জর্জিয়ায় সরাসরি এফবিআই অফিসে গিয়ে গোয়েন্দাগিরি শিখল শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একদল হাই স্কুল শিক্ষার্থীর জন্য ক্লাসরুমের সাধারণ একটি দিন মুহূর্তেই রূপ নিল অপরাধ তদন্তের এক রোমাঞ্চকর বাস্তব অভিজ্ঞতায়। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর বার্ষিক 'টিন একাডেমি'র অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এই অনন্য সুযোগ লাভ করে। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস আটলান্টার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্জিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এফবিআই-এর আটলান্টা ফিল্ড অফিস পরিদর্শন করে। সেখানে তারা গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, অপরাধের আলামত সংগ্রহসহ এফবিআই-এর বিভিন্ন পেশা ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে। পরবর্তীতে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে কৃত্রিম অপরাধের দৃশ্যপট বা মক ইনভেস্টিগেশন সিনারিওতে যুক্ত করে বাস্তব তদন্তের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আরবিয়া মাউন্টেন হাই স্কুলের সদ্য স্নাতক পাস করা শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল ভিল জানান, এই অভিজ্ঞতা তার সামনে এমন কিছু ক্যারিয়ারের সুযোগ উন্মোচন করেছে যা তিনি আগে কখনো ভাবেননি। তিনি বলেন, "আমি মিডিয়া ও ফিল্মিংয়ের প্রতি খুব আগ্রহী এবং আজ বুঝতে পারলাম যে এফবিআই-তেও এই লাইনে কাজ করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।" ড্যানিয়েল আগামী শরতে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ক্রিমিনাল জাস্টিস এবং ফিল্ম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করতে যাচ্ছেন। একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ হিসেবে এফবিআই-এর মতো জায়গায় এমন সুযোগ পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
টিফ কাউন্টি হাই স্কুলের আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী গ্রেটা কোয়ার্সি জানান, ফরেনসিক ক্লাসের প্রতি আগ্রহই তাকে অপরাধের দৃশ্যপট তদন্তের (ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন) দিকে টেনে এনেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর এই যুগে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে দূরদর্শী গ্রেটা বলেন, "এআই-এর যেভাবে উত্থান হচ্ছে, তাতে আমি এমন একটি পেশা বেছে নিতে চেয়েছিলাম যেখানে আমাকে অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে না। এআই কখনো মানুষকে মানসিক স্বস্তি বা নিরাপত্তা দিতে পারে না, যা একজন মানুষ পারে।"
এফবিআই-এর কমিউনিটি আউটরিচ স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ফোরম্যান বলেন, অনেক শিক্ষার্থীই মনে করে এফবিআই মানেই শুধু স্পেশাল এজেন্টদের দল। কিন্তু এই একাডেমির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যুরোর মূল লক্ষ্যকে সচল রাখতে পর্দার আড়ালে যে আরও অসংখ্য পেশাদার মানুষ কাজ করে, সেই বিশাল কর্মক্ষেত্রের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
এফবিআই প্রতি বছরই এই টিন একাডেমির আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে জর্জিয়ার হাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এফবিআই-এর ভেতরের কর্মপরিবেশ কাছ থেকে দেখার এবং দেশের সুরক্ষায় বিভিন্ন আকর্ষণীয় পেশা বেছে নেওয়ার পথ তৈরি হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের ম্যানহাটনে পাতালরেলের লাইনে উঠে পড়ার পর চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুণী ও তাঁর বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। কীভাবে তাঁরা রেললাইনে চলে গেলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে একজনকে সাহায্য করতে অন্যজন লাইনে নেমেছিলেন বলে ধারণা করা হলেও পুরো ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। নিহত দুজন হলেন ২৪ বছর বয়সী মালাইকা চিত্রে ও তাঁর বন্ধু নাভাম কাউল। মালাইকা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ডেটনের বাসিন্দা এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত। নাভাম নিউ জার্সির সায়রভিলের বাসিন্দা এবং নেপালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান। দুজনই রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের স্প্রিং স্ট্রিট পাতালরেল স্টেশনে। স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ৩টা ১৪ মিনিটে দক্ষিণমুখী ৪ নম্বর ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের সময় মালাইকা ও নাভাম রেললাইনের ওপর ছিলেন। ট্রেনের চালক তাঁদের দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করেন। