সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

‘এই কাজটি কোনো আমেরিকান করতে পারবে না কেন?’ এইচ-১বি ভিসা সাক্ষাৎকারে নতুন প্রশ্নে উদ্বেগ

Unknown প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ২৩:১৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারে নতুন ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আবেদনকারীকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, “আপনার পরিবর্তে এই কাজটি কোনো আমেরিকান কর্মী করতে পারবে না কেন?”

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অনুষ্ঠিত এইচ-১বি ভিসা সাক্ষাৎকারে এ ধরনের প্রশ্নের সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক অভিবাসন আইনজীবী।

 

তাদের মতে, বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক পেশার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা কেন বিদেশি কর্মীকে বেছে নিয়েছেন, তা আরও গভীরভাবে যাচাই করার অংশ হিসেবে এই প্রশ্ন করা হচ্ছে।

বর্তমান মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ দিলে তাদের নিশ্চিত করতে হয় যে এতে একই ধরনের কাজ করা মার্কিন কর্মীদের বেতন বা কর্মপরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

 

এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারে। সাধারণত এসব পদের জন্য নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন হয়।

প্রতি বছর নতুন এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে ২০ হাজার ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।

 

মার্কিন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তা মরগান বেইলি নিউজউইককে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাক্ষাৎকারে এই ধরনের প্রশ্ন আগের তুলনায় অনেক বেশি শোনা যাচ্ছে।

তার ভাষায়, আবেদনকারীদের প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, “আপনি এতটা বিশেষ দক্ষ কেন যে কোনো আমেরিকান এই কাজটি করতে পারবে না?” কিংবা “কেন আপনাকেই এই পদে প্রয়োজন?”

 

তবে তিনি আবেদনকারীদের সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মার্কিন কর্মীদের সঙ্গে নিজের তুলনা করা উচিত নয়। বরং নিয়োগদাতা কেন তাকে বেছে নিয়েছেন এবং তার শিক্ষা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কীভাবে ওই পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করা উচিত।

অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি বলেন, তিনি কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় এই প্রশ্ন শুনেছেন। যদিও এটিকে এখনই ব্যাপক প্রবণতা বলা যাবে না, তবুও এটি সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের ইঙ্গিত দেয়।

 

তিনি জানান, সম্প্রতি এমনও দেখা গেছে যে একই দিনে চারজন আবেদনকারীকে একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে।

আরেক আইনজীবী এলেন ফ্রিম্যান বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই এই ধরনের প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাই বর্তমানে তিনি তার ক্লায়েন্টদের সাক্ষাৎকারের আগে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেন।

এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি। দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।

 

সমর্থকদের মতে, এইচ-১বি কর্মসূচি দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বসেরা দক্ষ জনবল নিয়োগের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে স্থানীয় কর্মীদের সুযোগ কমিয়ে দেয় এবং বেতন কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

 

২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এইচ-১বি আবেদনের ওপর এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এতে শুধুমাত্র উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে এবং কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে।

 

তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তারা আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে চলতি মাসে বোস্টনের এক ফেডারেল বিচারক এই ফি কার্যকর করা স্থগিত করেন। আদালতের মতে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ফি আরোপ করা যায় না। পরে প্রশাসন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

 

এদিকে গত বছরের শেষ দিক থেকে এইচ-১বি আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রমও আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি ও প্রকাশ্য কার্যক্রমও যাচাই করছেন।

অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বাড়তি নজরদারি ও প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও এখনও বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী ভিসা অনুমোদন পাচ্ছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে সময় বেশি লাগছে।

