- প্রচ্ছদ
- Topic
কারাগার
ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় দুই বছর আটক থাকার পর গাজায় ফিরে সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় ছিলেন ফিলিস্তিনি বাবা আহমেদ আবদুল করিম আল সিকালি। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ফিরে সেই পুনর্মিলনের বদলে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ছয়টি মৃত্যু সনদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিবরণ অনুযায়ী, তিনি আটক থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তার ছয় সন্তান নিহত হয়। আহমেদের ঘটনা নিয়ে বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও বিবরণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে ছয়টি মৃত্যু সনদ হাতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বড় সংবাদমাধ্যম, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বা স্বাধীন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঘটনার সব তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রচারিত বিবরণে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর ইসরায়েলি কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়ে খান ইউনিসে ফেরেন আহমেদ। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর সন্তানদের সঙ্গে দেখা হবে এমন প্রত্যাশা নিয়েই তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু ফিরে জানতে পারেন, তিনি আটক থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে বিমান হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় তার ছয় সন্তান নিহত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে। একই হামলায় তার স্ত্রী আহত হলেও বেঁচে যান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহত শিশুদের নাম, বয়স, হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং আহমেদকে কখন ও কী অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রচারিত তথ্যের একটি অংশে আবার অসঙ্গতিও রয়েছে। কয়েকটি পোস্টে বলা হয়েছে, আহমেদের স্ত্রী ও তার এক মেয়ে ওই হামলা থেকে বেঁচে গেছেন। একই সঙ্গে এসব পোস্টেই তার ‘ছয় সন্তান’ নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে জীবিত মেয়েটি ছয় সন্তানের বাইরে আরেক সন্তান কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ কারণে নিহত সন্তানের সংখ্যা ও পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে আরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর খান ইউনিস বারবার ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় বহু পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা থেকে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে আটক করে ইসরায়েলে নেওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আহমেদ আবদুল করিম আল সিকালির ঘটনাটি সত্য হলে, দীর্ঘ সময় আটক থাকার পর ঘরে ফিরে পরিবারের সদস্যদের হারানোর খবর পাওয়ার আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে এটি গাজার যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে। তবে তার পরিবারের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির অনিশ্চিত তথ্যগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ না করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারাগারে প্রায় চার দশক ধরে বন্দি থাকা হামজা নামে পরিচিত এক ব্যক্তির মানবিক উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ঘণ্টায় মাত্র ১৩ সেন্ট মজুরিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে ১৩৬ দশমিক ৫ ঘণ্টা কাজ করে তিনি যে ১৭ ডলার ৭৪ সেন্ট পেচেক পান, তার পুরো অর্থই গাজার বেসামরিক মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা তহবিলে দান করেন। পরে তার এই আত্মত্যাগের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে তার জন্য ১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামজা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারাগারে পরিচ্ছন্নতা ও পোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। তার দীর্ঘ সময়ের শ্রমের বিনিময়ে পাওয়া সামান্য অর্থও নিজের কাছে না রেখে মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে দান করার সিদ্ধান্ত নেন। লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা জাস্টিন মাশুফ, যিনি বহু বছর ধরে হামজার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামজার কর্মঘণ্টার হিসাব এবং দানের চেকের ছবি প্রকাশ করেন। সেই পোস্ট দ্রুত ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং অসংখ্য মানুষ জানতে চান, কীভাবে তারা হামজাকে সহায়তা করতে পারেন। এরপর হামজার মুক্তির পর নতুন জীবন শুরুতে সহায়তা করার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে ১ লাখ ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়ে। এই অর্থ তার আবাসন, পোশাক, দৈনন্দিন