আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করছে ইরান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১১:২৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এই নগ্ন হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এর প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বড় ধরণের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

আজ শনিবার দেশটির শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স' আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠোর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত সামরিক কমান্ডের এক বিশেষ বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে সব ধরনের দেশী-বিদেশী নৌযান চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, শত্রুপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ এবং অন্যায় আগ্রাসনের জবাবে এটি তাদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।

 

ইরানের নীতি নির্ধারকেরা আন্তর্জাতিক মহলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, লেবাননে যদি এই ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। শত্রুপক্ষকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য করতে বেইজিং বা অন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর তোয়াক্কা না করে সামনে আরও কঠোর এবং বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও খনিজ তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি হঠাৎ বন্ধের ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

ঐতিহাসিকভাবে পারস্য উপসাগরের এই হরমুজ প্রণালীটিকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন বা প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করেই বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। ফলে ইরানের এই নতুন অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

 

বিবৃতিতে খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স আরও উল্লেখ করেছে যে, ইরান চুক্তি মেনে চললেও পশ্চিমা জোট ও তাদের মিত্ররা বারবার আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিনষ্ট করছে। লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের ওপর চালানো এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান যেকোনো ধরণের চরম সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একবারে ভেঙে দিতে পারে।

 

বিশ্বের প্রধান পরাশক্তিগুলো ইরানের এই হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার পরাশক্তি চীন, যারা এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়া এবং ওমান সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিবিড় নজর রাখছিল, তারা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যতক্ষণ না ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা সহযোগীরা লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে তাদের আগ্রাসী নীতি থেকে সরে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কৌশলগত নৌপথ উন্মুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই।

 

সূত্র: রয়টার্স

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল মিডিয়ার আইন ভাঙায় সাড়ে ৩ হাজার পাকিস্তানিকে বের করে দিল আরব আমিরাত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কঠোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানি নাগরিককে একযোগে বহিষ্কার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রভাবশালী দেশটি। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম 'দ্য নেশন'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ করা হয়।   পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স বা সংসদীয় বিষয় সংক্রান্ত ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জাতীয় পরিষদে এই গণ-বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংসদকে জানান যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হঠাৎ বহিষ্কৃত হয়ে দেশে ফিরে আসা এই বিপুল সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং তাদের অসহায় পরিবারের পাশে পাকিস্তান সরকার রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সংকট দূর করতে সর্বোচ্চ স্তরের রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদানের জোরালো চেষ্টা চালানো হচ্ছে।   জাতীয় পরিষদের প্রভাবশালী নারী সদস্য বা এমএনএ সামিনা খালিদ ঘুরকির এক গুরুত্বপূর্ণ লিখিত প্রশ্নের জবাবে ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী আন্তর্জাতিক কারাগারে বন্দি পাকিস্তানিদের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, বর্তমানে স্পেন, পর্তুগাল এবং যুক্তরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো পাকিস্তানি নাগরিক নেই। পশ্চিমা এসব দেশে বন্দি থাকা সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকদের আইনি ও মানবিক সহায়তার জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক চেষ্টা চালু রয়েছে।   মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলোতে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাসগুলোতে বন্দি নাগরিকদের সার্বিক সহায়তার জন্য পৃথক ও বিশেষ ‘লিগ্যাল সেল’ বা আইনি শাখা সক্রিয় রয়েছে। এই বিশেষ সেলগুলোর প্রতিনিধিরা নিয়মিত স্থানীয় কারাগারগুলো পরিদর্শন করেন, বন্দিদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও আইনি সমস্যার সমাধান করেন এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও দরিদ্র বন্দিদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব ধরণের আইনি সহায়তা প্রদান করে থাকেন।   এর আগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্দি স্থানান্তর চুক্তির বিশেষ আওতায় ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে দুই দফায় মোট ৯ জন সাজাপ্রাপ্ত পাকিস্তানি বন্দিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজস্ব মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আকস্মিক বহিষ্কৃত হওয়া ৩ হাজার ৫০০ পাকিস্তানির বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১২:৩৫
ছবি: সংগৃহীত

