আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় এক লাখ ডলারের ফি বহাল রাখতে আদালতে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২২:৪৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি বহাল রাখতে নতুন আইনি লড়াই শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল আদালত সম্প্রতি এই ফিকে ‘অননুমোদিত কর’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করার রায় দিলেও প্রশাসন বলছে, এটি কোনো কর নয়; বরং অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বৈধভাবে আরোপিত একটি ফি।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বোস্টনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে জমা দেওয়া এক আবেদনে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, আপিলের শুনানি চলাকালে যেন ১ লাখ ডলারের এই ফি কার্যকর রাখা হয়।

 

ডিএইচএসের দাবি, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। সেই ক্ষমতার আওতাতেই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নিম্ন আদালত এটিকে ‘অননুমোদিত কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।

 

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট Donald Trump একটি নির্বাহী ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের ফি চালু করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য ছিল, এর মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

 

এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারে। প্রতিবছর হাজার হাজার ভারতীয়, বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের পেশাজীবী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান।

আদালতে দেওয়া আবেদনে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, ফি কার্যকর না থাকলে প্রেসিডেন্টের অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের মতে, প্রতিদিন নতুন আবেদনকারীরা এই ফি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন, যা প্রশাসনের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

ডিএইচএস আরও বলেছে, পরবর্তীতে সরকার আপিলে জয়ী হলেও ইতোমধ্যে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের অনুমোদন বাতিল করা কিংবা তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া বাস্তবিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

 

এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ২০টি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ফি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করে। গত ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক Leo Sorokin ফি বাতিলের রায় দেন।

 

রায়ে বিচারক বলেন, কর আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন উচ্চ অঙ্কের ফি আরোপ করে কার্যত কর আদায়ের চেষ্টা করেছেন, যা ক্ষমতার বিভাজন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে রায় ঘোষণার কয়েকদিন পর বিচারক সরোকিন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার রায়ের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হন। ফলে বর্তমানে ফিটির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।

 

এদিকে এইচ-১বি ফি নিয়ে আরও অন্তত দুটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একটি মামলার শুনানি চলছে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে এবং অন্যটি ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের জন্য জমা পড়া প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার এইচ-১বি আবেদনের মধ্যে ২ লাখের বেশি আবেদনের সঙ্গে ১ লাখ ডলারের ফি জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব আবেদন তুলনামূলক দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, এই ফি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ভিসা নবায়ন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করছেন, তাদের অধিকাংশই এই অতিরিক্ত ফি থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল আদালতের রায় শুধু এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, একই সঙ্গে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতটা আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারেন, সে বিষয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

 

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়িক সংগঠন এবং অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এখন আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন। আদালত যদি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ ডলারের ফি আদায় অব্যাহত থাকতে পারে। আর বিপরীত সিদ্ধান্ত এলে ফি কার্যকর রাখার প্রশাসনের পরিকল্পনা বড় ধাক্কার মুখে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান আন্তোনিও শহরে এক মর্মান্তিক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অভিযুক্ত স্বামীও নিহত হন। এ ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সান আন্তোনিও পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সহিংসতার একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় থাকা স্ত্রীর বাসভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে সশস্ত্র ওই ব্যক্তি তাকে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।   ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ির একটি কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সে সময় বাড়ির ভেতরে দুই শিশুও অবস্থান করছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে।   পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তের গোলাগুলির এক পর্যায়ে একজন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন। তবে তার পরিহিত সুরক্ষা বর্ম বা বুলেটপ্রুফ ভেস্ট গুরুতর ক্ষতি থেকে তাকে রক্ষা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত কর্মকর্তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার আঘাত জীবন-সংশয়ী নয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বাড়ির ভেতরে থাকা দুই শিশুকে নিরাপদে বের করে আনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত নারীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আহত পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন সহকর্মী ও কমিউনিটির সদস্যরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গৃহকেন্দ্রিক সহিংসতার এমন ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা নেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২২:৫৪
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় এক লাখ ডলারের ফি বহাল রাখতে আদালতে ট্রাম্প প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম বাড়ার নেপথ্যে প্রশাসনিক ব্যয় ও বিধিনিষেধ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে মুসল্লিদের জন্য বিনামূল্যে খেজুর, বিস্কুট আর পানিও আছে

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কাউন্সিলম্যান গ্রেপ্তার, একসময় ছিলেন কুখ্যাত মাফিয়া সদস্য

