ক্যালিফোর্নিয়ায় পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮ জনের পরিচয় প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় বিধ্বস্ত হওয়া একটি বি-৫২ স্ট্রাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমানে নিহত আটজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে মার্কিন বিমান বাহিনী। সোমবার ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা সকল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
বুধবার এক বিবৃতিতে এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনের অংশ হিসেবে বিমানটি সোমবার দুপুরের কিছু আগে ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই বিমানটি প্রায় ১৫ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ের মাঝামাঝি অংশের কাছাকাছি এলাকায় ভূপাতিত হয়।
ঘটনার পর ধারণ করা আকাশপথের ভিডিও ও উদ্ধারকারী দলের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিমানটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষের অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে শুরু থেকেই কেউ বেঁচে নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কর্নেল গ্রেগরি ওয়াটসন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল গ্যাব্রিয়েল এস্ট্রেলা, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইলস মিডলটন, মেজর আলেকজান্ডার ডেভিস, মেজর রবার্ট ডি, মেজর ব্র্যাড হোভি, ফ্লাইট টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার জেরোমি স্মিথ এবং জেটি-৪ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ক্রিস্টোফার রিশার।
মার্কিন বিমান বাহিনীর ৪১২তম টেস্ট উইংয়ের কমান্ডার কর্নেল থমাস টাওয়ার নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “আমরা আটজন অসাধারণ আমেরিকানকে হারিয়েছি। তারা শুধু দক্ষ পেশাজীবীই ছিলেন না, তারা ছিলেন সহকর্মী, বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং আমাদের পরিবারের অংশ।
”
নিহত প্রকৌশলী জেরোমি স্মিথের স্ত্রী লরেন স্মিথ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, তার স্বামী নিজের পছন্দের কাজ করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি জানান, আকস্মিক এই ক্ষতি মেনে নেওয়া এখনও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
বিমানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিকায়ন প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বি-৫২ বহরে উন্নত অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (এইএসএ) রাডার প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর লক্ষ্য হচ্ছে কয়েক দশক পুরোনো এই বোমারু বিমানগুলোকে অন্তত ২০৫০ সাল পর্যন্ত কার্যকর রাখা।
দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটি, ইঞ্জিনজনিত সমস্যা অথবা দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে কাঠামোগত দুর্বলতা। যদিও তদন্ত কর্মকর্তারা এখনো কোনো নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করতে পারেননি।
মিচেল ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক হিদার পেনি বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত বি-৫২ বহরের সবচেয়ে নতুন বিমানটিও ১৯৬২ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল। তার মতে, বিমানগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী কাঠামোর হলেও এগুলোর বয়স অনেক বেশি হওয়ায় সম্ভাব্য কাঠামোগত ত্রুটির বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা তদন্ত বোর্ড ইতোমধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে বিমানের ফ্লাইট কন্ট্রোল ব্যবস্থা, ইঞ্জিন, রক্ষণাবেক্ষণ ইতিহাস এবং কাঠামোগত অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসের বিমান চলাচল কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়েছে।
শীতল যুদ্ধের সময় থেকে মার্কিন কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে বি-৫২ স্ট্রাটোফোর্ট্রেস। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত এই বোমারু বিমান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার আকাশশক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা তাই বিমানটির নিরাপত্তা, আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ফুড স্ট্যাম্প (এসএনএপি) সুবিধাভোগী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে ফল ও সবজি কেনার জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৬০ ডলার দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে অংশগ্রহণকারী অঙ্গরাজ্যগুলো যোগ্য পরিবারকে এই অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারবে। ফ্রেশ বাকস ফর ফ্রেশ প্রোডিউস অ্যাক্ট নামে প্রস্তাবিত এই বিলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীনে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালুর কথা বলা হয়েছে। এতে যেসব পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের ৮০ শতাংশ বা তার কম, তারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন। যারা ইতোমধ্যে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের আলাদা করে আয়ের প্রমাণ দিতে হবে না। বিল অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৬০ ডলার ইলেকট্রনিক বেনিফিট ট্রান্সফার (ইবিটি) কার্ড বা অঙ্গরাজ্যের বিদ্যমান অর্থপ্রদান ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া হবে। অর্থ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তা ব্যবহার করতে হবে। এই অর্থ দিয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত তাজা, হিমায়িত বা শুকনো ফল ও সবজি কেনা যাবে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বিযুক্ত পণ্য এই সুবিধার আওতায় থাকবে না। ফল ও সবজি উৎপাদনের উপযোগী কিছু ভেষজ ও চারা গাছও কেনা যাবে। এই অতিরিক্ত সুবিধা বর্তমান ফুড স্ট্যাম্প বা অন্যান্য সরকারি খাদ্য সহায়তার পরিবর্তে নয়, বরং অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হবে। কৃষক বাজার, স্বাধীন মুদি দোকান, খামারের বিক্রয়কেন্দ্র, সুপারমার্কেট এবং কৃষি বিভাগের অনুমোদিত অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্রে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। বিলটি ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রমিলা জয়াপাল এবং আরও কয়েকজন প্রতিনিধি গত ২ জুলাই প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিয়াটলে পরিচালিত একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা বেড়েছে এবং তারা ফল ও সবজি বেশি খেতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদের কৃষি বিষয়ক কমিটির বিবেচনাধীন রয়েছে। অনুমোদন পেলে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালু করবে এবং পরে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