 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সাক্ষাৎকারে আবেদনকারীদের আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে এবং নিজেদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বিশেষ দক্ষতা সম্পর্কে স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলতে হবে। কারণ এইচ-১বি ভিসার মূল উদ্দেশ্য হলো বিশেষায়িত পেশায় প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সরবরাহ করা, মার্কিন কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা নয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
৯ বছরের শিশুর মাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড
মেয়েকে বছরের পর বছর নির্যাতন, ৯ বছরের শিশুর মাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের ৯ বছর বয়সী মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে অভুক্ত রাখা, মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় ক্রিস্টি কুলি নামের এক নারীকে ৮০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে ৪০ বছর তাকে কারাগারে কাটাতে হবে। মেয়ের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য আদালতে উঠে আসার পর এই রায় দেওয়া হয়।   ৩০ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ফক্স ফাইভ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়ার গুইনেট কাউন্টির লিলবার্ন এলাকার এই ঘটনায় অভিযুক্ত মাকে একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে জুরি বোর্ড। তার বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের দুটি অভিযোগ, শিশু নির্যাতনের প্রথম মাত্রার আটটি অভিযোগ এবং আলামত নষ্ট করার দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।   আদালতে শুনানির সময় জানা যায়, শিশুটিকে দিনের পর দিন নিজের শোবার ঘরে আটকে রাখা হতো। তাকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হতো না। ক্ষুধার কারণে শিশুটি লুকিয়ে খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করত। আর ধরা পড়লে তাকে আরও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতো।   তদন্তে উঠে আসে, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে শিশুটির চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করা হতো। ঘরের বাইরে থাকা অবস্থাতেও অভিযুক্ত নারী ক্যামেরার সরাসরি সম্প্রচার দেখতেন বলে আদালতে জানানো হয়।   নির্যাতনের সময় শিশুটিকে বেঁধে রাখা, লাঠি ও ধাতব পাইপ দিয়ে আঘাত করা এবং শরীর পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ অভিযোগও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়েছিল বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।মামলার শুনানিতে একজন চিকিৎসক সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, শিশুটির ওপর চালানো নির্যাতনের মধ্যে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের পাশাপাশি চিকিৎসার অবহেলাও ছিল। চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্যাতনের মাত্রা শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।   তবে এত দিন ধরে চলা নির্যাতনের ঘটনা কীভাবে প্রকাশ্যে এল, সেটিও মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক। একজন অনলাইন শিক্ষক শিশুটির নিয়মিত শিক্ষাসংক্রান্ত খোঁজখবর নেওয়ার সময় তার আচরণ ও পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। বাধ্যতামূলক শিক্ষার্থী যাচাইয়ের সময় কিছু সতর্কসংকেত দেখতে পেয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানান।   সহকারী জেলা অ্যাটর্নি ডালাস কক্স আদালতে জানান, ওই শিক্ষকের সতর্কতা ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের কারণেই ঘটনাটি সামনে আসে। তদন্তকারীরা অভিযুক্ত নারীর মুঠোফোনে শিশুটির পুরোনো কিছু ছবিও খুঁজে পান। ছবিতে শিশুটির চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ থেকে ছয় বছর।   প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, একই পরিবারের অন্য শিশুদের তুলনায় ওই মেয়েটিই ছিল নির্যাতনের প্রধান লক্ষ্য। পরিবারের আরও সদস্যদের বিষয়টিও মামলার তদন্তে উঠে আসে। শিশুটির সৎবাবার বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ছিল। তবে স্থূলতাজনিত হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতায় তিনি মারা যাওয়ায় তার বিচার আর সম্পন্ন হয়নি।   জুরি বোর্ড অভিযুক্ত নারীর জন্য মোট ২৪২ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছিল। পরে বিচারক ৮০ বছরের সাজা ঘোষণা করেন, যার মধ্যে ৪০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।গুইনেট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি প্যাটসি অস্টিন-গ্যাটসন স্থানীয় বাসিন্দাদের শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, শিশুদের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা নির্যাতনের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে তা উপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৬:৩৩
কর বকেয়া থাকলে বাড়তে পারে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে নতুন বাধা, কর বকেয়া থাকলে বাড়তে পারে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি

নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগে তোলপাড়

কৃত্রিম স্তন পরে ক্লাসে অক্সফোর্ডের শিক্ষক, নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগে তোলপাড়

বৃদ্ধের ভিডিও দেখে লাখ ডলার দিলেন অপরিচিত মানুষ

ম্যানচেস্টার শহরের ৭৮ বছরের খাবার সরবরাহকারী বৃদ্ধের ভিডিও দেখে লাখ ডলার দিলেন অপরিচিত মানুষ

সেই ফসলের আয়েই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কলেজের স্বপ্নপূরণ
টেক্সাসে স্বেচ্ছাশ্রমে চাষাবাদ, সেই ফসলের আয়েই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কলেজের স্বপ্নপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্রুভার শহরে স্থানীয় কৃষকদের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করছে। স্বেচ্ছাশ্রমে জমিতে ভুট্টা ও গম চাষ করছেন কৃষকেরা। সেই ফসল বিক্রির অর্থ দিয়ে প্রতিবছর স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হচ্ছে প্রায় চার লাখ ডলারের কলেজ বৃত্তি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে স্থানীয় স্কুল জেলার জন্য ৬৪০ একর জমি দান করা হয়েছিল। পরে ২০১২ সালের দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কৃষকেরা জমিটি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন। কৃষকেরা নিজেদের শ্রম, কৃষিযন্ত্র ও অভিজ্ঞতা দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। স্থানীয় একটি পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও অনেক সময় বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে ফসল কিনে এই উদ্যোগে সহায়তা করে।   ২০১৬ সালে প্রথম বৃত্তি বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট প্রায় ৩০ লাখ ডলার বিতরণ করা হয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত বৃত্তি পেয়েছেন।   এই বৃত্তি পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফল করলেই হয় না। তাদের পরীক্ষার ফল, বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সমাজসেবামূলক কাজও বিবেচনায় নেওয়া হয়। অর্থাৎ পড়াশোনার পাশাপাশি নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও সমাজের প্রতি অবদান রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।   এই উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এর সুফল পাচ্ছেন এমন শিক্ষার্থীরাও, যাদের পরিবারে আগে কেউ কলেজ থেকে স্নাতক হননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির সহায়তায় ৪৮ জন শিক্ষার্থী পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে কলেজের পড়াশোনা শেষ করতে পেরেছেন।   বৃত্তিপ্রাপ্তদের কয়েকজন এখন নিজ এলাকায় ফিরে কৃষক, শিক্ষক, নার্সসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। তাঁদের কেউ কেউ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্যও অবদান রাখার পরিকল্পনা করছেন।   শিক্ষার্থীদের কাছে এই অর্থ কেবল একটি বৃত্তি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার ব্যয়, ঋণের চাপ এবং পরিবারের আর্থিক দুশ্চিন্তা কমানোর একটি সুযোগ। স্থানীয় কৃষকদের শ্রম আর একটি এলাকার সম্মিলিত উদ্যোগ কীভাবে তরুণদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে, গ্রুভারের এই কর্মসূচি তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:৩৩
এক উৎসবে মিলল ভালোবাসা ও প্রতিবাদের বার্তা

