দীর্ঘ চার বছর পর এই প্রথমবার নিজেদের পুরো পরিবার নিয়ে একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই অত্যন্ত আলোচিত ও সংবেদনশীল সফরে তাদের সঙ্গে থাকবেন সাত বছর বয়সী ছেলে আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী ছোট মেয়ে লিলিবেট। চার বছর পর সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে হ্যারি-মেগানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সাধারণ পারিবারিক সফর নয়; এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে রাজকীয় এস্টেটের ভেতরে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত বাসভবনে থাকার জন্য হ্যারি ও মেগান দম্পতিকে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই আমন্ত্রণের বিষয়ে হ্যারি বা মেগানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা সম্মতি জানানো হয়নি। এর আগে যুক্তরাজ্য সফরের সময় বাকিংহাম প্যালেসে থাকার একটি সরকারি প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি, কারণ তার মতে জনসম্মুখে থাকা এমন বড় স্থানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে।
এবার এই চার সদস্যের পরিবারের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট রাজকীয় বাসভবনটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। মূলত আগামী বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আহত ও অসুস্থ সামরিক সদস্যদের আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া আসর ‘ইনভিকটাস গেমস’। হ্যারির নিজের প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষ ক্রীড়া আয়োজনের কাউন্টডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আগামী মাসে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির, যা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইচ্ছার কথা গত বছর এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন প্রিন্স হ্যারি। বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ২০২২ সালে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপনের সময় বাবা ও ছেলের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য ও দীর্ঘ সাক্ষাৎ হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্ল্যারেন্স হাউসে বাবার সঙ্গে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি বৈঠক করেছিলেন হ্যারি।
তবে আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে রাজা চার্লসের সঙ্গে হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা ঘরোয়া সাক্ষাৎ হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বাকিংহাম প্যালেস কর্তৃপক্ষ। রাজপরিবারের মুখপাত্ররা এই পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে এড়িয়ে গেছেন। এদিকে হ্যারি ও মেগানের এই সফরকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে জানা গেছে, যা এই স্পর্শকাতর সফরের অন্যতম বড় চিন্তার কারণ।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বাকিংহাম প্যালেস থেকে হ্যারির পরিবারের জন্য অতিরিক্ত কোনো বিশেষ নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তাব বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি। যুক্তরাজ্যে রাজপরিবারের পদত্যাগকারী সদস্যদের এ ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট বিশেষ কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। রাজকীয় বাসভবনে থাকার এই নতুন আমন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য পারিবারিক পুনর্মিলনের জল্পনা সফরটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়— এই সফর কি দূরত্ব কমিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, নাকি পুরোনো টানাপোড়েনই বহাল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করা অনেক অভিবাসীর মতোই রেহমানের (ছদ্মনাম) যাত্রাও সহজ ছিল না। উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। দেশে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেও নতুন দেশে এসে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। প্রথম দিকে তিনি একটি স্বল্প বেতনের চাকরিতে যোগ দেন। বার্ষিক আয় ছিল ৪০ হাজার ডলারেরও কম। সেই আয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করাই ছিল কঠিন। অন্যদিকে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের আর্থিক সহায়তা করার সুযোগও ছিল সীমিত। প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধের মধ্যেই তিনি উপলব্ধি করেন, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও পেশাগত উন্নতির জন্য নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। এরপর তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেন। বিভিন্ন সম্ভাবনাময় পেশা নিয়ে গবেষণা করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন গন্তব্য হিসেবে বেছে নেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কয়েক মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা ও অনুশীলনের মাধ্যমে নতুন দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দেন। পরিশ্রমের ফল আসতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ২০১৬ সালে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স (কিউএ) অ্যানালিস্ট-২ পদে চাকরির সুযোগ পান। এটিই ছিল তার পেশাজীবনের বড় মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত। নতুন খাতে প্রবেশের পর তিনি ধারাবাহিকভাবে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন বিষয় শিখেছেন, পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তিনি একাধিক স্বনামধন্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পান। কর্মজীবনে ধারাবাহিক উন্নতি এবং কৌশলগতভাবে নতুন সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নেতৃত্ব পর্যায়ে পৌঁছে যান। বর্তমানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তার বার্ষিক আয় এখন প্রায় আড়াই লাখ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে তার কর্মজীবনের শুরুর সময়কার আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। তবে রেহমানের সাফল্যের গল্প শুধু আর্থিক উন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি এখন কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে নতুন বাংলাদেশি অভিবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত প্রস্তুতি এবং মূলধারার কর্মসংস্থানে প্রবেশের বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে থাকেন। অভিবাসী জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তার এই পথচলা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষতাভিত্তিক পেশাগুলোর চাহিদা বাড়ছে। ফলে পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং ধারাবাহিক চেষ্টা অব্যাহত রাখলে অভিবাসীদের জন্য মূলধারার পেশায় সফলতা অর্জনের সুযোগ এখনও রয়েছে। রেহমানের গল্প সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে, যেখানে সীমিত আয়ের একটি চাকরি থেকে শুরু করে অধ্যবসায়, দক্ষতা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একজন অভিবাসী নিজের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে সক্ষম হয়েছেন। বি.দ্র.: প্রতিবেদনটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুরোধে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। গোপনীয়তা রক্ষার্থে প্রতিবেদনে ‘রেহমান’ নামে একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ১০ লাখের বেশি একক ডোজের প্রাণঘাতী ডেট রেপ ড্রাগ বা নিষিদ্ধ মাদক আমদানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ম্যানহাটনের দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মার্কিন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই ব্যক্তি প্রায় সাত টন ওজনের অত্যন্ত বিপজ্জনক নিষিদ্ধ কেমিক্যাল গামা-বিউটিরোল্যাক্টোন বা জিবিএল নিউইয়র্কের পাঁচটি বড় বড় প্রশাসনিক অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি সুপরিকল্পিত গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই ভয়ংকর তরল মাদককে মানবদেহের জন্য সরাসরি একটি মারাত্মক এবং অত্যন্ত কার্যকর 'তরল বিষ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দায়ের করা আনুষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির নাম মার্ক ডিগডন এবং রদ্রিগো কাস্ত্রো। এদের মধ্যে মার্ক ডিগডনের বর্তমান বয়স ৪৮ বছর এবং তার সহযোগী রদ্রিগো কাস্ত্রোর বয়স ৩৪ বছর বলে মার্কিন আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস গত ১৭ জুন আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি নিয়ন্ত্রিত নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য বা নিষিদ্ধ কেমিক্যাল বিতরণের অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট গঠন করেছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এই মাদক পাচারের গুরুতর অপরাধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের উভয়েরই সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত মেয়াদে কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায় যে, অভিযুক্ত এই দুই ব্যক্তি ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু করে চলতি ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত অত্যন্ত সুকৌশলে এই বিশাল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে নিয়ে আসেন। কালোবাজারে এই নিষিদ্ধ মাদকটি মূলত বিভিন্ন ধরনের ছদ্মনামে বিক্রি করা হতো যার মধ্যে অন্যতম হলো ব্লু নাইট্রো এবং রিভাইভারেন্ট। এই মাদকটি সেবনের পর মানুষের শরীরে তীব্র এবং কৃত্রিম এক ধরনের উত্তেজনা বা বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে সেবনকারী সম্পূর্ণ অচেতন বা অবশ হয়ে পড়েন। মাদকটির এই বিশেষ অবশ করার ক্ষমতার কারণেই অপরাধীরা এটিকে ডেট রেপ ড্রাগ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। ম্যানহাটনের প্রধান মার্কিন অ্যাটর্নি জয় ক্লেটন এই ভয়ংকর মাদকের মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে জানান, এই তরল কেমিক্যালের মাত্র একটি একক ডোজের ব্যবহারও যেকোনো সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত তরল সামগ্রী যেন কোনোভাবেই শহরের সাধারণ নাগরিকদের নাগালের মধ্যে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য মার্কিন গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে এদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন। অবশেষে এই দুই মাদক কারবারিকে বিপুল পরিমাণ মালামালসহ হাতেনাতে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত রদ্রিগো কাস্ত্রোর প্রধান আইনজীবী ড্যানিয়েল ম্যাকগুইনেস দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন যে, তার মক্কেল আদালতে প্রথম শুনানিতে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং অপরাধের সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি এখন অত্যন্ত প্রাথমিক এবং শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। কাস্ত্রো আদালতের প্রকাশ্য শুনানির মাধ্যমে নিজের নাম এই কলঙ্কজনক ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে এবং নিজের সত্যতা ও নিরপরাধ ভাবমূর্তি প্রমাণ করতে মানসিকভাবে অত্যন্ত আগ্রহী ও সচেতন রয়েছেন। তবে মার্কিন প্রসিকিউশন বা সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দল আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে দাবি করেছে যে, তাদের কাছে রদ্রিগো কাস্ত্রোর এই অপরাধের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকার বিষয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যবসায়িক নথি, লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড এবং নির্ভরযোগ্য গোপন সূত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। কাস্ত্রোর আইনজীবী অবশ্য জানিয়েছেন যে, সরকারের সেই নথিপত্র এবং তথ্যগুলো তারা নিজেরা খতিয়ে দেখতে চান যে ঠিক কোথায় ভুল বোঝাবুঝি বা গড়মিল হয়েছে, যার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার মক্কেলকে এই ভয়ংকর আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত বলে মনে করছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে নিজের সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রিপাবলিকান প্রার্থী—লেফটেন্যান্ট গভর্নর পামেলা এভেট ও অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যালান উইলসন—উভয়কেই সমর্থন দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “দুজনের যেকোনো একজন জিতলেও ভুল হবে না।” অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ৯ জুনের প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি শুধু এভেটকে সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, তার প্রতি ট্রাম্পের “পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন” রয়েছে। প্রাইমারিতে এভেট সামান্য ব্যবধানে উইলসনের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও সরাসরি মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পাননি। ফলে আগামী মঙ্গলবার দুই প্রার্থীর মধ্যে রানঅফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রাথমিক সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উইলসনের পক্ষে সমর্থন বেড়েছে। রানঅফে না ওঠা বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী, যার মধ্যে কংগ্রেস সদস্য রালফ নরম্যান ও ন্যান্সি মেস রয়েছেন, ইতোমধ্যে উইলসনকে সমর্থন দিয়েছেন। শুক্রবার দক্ষিণ ক্যারোলিনার সিনেটর টিম স্কটও তার পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের নতুন সমর্থন ঘোষণার পর উইলসন বলেন, তিনি শুরু থেকেই ট্রাম্পের পাশে ছিলেন এবং প্রেসিডেন্টের সমর্থন পেয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। তার ভাষায়, তিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার পরিবারগুলোর জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন এভেটের প্রচারণার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ তার প্রচারণার অন্যতম প্রধান ভিত্তিই ছিল তিনি ট্রাম্পের একমাত্র পছন্দের প্রার্থী। তবে এভেট প্রকাশ্যে হতাশা দেখাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “৯ জুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে আমি প্রথম হয়েছিলাম। ২৩ জুনও সেটি পুনরাবৃত্তি করার অপেক্ষায় আছি।” এভেট এখনও মেয়াদসীমার কারণে আর নির্বাচন করতে না পারা গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টারের সমর্থন পাচ্ছেন। ম্যাকমাস্টার ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন এসেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনী ধাক্কার পর। আইওয়ার গভর্নর প্রাইমারিতে তার সমর্থিত প্রার্থী র্যান্ডি ফিনস্ট্রাকে পরাজিত করেন ব্যবসায়ী জ্যাক লান। এরপর জর্জিয়ার গভর্নর প্রাইমারিতেও ট্রাম্প-সমর্থিত লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্ট জোন্স পরাজিত হন স্বাস্থ্যসেবা খাতের নির্বাহী রিক জ্যাকসনের কাছে। জোন্সের পরাজয়ের পর ট্রাম্প রিক জ্যাকসনের প্রচারণাকেও “ট্রাম্পধারার প্রচারণা” বলে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ক্যারোলিনায় দুই প্রার্থীকে একসঙ্গে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত নিশ্চিত করেছেন যে রানঅফের ফল যাই হোক, বিজয়ী প্রার্থীকে তার সমর্থিত প্রার্থী হিসেবেই উপস্থাপন করা যাবে। উল্লেখ্য, গত মাসেও দক্ষিণ ক্যারোলিনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছিলেন ট্রাম্প। রাজ্যের একমাত্র ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসনাল আসন বিলুপ্ত করতে নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আইনসভায় পাস হয়নি। এতে ট্রাম্পপন্থী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যর্থ হয়।