আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোন পথে? নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে ‘রেড কার্ড’ প্রস্তাব

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১১:৩৩
ছবি: ফাইল ফটো
ছবি: ফাইল ফটো

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। একদিকে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযান ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা লাখো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে অভিবাসন সংস্কার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন নীতিনির্ধারক ও গবেষক ‘রেড কার্ড’ নামে একটি বিকল্প কর্মসূচির প্রস্তাব সামনে এনে বলছেন, বর্তমান সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে হলে প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে নতুন পথ খুঁজতে হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোনো একক প্রশাসনের সৃষ্টি নয়। কয়েক দশক ধরে আইন প্রয়োগে অসঙ্গতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং কংগ্রেসের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ফলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীর একটি অংশ মনে করেন, তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ফেডারেল সরকারের অনুমোদন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশে প্রবেশ করেছেন। বিশেষ করে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা, মানবিক প্যারোল কর্মসূচি এবং অন্যান্য অস্থায়ী ব্যবস্থার আওতায় অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পান। ফলে এখন তাদের অনেকের দাবি, তাদের অবস্থানকে সরলভাবে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনি ও নৈতিক দুই দিক থেকেই জটিল।

 

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েক মিলিয়ন মানুষের বিরুদ্ধে একযোগে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, বাস্তবিক অর্থেও অত্যন্ত কঠিন। অভিবাসন আদালতগুলো ইতোমধ্যেই কয়েক মিলিয়ন মামলার জটে আটকে আছে। এর মধ্যে নতুন করে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান শুরু হলে বিচারিক ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে।


অন্যদিকে আইসের জনবল ও সম্পদও সীমিত। ফলে কোন অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কারের আওতায় আনা হবে এবং কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও নীতিগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

 

এই আলোচনার মধ্যেই আবার সামনে এসেছে ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) কর্মসূচি। শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা অনথিভুক্ত তরুণদের সাময়িক সুরক্ষা দিতে চালু হওয়া এই কর্মসূচি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকলেও কংগ্রেস এখনো এর স্থায়ী আইনি সমাধান করতে পারেনি। ফলে লাখো ডাকা সুবিধাভোগী এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রেই বড় হয়েছেন, পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি অবস্থান এখনও ঝুলে আছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে কিছু নীতিনির্ধারক আবারও সামনে আনছেন তথাকথিত ‘রেড কার্ড’ মডেল। ২০১২ সালে অভিবাসন সংস্কারবিষয়ক গবেষক হেলেন ক্রিয়েবল প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করেন। পরে সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচসহ কয়েকজন রক্ষণশীল নেতা এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।

 

রেড কার্ড ধারণার মূল ভিত্তি হলো নাগরিকত্বের পথ থেকে আলাদা একটি বৈধ কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থা তৈরি করা। এই মডেলে যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত নন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করতে চান, তারা নিবন্ধনের মাধ্যমে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। তবে এই অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা মার্কিন নাগরিকত্বের পথ খুলে দেবে না।

 

সমর্থকদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে আইস তাদের সীমিত জনবল ও সম্পদ সহিংস অপরাধী, মাদক চক্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে। একই সঙ্গে অনথিভুক্ত হলেও কর্মরত লাখো মানুষ বৈধ কর্মসংস্থানের আওতায় আসবেন এবং কর ব্যবস্থার মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

 

রেড কার্ড মডেলের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি বেসরকারি খাতনির্ভর। প্রস্তাব অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কর্মসংস্থান সংস্থাগুলো অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এতে সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় কমবে বলে সমর্থকদের দাবি।

 

প্রস্তাবটির সমর্থকরা আরও বলছেন, অংশগ্রহণকারীদের বায়োমেট্রিক পরিচয় নিবন্ধন, নিরাপত্তা যাচাই এবং বাজারদরের সমপরিমাণ মজুরি নিশ্চিত করা হলে মার্কিন শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও কমবে।

 

তবে সমালোচকদের আপত্তিও রয়েছে। তাদের মতে, রেড কার্ড পরিকল্পনা কার্যকর হলে একটি নতুন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী শ্রমিক শ্রেণি তৈরি হতে পারে, যারা বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করলেও স্থায়ী নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে হলে বৈধ স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্বের একটি সুস্পষ্ট পথও থাকতে হবে।


বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিতর্ক বর্তমানে দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে আটকে আছে। এক পক্ষ অধিকাংশ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দেশে থাকার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে, অন্য পক্ষ দ্রুত ও ব্যাপক বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি কোনো সমাধানের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

 

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, কৃষি, নির্মাণ, আতিথেয়তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সেবা খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন শ্রমবাজার, ব্যবসা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

 

