জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দাবদাহ
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চলে যে তীব্র গরম ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা অনুভূত হয়েছে, তা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া প্রায় অসম্ভব ছিল বলে নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের তাপপ্রবাহে শুধু তাপমাত্রাই নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। এই দুইয়ের সমন্বয়ে মানুষের শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
গবেষণাটি আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণ তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং অতীতের জলবায়ু উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব না থাকলে এ ধরনের তাপ ও আর্দ্রতার সমন্বয়ে এত তীব্র পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম ছিল।
এদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাফেরা এড়িয়ে চলা এবং তীব্র গরমের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে। এতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে বান্ধবীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর সাততলা একটি আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩৩ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফার রকওয়ের নিলসন স্ট্রিট ও ডিনসমোর অ্যাভিনিউ এলাকার ভবনটিতে পুলিশ পৌঁছালে তাকে ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ তাকে নিচে নামানোর চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পুলিশ সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, ছাদে থাকা অবস্থায় ওই যুবকের শরীরে রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে তিনি সাততলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাউন্ট সিনাই সাউথ নাসাউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পড়ে যাওয়ার আঘাতের পাশাপাশি তার কবজি, গোড়ালি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা জখম ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর পুলিশ ভবনের ভেতরের ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে ৩১ বছর বয়সী ফিওনা প্রেমরাজকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশ জানিয়েছে, তার মুখ, ঘাড়, বুক ও পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ঘটনার সময় ওই নারী ও অভিযুক্ত একই অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। স্থানীয় এক প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৬৪ বছর বয়সী ওই প্রতিবেশী বলেন, তারা ভবনে ওঠার প্রথম দিকে ভালোই ছিলেন। তবে প্রায় তিন বছর আগে থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে ওই যুবক প্রেমরাজকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন বলেও প্রতিবেশী দাবি করেন। পুলিশও জানিয়েছে, গত তিন বছরে ওই দম্পতির মধ্যে ‘পারিবারিক বিরোধের’ খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে একাধিকবার ফোন পেয়েছিল তারা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় সর্বশেষ তিন বছরে প্রায় ছয়বার কর্মকর্তারা ওই বাসায় গিয়েছিলেন। তবে এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রতিবেশী আরও জানান, গত এক বছরে তাদের ঝগড়া আরও বেড়েছিল। তবে বুধবার ঘটনার দিন তিনি কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ঝগড়া শুনতে পাননি। তার ভাষ্য, অভিযুক্ত যুবককে সাধারণত ভদ্র বলেই মনে হতো এবং তিনি প্রতিবেশীদের জন্য প্রায়ই লিফটের দরজা ধরে রাখতেন। ফিওনা প্রেমরাজের বাবা এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে চাননি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। হাসপাতালে তার অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর ভবনটির আশপাশে পুলিশ তদন্ত চালায়। কেন এই ঘটনা ঘটল এবং হামলার আগে ওই দম্পতির মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের তথ্য সামনে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ ভবনটিতে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণ পরই ছাদ থেকে পড়ে যান ওই যুবক। একই ভবনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে প্রেমরাজের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
এআই চ্যাটবটের আসক্তিতে ১৩ বছরের কিশোরীর মৃত্যু, আত্মহত্যার পেছনে চ্যাটবটকে দায়ী করলেন মা
কুইন্সে গড়ে উঠছে নিউইয়র্কের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম, আসন থাকবে ২৫ হাজার
টেক্সাস ক্যাপিটলে বন্দুক হামলার ছক, ৭৫ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তি অভিযুক্ত
দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ঘটেছে এক রোমহর্ষক ঘটনা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ (FZ1073) যখন ৩০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উড়ছিল, তখন ককপিটের ভেতরেই পাইলটদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সহকারী পাইলটের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হলে বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের জরুরি সংকেত পাঠানো হলে চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এটি কোনো সাধারণ ছিনতাই ছিল না, বরং ককপিটের ভেতরেই ঘটেছিল এই ভয়াবহ তাণ্ডব। বিমানটিতে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই বিমানটির গতিপথে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্যমতে, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়, যার মধ্যে ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে এটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এমন ভয়াবহ পতনে যাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে বিমান থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ এবং পরে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত ‘৭৫০০’ পাঠানো হয়। এতে প্রাথমিকভাবে বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করা হলেও ভেতরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, বিমানের ওমানি সহকারী পাইলট হঠাৎ করেই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন সাহসিকতার সঙ্গে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন সাহসী যাত্রী ও ক্রু সদস্য দ্রুত ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। সৌভাগ্যবশত, ওই ফ্লাইটে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও কয়েকজন পাইলট যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান। পরে আহত দুই পাইলটকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে তেল আবিবে পৌঁছে দেওয়া হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে একে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি বা সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করলেও ফ্লাইদুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ইতোমধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সহকারী পাইলটের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, ককপিটে ধারালো অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাল এবং এর পেছনে বৃহত্তর কোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের রক্ষা পাওয়ার বিষয়টিই সবার সামনে স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতা নিয়ে বিস্মিত ট্রাম্প, বললেন ‘কাজটা তো খুবই সহজ হওয়ার কথা ছিল’
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭ বছরের শিশুকে যৌ ন নির্যাতন, আমৃ ত্যু কারাদণ্ডের মুখে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাবেক পাইলট
নিউইয়র্কে ৬৫ বছর পর্যন্ত চাকরিতে থাকতে পারবেন পুলিশ কর্মকর্তারা, নতুন বিলে গভর্নরের স্বাক্ষর
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালকদের ধরতে পরিচালিত ছয় দিনের এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ২০ হাজার মামলা দিয়েছে। 'ফল সেফ স্পিড' (Fall Safe Speed) নামের এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত উদ্যোগটি গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) পর্যন্ত পরিচালিত হয়। পুলিশের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ড্রাইভিং, গাড়ি চালানোর সময় অন্যমনস্ক থাকা এবং নিউইয়র্কের 'মুভ ওভার ল' (Move Over Law) বা রাস্তা ছাড়ার নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, এই ছয় দিনের অভিযানে রাজ্যজুড়ে ট্রুপাররা মোট ১৯,১৬৮টি টিকিট বা মামলা দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে অতিরিক্ত গতির কারণে, যার সংখ্যা ৯,৩৪৪টি। স্পিডিং বা অতিরিক্ত গতির পাশাপাশি সিটবেল্ট না বাঁধার জন্য ৬০৩টি, মুভ ওভার ল অমান্য করার কারণে ৪৯২টি এবং ড্রাইভিংয়ের সময় অন্যমনস্ক (ডিস্ট্রাক্টেড ড্রাইভিং) থাকার জন্য ৪১৫টি টিকিট দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের 'মুভ ওভার ল' অনুযায়ী রাস্তার পাশে জরুরি বা অনুমোদিত কোনো গাড়ি দাঁড়ানো থাকলে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চালকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে লেন পরিবর্তন করতে হয় অথবা গাড়ির গতি কমিয়ে আনতে হয়। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের অভিযানে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের (২০২৫) ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এ ধরনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে মোট ১২,০৪০টি টিকিট দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে গতির মামলা ছিল ৩,৮২৬টি এবং মুভ ওভার ল ভঙ্গের ঘটনা ছিল ১৬৬টি। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবারের ছয় দিনের অভিযানে সাত হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মামলা হয়েছে। স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, শরৎকালে মানুষের কাজের তাগিদে ভ্রমণ, স্কুল ও সপ্তাহান্তের ঘোরাঘুরি বেড়ে যায়; তাই চালকদের গতি কমানো, মনোযোগ ধরে রাখা এবং নিরাপদে গাড়ি চালানোর বিষয়ে সচেতন করতেই মূলত এই কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল থেকে আটলান্টা - তিন দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবায় ডা. আমাতু রাব্বি
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পৃথিবীতে রেখে মহাকাশে পাড়ি, সন্তানের জন্মের মুহূর্তে কাছে থাকবেন না বাবা