টেক্সাসে নিখোঁজের পর ২ বছরের শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের আগে নিজ খরচ বহনের সামর্থ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ মার্কিন কর্তৃপক্ষের
জর্জিয়ায় ফ্লক ক্যামেরা অপব্যবহারের অভিযোগে ছয় পুলিশ কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হলো
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এইচ-ওয়ান-বি ভিসাধারী কর্মীদের মধ্যে জাতীয় মধ্যম বেতনের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি বেতন দেয় এমন সাতটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই বিশ্লেষণটি করেছে এইচ-ওয়ান-বি স্কোপ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের জাতীয় মধ্যম বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার ৭০৭ ডলার। তবে তালিকাভুক্ত সাতটি প্রতিষ্ঠানে এই কর্মীদের মধ্যম বেতন অন্তত ১ লাখ ৯৮ হাজার ডলার। একই সঙ্গে এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের জাতীয় মধ্যম বেতন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জাতীয় মধ্যম বেতন ৫৯ হাজার ২২৮ ডলারেরও বেশি। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ ফিজিশিয়ানস। প্রতিষ্ঠানটিতে এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের মধ্যম বেতন ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭২৫ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রোবলক্স, যেখানে মধ্যম বেতন ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর রয়েছে সিটাডেল সিকিউরিটিজ আমেরিকাস সার্ভিসেস, যার মধ্যম বেতন ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। নেটফ্লিক্সে এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের মধ্যম বেতন ২ লাখ ২৬ হাজার ১৫৮ ডলার। এছাড়া ক্রেডিট কারমা, টু সিগমা ইনভেস্টমেন্টস এবং টিটি কমার্স অ্যান্ড গ্লোবাল সার্ভিসেসও জাতীয় মধ্যম বেতনের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি বেতন দিয়েছে। বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশন প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করতে অন্তত ৫০০টি অনুমোদিত এইচ-ওয়ান-বি আবেদন রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মধ্যম বেতনের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি হওয়ায় এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সাধারণ এইচ-ওয়ান-বি কর্মীর বেতনের চিত্র তুলে ধরে, অল্প কয়েকজন উচ্চ বেতনভোগীর নয়। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোই সবচেয়ে বেশি বেতন দেওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রাধান্য পেয়েছে। মেটা, অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, সেলসফোর্স, উবার, এয়ারবিএনবি ও ডোরড্যাশের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সিটাডেল সিকিউরিটিজ, টু সিগমা, ব্যাংক অব আমেরিকা সিকিউরিটিজ, বার্কলেজ ক্যাপিটাল ও মরগ্যান স্ট্যানলির মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানও জাতীয় মধ্যম বেতনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বেতন দেয়। এই প্রতিবেদন এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-ওয়ান-বি ভিসা কর্মসূচিতে বিভিন্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে অবস্থানরত নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের নতুন কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের আদেশে সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি লটারিভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তে বেতনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, উচ্চ বেতন দক্ষ জনবলের চাহিদার প্রতিফলন। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ বেতন পুরো এইচ-ওয়ান-বি কর্মসূচির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে না এবং মার্কিন কর্মসংস্থানের ওপর কর্মসূচিটির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এখনো রয়ে গেছে।
ভিড় কমার অপেক্ষায় ছিলেন, ইন-এন-আউট রেস্টুরেন্টে প্রথম দিনেই বন্দুক হামলায় প্রাণ হারালেন ব্যক্তি
নিউইয়র্কে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে ফ্ল্যাট! কেনার আগে জেনে নিন শর্ত
টানা সমালোচনার পর জনসম্মুখ থেকে বিরতিতে যাচ্ছেন আরিয়ানা গ্রান্ডে!
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে হেফাজতের আইনি অধিকার না থাকা বাবার বিরুদ্ধে ১১ দিনের নবজাতক ছেলেকে অনুমতি ছাড়া নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাতভর অনুসন্ধানের পর বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে উইন্সলো এলাকার কাছ থেকে শিশুটিকে অক্ষত উদ্ধার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩১ জুলাই শুক্রবার রাতে পশ্চিম অ্যারিজোনার সারপ্রাইজ শহর থেকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর সন্দেহভাজন একটি গাড়ির বিবরণসহ রাজ্যজুড়ে ‘অ্যাটেম্পট টু লোকেট’ বা এটিএল বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাটি পাওয়ার পর নাভাহো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা সম্ভাব্য গাড়িটির সন্ধান শুরু করেন। ১ আগস্ট শনিবার সকালে উত্তর অ্যারিজোনার উইন্সলো এলাকায় গাড়িটি শনাক্ত করে থামানো হয়। পরে গাড়ির ভেতর থেকে নবজাতকটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। অভিযানে অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির সদস্যরাও সহায়তা করেন। শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি। তবে বয়স মাত্র ১১ দিন হওয়ায় সতর্কতামূলকভাবে তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়। সারপ্রাইজ পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বাবা তার আইনগত হেফাজ
ট্রাম্পের পোস্টে চাঞ্চল্য, যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে ভেনেজুয়েলার মানচিত্র
দ্রুত সাক্ষাৎকারের জন্য ৭৫০ ডলার দিয়ে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নতুন সুযোগ