প্রয়োজন, চাকরির প্রশিক্ষণসহ সমাজে পুনর্বাসনের বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। তবে অর্থ সংগ্রহ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার পর হামজা নিজেই অনুরোধ জানান, তার জন্য আর অনুদান না দিয়ে গাজাসহ বিশ্বের অন্যান্য সংকটাপন্ন অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তার মতে, যাদের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন আরও বেশি, তাদের প্রতিই মানুষের মনোযোগ দেওয়া উচিত। আইনি নথি অনুযায়ী, হামজা ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাকাণ্ডের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তীতে কারাগারে থাকাকালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্যারোলের চেষ্টা চালিয়ে যান। তার পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে তার প্যারোল প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব না পড়ে। মাত্র ১৭ ডলার ৭৪ সেন্টের এই অনুদান অর্থমূল্যে ছোট হলেও মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। একজন বন্দির সামান্য উপার্জন নিঃস্বার্থভাবে দান করার ঘটনা অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, আর সেই অনুপ্রেরণার ফলেই তার নতুন জীবনের জন্য গড়ে ওঠে লক্ষাধিক ডলারের সহায়তা তহবিল।
রাশিয়ার একটি কারাগারে বন্দিদের কাছে নিষিদ্ধ মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজে একটি বিড়ালকে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। গলায় বিশেষভাবে তৈরি কলারের ভেতরে মাদক বহন করার সময় প্রাণীটিকে আটক করে কারা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোনিউজের তথ্যের বরাত দিয়ে রাশিয়ার ফেডারেল পেনিটেনশিয়ারি সার্ভিস (এফএসআইএন) জানিয়েছে, কারাগারের একটি সংশোধনাগারের বাইরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে বিড়ালটিকে আটক করেন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। পরে প্রাণীটির গলায় বাঁধা দুটি কাপড়ের তৈরি বিশেষ কলার খুলে তল্লাশি চালানো হলে সেখান থেকে নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কারা কর্মকর্তারা বিড়ালটির গলায় থাকা কালো রঙের চওড়া কলার খুলে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছেন। তল্লাশির সময় কলারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা মাদক উদ্ধার করা হয়। জব্দ প্রক্রিয়া শেষে বিড়ালটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এফএসআইএনের ভাষ্য, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি পরিকল্পিত পাচারচক্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারা বন্দিদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, কীভাবে বিড়ালটিকে এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার কৌশল কী ছিল। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা অভিযুক্ত করার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতীতেও কারাগারে মোবাইল ফোন, মাদক কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পৌঁছে দিতে প্রাণী ব্যবহারের বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে। রাশিয়ার সর্বশেষ এই ঘটনাও কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পাচারচক্রের নতুন কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় দুই খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্ট ও আলডিকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মুদি পণ্যের চেইন হিসেবে উঠে এসেছে ক্রোগার। স্টোর ব্র্যান্ডের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনা করে করা এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৯-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেস্তোরাঁ ইকুইপমেন্ট ও রিটেইল বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান রেস্টুরেন্ট ফার্নিচার প্লাস চারটি বড় সুপারমার্কেট চেইনের নিজস্ব ব্র্যান্ডের ১৫টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনা করে এ গবেষণা পরিচালনা করে। এতে দুধ, ডিম, রুটি, মুরগির মাংস, চিনি, স্প্যাগেটি, টমেটোসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, একই ধরনের ১৫টি পণ্যের ঝুড়ির মোট দাম ক্রোগারে ছিল ৩০ ডলার, যা চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই তালিকার পণ্যের জন্য ওয়ালমার্টে খরচ হয় ৩০ দশমিক ৯৫ ডলার, আলডিতে ৩৩ দশমিক ১৫ ডলার এবং অ্যালবার্টসন্সে ৩৫ দশমিক ৫৮ ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫টি পণ্যের মধ্যে ১০টির ক্ষেত্রেই সবচেয়ে কম দাম ছিল ক্রোগারের। বিশেষ করে ডিম, চিনি, স্প্যাগেটি ও ক্যানজাত টমেটোর মতো প্রয়োজনীয় পণ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কম মূল্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দুগ্ধজাত কিছু পণ্যে আলডি প্রতিযোগিতামূলক দাম দিলেও সামগ্রিক হিসাবে শীর্ষে থাকতে পারেনি। গবেষণায় কস্টকো, ট্রেডার