আমেরিকা

কুইন্সে সমাজতান্ত্রিকদের দাপট, একাধিক আসনে জয়ের পথে মামদানিপন্থী প্রার্থীরা

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৪:৯
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করছেন ডিএসএ-সমর্থিত প্রার্থীরা । ছবি:  সংগৃহীত
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করছেন ডিএসএ-সমর্থিত প্রার্থীরা । ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব এবং তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রগতিশীল আন্দোলনের জোয়ারে ভর করে কুইন্সে কংগ্রেস, স্টেট সিনেট ও স্টেট অ্যাসেম্বলির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়ের পথে এগিয়ে গেছেন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ) সমর্থিত প্রার্থীরা।

 

মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, কংগ্রেস প্রার্থী ক্লেয়ার ভালদেজ, অ্যাসেম্বলি প্রার্থী সামান্থা কাট্টান ও ডেভিড অরকিন এবং সিনেট প্রার্থী আবের কাওয়াস নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

 

ফলাফল বিশ্লেষকদের মতে, কুইন্সে ডিএসএ-সমর্থিত রাজনীতির জন্য এটি একটি বড় অর্জন। সংগঠনটির সমর্থিত প্রার্থীরা অন্তত তিনটি নতুন আসন দখলের পথে রয়েছে। শুধু ডিএসএ-সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্যই নয়, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। দুই বর্তমান জনপ্রতিনিধি, স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস এবং অ্যাসেম্বলি সদস্য জেনিফার রাজকুমার, নিজেদের বামঘেঁষা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে পিছিয়ে পড়েছেন।

 

নিউইয়র্কের ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে অবসর নিতে যাওয়া কংগ্রেসওম্যান নিডিয়া ভেলাজকুয়েজের উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পথে থাকা ক্লেয়ার ভালদেজ ভোটের প্রায় ৫৬ শতাংশ পেয়ে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন। ভোটের ৯২ শতাংশ গণনা শেষে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও রেনোসোর ভোট ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ।

 

স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর মাইকেল জিয়ানারিসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে আবের কাওয়াস প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা পেয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট।

 

অন্যদিকে অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে সামান্থা কাট্টান তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পিয়া রহমান ও মেলিসা অরল্যান্ডোর চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

 

অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৮-এ আইনজীবী ডেভিড অরকিন প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্তমান জনপ্রতিনিধি জেনিফার রাজকুমারকে পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেন। ২০২১ সাল থেকে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন রাজকুমার।

 

ব্রুকলিনের ৯৯ স্কট নামের একটি সংগীত ভেন্যুতে ডিএসএ আয়োজিত নির্বাচনী ফলাফল পর্যবেক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

ফেব্রুয়ারিতে মামদানির স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হওয়া অ্যাসেম্বলি সদস্য ডায়ানা মোরেনো বলেন, “আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, যার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি, আজ তার ফলাফল দেখতে পাচ্ছি। এটি জনগণের শক্তির বিজয়। আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি যে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিকেও পরাজিত করা সম্ভব।”

 

নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত মুখ জেসিকা রামোস এবার নিজের আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টেট সিনেট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাসেম্বলি সদস্য জেসিকা গনজালেজ-রোজাস প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

 

একসময় প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত রামোস মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির পরিবর্তে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে সমর্থন দেওয়ার পর অনেক প্রগতিশীল সংগঠনের সমর্থন হারান। এছাড়া কুইন্সে প্রস্তাবিত ক্যাসিনো প্রকল্পে সমর্থন না দেওয়াতেও দলের একটি অংশের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

 

অন্যদিকে গনজালেজ-রোজাস সরাসরি মামদানির সমর্থন না পেলেও শহরের অধিকাংশ প্রগতিশীল আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। তার সাবেক চিফ অব স্টাফ ব্রায়ান রোমেরোও অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৪-এ জয়ের পথে রয়েছেন। তিনি প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রোসা সানচেজকে বড় ব্যবধানে পিছনে ফেলেছেন।

 

কুইন্স কাউন্টি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সমর্থিত প্রার্থীদের ফলাফল ছিল মিশ্র।

অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৩-এ দীর্ঘদিনের সরকারি কর্মকর্তা পেসাক ওসিনা প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে আইনজীবী মাইক স্কালাকে পরাজিত করার পথে ছিলেন। তিনি কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থন পেয়েছিলেন।

 

দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩২-এ অবসর নিতে যাওয়া অ্যাসেম্বলি সদস্য ভিভিয়ান কুকের উত্তরসূরি নির্বাচনের দৌড়ে নাথানিয়েল হেজেকাইয়া তৃতীয়ও এগিয়ে ছিলেন। তবে সব আসনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীরা সফল হননি। অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩০-এ কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থিত প্রার্থী প্যাট্রিক মার্টিনেজ এবং সাবেক এনওয়াইপিডি গোয়েন্দা শামসুল হকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। ভোটের প্রায় ৯৯ শতাংশ গণনা শেষে মার্টিনেজ মাত্র ১৩ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ফলে এই আসনের ফল পুনর্গণনার দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও ভাড়া কমাতে বড় পদক্ষেপ, সিনেটে পাস হলো দ্বিদলীয় আবাসন বিল

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার ক্রমবর্ধমান খরচ কমাতে এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় বিল সিনেটে ব্যাপক সমর্থনে পাস হয়েছে। আইনপ্রণেতারা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগ আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে বাড়ির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করবে।   সোমবার সিনেটে ‘২১শ শতাব্দীর রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’ ৮৫–৫ ভোটে পাস হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সমর্থন পাওয়া এই বিল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ির দাম ও ভাড়া দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আবাসন সংকট একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিলটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় আবাসন নীতিগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আইনটিতে নতুন বাড়ি নির্মাণের পথে থাকা বিভিন্ন প্রশাসনিক বাধা কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, নতুন আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে একক পরিবারের বাড়ি কেনায় বড় কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের প্রভাব সীমিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   বিলটি চূড়ান্ত করার আগে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সংস্করণ তৈরি করা হয়। সিনেট ব্যাংকিং কমিটির চেয়ারম্যান টিম স্কট বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা কাজের ফল হিসেবে এই আইন আবাসন খরচ কমানো, সরবরাহ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সিনেট ব্যাংকিং কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, নতুন আইন আবাসন নির্মাণে বিদ্যমান বাধা দূর করবে এবং বাজারে আরও বাড়ি যোগ করতে সহায়তা করবে। তার মতে, আবাসনকে শুধু বিনিয়োগের পণ্য হিসেবে না দেখে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।   হোয়াইট হাউসও বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিশেষ করে একক পরিবারের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা সীমিত করার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিলটিতে ৪৫টিরও বেশি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে আবাসন নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, উদ্ভাবনী আবাসন তহবিল গঠন এবং প্রবীণদের জন্য আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেন, এই আইন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও এই বিলের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন প্রমাণ করে যে আবাসন সংকট এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে অনুমোদন পেলে এটি আইনে পরিণত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ৪:৪১
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুদ্ধবিরতির অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্রে কমলো মর্টগেজ সুদের হার

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করছেন ডিএসএ-সমর্থিত প্রার্থীরা । ছবি:  সংগৃহীত

কুইন্সে সমাজতান্ত্রিকদের দাপট, একাধিক আসনে জয়ের পথে মামদানিপন্থী প্রার্থীরা

ছবি: রয়টার্স

আমেরিকার ২৫০ বর্ষপূর্তিতে নিউইয়র্কে তুলে ধরা হবে অভিবাসীদের অবদান

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রাম্প, ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে দেবেন ট্রফি