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ট্রেনটি তাঁদের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে প্রায় ১০০ যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষের পর তাঁদের নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রেনটি থামার সময় এর ১০টি বগির মধ্যে চারটি স্টেশনের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কীভাবে দুজন রেললাইনে গেলেন, সেটিই এখন তদন্তের প্রধান বিষয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, নাভাম প্রথমে লাইনে পড়ে যেতে পারেন বা নিজে নিচে নেমে থাকতে পারেন। এরপর তাঁকে সাহায্য করতে মালাইকা লাইনে নেমেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার আগের মুহূর্তের একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দুজনকে রেললাইনের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কীভাবে তাঁরা সেখানে পৌঁছেছিলেন বা তার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয় না। ফলে ভিডিওর ভিত্তিতে দুর্ঘটনার পুরো কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা তাঁরা ওই সময় মদ্যপ ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো প্রতিবেদনে মদ বা মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। আত্মহত্যার সম্ভাবনাও তদন্তকারীরা পুরোপুরি বাদ দেননি, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনাস্থলে কোনো আত্মহত্যার নোট পাওয়া যায়নি বলে নিউইয়র্ক পোস্টের সূত্রগুলো জানিয়েছে। মালাইকা ও নাভাম দুজনেরই রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মালাইকা ২০২৪ সালের মে মাসে রাটগার্স-নিউ ব্রান্সউইকের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি নিউ জার্সির একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান একাডিয়া ফার্মাসিউটিক্যালসে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাসংক্রান্ত কাজে যোগ দেন। চলতি বছরের আগস্টে তিনি টেম্পল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসিতে ফার্মেসি বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। নাভাম রাটগার্স বিজনেস স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ২০২৪ সালে অর্থ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি নিউইয়র্কভিত্তিক আর্থিক তথ্য ও সংবাদ প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গে আর্থিক তথ্য বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছিলেন। দুজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়েও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ ও গণমাধ্যমবিষয়ক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডোরি ডেভলিন বলেন, দুই সাবেক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জেনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে শোকাহত। নাভামের পরিবার নেপাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসতি গড়েছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই মালাইকা ও নাভাম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তাঁদের পরিচিত মহলে তাঁরা সুপরিচিত ছিলেন। তাঁদের আকস্মিক মৃত্যু নিউ জার্সির পরিবার, বন্ধু ও সাবেক সহপাঠীদের মধ্যে শোক তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। রেললাইনে দুজন কীভাবে পৌঁছেছিলেন এবং দুর্ঘটনার ঠিক আগে কী ঘটেছিল, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, নিউইয়র্ক পোস্ট, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ফিলাডেলফিয়ায় রহস্যময় বাড়িতে নিখোঁজ ৫ নারী, তদন্তে একের পর এক ভ য়ংকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনে ২৯ সেপ্টেম্বর ডেডলাইন, সেভ প্ল্যান ছাড়লেন ১৫ লাখ, অপেক্ষায় ৬০ লাখ
লস অ্যাঞ্জেলেসে ১ বিলিয়ন ডলারের গৃহহীন তহবিল কেলেঙ্কারি, কংগ্রেসের তোপের মুখে মেয়র
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ড ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেড সুদহার বাড়াতে পারে—এমন জোরালো আশঙ্কায় মঙ্গলবার মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। এদিন ট্রেজারি ইয়েল্ড ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫.০৪১ শতাংশে পৌঁছায়। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বুধবারের বৈঠকে ফেড সুদহার বৃদ্ধির ঘোষণা দিতে পারে। ট্রেজারি ইয়েল্ড বাড়ার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হলো এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়; এর ফলে মর্টগেজ, গাড়ি এবং ব্যবসায়িক ঋণের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ডিজেলের দামে ব্যাপক উল্লম্ফন ইয়েল্ড বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ডিজেলের এই মূল্যস্ফীতি সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে পোশাক এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্য পরিবহনে মূলত ট্রাক ব্যবহৃত হয়। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৬.২৭ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া গ্যাসলিনের দাম গ্যালন প্রতি ৪.৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কোনো সুরাহা না হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২.৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৮.৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সার্বিক এই অর্থনৈতিক অস্থিরতায় মঙ্গলবার ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৪৬৫ পয়েন্ট বা ০.