিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত পথগুলোর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক স্পনসরশিপ, চাকরিভিত্তিক অভিবাসন, বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক আবেদন, বিনিয়োগ, আশ্রয়, শরণার্থী কর্মসূচি এবং ডাইভারসিটি ভিসা লটারি।
পারিবারিক স্পনসরশিপের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। মার্কিন নাগরিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, অবিবাহিত সন্তান, বিবাহিত সন্তান এবং বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদনের পর ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন।
বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড
মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী কাউকে বিয়ে করলে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চায় যে বিয়েটি প্রকৃত এবং শুধু অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এজন্য দম্পতির যৌথ বসবাস, আর্থিক লেনদেন, ছবি ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করা হয়। প্রয়োজন হলে সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়।
এইচ-ওয়ান বি ভিসা থেকে গ্রিন কার্ড
প্রতি বছর হাজারো বিদেশি পেশাজীবী এইচ-ওয়ান বি কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যান। এই ভিসাধারীদের অনেকেই পরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। সাধারণত নিয়োগকর্তা কর্মীর পক্ষে স্থায়ী চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেন। শ্রমবাজার যাচাই, অভিবাসন আবেদন এবং ভিসা নম্বর পাওয়ার পর গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত আবেদন করা হয়।
ইবি-১: অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্নদের জন্য
বিজ্ঞান, গবেষণা, শিক্ষা, শিল্পকলা, ব্যবসা বা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জন রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গবেষণা প্রকাশনা, বড় পুরস্কার বা নেতৃত্বের প্রমাণ থাকলে এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই আবেদন করা সম্ভব।
ইবি-২: উচ্চশিক্ষিত ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী
মাস্টার্স ডিগ্রি বা সমমানের উচ্চশিক্ষা এবং বিশেষ দক্ষতা থাকলে ইবি-২ ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক এবং অন্যান্য উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীরা সাধারণত এই পথ ব্যবহার করেন। জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন এমন আবেদনকারীরা ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার’-এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ পান।
ইবি-৩: দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের জন্য
দক্ষ শ্রমিক, পেশাজীবী এবং কিছু ক্ষেত্রে অদক্ষ কর্মীদের জন্য ইবি-৩ ক্যাটাগরি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর জন্য চাকরির অফার দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও এই পথের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড
ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে আবেদনকারী এবং তার পরিবারের সদস্যরা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান।
আশ্রয়প্রাপ্তদের জন্য গ্রিন কার্ড
যারা রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত বা অন্যান্য নির্যাতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পান, তারা আশ্রয় অনুমোদনের এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আশ্রয় মর্যাদা বহাল থাকতে হয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।
শরণার্থী কর্মসূচির মাধ্যমে
শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিরা সাধারণত এক বছর পর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। মানবিক বিবেচনায় পরিচালিত এই কর্মসূচি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ডাইভারসিটি ভিসা বা গ্রিন কার্ড লটারি
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পরিচালনা করে। কম অভিবাসনপ্রবণ দেশগুলোর নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত হলে নিরাপত্তা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে অভিবাসী ভিসা এবং পরবর্তীতে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়। এই ক্যাটাগরি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এখন!