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন এবং বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন—এমনটাই নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফ্যান্তিনো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করবেন এবং দুজন একসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন। তার ভাষায়, “আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকব, ফাইনাল উপভোগ করব এবং অবশ্যই একসঙ্গে বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেব। আমরা সব সময়ই একসঙ্গে আছি।”   ইনফ্যান্তিনোর এই বক্তব্যের একটি অংশ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রকাশ করা হয়। তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।   ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকায় ফাইনালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ ছিল অনেকদিন ধরেই। যদিও ট্রাম্প ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন বড় ক্রীড়া আয়োজনে অংশ নেন, এবার বিশ্বকাপের গ্রুপ বা নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচে তাকে দেখা যায়নি।   এর আগে ট্রাম্প ও ইনফ্যান্তিনো একাধিকবার একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসি ৩-০ ব্যবধানে পিএসজিকে হারানোর পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এই দুই ব্যক্তিকে একসঙ্গে দেখা যায়।   বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি কেবল ক্রীড়া আয়োজনে নয়, কূটনৈতিক ও প্রতীকী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে বৈশ্বিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ফাইনাল ম্যাচটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ০:৩৮
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে খরচ বাড়তে পারে প্রায় ১,৪০০ ডলার

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক প্রাইমারিতে মামদানি-সমর্থিত দুই প্রার্থীর জয়

ছবি: সংগৃহীত

পানিতে ডুবে যাওয়া ছোট ভাইকে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছে ৭ বছরের শিশু, পাচ্ছে বিশেষ সম্মাননা

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অভিবাসন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির ওপর দেশব্যাপী স্থগিতাদেশ জারি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক।   মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক পি. কেসি পিটস ৭১ পৃষ্ঠার এক রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব নীতি প্রশাসনিক আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যথাযথ ব্যাখ্যা ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছে। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) এবং অভিবাসন পর্যালোচনা বিষয়ক নির্বাহী দপ্তর তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যৌক্তিক ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে চালু হওয়া একটি নীতির ফলে অভিবাসন আদালতে শুনানির জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের আদালত চত্বর থেকেই আটক করার সুযোগ পেতেন ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা। এ কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিবাসন আদালতের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিবাসী অধিকারকর্মী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরে এই নীতির সমালোচনা করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, আদালতে উপস্থিত হওয়ার সাহস দেখানো ব্যক্তিদেরই পরে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যা অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।   বিচারক পিটস রায়ে বলেন, আইসিই যেসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছে, তারা আদালতে অন্য কোনো অপরাধে নয়, বরং একই অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগের শুনানিতে হাজির হচ্ছিলেন। ফলে এই নীতির ভিত্তি এবং যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে জারি করা পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাতিলের ক্ষেত্রে প্রশাসন পর্যাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। আদালতের মতে, অভিবাসন আদালত এলাকায় বেসামরিক আইন প্রয়োগসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।   রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিচারক দীর্ঘ সময় আটক রাখার নীতিকেও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আওতায় আইসিই আটক ব্যক্তিদের ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হেফাজতে রাখতে পারত। তবে বিচারক বলেন, এই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।   রায়ে উল্লেখ করা হয়, সান ফ্রান্সিসকোর একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে অনেককে ১২ ঘণ্টার বেশি, কখনো কখনো পুরো রাত বা কয়েক দিন পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছে। বিচারকের মতে, ধারণক্ষমতার সংকট মোকাবিলায় বিকল্প কোনো উপায় বিবেচনা না করেই প্রশাসন এই নীতি কার্যকর করেছে। তাই তিনি নীতিটি বাতিল করে দেশব্যাপী কার্যকারিতা স্থগিতের নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান আইন উপদেষ্টা জেমস পারসিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারক যখন সাজা দেন, তখন আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। একইভাবে কোনো অভিবাসন বিচারক যদি কাউকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেন, তাহলে তার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। তিনি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে বিচারিক সক্রিয়তার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন।   এদিকে, গত মাসে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতও ম্যানহাটনের অভিবাসন আদালতগুলোতে গ্রেপ্তার অভিযান সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলার বিচারক পি. কেভিন ক্যাসটেলও মন্তব্য করেছিলেন যে, অভিবাসন আদালতে আইন প্রয়োগসংক্রান্ত আগের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ‘খামখেয়ালি এবং যথাযথ বিবেচনাহীন’।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিকে ঘিরে চলমান আইনি লড়াইয়ে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে অভিবাসন আদালতকে গ্রেপ্তারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে কি না এবং আটক ব্যক্তিদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ২১:৮
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬৫০ কোটি ডলারের জালিয়াতি, ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আদালতের রায়

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও ভাড়া কমাতে ঐতিহাসিক বিল পাস

0 Comments