কিংবদন্তি রবিন হুডের স্মৃতিবিজড়িত ১,২০০ বছরের প্রাচীন ‘মেজর ওক’ গাছটির মৃত্যু

ছবি: এনডিটিভি

দিল্লিতে ভয়াবহ শিশু পাচারকারী চক্রের পর্দা ফাঁস, হাসপাতালের মালিকসহ গ্রেফতার ৯

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের ও স্ত্রী বেগোনা গোমেজ | ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির মামলায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগরে লিবিয়ার উপকূলে ভেসে এলো নারীসহ ১৫ অভিবাসীর মরদেহ

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলবর্তী এলাকা থেকে গত এক সপ্তাহে নারীসহ অন্তত ১৫ জন ভাগ্য অন্বেষণকারী অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকা উল্টে গিয়ে সাগরে ডুবে তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) লিবিয়ার স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী, নৌবাহিনী এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   লিবীয় নৌবাহিনীর একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, সাগরে বড় ধরণের দুর্ঘটনার পর উপকূলীয় এলাকা থেকে অলৌকিকভাবে অন্তত ১০ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত ওই নৌকাটিতে নারী ও শিশুসহ প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন। লিবিয়ার সীমান্ত ও উপকূল রক্ষী বাহিনী জানায়, মিশর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত তোব্রুক শহরের বিভিন্ন পাথুরে উপকূলীয় এলাকা থেকে গত কয়েক দিন ধরে এই মরদেহগুলো ভেসে আসতে শুরু করে।   দুজন স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা মরদেহগুলোতে ইতিমধ্যেই পচন ধরতে শুরু করেছে, যা দেখে বোঝা যায় বেশ কয়েক দিন আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ওই সমুদ্র সৈকত এবং আশেপাশের এলাকায় আরও মরদেহ পাওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে বলে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। তোব্রুক রেড ক্রিসেন্টের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সাদা প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরা স্বেচ্ছাসেবকরা পাথুরে উপকূল থেকে মরদেহগুলো সংগ্রহ করে সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরছেন।   ঐতিহাসিকভাবে ২০১১ সালে লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই দেশটির বিস্তীর্ণ উপকূল অঞ্চল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রধান ও বিপজ্জনক রুটে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধবিদ্ধস্ত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা নিজস্ব দেশের সংঘাত, চরম দারিদ্র্য ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বাঁচতে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় মরুভূমি এবং সাগরের এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। এ ছাড়া তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিও অনেক দরিদ্র অভিবাসীকে কাজের জন্য আকৃষ্ট করে।   এদিকে লিবিয়ার উপকূলে ঘটে যাওয়া আলাদা আরেকটি মানবপাচারের ঘটনায় দেশটির রাজধানী ত্রিপোলির ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার একটি বিশেষ বিবৃতি প্রদান করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ত্রিপোলি উপকূলে আরেকটি অবৈধ অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনার পর সাগরে ভাসমান অবস্থা থেকে ১৩ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে প্রয়োজনীয় জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১১:৪৬
ছবি: সংগৃহীত

অবরোধ ও বিক্ষোভে অচল বলিভিয়া, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করছে ইরান

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের কূটনৈতিক জয়ের হিসাব কষছে চীন

ছবি: সংগৃহীত
মাউন্ট এভারেস্টের বরফের ফাটলে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন নেপালি পর্বতারোহী