জো’স, এইচ-ই-বি ও পিগলি উইগলির মতো কিছু খুচরা বিক্রেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ হিসেবে সদস্যভিত্তিক কেনাকাটার ব্যবস্থা, পণ্যের প্রাপ্যতা ও ভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোন সুপারমার্কেটে তুলনামূলক কম খরচে কেনাকাটা করা সম্ভব, তা নিয়ে ভোক্তাদের আগ্রহও বেড়েছে। সর্বশেষ এই গবেষণায় সেই দিক থেকেই ক্রোগারকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মাদকচক্রের বন্দিদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন কারারক্ষীও রয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক বন্দি ও কারারক্ষী আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী কারাগার দাঙ্গা হিসেবে ঘটনাটিকে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ জানায়, রোববার (৬ জুলাই) রাত থেকে নেগোম্বো কারাগারের ভেতরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়ে দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। গুলিবর্ষণ, ধারালো অস্ত্রের হামলা এবং ব্যাপক মারামারিতে বহু বন্দি ও কারারক্ষী গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত নেগোম্বো হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেগোম্বো হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানিয়েছেন, হাসপাতালে ২৩ জনের মরদেহ আনা হয়। এছাড়া শতাধিক আহতের চিকিৎসা চলছে। গুরুতর আহত ১৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী কলম্বোর জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই গুলিবিদ্ধ এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। পরে বিচারমন্ত্রী হারশানা নানায়াক্কারা জানান, আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তিনি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, কারাগারের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “নিহতরা বন্দি না অপরাধচক্রের সদস্য—এ মুহূর্তে সেটি বড় বিষয় নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের প্রাণহানি, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে কারাগারের নারী ওয়ার্ডে উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকজন নারী বন্দি ছাদে উঠে প্রতিবাদ জানান এবং মুক্তির দাবি করেন। এ সময় ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন। ঘটনার পর সরকার অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। কারা বিভাগের মুখপাত্র চামিন্দা গাজানায়াকে জানান, এ ঘটনায় কোনো বিদেশি বন্দি হতাহত হননি। তিনি বলেন, মাদক পাচারের অভিযোগে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিক ওই কারাগারে থাকলেও তিনি নিরাপদ আছেন। সোমবার কারাগারের বাইরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনী ড্রোন ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতভর গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষের সময় কিছু বন্দি কারারক্ষীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে গিয়ে সাতজন কারারক্ষী প্রাণ হারান। সোমবার সকালে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি রয়েছে, যা ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ। অতিরিক্ত ভিড়, সীমিত অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের চাপ কারাগার ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই ঘটনা দেশটির কারা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বন্দি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কারাগারগুলোতে বন্দীদের ওপর নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৭০টি মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করেছে রাজ্য সরকার। এসব মামলায় মোট ২৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কোনো ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করা হয়নি। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া নথির ভিত্তিতে দ্যা সিটি রিপোর্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই চিত্র। অ্যান্টোয়ান গ্যালোওয়ে এখনও স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির সেই দিনটির কথা। নিউইয়র্কের ক্লিনটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পর সাতজন কারারক্ষী তাকে ঘিরে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে মুখে ঘুষি মারা হয়। এরপর বুকে কিল, স্টিলের বুট দিয়ে লাথি এবং ব্যাটন দিয়ে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি বারবার জ্ঞান হারাতে থাকেন। বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সী ইস্ট ফ্ল্যাটবুশের বাসিন্দা গ্যালোওয়ে দ্যা সিটি রিপোর্টারকে বলেন, "আমি মাথা ঢাকার চেষ্টা করছিলাম। দুইবার জ্ঞান হারিয়েছিলাম। ফিরে আসছিলাম, আবার হারাচ্ছিলাম। ওরা লাথি মারছিল, পা দিয়ে মাড়াচ্ছিল, জাতিবিদ্বেষী গালি দিচ্ছিল।" ঘটনার আট বছর পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য তার