আমেরিকা

কার্ড ছাড়াই বুথ থেকে অর্ধমিলিয়ন ডলার চুরি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ ভেনিজুয়েলান গ্রেপ্তার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১২:৭
কানেকটিকাটে এটিএম বুথে ‘জ্যাকপটিং’ জালিয়াতি; এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ | ছবি: গেটি ইমেজেস
কানেকটিকাটে এটিএম বুথে ‘জ্যাকপটিং’ জালিয়াতি; এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ | ছবি: গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এটিএম বুথে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাখ লাখ ডলার চুরির অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। 'জ্যাকপটিং' নামের একটি বিশেষ হ্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে ওই ব্যক্তিরা বুথ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অপরাধ চক্রটি কানেকটিকাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ২২০ মার্কিন ডলার চুরি করেছে বলে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

কানেকটিকাটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এবং নিউ হ্যাভেনের এফবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ইউক্লিডেস মোরেনো ইতানের, উইলিয়ান রিকার্ডো ফ্লোরেস, আলবার্তো জোসে ফ্রেইটস আরভিলা এবং লুইস জোসে ফ্রেইটস আরভিলা। তারা প্রত্যেকেই ভেনিজুয়েলার নাগরিক এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। চোরাই সম্পত্তি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পরিবহন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, 'জ্যাকপটিং' হলো এমন এক ধরনের অত্যাধুনিক চুরি যেখানে বিশেষ কোনো হার্ডওয়্যার বা ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করে এটিএম বুথের ভেতরের কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে ব্যাংকের কোনো কার্ড ছাড়াই বুথের ভেতরে থাকা সব টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইরে চলে আসে। গত বছরের আগস্ট মাসে এই চক্রটি কানেকটিকাটের মোট ৯টি এটিএম বুথ টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে আটটি বুথ থেকে তারা সফলভাবে টাকা তুলতে সক্ষম হয়। তবে একটি বুথে উন্নত নিরাপত্তা সফটওয়্যার থাকায় তাদের চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।

 

বুথগুলোর ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এই চুরির অভিনব কৌশল দেখতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ফুটেজে দেখা যায়, আলবার্তো নামের একজন প্রথমে এটিএম বুথ খুলে এর ভেতরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেন এবং কাজ শেষ করে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর অন্য তিনজন পালাক্রমে বুথের সামনে এসে পাহারায় থাকেন এবং টাকাগুলো বস্তাবন্দী করেন। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা কয়েক ঘণ্টা পর পর নিজেদের পোশাক পরিবর্তন করে একই বুথে বারবার আসছিলেন।

 

আমেরিকার বিচার বিভাগ ও এফবিআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এই 'জ্যাকপটিং' চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি এই ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরেই ৭০০টিরও বেশি ঘটনায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এটিএম বুথ থেকে হ্যাক করে চুরি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এই চার ব্যক্তির দোষ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণ অব্যাহত রাখতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণ অব্যাহত রাখতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে হোয়াইট হাউসে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম প্রকল্পের নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার অনুমতি চেয়েছে। নিম্ন আদালতের একটি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালীন এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল গত সপ্তাহে ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের তিন বিচারপতির প্যানেলের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলরুম প্রকল্পটিকে আইনি চ্যালেঞ্জকারী বাদীদের এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে আপিল আদালতের বিভক্ত প্যানেল রায় দেয় যে, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় ৯০ হাজার বর্গফুটের (৮ হাজার ৪০০ বর্গমিটার) এই বলরুম নির্মাণের কোনো আইনি অধিকার নেই।   গত শরতে ট্রাম্পের নির্দেশেই পুরোনো ইস্ট উইং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে নিম্ন আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ দিতে তাদের নিজস্ব রায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখে। সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার আগামী ২১ আগস্ট আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই এই স্থগিতাদেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্রুত রায় চেয়েছেন।   সাওয়ার তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এই মামলাটি এমন একটি অসাধারণ ও বেআইনি ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িত, যা হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে চলমান সামরিক কমপ্লেক্স এবং সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বলরুমের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেবে। অথচ এটি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিহার্য বলে তিনি দাবি করেন।   এর আগে গত এপ্রিলে এক জেলা আদালতের বিচারক এই পরিকল্পিত বলরুমের মাটির ওপরের অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিচারক স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে হোয়াইট হাউস ভূগর্ভস্থ কাজ, যেমন বাঙ্কার, সামরিক স্থাপনা এবং চিকিৎসা সুবিধা নির্মাণের কাজ বাধাহীনভাবে চালিয়ে যেতে পারবে।   ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট প্যানেল তাদের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে মাটির ওপরের নির্মাণকাজ স্থগিত করার ওই আদেশ বহাল রাখে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণবাদীদের পক্ষে অবস্থান নেয়, যারা মূলত বলরুম নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এই মামলাটি করেছিলেন। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই বিচারক মত প্রকাশ করেন যে, এত বিশাল একটি বলরুম নির্মাণ করা হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল কংগ্রেসের, এটি নির্বাহী বিভাগের নিজস্ব ইচ্ছার কোনো বিষয় নয়।   অন্যদিকে ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া তৃতীয় বিচারক নাওমি রাও ভিন্নমত পোষণ করে জানান, যে সংগঠনটি প্রকল্পটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তাদের মামলা করার কোনো আইনি অধিকারই নেই। তার মতে, সরকার যেখানে জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, সেখানে জেলা আদালত কেবল একজন পথচারীর নান্দনিক অসন্তোষকে বড় করে দেখছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, হোয়াইট হাউস সংস্কারের জন্য প্রেসিডেন্টেরই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগও দাবি করেছে, বর্তমানে প্রকল্পের স্থানটি উন্মুক্ত থাকায় হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১০ মাস ধরে নির্মাণাধীন এই বলরুমের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে বাদীরা অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজের গতি বাড়িয়ে মূলত আদালতকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৫:৩৮
লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে ওয়ালমার্টের টমেটো সুপ প্রত্যাহার

লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে ওয়ালমার্টের টমেটো সুপ প্রত্যাহার

ক্যালিফোর্নিয়ায় যানজট ছাড়াই মাত্র তিন ঘণ্টার ট্রেনযাত্রা, চোখজুড়ানো প্রকৃতির হাতছানি

ক্যালিফোর্নিয়ায় মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রকৃতি, ইতিহাস ও শহরের সৌন্দর্য উপভোগের অনন্য ট্রেনরুট

লাতিন আমেরিকায় মাদকচক্র দমনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

লাতিন আমেরিকায় মাদকচক্র দমনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র আবাসন সংকটের কারণে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ গিলে খাচ্ছে। আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান জিলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে দুই বেডরুমের একটি বাসার গড় ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৭৫০ ডলার, যা বছরে দাঁড়ায় ৫৭ হাজার ডলারে।   ২০২৩ সালের মার্কিন শুমারি ব্যুরোর তথ্যমতে, এটি ওই শহরের পরিবারগুলোর গড় আয়ের দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি। শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বাসস্থানের পেছনে। জিলোর দেওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে গড় বার্ষিক বাড়িভাড়া ২১ হাজার ৪৮০ ডলার।   জিলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক ভাড়াটেই 'কস্ট-বার্ডেনড' বা আবাসন ব্যয়ভারের চাপে পিষ্ট, যার অর্থ হলো তাদের আয়ের ৩০ শতাংশেরও বেশি কেবল আবাসন খাতেই ব্যয় হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ।   জিলো ও স্ট্রিটইজি-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কেনি লি জানান, যদিও ভাড়া বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে, তবুও আয়ের তুলনায় ভাড়ার পরিমাণ এখনো অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। করোনা মহামারির পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ ভাড়াটে এই অতিরিক্ত খরচের চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।   হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে ৩০ হাজার ডলারের কম আয় করা প্রতি ১০ জন ভাড়াটের মধ্যে ৮ জনেরও বেশি মানুষ ২০২৪ সালে মারাত্মক ব্যয়ভারের চাপে ছিলেন।   বাড়িভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো তীব্র আবাসন সংকট। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে বর্তমানে মার্কিন আবাসন বাজারে ৪৭ লাখ বাড়ির বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ বাড়ি কেনার বদলে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা আবাসন সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলছে।   অর্থনীতিবিদ লি জানান, উন্নয়নের জন্য জমি থাকা সত্ত্বেও জোনিং বা আঞ্চলিক বিধিনিষেধ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নির্মাণকাজ থমকে আছে। উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ভাড়ার বাজারগুলোতে তাই আবাসন প্রকল্পগুলো আটকে রয়েছে। এই বাধাগুলো পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ কোনোভাবেই চাহিদার সমকক্ষ হতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি দ্বিদলীয় বিল আইনে পরিণত হয়েছে। হোয়াইট হাউস এটিকে দেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসন আইন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই আইনটি আবাসন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এটি বাড়িভাড়ার আকাশচুম্বী মূল্যের লাগাম টেনে ধরতে পারবে না।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৩:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘লালা’, হারিকেনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘লালা’, হারিকেনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় সপ্তাহ পর কমল মর্টগেজ রেট মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট, আবাসন বাজারে কবে ফিরবে স্বস্তি?

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় সপ্তাহ পর কমল মর্টগেজ রেট মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট, আবাসন বাজারে কবে ফিরবে স্বস্তি?