ফলে প্রশ্ন এখন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা বা আইসের অভিযান নিয়ে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে কী ধরনের অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, সেটিও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস যদি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে না পারে, তাহলে ডাকা কর্মসূচি, আইসের অভিযান এবং লাখো অভিবাসীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আগামী বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও জননীতির অন্যতম প্রধান বিতর্ক হিসেবে থেকে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের রমরমা ব্যবসা, অভিযুক্ত ১১ জন
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের রমরমা ব্যবসা, অভিযুক্ত ১১ জন

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বুধবার ১১ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি বিশাল 'ভুয়া বিয়ে' বা প্রতারণামূলক বিবাহ চক্র চালানোর অভিযোগ গঠন করেছে। গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের এক হাজারেরও বেশি ভুয়া বিয়ের আয়োজন করেছে এই চক্রটি।   নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রাপ্ত ২১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই প্রতারণা চক্রটি ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিল। অ্যামি চেং, জিয়াও মেই চ্যান এবং গ্যাং ঝেং নামের অভিযুক্তরা মূলত এই চক্রের নেতৃত্ব দিতেন। অভিযোগ গঠনের সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এটিকে "যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিবাহ জালিয়াতির অন্যতম বড় মামলা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, এটি কোনো ক্ষণস্থায়ী বা রাতারাতি গড়ে ওঠা চক্র ছিল না, বরং যারা বৈধভাবে মার্কিন নাগরিক হতে পারতেন না, তাদের বেআইনিভাবে সাহায্য করার জন্য এটি ছিল বহু বছরের এবং কয়েক মিলিয়ন ডলারের একটি লাভজনক ব্যবসা।   অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে চীনের নাগরিকদের কাছে এই প্রতারণামূলক ইমিগ্রেশন সেবার প্রচার চালাতে মুখে মুখে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নিত। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া বিয়ের আয়োজনে সহায়তার জন্য বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে মাথাপিছু প্রায় এক লাখ ডলার পর্যন্ত হাতিয়ে নিত চক্রটি। অন্যদিকে, এই কাজের মধ্যস্থতাকারীরা প্রায় পাঁচ হাজার ডলার করে কমিশন পেতেন।   মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ধোঁকা দিতে ভুয়া বিয়ের অনুষ্ঠানের নানা ছবি জমা দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় স্থানীয় রেস্তোরাঁয় বিয়ের আয়োজন করা হতো, যেখানে বর-কনে ঐতিহ্যবাহী চীনা বিয়ের পোশাক পরতেন। এমনকি অনুষ্ঠানটিকে আসল প্রমাণ করতে এবং লোকদেখানোর জন্য বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদেরও আমন্ত্রণ জানানো হতো। নিউইয়র্ককে কেন্দ্র করে এই চক্র পরিচালিত হলেও, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, পেনসিলভানিয়া, কেনটাকি, টেনেসি, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, ভানুয়াতু এবং চীন জুড়ে এই ভুয়া বিয়ের জাল বিছিয়েছিল অভিযুক্তরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৫:১৪
চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা

চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা

গর্ভপাত চেয়েছিলেন চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা, রাজি হননি সারোগেট মা; শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এলো টেক্সাস আদালত

গর্ভপাত চেয়েছিলেন চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা, রাজি হননি সারোগেট মা; শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এলো টেক্সাস আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ডে-কেয়ারে অন্য শিশুদের সামনেই স্ত্রী-সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আত্মহ ত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ডে-কেয়ারে অন্য শিশুদের সামনেই স্ত্রী-সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আত্মহ ত্যা

ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে
ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কুমিরের ভয়াবহ হামলায় হাত হারিয়েছেন ডিনা স্প্যান (৫৮) নামের এক নারী। শনিবার ম্যারিয়ন কাউন্টির সিলভার রিভারে ভাসার সময় একটি বিশাল কুমির তাকে আক্রমণ করে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য অতিরিক্ত পর্যটক এবং সস্তা জনপ্রিয়তালোভী টিকটকারদের দায়ী করেছেন তার ছেলে জ্যাক গুয়েরিনা। তার দাবি, পর্যটকরা নদীর ধারে কুমিরকে খাবার দিচ্ছেন এবং তাদের গায়ে হাত বুলিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন। এতে করে এসব হিংস্র প্রাণী মানুষের প্রতি ভয় হারিয়ে ফেলছে এবং মানুষের আশেপাশে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।   জ্যাক জানান, তিনি নিজে এই নদীতে শত শত বার সাঁতার কেটেছেন, কিন্তু কখনোই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। তিনি বলেন, ফ্লোরিডায় নতুন আসা অনেকেই আগে কখনো কুমির দেখেনি। টিকটকে কুমিরের সাথে মানুষের অতি-ঘনিষ্ঠতার ভিডিও দেখে তারা এসব প্রাণীর কাছে যাওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঘটনার দিন ডিনা স্প্যান একটি নিষিদ্ধ এলাকায় সাঁতার কাটছিলেন। কুমিরের হামলায় তার ডান হাত কনুইয়ের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হয় এবং বাম হাতের অন্তত একটি আঙুল কাটা পড়ে। জ্যাকের আশঙ্কা, মানুষ এভাবে কুমিরকে খাবার দেওয়া অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ আরও ঘটবে।   সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লোরিডায় কুমিরের হামলার বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ জুন সেমিনোল কাউন্টির একনলক্যাচি নদীতে ১৩ ফুট লম্বা একটি কুমিরের হামলায় ব্রিটানি ক্লার্ক (৩১) নামের এক নারী নিহত হন। এর একদিন আগে, ২৭ জুন ম্যারিয়ন কাউন্টিতে বাবার সাথে মাছ ধরার সময় ১১ বছর বয়সী কিশোর ব্রোডি টেরি কুমিরের হামলায় তার এক হাত হারায়। জ্যাক গুয়েরিনা মনে করেন, ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের (এফডব্লিউসি) উচিত কুমির শিকারের আরও বেশি অনুমতি দেওয়া, কারণ সেখানে কুমিরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এদিকে, রোববারের ঘটনার পর সিলভার রিভার থেকে ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা একটি কুমির ধরে সরিয়ে নিয়েছেন বন বিভাগের কর্মীরা, যার ফলে নদীটি ফের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।   পেশায় কাঠমিস্ত্রি জ্যাক তার মাকে একজন 'হিপি সোল' বা মুক্তমনা মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি প্রাণীদের ভালোবাসেন এবং বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। সম্প্রতি আফ্রিকা সফর থেকে ফ্লোরিডায় ফিরেছিলেন তিনি। জ্যাক জানান, এত বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিজের একটি হাত হারিয়েও তার মা মানসিকভাবে যথেষ্ট দৃঢ় ও শান্ত রয়েছেন।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৩:৫২
কানসাসের উইনফিল্ডে চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত

চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বাবার, পুলিশকে ফোন করে নিজেই জানালেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: ‘বাইডেনের জন্য আমার খারাপ লাগে না, সহানুভূতির দরকার নেই’

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত

মামদানির রেন্ট ফ্রিজ ও নতুন করের শঙ্কার মধ্যে ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার রেকর্ড! মাসে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার

কলোরাডোতে পাঁচ কিশোর নিহত হওয়ার পর পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
কলোরাডোয় খাড়া পাহাড়ে রাস্তা থেকে গাড়ি ছিটকে নিহত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়া পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গেলে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোর নিহত হয়েছে। গ্র্যান্ড জংশন শহরের লুকআউট লেন এলাকায় শনিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ এবং মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে থাকা পাঁচজনই গ্র্যান্ড জংশনের বাসিন্দা এবং তাদের সবার বয়স ১৭ বছর। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গাড়িটি লুকআউট লেন ধরে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে সেটি রাস্তা থেকে ছিটকে খাড়া পাহাড়ি ঢালের নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।   মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, পাঁচ কিশোরের মধ্যে তিনজন সিটবেল্ট পরেছিল। তাদের মধ্যে গাড়ির চালক ও সামনের আসনের যাত্রীও ছিল। পেছনের আসনে থাকা দুই কিশোর সিটবেল্ট না পরায় দুর্ঘটনার সময় গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যায়।   ময়নাতদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়ি দুর্ঘটনায় পাওয়া আঘাতের কারণেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সরকারি কর্তৃপক্ষ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।   তবে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বরাতে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিহতদের ব্রেডেন টেইলর, ট্রিস্টান টাকার, টাইটাস গোল্ড, উইলিয়াম সিমস ও টাইলার মার্টিনেজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল বলে জানানো হয়েছে।   একসঙ্গে পাঁচ কিশোরের মৃত্যুতে গ্র্যান্ড জংশন কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে তাদের স্মরণে বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। কয়েকটি পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ জানিয়েছে, এমন ঘটনায় শুধু নিহতদের পরিবার নয়, বন্ধু, সহপাঠী এবং পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে এবং বিশেষ করে গাড়ির গতি কত ছিল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১১:৫৫
মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস এবং মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

'মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে আমাদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হবে'

নিহত মেলিনা গ্যালানিস ফ্রাটোলিন এবং হত্যায় দোষী সাব্যস্ত বাবা লুসিয়ানো ফ্রাটোলিন। ছবি: সংগৃহীত

৯ বছরের মেয়েকে হত্যা করে, লাশ লুকিয়ে রেখে ‘অপহরণের’ গল্প সাজিয়েছিলেন বাবা!

অভিবাসীদের ওপর জরিমানা আরোপ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

দেশ ছাড়ুন, না হলে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ডলার জরিমানা' মিশিগানের অভিবাসীর সামনে ট্রাম্পের কঠিন শর্ত

0 Comments