মামলা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়ে নিষ্পত্তি করে। তবে সেই সমঝোতায় কোনো দায় স্বীকার করা হয়নি। দ্যা সিটি রিপোর্টার তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে যে নথি সংগ্রহ করেছে, তাতে দেখা যায় গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৭০টি মামলায় নিউইয়র্ক সরকার ২৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। মামলাগুলোর অভিযোগের মধ্যে ছিল কারারক্ষীদের মারধর, নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা এবং এমন ঘটনা, যেখানে চিকিৎসা না পাওয়ায় বন্দীদের কারও কারও অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগই আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কোনো ক্ষেত্রেই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। গ্যালোওয়ের আইনজীবী ব্রায়ান ড্র্যাচ বলেন, "আমি রাজ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করি। সপ্তাহে দুইবারও করি।" প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি এই ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন। তার দাবি, এ ধরনের মামলার সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে। পাঁচ মাস চিকিৎসা না পেয়ে ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছান বন্দী দ্যা সিটি রিপোর্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে জর্ডান ওয়ার্নারের ঘটনাও। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি আপস্টেট কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে সাজা ভোগ করছিলেন। একসময় তার গলার পাশে মাংস ফুলে ওঠে, দ্রুত ওজন কমতে থাকে, দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয় এবং রাতে অতিরিক্ত ঘামে ভিজে যেতেন। ওয়ার্নার বলেন, "আমি প্রতিদিন ডাক্তার দেখাতে চাইতাম। পাঁচ মাস ধরে আবেদন করেছি। কারারক্ষীরা বলেছে আমি মিথ্যা বলছি।" তার অভিযোগ, ওষুধ বিতরণকারী নার্সরাও তার সেলের সামনে দিয়ে চলে যেতেন। একদিন করিডরে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অ্যালবেনি মেডিকেল সেন্টারে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফুসফুসের চারপাশে জমে থাকা তরল বের করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেন স্টেজ ফোর-বি হজকিন্স লিম্ফোমা, যা ক্যানসারের অত্যন্ত অগ্রসর পর্যায়। মায়ের জন্মদিনে ফোন করে তিনি প্রথম নিজের অসুস্থতার কথা জানান। তার ভাষায়, "মা ভেবেছিলেন আমি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেছি। আমি বললাম, আমার স্টেজ ফোর ক্যানসার। একজন আইনজীবী ধর, এখনই।" তার অভিযোগ, এরপরও কারা কর্তৃপক্ষ তিনবার কেমোথেরাপি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, "বেঁচে থাকার জন্য কে কেমোথেরাপি নিতে অস্বীকৃতি জানায়?" ২০২১ সালে করা মামলার চার বছর পর নিউইয়র্ক সরকার তাকে ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়। ওয়ার্নার বলেন, "আমি টাকার চেয়ে চেয়েছিলাম যারা দায়ী, তারা চাকরি হারাক।" ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া ওয়ার্নার বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি ছেলের প্রথম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন। অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি গুরুতর ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। গ্রিন হেভেন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে এক বন্দীকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেয়াল ও লোহার রডে বারবার মাথা ঠুকেছিলেন এক কারারক্ষী। পরে বডি ক্যামেরার ভিডিওতে প্রমাণ হয়, কর্মকর্তাদের লিখিত প্রতিবেদন সত্যের সঙ্গে মিলছিল না। ঘটনায় এক কর্মকর্তা ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করলেও মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করা আরেক কর্মকর্তা এখনও চাকরিতে রয়েছেন। ওই মামলায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেয় রাজ্য। ক্লিনটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে রিকো সান্তানা নামের এক বন্দীর চোয়াল দুটি পৃথক হামলায় দুইবার ভেঙে দেওয়া হয়। প্রথম হামলার পর অস্ত্রোপচার এক সপ্তাহ বিলম্বিত হয়। সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে সাধারণ কক্ষে ফেরত পাঠানো হলে আবার হামলার শিকার হন। এ মামলায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ২ লাখ ডলার। ওয়াশিংটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আরেক বন্দীর অণ্ডকোষে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলেও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে অস্ত্রোপচার করে অণ্ডকোষটি অপসারণ করতে হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ৯০ হাজার ডলার। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল রাজ্যের ৪৪টি কারাগারে নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি কারাগারে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলো এখনও নকশা বা নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। কারা প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ডিন উইলিয়ামস, যিনি কলোরাডো ও আলাস্কার কারাব্যবস্থা পরিচালনা করেছেন, দ্যা সিটি রিপোর্টারকে বলেন, একটি সুস্থ কারাব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়। তার ভাষায়, "একটা ঘটনা, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা। এটা স্বাভাবিক নয়। কিন্তু অকার্যকর ব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়।" নথি অনুযায়ী, এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে ছয় বছর সময় লাগে। এমন একটি মামলাও রয়েছে, যা নিষ্পত্তি হতে ১৫ বছর লেগেছে। অভিযোগ ছিল একজন বন্দীকে ১২ দিন অতিরিক্ত একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ৭৪৮ ডলার। বর্তমানে অ্যান্টোয়ান গ্যালোওয়ে ইস্ট ফ্ল্যাটবুশে বসবাস করেন। গৃহহীনদের আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করেন। নিজের এলাকায় শিশুদের জন্য উৎসবের আয়োজন করেন, খাবার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। তবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠলেই তিনি পায়ের গোড়ালির ব্যথা অনুভব করেন। গ্যালোওয়ে বলেন, "আমি কখনো সন্তুষ্ট হব না। আমি সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আর ওরা এখনও চাকরি করছে। আমি জানি, ওরা এখনও অনেকের সঙ্গে একই কাজ করছে। কয়েক হাজার ডলার দিয়ে এটা ঠিক হয় না।" তার কথায়, "আমি ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পেয়েছি। কিন্তু বিচার পাইনি। এই দুইয়ের পার্থক্য অনেক বড়।"
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের উইন্ডসর শহরের বার্টি–মার্টিন রিজিওনাল ডিটেনশন সেন্টারে কয়েদিদের দখলচেষ্টার পর কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে শুরু হওয়া এ ঘটনায় দুইজন কারারক্ষীকে জিম্মি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এসবিআই) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৫টার দিকে কারাগারে থাকা ৮৮ জন কয়েদি দায়িত্বরত তিনজন কারারক্ষীর ওপর হামলা চালিয়ে স্থাপনাটির একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় একজন কারারক্ষী নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অপর দুইজনকে জিম্মি করা হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এসবিআই), এফবিআই এবং একাধিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর প্রথমে জিম্মি দুই কারারক্ষীকে নিরাপদে মুক্ত করা হয়। পরে বিশেষায়িত বাহিনী কারাগারে প্রবেশ করে ধাপে ধাপে পুরো স্থাপনাটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের পর সব কয়েদি ও কারাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের সামান্য আঘাত লেগেছে, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি। বার্টি কাউন্টির শেরিফ টায়রন রাফিন জানান, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারাগারটির ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং কয়েদিদের অন্য নিরাপদ সংশোধনাগারে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কী কারণে কয়েদিরা এই দখলচেষ্টায় নামে এবং ঘটনার সময় কেন মাত্র তিনজন কারারক্ষী দায়িত্বে ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বার্টি–মার্টিন রিজিওনাল ডিটেনশন সেন্টার মূলত বার্টি ও মার্টিন কাউন্টির বন্দিদের জন্য পরিচালিত একটি আঞ্চলিক আটককেন্দ্র। সাম্প্রতিক এই ঘটনা কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনবল সংকট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আদালতের দেওয়া শর্ত ভঙ্গ করায় আবারও কারাগারে যেতে হলো বিতর্কিত সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন বাতিল করে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আপোষের শর্তে নোবেলকে অস্থায়ী জামিন দেওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল, তিনি অভিযোগকারীর পাওনা টাকা ফেরত দেবেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। কিন্তু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নোবেল সেই শর্তের তোয়াক্কা করেননি। ভুক্তভোগী নারীর অর্থ ফেরত না দেওয়া এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিয়ে না করায় বাদীপক্ষ জামিন বাতিলের আবেদন জানায়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আনাননিয়া শবনম রোজ নামে এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে নোবেলের বিরুদ্ধে। পিবিআই-এর তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, নোবেলের বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে ডেমরা থানায় মামলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। সেই সময় কারাগারে বাদীকে বিয়ে করার শর্তে মুক্তি পেলেও বারবার আইনি মারপ্যাঁচে জড়াচ্ছেন এই গায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।