বিশেষ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ড
ধর্মীয় কর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দিষ্ট কর্মচারী, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ সহযোগী এবং কিছু মানবিক কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ গ্রিন কার্ড কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নথিপত্রের প্রয়োজন হয়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ একাধিক হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা, নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ আবেদন পুরো প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে পরিবারভিত্তিক আবেদন, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন এবং বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যবহৃত পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে ২০২২ সালে বর্ণবাদী উদ্দেশ্যে সংঘটিত বন্দুক হামলায় ১০ জন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত পেটন গেনড্রনের ফেডারেল বিচারপ্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সোমবার থেকে মামলাটির জুরি নির্বাচন শুরু হয়েছে, যা বিচার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য জুরিদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো জেলা আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বিচারক ও আইনজীবীরা আশা করছেন, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগস্ট মাসে চূড়ান্ত জুরি প্যানেল গঠন করা সম্ভব হবে। এরপর অক্টোবরে মূল বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত জুরি বোর্ডে ১২ জন সদস্য এবং অন্তত ছয়জন বিকল্প জুরি নিয়োগ দেওয়া হবে। অভিযুক্ত পেটন গেনড্রন এর আগে নিউইয়র্ক রাজ্য আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন এবং সেখানে তাকে শর্তহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ফেডারেল পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে ২৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত ঘৃণামূলক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি চাওয়া হবে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রসিকিউটররা আনুষ্ঠানিকভাবে ইঙ্গিত দেন যে, মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডই উপযুক্ত শাস্তি হতে পারে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ তাকে ফেডারেল মামলায় দোষ স্বীকারের প্রস্তাব দিলেও বিচার বিভাগ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে মামলাটি এখন সরাসরি বিচার ও শাস্তি নির্ধারণের দিকে এগোচ্ছে। আদালত নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ মে বাফেলোর টপস সুপারমার্কেটে এই হামলা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, গেনড্রন কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করে হামলার প্রস্তুতি নেন। তিনি দোকানটি একাধিকবার পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘটনার দিন তিনি সামরিক ধাঁচের পোশাক, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং এআর-১৫ স্টাইলের রাইফেল নিয়ে সুপারমার্কেটে প্রবেশ করেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পূর্বেই জানতেন শনিবার দুপুরে দোকানটি বেশি ভিড়ে ভরা থাকবে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামলাটি সরাসরি অনলাইনে সম্প্রচার করা হয়েছিল। ঘটনার আগে তিনি অনলাইনে একটি বর্ণবাদী ইশতেহার প্রকাশ করেন, যেখানে অতীতের একাধিক গণহামলাকারীর নাম উল্লেখ ছিল। ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা এই বিচারপ্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। নিহতদের একজনের ছেলে জানান, তিনি আশা করেন এই বিচার শুধু অভিযুক্তকে নয়, বরং তাকে উগ্রবাদে প্রভাবিত করার পেছনে থাকা সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা সম্পর্কেও আলোকপাত করবে। তবে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো এই মামলার আসামি নয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও আনা হয়নি। তারা নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে। আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার মূল কেন্দ্র এখন দোষ-অদোষ নয়, বরং মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রযোজ্য হবে কি না-সেই বিষয়টি। বিচারক ইতোমধ্যে আসামিপক্ষের বিচার স্থানান্তরের আবেদন খারিজ করেছেন। ফলে বাফেলো শহরেই মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি বি-৫২ স্ট্রাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার ঘাঁটি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, বিমানটি রানওয়ে ত্যাগ করার পরপরই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। একই সঙ্গে বিমানবাহিনী দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। বি-৫২ স্ট্রাটোফোর্ট্রেস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান। কয়েক দশক ধরে বিমানটি মার্কিন বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেয়। দুর্ঘটনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ফেডারেল আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে শরণার্থী ও অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। গত শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএসসিআইএস জানায়, রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারকের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সংস্থাটি একমত না হলেও পরবর্তী বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবে। সংস্থাটি আরও জানায়, গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত আদালতের আদেশ জারি হওয়ার পর থেকেই ইউএসসিআইএস এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। গত সপ্তাহে রোড আইল্যান্ডের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এক রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন সুবিধা সীমিত করে আইন লঙ্ঘন করেছে। এসব দেশের মধ্যে আফগানিস্তানও রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে একজন আফগান নাগরিকের সঙ্গে জড়িত একটি বন্দুক হামলার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন, ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিন কার্ড এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিলম্বিত করেছিল। আদালতের রায়ে বলা হয়, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী। এর ফলে হাজারো আবেদনকারী দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও সহায়তা কর্মসূচিতে কাজ করা বহু আফগান নাগরিক নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করার পরও তাদের অভিবাসন আবেদন স্থগিত অবস্থায় ছিল। আদালতের নির্দেশনার পর ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় শুরু করা হবে। এতে আফগান শরণার্থী, বিশেষ অভিবাসী ভিসা (এসআইভি) সুবিধাভোগী এবং মানবিক সুরক্ষা প্রত্যাশী হাজারো আবেদনকারী কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই, শরণার্থী গ্রহণ সীমিতকরণ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর নাগরিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।