দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা! নিউইয়র্কের সরকারি আবাসন লটারি দ্রুত করতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ
নিউইয়র্ক সিটিতে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের চাহিদা বাড়লেও সরকারি আবাসন লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্ক হাউজিং কনফারেন্সের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে একটি নতুন আবাসন প্রকল্পে ভাড়াটিয়া নির্বাচন ও বসবাস শুরু করতে প্রায় দুই বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এই জটিলতা কমাতে আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
গবেষণায় ব্রঙ্কসের একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ১৮০টি অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়াটিয়া নির্বাচন ও স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২৭ মাস সময় লাগে। ফলে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বহু ইউনিট দীর্ঘ সময় খালি ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রকল্পে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে ৫ হাজারের বেশি আবেদন যাচাইয়ের জন্য বাছাই করা হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩৫টি পরিবার অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে সক্ষম হয়। অনেক আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি, কেউ আবার আয়ের সীমা বা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন। একই সঙ্গে একাধিক ধাপে নথি যাচাই, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়াও বিলম্বের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই দীর্ঘ অপেক্ষার অভিজ্ঞতা শুধু গবেষণার পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি আবাসন লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে।
আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রুকলিনের গ্রিনপয়েন্ট এলাকায় সরকারি আবাসন লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া জশ আয়ালা বলেন, আবেদন করার পর ভবন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রথমবার যোগাযোগ পেতে তার প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস সময় লেগেছিল। তার ভাষায়, “এই পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক দীর্ঘ হতে পারে।”
একই প্রতিবেদনে আরেক সফল আবেদনকারী অ্যালেক্স কার্পিও জানান, তিনি ২০২২ সালে আবেদন করেছিলেন এবং ২০২৩ সালে অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে সক্ষম হন। তার মতে, “এটি অনেকটাই ভাগ্যের বিষয়। কখন কর্তৃপক্ষ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, তা আগে থেকে জানার কোনো উপায় নেই।” তিনি বলেন, যোগাযোগ পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়, যা অনেক আবেদনকারীর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি আবাসন লটারির বর্তমান ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে আবেদন যাচাইয়ের ধাপ কমানো, একই নথি বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস, অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা, আবেদনকারীদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং খালি থাকা অ্যাপার্টমেন্ট দ্রুত যোগ্য আবেদনকারীদের কাছে বরাদ্দ দেওয়া।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। শহর কর্তৃপক্ষের ‘স্পিড’ উদ্যোগের আওতায় আবেদন, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং নতুন আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় কমিয়ে দ্রুত খালি ইউনিটে বাসিন্দা স্থানান্তর নিশ্চিত করা।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি আবাসন লটারি এমন একটি অনলাইন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বাসিন্দারা সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট এবং সীমিত সংখ্যক বাড়ির মালিকানা কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারেন। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিলেও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সুযোগ পান তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক আবেদনকারী।
নিউইয়র্কে আবাসন নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকে বলছেন, আবেদনকারীদের উচিত অনলাইন হিসাবের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, আয় ও পরিবারের তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা। এতে আবেদন যাচাইয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমতে পারে।
