আন্তর্জাতিক

বাবার সাজা ঠেকাতে আমেরিকার সাহায্য চাওয়ায় ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলের জেল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৯:২৩
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারোকে (৪১) | ছবি: রয়টার্স
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারোকে (৪১) | ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ও বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা এবং দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের তদবির করার দায়ে ব্রাজিলের সাবেক উগ্র-ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারোকে (৪১) কারাদণ্ড দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালত। সাবেক এই ব্রাজিলীয় কংগ্রেস সদস্যের অনুপস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্ট তাকে ৪ বছর ২ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, গত বছর তার বাবা জেইর বলসোনারোর অভ্যুত্থান মামলার বিচার চলাকালে এদুয়ার্দো মার্কিন প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল, তিনি ব্রাজিলের ওপর মার্কিন শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ওয়াশিংটনের কাছে তদবির করছিলেন, যেন সাজা থেকে তার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাবাকে কোনোভাবে সুবিধা দেওয়া যায়।

 

উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল শাসন করা জেইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনি পরাজয় উল্টে দেওয়ার এবং সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বাবার এই রায় আসার আগেই, ২০২৫ সালে এদুয়ার্দো ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

 

কারাদণ্ডের এই রায়কে ‘ভিত্তিহীন ও অর্থহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এদুয়ার্দো বলসোনারো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তিনি যেন ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেজন্যই বিচারকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রায় দিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই মামলায় তাকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেই তিনি প্রথম মামলার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এর আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, ব্রাজিলে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্বেচ্ছা নির্বাসনে’ বসবাস করছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন এদুয়ার্দো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তার বাবার জন্য জনসমক্ষে সমর্থন চেয়ে অনুরোধ জানান। ট্রাম্প প্রশাসনও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে চলা এই মামলাকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি' হিসেবে তুলনা করেছিল এবং বলসোনারোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে গত বছরের জুলাই মাসে ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন এবং একপর্যায়ে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসের ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিল।

 

সে সময় ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মার্কিন শুল্ক আরোপকে 'অযৌক্তিক' এবং তাদের বিচারপতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে দেশের বিচার ব্যবস্থায় 'অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ' বলে তীব্র নিন্দা জানান। পরবর্তীতে অবশ্য তীব্র আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
ভিয়েতনামে মাংসের জন্য চুরি হওয়া ৪০০ বিড়াল উদ্ধার, বড় চক্রের সন্ধান

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে মাংসের জন্য পোষা বিড়াল পাচারকারী একটি বড় চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। কয়েক দিন ধরে চলা এই বিশেষ অভিযানে ৪শরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পোষা প্রাণী চুরির এই চক্রটির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ভিয়েতনামের স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, হো চি মিন সিটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুলসংখ্যক পোষা বিড়াল চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সন্ধান পায়। অভিযানে পুলিশ সন্দেহভাজনদের আস্তানা থেকে ৪৫টি খাঁচায় বন্দি অবস্থায় প্রায় ৪০০টি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করে। এছাড়া বরফ ভর্তি চারটি ফোমের বাক্সে আরও প্রায় ৮০টি মৃত বিড়াল এবং অন্য একটি আস্তানা থেকে আরও ২১টি জীবিত বিড়াল জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোট ৫০০টিরও বেশি বিড়ালের এই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনামের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রাণী উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।   পুলিশি জেরার মুখে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা গত তিন বছর ধরে হো চি মিন সিটি, তে নিন এবং আন গিয়াংসহ দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষের পোষা বিড়াল ধরে এনে পাচার করছিল। আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থা 'হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস'-এর প্রতিনিধি কারানভির কুকরেজা বলেন, এই ঘটনাটি ভিয়েতনামে বিড়ালের মাংসের ব্যবসার বিশাল এবং ভয়াবহ রূপটিকে আবারও সবার সামনে এনেছে। উদ্ধারকৃত বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি গর্ভবতী ছিল এবং চলতি সপ্তাহে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই কিছু বাচ্চার জন্ম হয়েছে।   উদ্ধার অভিযানের পর গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০টি বিড়ালকে তাদের আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নির্মম পরিবেশে আটকে রাখার কারণে উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে মারা গেছে। বিড়ালগুলোর সেবায় বর্তমানে স্থানীয় পশু চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবকরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া পোষা বিড়ালটিকে খুঁজতে এসে না পেয়ে চোখের জল ফেলছেন।   ভিয়েতনামে কুকুর এবং বিড়ালের মাংস খাওয়া ও বিক্রি করা আইনত বৈধ হলেও বিক্রেতাদের অবশ্যই প্রাণীর উৎসের বৈধ অনুমতিপত্র থাকতে হয়। তবে ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ হওয়ার পর ভিয়েতনাম সরকারও পোষা প্রাণীদের সুরক্ষায় আইন সংস্কারের পরিকল্পনা করছে। হো চি মিন সিটির স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই বড় ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিড়ালের মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১২:৪৯
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় আহত সোমালিয়ার ৭ বছরের শিশু, ৭৫০ ডলারের অভাবে পঙ্গুত্বের আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