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা, ১১৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!
গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি এবং নিয়মিত আয় থাকলেও পছন্দের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে গিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী সমস্যায় পড়তে পারেন। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকা বা দুর্বল ক্রেডিট। তবে শুধু গ্রিন কার্ড থাকা বা না থাকার সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বাড়িওয়ালা বা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সাধারণত আবেদনকারীর আয়, ক্রেডিট রিপোর্ট, আগের রেন্টাল হিস্ট্রি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।   যুক্তরাষ্ট্রে বহুল ব্যবহৃত ফিকো স্কোর সাধারণত ৩০০ থেকে ৮৫০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফিকোর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ৬৭০ থেকে ৭৩৯ স্কোরকে ‘গুড’, ৭৪০ থেকে ৭৯৯ ‘ভেরি গুড’ এবং ৮০০ বা তার বেশি স্কোরকে ‘এক্সেপশনাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়ার জন্য সারা দেশে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট ক্রেডিট স্কোর নেই। বাড়িওয়ালা, প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, এলাকার রেন্টাল মার্কেট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর প্রয়োজনীয় স্কোর নির্ভর করে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোরের পাশাপাশি ক্রেডিট রিপোর্টে বিল পরিশোধের ইতিহাস, ঋণের পরিমাণ, কালেকশন অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য আর্থিক তথ্যও দেখে।   এ কারণে ‘ক্রেডিট স্কোর জিরো’ কথাটিও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা বা আগে কোনো ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা ব্যক্তির পর্যাপ্ত ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে অনেক সময় তার স্কোর তৈরি করার মতো তথ্যই থাকে না। অর্থাৎ তার স্কোর শূন্য হওয়ার বদলে কোনো স্কোর নাও থাকতে পারে। একে সাধারণভাবে ‘ক্রেডিট ইনভিজিবল’ বা সীমিত ক্রেডিট হিস্ট্রি বলা হয়।   কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি গড়ে উঠলে হাউজিং, ক্রেডিট কার্ড ও বিভিন্ন ধরনের লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। নিয়মিত ও সময়মতো পেমেন্ট করা একটি শক্তিশালী ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   নতুন অভিবাসীদের একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, ফোন বিল বা নিয়মিত রেন্ট দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব পেমেন্ট ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হয়। বাস্তবে সব ফোন, ইউটিলিটি বা রেন্ট পেমেন্ট নিয়মিতভাবে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করা হয় না। তবে নির্দিষ্ট রেন্ট রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো দেওয়া ভাড়ার তথ্য ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হলে তা ক্রেডিট তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।   ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে একটি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করা একটি প্রচলিত উপায়। এ ধরনের কার্ডে সাধারণত আগে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়। এরপর কার্ডটি ব্যবহার করে প্রতি মাসে সময়মতো বিল পরিশোধ করলে সেই পেমেন্ট হিস্ট্রি ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরি হতে পারে।   শুধু ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই অবশ্য ভালো স্কোর নিশ্চিত হয় না। সময়মতো পেমেন্ট করা, ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অল্প সময়ে অনেক নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন না করাও গুরুত্বপূর্ণ।   ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলেও অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া অসম্ভব নয়। কোনো কোনো বাড়িওয়ালা স্থায়ী চাকরি ও পর্যাপ্ত আয়ের প্রমাণ, আগের বাড়িওয়ালার রেফারেন্স অথবা গ্যারান্টর বিবেচনা করতে পারেন। আবার অনেক প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিজস্ব টেন্যান্ট স্ক্রিনিং নীতি থাকে।   চাকরির ক্ষেত্রেও ক্রেডিট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কিছু নিয়োগকর্তা আইনসঙ্গতভাবে এবং আবেদনকারীর লিখিত অনুমতি নিয়ে ক্রেডিট রিপোর্টসহ ব্যাকগ্রাউন্ড রিপোর্ট দেখতে পারেন। তবে তারা সাধারণত চাকরির আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর দেখতে পান না। রাজ্য ও স্থানীয় আইন অনুযায়ী এ ধরনের যাচাইয়ের ওপর আরও বিধিনিষেধ থাকতে পারে।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ হলেও সেটি ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রির বিকল্প নয়। নতুন অভিবাসীদের জন্য শুরু থেকেই নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট সম্পর্কে জানা, সময়মতো পেমেন্ট করা এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট তৈরি করা ভবিষ্যতে অ্যাপার্টমেন্ট, মর্টগেজ, গাড়ির লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১১:৫৪
৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা

তিনবার এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ, ৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা

চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান

চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান, পরে জানলেন বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী

অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি

অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, এবার সেখানেই ওষুধ তৈরির গবেষণাগারে তিনি

0 Comments