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের ২৫ ফুট গভীর একটি বরফের ফাটলে (ক্র্যাভাস) টানা তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন নেপালি পর্বতারোহী দাওয়া শেরপা। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে কেবল বিস্কুট, চকলেট আর বরফের টুকরো খেয়ে তিনি সেই মৃত্যুর কূপের ভেতর টিকে ছিলেন। এদিকে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার ততদিনে আশা ছেড়ে দিয়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করে দিয়েছিল। অবশেষে এক ভয়াবহ তুষারধসের কারণে সেই গভীর ফাটলটি বরফে ভরাট হয়ে একটি নতুন পথ তৈরি হয়, যার সাহায্যে তিনি অলৌকিকভাবে মুক্ত হতে সক্ষম হন।   ৫৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ শেরপা বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিজের ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি জানান, ফাটল থেকে কোনোমতে বের হয়ে আসার পর ভাঙা পা এবং প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে যাওয়া (ফ্রস্টবাইট) আঙুল নিয়ে তিনি পর্বত বেয়ে নিচে নেমে আসেন। গত ২৯ মে এভারেস্টের বুকে একা হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে তিনি বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।   ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ মে, যখন হিমালয়ান ট্রাভার্স অ্যাডভেঞ্চার নামের একটি ছোট পর্যটন সংস্থার হয়ে দাওয়া শেরপা এভারেস্টের প্রায় ২৭,৫৫৯ ফুট উঁচুতে আরোহণ করেন। ফেরার পথে ক্যাম্প ফোরে পৌঁছানোর পর তার অক্সিজেন সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যায়। চরম অক্সিজেন সংকটের কারণে তার হাত-পা অবশ হয়ে পড়লে তিনি তার দলের অন্য সদস্যদের এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর তীব্র ঝড়-বাতাসের মধ্যে একা একা ক্যাম্প থ্রি ও ক্যাম্প টু পার করে বেস ক্যাম্পের দিকে আসার সময় খুম্বু আইসফলের একটি মই থেকে পা পিছলে তিনি গভীর ফাটলে পড়ে যান।   ফাটলের ভেতরের মসৃণ বরফের দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠার কোনো উপায় ছিল না। দাওয়া শেরপা জানান, আটকে থাকার দ্বিতীয় দিনে তিনি মাথার ওপর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের শব্দ শুনলেও গভীর ফাটলে থাকার কারণে তাদের নজরে আসতে পারেননি। ঠিক যখন তিনি বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখনই একটি বিশাল তুষারধস (অ্যাভালাঞ্চ) উপর থেকে নেমে আসে। সৌভাগ্যবশত সেই বরফের ধস তাকে চাপা না দিয়ে ফাটলের গভীর অংশটি ভরাট করে দেয়, যা বেয়ে তিনি দীর্ঘ এক ঘণ্টার চেষ্টায় ওপরে উঠে আসতে পারেন।   উপরে উঠে একটি দড়ির সাহায্য নিয়ে ৪ জুন সকালে তিনি বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে সাগরমাথা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির একটি দল তাকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাকে দ্রুত কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি মারাত্মক পানিশূন্যতা, ফ্রস্টবাইট এবং উরুর হাড় ভাঙা জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এই অবিশ্বাস্য বেঁচে যাওয়ার ঘটনায় পর্বতারোহী মহলে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেও, তাকে সময়মতো উদ্ধার করতে না পারার কারণে উদ্ধারকারী ব্যবস্থার ওপর তীব্র ক্ষোভ ও তদন্তের দাবি উঠেছে।   চলতি বছর মাউন্ট এভারেস্টে রেকর্ড সংখ্যক আরোহীর ভিড় হওয়ায় পর্বতারোহণ খাতে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে রেকর্ড ১,০০০-এর বেশি পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেছেন, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং অনভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পাহাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে অভিজ্ঞ শেরপারা এখন এভারেস্টে আরোহীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ৯:৫০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইউক্রেনের ড্রোন ভূপাতিত করতে গিয়ে নিজেদের শোধনাগারেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

ছবিঃ এ পি

কাতারের দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

ইরানের পর উত্তর কোরিয়ায় নজর দিতে চান ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পর এবার উত্তর কোরিয়ার দিকে নজর দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

0 Comments