ইতালির মিলানে নারী যাত্রীদের গোপন ছবি নিয়ে নোংরা চ্যাট, ট্রাম চালকরা বরখাস্ত

যুক্তরাজ্যের প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট মিডলটন | ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে কেট মিডলটনের চিকিৎসার তথ্য ফাঁসের চেষ্টা, সাবেক স্বাস্থ্যকর্মীকে শাস্তি

রোসমারি সুজার্ট গার্সিয়া (৫৯) | ছবি: সংগৃহীত
বাঞ্জি জাম্পিং ট্র্যাজেডির পরদিনই ব্রাজিলে পাহাড় থেকে পড়ে আরেক নারীর মৃত্যু

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এক তরুণীর বাঞ্জি জাম্পিংয়ের সময় দড়ি ছাড়া নিচে পড়ে মৃত্যুর ঠিক পরদিনই পাহাড়ি ট্রেইলে মশার স্প্রে করতে গিয়ে ১০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক নারী। গত রবিবার (১৪ জুন) ব্রাজিলের মারিকাহ এলাকার ‘গ্রুটাস ডো স্পার’ পাহাড়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   নিহত ওই নারীর নাম রোসমারি সুজার্ট গার্সিয়া (৫৯)। তিনি রিও ডি জেনিরোর বাসিন্দা এবং একদল পর্যটকের সাথে ওই পাহাড়ে ট্র্যাকিং করতে গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ের একটি উঁচু পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রোসমারি মশার কামড় থেকে বাঁচতে পায়ে স্প্রে করার জন্য এক পা ওপরে তোলেন। কিন্তু উঁচু ও খাড়া পাহাড়ের ওপর একক পায়ে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের দিকে পড়ে যান। দলের ট্যুর গাইড তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত ধরলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তীব্র টানে গাইড নিজেও পড়ে যাচ্ছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে একটি গাছের শিকড় ধরে তিনি নিজেকে সামলে নেন। চোখের পলকে ১০০ ফুট নিচে পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়েন রোসমারি।   উদ্ধারকর্মীরা পাহাড়ের নিচ থেকে রোসমারির নিথর দেহ উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, পাহাড়ে হাঁটার জন্য হেলমেট ও গ্লাভসসহ সমস্ত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম তার শরীরে ছিল। পুলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।   এর ঠিক আগের দিন শনিবার (১৩ জুন) ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আরও একটি ভয়ংকর কাণ্ড ঘটে। একটি সেতু থেকে ২৩ বছর বয়সী মারিয়া এদুয়ার্দো নামের এক তরুণী বাঞ্জি জাম্পিং করতে গেলে আয়োজকরা তার পায়ে দড়ি না বেঁধেই তাকে নিচে ফেলে দেয়। ১৩০ ফুট নিচে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবেই তার মৃত্যু হয়। পরপর দুই দিনে এমন দুটি মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১০:১৯
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারোকে (৪১) | ছবি: রয়টার্স

বাবার সাজা ঠেকাতে আমেরিকার সাহায্য চাওয়ায় ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলের জেল

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ভারতে মার্কিন কনস্যুলেটের পাশে সড়কের নামকরণ হচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’

ছবিঃ রয়টার্স

মস্কোসহ রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, একাধিক স্থানে আগুন

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানের কাছে মাথা নত হলো ট্রাম্প, টিকে থাকল ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা

মাসের পর মাস বিমান হামলা, সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের বন্দরগুলো কার্যত অচল করে দেওয়া নৌ অবরোধের পর যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার ফলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থা বহাল থাকছে।   চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন ইরানে সরকার পরিবর্তন বা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্তও তেহরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করে আসছিলেন।   উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।   চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে পেতে রাখা মাইন অপসারণ, কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি এবং ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪১ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।   চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ওই ইউরেনিয়াম হস্তান্তর না হলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না।   বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা হবে। যুদ্ধ ও বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ অর্থকে ‘ক্ষতিপূরণ’ বলতে রাজি নয়। তারা এটিকে ‘আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল’ হিসেবে উল্লেখ করছে।   চুক্তির অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করা হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির অধিকার ফিরে পাবে তেহরান।   অন্যদিকে এই চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ লুকাচ্ছে না ইসরায়েল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা দেশটি চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার ব্যক্তিগত আলোচনায় এই সমঝোতাকে ‘গভীর হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৭:৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক চুক্তির খসড়া ইসরায়েলকে দেখতে দিল না ওয়াশিংটন

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে কঠোর পরিণতি, ইসরায়েলকে ইরানের হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা বাজেটে কাটছাঁট হলেও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অনড় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট

0 Comments