তাদের মতে, নিউইয়র্কে নতুন সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের পাশাপাশি আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত লিজ স্বাক্ষর পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করা গেলে হাজারো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য আবাসন পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেনাদের পরিবারের সদস্যদের আটক ও ডিপোর্টেশনের ঘটনা বাড়ছে, এমন সময় পেন্টাগন আবারও অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে সেনা নিয়োগ বাড়াচ্ছে। এবিসি নিউজের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ৫০ জনের বেশি সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনার বাবা-মা ও স্বামী-স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে; তাদের মধ্যে অন্তত ৬ জনকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির একটি উদাহরণ মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশালিস্ট জেসমিন হার্নান্দেজের পরিবার। তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা বলেছেন। কিন্তু তার বাবা অ্যানিসেতো হার্নান্দেজ-রেইনাকে চলতি বছরের মে মাসে আইসিই আটক করে। ওই সময় তিনি মিলিটারি প্যারোল ইন প্লেস কর্মসূচির জন্য আবেদন করে অপেক্ষায় ছিলেন। মিলিটারি প্যারোল ইন প্লেস এমন একটি অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা, সাবেক সেনা বা তাদের পরিবারের কিছু অনথিভুক্ত সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা দেয় না—ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসও বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। এবিসি নিউজের পর্যালোচনা অনুযায়ী, হার্নান্দেজের বাবার বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তার ২০০২ সালের একটি ডিইউআইসহ কয়েকটি ট্রাফিক-সংক্রান্ত রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে তিনি অ্যারিজোনার ইলোয় ডিটেনশন সেন্টারে আছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ৫২টি সামরিক পরিবারের সদস্য আটক হওয়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এসব পরিবারের সদস্য ছিলেন সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাদের বাবা-মা বা স্বামী-স্ত্রী। এপির অনুসন্ধানে অন্তত ছয়জন ডিপোর্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়; সরকারি কোনো নির্দিষ্ট হিসাব না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও তদন্ত শুরু করেছেন। ৬০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা ডিএইচএস, ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট ও ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের কাছে জানতে চেয়েছেন, সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক ও ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে পেন্টাগন এবং ডিএইচএসের মধ্যে কোনো সমন্বয় রয়েছে কি না। পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা আইনপ্রণেতাদের চিঠির জবাব সরাসরি দেবে। অন্যদিকে, একই সময়ে পেন্টাগন গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীদের নিয়োগ বাড়াচ্ছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীতে জনবল বাড়ানোর অংশ হিসেবে অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে নিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। ফলে একদিকে অভিবাসী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইসিইর অভিযান, অন্যদিকে অভিবাসী সম্প্রদায় থেকেই সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ—এই দুই নীতির মধ্যে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য বিষয়টি শুধু পারিবারিক সংকট নয়, সেনাদের মানসিক চাপ ও সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত বলে সামরিক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি আর্মি আইনি নোটিশে বলা হয়েছিল,পরিবারের সদস্যের অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা সেনাসদস্যের মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং দায়িত্ব পালনে মনোযোগ ব্যাহত করতে পারে। তবে ডিএইচএসের অবস্থান হলো, শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করার কারণে পরিবারের কোনো অনথিভুক্ত সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পান না এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের পরিণতি থেকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি মেলে না। ফলে বর্তমানে সামরিক পরিবারের সদস্যদের জন্য অভিবাসন সুরক্ষা, সামরিক দায়িত্ব ও ডিপোর্টেশন নীতির সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রে বড় রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষক ছাড়াই স্কুল, এআইয়ে পড়াশোনা - যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ অঙ্গরাজ্যে নতুন মডেল
আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়, বাঁচবে বাড়তি খরচ
চীন-রাশিয়াকে চাপে রাখতে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র রাখার কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
নিউইয়র্কের বাসিন্দা জোডি স্মিথের জীবনে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও প্যানিক অ্যাটাক ছিল নিত্যসঙ্গী। পরে এপিলেপসি ধরা পড়ার পর ওষুধে নিয়ন্ত্রণ না আসায় ২৮ বছর বয়সে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারে ডান পাশের অ্যামিগডালা, হিপোক্যাম্পাস এবং ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশের টিস্যু অপসারণ করা হয়। এরপর স্মিথের দাবি, তার জীবনে ভয় অনুভব করার বিষয়টিই যেন বদলে যায়। স্মিথের সমস্যার শুরু হয়েছিল অতিরিক্ত উদ্বেগ ও বারবার প্যানিক অ্যাটাক দিয়ে। পরে তার এপিলেপসি শনাক্ত হয় এবং প্রায় দুই বছর বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে না আসায় চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের যে অংশ থেকে খিঁচুনির সূত্রপাত হচ্ছে, সেটি শনাক্ত করে সমস্যা কমানো। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা তার মস্তিষ্কে বিশেষ প্রোব বসিয়ে কয়েক দিন ধরে খিঁচুনির উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশ, ডান অ্যামিগডালা ও ডান হিপোক্যাম্পাসে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক দিনের মধ্যেই স্মিথ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। এরপর তিনি নিজের মধ্যে অস্বাভাবিক এক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। আগে যে পরিস্থিতিতে তীব্র ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হতো, সেসব ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া অনেকটাই বদলে যায়। স্মিথের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর ভয়ও আগের মতো অনুভূত হচ্ছিল না। নিউইয়র্কের ব্যস্ত পরিবেশ কিংবা অন্য কোনো ভীতিকর পরিস্থিতিতেও তিনি তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারছিলেন। এক ঘটনায় নিউ জার্সিতে পাঁচজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেছিল বলে স্মিথ জানিয়েছেন। তার দাবি, পরিস্থিতিটি ছিনতাইয়ের মতো মনে হলেও তিনি আগের মতো আতঙ্কিত হননি এবং সেখান থেকে হেঁটে চলে যান। মাকড়সার মতো বিষয় নিয়েও তার ভয় অনেকটাই কমে যায় বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বর্ণনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা মানুষের ভয় ও হুমকির প্রতিক্রিয়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই অ্যামিগডালার কার্যক্রমে পরিবর্তনের পর ভয় অনুভূতিতে পরিবর্তন দেখা দেওয়ার বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। তবে চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষের ভয় দূর করার জন্য এ ধরনের অস্ত্রোপচার করেন না। স্মিথের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ করা। অস্ত্রোপচারের পর ভয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্মিথ কিছু স্মৃতি ও মনোযোগের সমস্যার কথাও জানিয়েছেন। এ ধরনের পরিবর্তন দেখায়, ভয় শুধু একটি নেতিবাচক অনুভূতি নয়, বরং বিপদ শনাক্ত করে মানুষকে সতর্ক রাখার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এপিলেপসি বা নির্দিষ্ট নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ত্রুটিপূর্ণ ভয়-প্রতিক্রিয়া কমানো উপকারী হতে পারে, কিন্তু স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে ভয় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলা নিরাপদ বা কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। জোডি স্মিথের ঘটনাটি তাই শুধু একজন মানুষের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার গল্প নয়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কীভাবে ভয়, স্মৃতি, আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও একটি আলোচিত উদাহরণ। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার এপিলেপসি চিকিৎসার পাশাপাশি ভয় অনুভবের ক্ষমতায় যে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন, সেটিই পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মস্তিষ্ক নিয়ে আলোচনার একটি আলোচিত চরিত্রে পরিণত করেছে।
মর্টগেজ রেট বাড়ার শঙ্কা, বাড়ি কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপে পরবেন ক্রেতারা
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
একজন নারীকে আগুনের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের মুখ ও শরীরের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী প্যাট্রিক হার্ডিসনের। ১৪ বছর ধরে একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে ২৬ ঘণ্টার এক জটিল মুখ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার বদলে দেয় তার জীবন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর। মিসিসিপির সেনাটোবিয়ায় একটি জ্বলন্ত বাড়িতে আটকে থাকা এক নারীকে খুঁজতে ঢুকেছিলেন হার্ডিসন। তিনি তখন স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী। উদ্ধার অভিযানের সময় হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে তার ওপর। কোনোভাবে একটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও ততক্ষণে তার মাথা ও শরীরের ওপরের অংশে আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই দুর্ঘটনায় তার চোখের পাতা, কান, ঠোঁট এবং নাকের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তৈরি হয় গুরুতর ক্ষত ও দাগ। পরবর্তী ১৪ বছরে স্বাভাবিক চেহারা ও শরীরের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাকে ৭১টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এত চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে বা পলক ফেলতে পারতেন না। চোখের পাতা না থাকায় তার চোখ সবসময় খোলা থাকত। এতে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া ও হাসার মতো স্বাভাবিক কাজও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বাইরে বের হলে মানুষের দৃষ্টিও তার দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অস্বস্তির কারণ ছিল। ২০১৫ সালে তার সামনে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিকেল সেন্টারের প্লাস্টিক সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ১০০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী দীর্ঘ প্রস্তুতির পর হার্ডিসনের মুখ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৪ আগস্ট ২০১৫ সকালে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে দুইটি পাশাপাশি অপারেশন কক্ষে চলে জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। হার্ডিসনের