একসময় নিউইয়র্কের কুখ্যাত অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে কারাভোগ শেষে নিজেকে বদলে ফেলার দাবি করে জনসেবায় যুক্ত হন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্বও পান। তবে সেই অতীত আবারও যেন ফিরে এসেছে জন অ্যালাইটের জীবনে। চাঁদাবাজি, অবৈধ ঋণ ব্যবসা এবং সহিংসতার হুমকির অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইংলিশটাউন বরোর কাউন্সিলম্যান জন অ্যালাইট।   শুক্রবার নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ৬৩ বছর বয়সী অ্যালাইটের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুদে ঋণ দেওয়া, অর্থ ও সম্পত্তি আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রেইটেনড-আউট এন্টারটেইনমেন্ট ইনকরপোরেটেড’-এর মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।   একই মামলায় ব্রিজওয়াটারের বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী স্টিফেন লোক্রোটন্ডোকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি অ্যালাইটের সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং আইনসিদ্ধ সীমার চেয়ে বেশি সুদ আদায়ে অংশ নিতেন।   নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট বলেন, দীর্ঘ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “সব ব্যবসা যেন আইন মেনে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মামলায় যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”   তবে অভিযোগের বিষয়ে অ্যালাইটের আইনজীবীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জন অ্যালাইট নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। তিনি একসময় নিউইয়র্কের গ্যাম্বিনো অপরাধচক্রের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা জন গট্টি জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান।   ২০২৫ সালে এনজে ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যালাইট নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে অপরাধ জগতে সক্রিয় থাকার সময় তিনি ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০টি গুলিবর্ষণের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে তিনি জানান। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে তিনি মাদক পাচারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার আয় করতেন। সেই সময় তার মালিকানায় নাইটক্লাব, কাচের ব্যবসা, সুপারমার্কেট, ভ্যালেট পার্কিং প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসাও ছিল।   ২০০৮ সালে তিনি ফেডারেল র্যাকেটিয়ারিং বা সংঘবদ্ধ অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। পরে গ্যাম্বিনো অপরাধচক্রের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিনিময়ে তুলনামূলক কম সাজা পান। ২০১১ সালে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ২০১২ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। কারামুক্তির পর নিজের জীবন পরিবর্তনের দাবি করেন অ্যালাইট। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতেন, পডকাস্ট পরিচালনা করতেন এবং তরুণদের মাদক ও অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার কাজ করতেন। তিনি নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক হিসেবেও পরিচয় দিতেন।   ২০২৫ সালের মার্চে ইংলিশটাউন বরো কাউন্সিলের একটি শূন্য পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি জনসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন একই কাউন্সিলের সদস্য জ্যানেট লিওনার্ডিস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই হতবাক। তিনি একজন ভালো নাগরিক এবং দায়িত্বশীল কাউন্সিলম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন।”   তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যালাইটের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি, করপোরেট অসদাচরণ, সহিংসতার হুমকি এবং অবৈধ সুদে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে লোক্রোটন্ডোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ সুদ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্টিফেন লোক্রোটন্ডোর অতীতও বিতর্কমুক্ত নয়। ২০১৩ সালে একটি ভুয়া চেকের মাধ্যমে এক বন্ধুর ১ লাখ ডলারের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করার ঘটনায় তাকে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।   অপরাধ জগত থেকে জনসেবার মঞ্চে আসা জন অ্যালাইট নিজেকে একসময় ‘নতুন মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি লজ্জিত এবং সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে চান। তবে সর্বশেষ অভিযোগের পর তার সেই পরিবর্তনের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২১:৩৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: বারাক ওবামা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কর্মীদের আয় মার্কিনিদের চেয়েও বেশি, নতুন বিশ্লেষণে উঠে এলো এইচ-১বি ভিসার বাস্তব চিত্র

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নকশার ত্রুটি ও ওশেনগেটের অবহেলাতেই ধ্বংস হয়েছিল টাইটান সাবমেরিন, জানাল তদন্ত প্রতিবেদন

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সামার ক্যাম্পের প্রথম দিনেই সাঁতার শিখতে গিয়ে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি সামার ক্যাম্পে সাঁতার শেখার প্রথম দিনেই কিং ওভারটন নামের ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে চেম্বারলেইনের 'সুইম আরভিএ'-এর একটি পুল থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হেনরিকো কাউন্টি পুলিশ ও ক্যাম্পের কর্মীদের তথ্যমতে, উদ্ধারের পর তাকে সিপিআর দেওয়া হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তার মা লাতাইশা জনসন, তিনি এই রহস্যজনক ট্র্যাজেডির সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাব দাবি করেছেন।   সংবাদমাধ্যম এনবিসি চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিহত শিশুর মা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "আমি পুরোপুরি বিধ্বস্ত ও হতবাক। আমার ভেতরে এখন কেবলই রাগ আর ক্ষোভ কাজ করছে। একগাদা আবেগ যেন একসঙ্গে আমাকে ঘিরে ধরেছে।" ছেলেকে নিজের সেরা বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "ও দেখতে ছোটখাটো হলেও ওর ব্যক্তিত্ব ছিল অনেক বড়। সে দারুণ মজার ছিল। সে শুধু আমার ছেলেই ছিল না, ছিল আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।" সোমবার সকালে ক্যাম্পে নামিয়ে দেওয়ার সময় সাঁতার শেখার জন্য কিং ভীষণ রোমাঞ্চিত ছিল বলেও জানান তিনি।   ডব্লিউআরআইসি ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়বেলায় ছেলের বলা শেষ কথাগুলো স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন লাতাইশা। তিনি বলেন, "আমার বাচ্চাটা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেছিল, 'ঠিক আছে মা, তোমাকে ভালোবাসি।' আমি বলেছিলাম, 'আমি তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। তোমার দিনটি সুন্দর হোক।' এরপর আমি ঘুরে চলে আসি, আর সেটাই ছিল আমার ছেলেকে জীবিত দেখা শেষ মুহূর্ত।" শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। অসহায় এই মা বলেন, "আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু জানি, তারা আমার বাচ্চাকে পুলের তলদেশে পেয়েছে।" এর আগে ফেসবুকে ছেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লেখেন, কিং ছিল তাদের জীবনের আনন্দ এবং সবকিছু; এই শোক কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়।   মর্মান্তিক এই ঘটনার পর সামার ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা পুরো ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, "আমরা অত্যন্ত গভীর শোকের সাথে জানাচ্ছি যে, গত ১৫ জুন, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে আমাদের সামার ক্যাম্পের এক অংশগ্রহণকারীকে পুল থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমাদের সমবেদনা শিশুটির পরিবার ও তার প্রিয়জনদের প্রতি। এই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমরা গভীর শোক ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি এবং তাদের আমাদের প্রার্থনায় রাখছি।"

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৮:১২
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ভারতীয় কিশোরের মৃত্যুর পর ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের দাবিতে চাপে মেয়র মামদানি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ছয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘অল মাই চিলড্রেন’ খ্যাত অভিনেতা পল অ্যাভেরি ও স্ত্রীর মৃত্যু

0 Comments