৯ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক যথাক্রমে ০.৫ ও ০.৮ শতাংশ পতনের মুখে পড়ে। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্যমতে, বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৯৪ শতাংশ নিশ্চিত যে, ফেড তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদহার এক-চতুর্থাংশ বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। মরগান স্ট্যানলি এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো শীর্ষ ব্যাংকগুলোও সুদহার অপরিবর্তিত থাকার পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে তা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট মূল্যস্ফীতি কমার কিছু লক্ষণ দেখলেও, মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া ফেড চেয়ার কেভিন ওয়ার্শের অধীনে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সুদহার বাড়ানো নিয়ে মতভেদ জোরালো হচ্ছে। অন্যদিকে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই খাতের শেয়ারগুলোতেও এ সপ্তাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য হুমকি হতে পারে—গবেষকদের এমন সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার মাইক্রন ও ইন্টেলের শেয়ারের দাম যথাক্রমে ০.৪ ও ০.৩ শতাংশ কমেছে। এছাড়া বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোর কারণে শব্দ, আলো ও পানি দূষণের পাশাপাশি আমেরিকানদের কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কাও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় মাত্র ৯৭৭ ডলার বকেয়ার জেরে ৫ লাখ ডলারের বাড়ি হারালেন এক ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নীতি আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক
এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে না নিলে পিছিয়ে পড়বে নতুন প্রজন্ম, সতর্ক করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে সরকারের লাভজনক চুক্তি বাগিয়ে নিতে ঘুস লেনদেনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার আদালতে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ৫৪ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চলমান ফেডারেল তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দুর্নীতি থেকে অর্জিত ১৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও তিনি সম্মতি দিয়েছেন। গত মে মাসে ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অ্যালেক্স সাবকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠান। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মার্কিন প্রশাসনের নজরে ছিলেন। অর্থ পাচারের এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতার শর্তে প্রসিকিউটররা তার সাজা কমানোর সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সাবের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে বিমান জ্বালানি নেওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় ভেনেজুয়েলা সরকার তার সেই যাত্রাকে ইরানের উদ্দেশে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের মানবিক মিশন’ বলে দাবি করেছিল। মঙ্গলবার আদালতে সাব জানান, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছেন এবং নিয়মিত অবসাদ দূর করার ওষুধ সেবন করছেন। ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলায় বন্দি বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাবকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ রিপাবলিকান ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল এবং তারা দ্রুত তার অন্যান্য অপরাধের তদন্ত শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অ্যালেক্স সাবকে মাদুরোর দুর্নীতির অন্যতম ‘প্রধান সহযোগী’ বা অর্থ পাচারকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাদুরো বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে ম্যানহাটনে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে সাবকে ব্যবহার করা হতে পারে। এদিকে, সাব ও মাদুরোর এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত কাজে লাগানোর লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজাচ্ছে। সাব মূলত ভেনেজুয়েলা সরকারের বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পশ্চিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে তেল বিক্রি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মাদুরোকে সহায়তা করে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় চরম মুদ্রাস্ফীতির সময় দরিদ্রদের জন্য চাল, ভুট্টা ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ‘ক্ল্যাপ’ (CLAP) কর্মসূচির আড়ালে ভুয়া কোম্পানি খুলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন তিনি এবং তার সহযোগীরা।
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান, হেগসেথকে অভিশংসনের প্রস্তাব ম্যাসির
নিউইয়র্কে বকেয়া করের জন্য ভবন বাজেয়াপ্ত, মালিকদের ৬০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে শহর