ক্ষতিগ্রস্ত মুখ ও মাথার টিস্যু সরিয়ে সেখানে একজন মৃতদাতার মুখ, মাথার ত্বক, কান, নাকের কাঠামো, ঠোঁট এবং চোখের পাতা প্রতিস্থাপন করা হয়। চোখের পাতা ও পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি প্রতিস্থাপন ছিল এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। হার্ডিসনের নতুন মুখের দাতা ছিলেন ২৬ বছর বয়সী ডেভিড রোডবগ। সাইক্লিং দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি মস্তিষ্ক-মৃত অবস্থায় ছিলেন। তিনি নিবন্ধিত অঙ্গদাতা ছিলেন। তার পরিবার মুখসহ অন্যান্য অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। রোডবগের হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতও অন্য রোগীদের প্রতিস্থাপনের জন্য দান করা হয়েছিল। রোডবগের মুখ হার্ডিসনের সঙ্গে শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও টিস্যুর সামঞ্জস্যের দিক থেকে ভালোভাবে মিলে যায়। চিকিৎসকেরা এই মিলকে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিলেন। মুখ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের গ্রুপ বা টিস্যুর মিল নয়, মুখের গঠন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যও বিবেচনায় নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। দাতা ও গ্রহীতার মাথার সিটি স্ক্যানের ভিত্তিতে বিশেষ কাটিং গাইড তৈরি করা হয়েছিল, যাতে রোডবগের মুখের হাড় হার্ডিসনের মুখের কাঠামোর সঙ্গে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে বসানো যায়। মুখের হাড়কে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখতে বিশেষ ধাতব প্লেট ও স্ক্রুও ব্যবহার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আরও কঠিন পুনর্বাসন। হার্ডিসনকে নতুন মুখের মাধ্যমে কথা বলা, গিলতে পারা এবং বিভিন্ন মুখের পেশি ব্যবহার করার জন্য আবার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নতুন চোখের পাতা ব্যবহার করে পলক ফেলতে সক্ষম হন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কথা বলা ও শক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষমতাও ফিরে আসতে শুরু করে। প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ছিল তার চোখ বন্ধ ও পলক ফেলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া। এর ফলে চোখ আর্দ্র রাখা ও পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুনরায় কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, এর মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা আর আগের মতো ছিল না। এক বছর পর হার্ডিসন স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে, বিভিন্ন মুখের অভিব্যক্তি তৈরি করতে এবং ব্যথা ছাড়াই খেতে পারছিলেন। তিনি গাড়ি চালানোর সক্ষমতাও ফিরে পান। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের পর শরীর নতুন মুখের টিস্যু প্রত্যাখ্যান করবে কি না, সেটিও ছিল বড় উদ্বেগ। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের প্রথম বছর তিনি বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানজনিত জটিলতার মুখে পড়েননি। চিকিৎসকেরা মনে করেন, দাতার সঙ্গে ভালো টিস্যু মিল এবং বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচার সে সময় পর্যন্ত করা সবচেয়ে বিস্তৃত মুখ প্রতিস্থাপন ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো প্রথম সারির জরুরি সেবাকর্মীর মুখ প্রতিস্থাপন। মুখের পাশাপাশি চোখের পাতা, পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি, কান এবং নির্দিষ্ট মুখের হাড় প্রতিস্থাপন এই অস্ত্রোপচারকে বিশেষ করে তুলেছিল। হার্ডিসনের জন্য এই অস্ত্রোপচার শুধু চেহারা পরিবর্তনের বিষয় ছিল না। দুর্ঘটনার পর যে কাজগুলো তিনি বছরের পর বছর করতে পারেননি, সেগুলোর অনেকটাই আবার সম্ভব হয়। চোখ বন্ধ করে ঘুমানো, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো, গাড়ি চালানো এবং মানুষের সামনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ফিরে আসে তার জীবনে। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে গিয়ে সাঁতারও কাটেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হার্ডিসনের ঘটনা মুখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর পর অন্য একজনের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। ডেভিড রোডবগের পরিবার তার অঙ্গ ও মুখ দানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হার্ডিসন আবারও স্বাভাবিক জীবনের অনেকটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। হার্ডিসনের অস্ত্রোপচারের পর মুখ প্রতিস্থাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আরও এগিয়েছে। তবে এটি এখনো অত্যন্ত জটিল ও বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি। দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন, শরীরের প্রতিস্থাপিত টিস্যু প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এর সঙ্গে জড়িত। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে সফল ফলাফল চিকিৎসকদের এই পদ্ধতি নিয়ে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সূত্র: এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ, নিউইয়র্ক।
করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির সন্দেহে ৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে সরকারি ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, প্রথমবার স্বীকার করল ওয়াশিংটন