অভিবাসীদের পাশে হাজারো মানুষ, এক উৎসবে মিলল ভালোবাসা ও প্রতিবাদের বার্তা

১৫৮ পরিবারের আবাসন উন্নয়নে আড়াই কোটি ডলারের উদ্যোগ

টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে ১৫৮ পরিবারের আবাসন উন্নয়নে আড়াই কোটি ডলারের উদ্যোগ

জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশু থেকে ছড়ানো বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা

ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ
ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ, স্কুলে ছুটি ও জরুরি সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ব্রেভার্ড কাউন্টিতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার (২ নভেম্বর) কাউন্টির সব সরকারি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ রাখা হয়েছে আদালতের কার্যক্রম। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ব্রেভার্ড কাউন্টির কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট মেলবোর্ন ও পাম বে এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে এই দুই এলাকার জন্য বিশেষ ফ্ল্যাশ ফ্লাড ইমার্জেন্সি জারি করা হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকা, রাস্তাঘাট এবং আন্ডারপাসে জীবনহানির ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২ নিউজ জানিয়েছে, বন্যার কারণে ব্রেভার্ড কাউন্টির বিভিন্ন সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হেলেন স্ট্রিটের কাছে মিন্টন রোডের উত্তরমুখী অংশ এবং ইউএস-১৯২ সড়কের কাছে মিন্টন রোডের দক্ষিণমুখী অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া স্টুয়ার্ট রোডের কাছে অরোরা রোড এবং সার্নো রোডের কিছু অংশ বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সড়ক বন্ধের তালিকাও পরিবর্তিত হতে পারে।   পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমে বেশ কয়েকটি গাড়ি আটকা পড়েছে। কোথাও কোথাও পানির গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ায় চালকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ বিভাগ বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি নিয়ে বের হওয়া উচিত নয়। কোনো অবস্থাতেই পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা অতিক্রমের চেষ্টা করা যাবে না।   বন্যার কারণে ব্রেভার্ড কাউন্টির সব সরকারি স্কুলে সোমবারের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্টির ক্যাথলিক স্কুলগুলোও বন্ধ রয়েছে। একই কারণে ইস্টার্ন ফ্লোরিডা স্টেট কলেজের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।   শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, ব্রেভার্ড কাউন্টির আদালত এবং স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের কার্যক্রমও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার কারণে জরুরি সেবার গাড়ি চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকর্মীদের নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে।   ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পূর্ব-মধ্য ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কাজনিত সতর্কতা কার্যকর থাকার কথা। দিনের বাকি সময়ে আরও ১ থেকে ৩ ইঞ্চি এবং বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ৫ ইঞ্চি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ। আগে থেকেই মাটি পানিতে সম্পৃক্ত থাকায় নতুন বৃষ্টিতে দ্রুত জলাবদ্ধতা ও বন্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে এবং পানিতে ডুবে যাওয়া সড়কের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলেছে। একই সঙ্গে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব কিংবা হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:১৭
যে পাঁচ বিষয় বাঙালি অভিবাসীদের অবশ্যই জানা উচিত

যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্সের নিবন্ধন শুরু, যে পাঁচ বিষয় বাঙালি অভিবাসীদের অবশ্যই জানা উচিত

আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে  চাকরি ছাড়লেন মুসলিম  শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়ল শিক্ষার্থীরা

আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন মুসলিম শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়ল শিক্ষার্থীরা

হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের পাওয়া চকলেট ও ক্যান্ডির ভেতরে সূচ

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ অঙ্গরাজ্যে হ্যালোইনের ক্যান্ডিতে সূচ ও ধাতব বস্তু, বিশেষ সতর্কতা জারি ; তদন্তে পুলিশ

0 Comments