নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকায় ১৯ জুন শুরু হচ্ছে বহুসাংস্কৃতিক উৎসব ‘ভালো মেলা ২০২৬’
নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর জ্যামাইকা এলাকায় আগামী ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটি উৎসব ‘ভালো মেলা ২০২৬’। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভালো (বিএইচএএলও)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত বছরও একই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। এবারের আয়োজনকে আরও বিস্তৃত ও অংশগ্রহণমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলার মূল লক্ষ্য বিভিন্ন বয়স ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য একসঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনোদন ও সামাজিক সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি করা।
আয়োজনস্থল হিসেবে কুইন্সের হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং ১৭৩ স্ট্রিট থেকে ১৭৫ স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প, কমিউনিটি সেবা এবং পারিবারিক বিনোদনের নানা আয়োজন থাকবে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ কার্যক্রম। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
এবারের মেলায় কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি, এলহাম একাডেমি, সাপ্তাহিক ঠিকানা এবং বেঙ্গলিস অব নিউইয়র্ক (বনি)। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামসও অনুষ্ঠানের সহযোগী অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী বিক্রেতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য অনলাইন নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ থাকছে।
আয়োজক সংগঠন ভালো (বিএইচএএলও)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজন কেবল একটি মেলা নয়, বরং এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস। নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ একটি সমর্থন পেলেন প্রগ্রেসিভ প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সায়েদ। ওয়েন কাউন্টি ডেপুটি শেরিফস অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সামাজিক মাধ্যমে জানান, এল-সায়েদের পক্ষে এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সংগঠন মিলিয়ে ২০০টিরও বেশি এনডোর্সমেন্ট রয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। এই নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগ্রেসিভ ও প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ওয়েন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন। তার প্রচারণায় ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, রাশিদা তালিব, এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ ডেমোক্রেটিক পার্টির একাধিক প্রগ্রেসিভ নেতা। পাশাপাশি ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ), ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেডসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সংগঠনও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সায়েদকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির অন্যতম শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও হাড্ডাহাড্ডি, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে বড় বড় এনডোর্সমেন্ট তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তার মুখোমুখি হবেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। মিশিগান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর একটি। ফলে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হলেও সাধারণ নির্বাচনে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। তবে আবদুল এল-সায়েদের প্রার্থিতা ইতোমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আরেকটি কারণে। তিনি যদি ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন জিতে পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনেও বিজয়ী হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়বেন। এই সম্ভাবনাই তার প্রচারণাকে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ‘সেক্সুয়ালি অ্যাডভেঞ্চারাস’ অঙ্গরাজ্য কোনটি? জানাল নতুন জরিপ
কোথায় সবচেয়ে সুখে থাকেন মার্কিনরা? নতুন তালিকায় চমক দেখাল সিয়াটল
নিউ ইয়র্কে প্রথম ধরা পড়ল ‘বারবন ভাইরাসে’ আক্রান্ত রোগী, নেই টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত মানবসদৃশ রোবটকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি চার্টার স্কুল। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তীব্র সমালোচনা এবং নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগের মুখে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের ‘এক্সেলেন্স কমিউনিটি স্কুলস’ নতুন শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষামূলকভাবে একটি মানবসদৃশ এআই রোবটকে শ্রেণিকক্ষে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং অনেক অভিভাবক প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সমালোচকদের প্রধান আশঙ্কা ছিল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ এবং শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন মানব শিক্ষক যে আবেগ, সহমর্মিতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারেন, একটি রোবট তা কখনোই পুরোপুরি করতে পারবে না। বিতর্কের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, তবে আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত, প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা বিষয়গুলো আরও পর্যালোচনা করার পর ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্কুলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় এআই রোবটকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং শিক্ষকদের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা ছিল। তবুও অভিভাবকদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েই প্রকল্পটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, মূল্যায়ন, ভাষা শেখানো এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষাদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। তবে শিশুদের শিক্ষায় এআইয়ের ভূমিকা, তথ্য সুরক্ষা, নৈতিকতা এবং মানব শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এখনো বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই শিক্ষকদের কাজকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সামাজিক যোগাযোগ এবং মূল্যবোধ গঠনে মানব শিক্ষকের ভূমিকার বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তিকে বিবেচনা করা এখনো সময়োপযোগী নয়।এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, শিক্ষা খাতে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নয়, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের আস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে ইন-অ্যান্ড-আউট বার্গারে বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৩
নিউ জার্সিতে পরিত্যক্ত কূপে আটকে পড়ে হরিণ, উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিল পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে না ফেরার দেশে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ও এনভিডিয়ার সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. ইরফান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ একাধিক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে অনলাইনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফ্লোরিডার এক বাসিন্দাকে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) জানিয়েছে, ফ্লোরিডার টালাহ্যাসির ৩৬ বছর বয়সী দিয়েগো এম. ভিলাভিসেনসিও গত এপ্রিলে চারটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর মধ্যে ছিল অঙ্গরাজ্যের সীমানা অতিক্রম করে হুমকি পাঠানোর দুটি অভিযোগ, একজন ফেডারেল কর্মকর্তার কাজে বাধা বা প্রতিশোধমূলক হুমকির একটি অভিযোগ এবং প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেওয়ার একটি অভিযোগ। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই তার সাজা ঘোষণা করা হয়। এসব অভিযোগে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত। তবে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প, সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ার জেরোম পাওয়েল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক হুমকিমূলক পোস্ট করেন ভিলাভিসেনসিও। বিচার বিভাগের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি এক্সে জেরোম পাওয়েলকে উদ্দেশ্য করে দুটি পোস্ট দেন। এর একটিতে পাওয়েলের মাথার দিকে তাক করা লাল নিশানার একটি ছবি ব্যবহার করা হয় এবং লেখা হয়, তাকে ২৩ সেপ্টেম্বর গুলি করে হত্যা করা হবে। আরেকটি পোস্টেও একই ধরনের ছবি দিয়ে লেখা হয়, 'জেরোমই পরের লক্ষ্য'। পরদিন তিনি এরিক সোয়ালওয়েলের একটি পোস্টের জবাবে তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে সোয়ালওয়েলকে সরাসরি বার্তা পাঠিয়ে নির্দিষ্ট একটি তারিখে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে বলেও দাবি করেন। এর কয়েক মাস পর, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি অনলাইন ফোরাম ফোরচ্যানে একটি পোস্টের জবাবে ভিলাভিসেনসিও লেখেন, তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থিত ট্রাম্পের মার-আ-লাগো রিসোর্টে গিয়ে ট্রাম্প ও আরও কয়েকজনের ওপর গুলি চালাতে চান। এই পোস্টের পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নজরে আসে। মামলার তদন্তে অংশ নেওয়া এফবিআইয়ের জ্যাকসনভিল ফিল্ড অফিসের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেসন কার্লি বলেন, প্রেসিডেন্ট বা অন্য কোনো ফেডারেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন হুমকির ঘটনা তদন্ত এবং সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধে এফবিআই ও তাদের অংশীদার সংস্থাগুলো সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, টালাহ্যাসিতে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের আবাসিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেথ রেইস্টার বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করা হবে না। তার ভাষায়, এই মামলার রায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের প্রতিফলন। কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর ভিলাভিসেনসিওকে আরও তিন বছর আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। এর প্রথম এক বছর তাকে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে হবে। পাশাপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবেশন অফিস তার কম্পিউটার ব্যবহারের ওপরও নজরদারি করবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অনলাইনে হুমকি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এমন অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সাংবাদিকের ফোন জব্দ, ভ্রমণকারীদের অধিকার নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে চাকরি করলে কী কী সুবিধা মেলে, আবেদন করবেন কীভাবে?