জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দাবদাহ
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চলে যে তীব্র গরম ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা অনুভূত হয়েছে, তা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া প্রায় অসম্ভব ছিল বলে নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের তাপপ্রবাহে শুধু তাপমাত্রাই নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। এই দুইয়ের সমন্বয়ে মানুষের শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
গবেষণাটি আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণ তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং অতীতের জলবায়ু উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব না থাকলে এ ধরনের তাপ ও আর্দ্রতার সমন্বয়ে এত তীব্র পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম ছিল।
এদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাফেরা এড়িয়ে চলা এবং তীব্র গরমের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে। এতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে একটি রেস্তোরাঁয় কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৪ বছর বয়সী সাবেক মার্কিন মেরিন ও অবসরপ্রাপ্ত ফায়ারফাইটার জো বেলজিও। পরে তার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেন না পৌঁছানোয় স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় শিকাগো এলাকার গিবসনস বার অ্যান্ড স্টেকহাউসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ অবশ্য খাবারের কারণে বেলজিও অসুস্থ হয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বাগদত্তা মেলানি স্টেয়ার ও মেয়েকে নিয়ে ইলিনয়ের ওক ব্রুকের গিবসনস বার অ্যান্ড স্টেকহাউসে খেতে গিয়েছিলেন বেলজিও। সেখানে তিনি কাঁচা ঝিনুক খান। এর কিছুদিনের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বেলজিওর আইনজীবীদের দাবি, ঝিনুক খাওয়ার পর তার শরীরে একাধিক ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণ ধরা পড়ে। মামলায় বলা হয়েছে, চিকিৎসকেরা মনে করছেন ওই ঝিনুক থেকেই তার অসুস্থতার কারণ হওয়া জীবাণুগুলো শরীরে প্রবেশ করেছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় গত বছরের ৩ জুলাই। ওই দিন বেলজিওর হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। তার আইনজীবী স্কট ও'সালিভানের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তাকে পুনরুজ্জীবিত করার আগে প্রায় আট মিনিট তার মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছায়নি। এর ফলে বেলজিও অ্যানক্সিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। অর্থাৎ অক্সিজেনের ঘাটতিতে তার মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হয়। এরপর কয়েক মাস তিনি কোমায় ছিলেন। বর্তমানে তার জ্ঞানীয় ও শারীরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সার্বক্ষণিক পরিচর্যার প্রয়োজন হচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বেলজিও সাবেক মার্কিন মেরিন এবং অবসরপ্রাপ্ত ফায়ারফাইটার। তিনি ইরাকেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘদিন অন্য মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করা এই ব্যক্তির জীবন এখন অন্যের সার্বক্ষণিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তবে গিবসনস রেস্টুরেন্ট গ্রুপ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বেলজিওর শারীরিক অবস্থার জন্য তাদের রেস্তোরাঁ দায়ী এমন কোনো প্রমাণ তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। একই সময়ে রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকেও একই ধরনের অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বলেছে, বেলজিওর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তারা তার সুস্থতা কামনা করে। একই সঙ্গে তারা খাদ্য নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং আদালতের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে বিশ্বাস করে। মামলায় রেস্তোরাঁর পাশাপাশি সামুদ্রিক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম লবস্টার অ্যান্ড সিফুড কোম্পানিকেও বিবাদী করা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার ক্ষেত্রে খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুকে বিভিন্ন ধরনের ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। শুধু দেখে, গন্ধ নিয়ে বা স্বাদ পরীক্ষা করে ঝিনুক জীবাণুমুক্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কাঁচা ঝিনুক থেকে হওয়া সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিতে পারে। এফডিএ তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কাঁচা ঝিনুক এড়িয়ে সম্পূর্ণ রান্না করা সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়। বেলজিও বর্তমানে শিকাগোর শার্লি রায়ান অ্যাবিলিটিল্যাবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিচ্ছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যয় সামলাতে পরিবার ও পরিচিতজনেরা আর্থিক সহায়তাও সংগ্রহ করছেন। এখন আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে বেলজিওর অসুস্থতার সঙ্গে রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা ঝিনুকের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না এবং এ ঘটনায় রেস্তোরাঁ বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো আইনি দায় রয়েছে কি না।
হারানো হাইকারকে খুঁজতে চলল রাতভর অভিযান, অচেনা নম্বর ভেবে ধরেননি রেসকিউ টিমের ফোন
বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৪০ হাজার চাকরি
ইন্ডিয়ানায় রেকর্ড ভাঙা বন্যা, চার বছরের শিশুসহ মৃত্যু বেড়ে ৭
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের কর্মস্থল থেকে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ডলার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর হঠাৎ কাজে যাওয়া বন্ধ করে দেন এক কর্মী। কোম্পানি তার খোঁজ শুরু করলে তিনি কোমায় আছেন বলে জানানো হয়। কিন্তু পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, কোমায় থাকার পুরো ঘটনাটিই ছিল সাজানো। এ ঘটনায় ওয়েস্ট পাম বিচের বাসিন্দা বাহা আবুঘালিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রিভিয়েরা বিচ পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস১২ জানিয়েছে, আবুঘালিয়া একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টস পেয়েবল বিভাগে কর্মরত ছিলেন। কোম্পানির আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানির বিভিন্ন ভেন্ডরের নামে ইস্যু করা পেমেন্ট নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতেন আবুঘালিয়া। তদন্তে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৮৮ ডলার ৯১ সেন্ট আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সামনে আসে যখন আবুঘালিয়া হঠাৎ কর্মস্থলে আসা বন্ধ করে দেন। কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা ছাড়াই তার অনুপস্থিতি নিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তাদের সন্দেহ তৈরি হয় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন তারা। এরপরই গল্পে আসে অপ্রত্যাশিত মোড়। কোম্পানিকে জানানো হয়, আবুঘালিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং কোমায় রয়েছেন। কিন্তু তদন্তকারীরা বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে ওই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। পুলিশের অভিযোগ, কোমায় থাকার তথ্যটি আসলে কোম্পানির অনুসন্ধান থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য ব্যবহার করেছিলেন আবুঘালিয়া। একই সময়ে কোম্পানির আর্থিক হিসাবপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। এরপর অর্থ কোথায় গেছে তা অনুসরণ করতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সেই অনুসন্ধানেই বিপুল পরিমাণ অর্থ আবুঘালিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, কর্মস্থলের আর্থিক ব্যবস্থায় নিজের দায়িত্ব ও প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই এসব লেনদেন করা হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত শেষে আবুঘালিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ চুরিসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পাশাপাশি তদন্ত এড়াতে কথিত ‘কোমা’র গল্প সাজানোর কারণে। কর্মস্থল থেকে হঠাৎ উধাও হওয়ার পর কোম্পানি যখন তার অবস্থান জানতে চাইছিল, ঠিক তখনই গুরুতর অসুস্থতার তথ্য সামনে আনা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। এখন আদালতে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ডলার আত্মসাৎ এবং তা আড়াল করতে অসুস্থতার নাটক সাজানোর অভিযোগের পক্ষে প্রসিকিউশন কতটা প্রমাণ হাজির করতে পারে।
হরমুজে বাধা দিলে ওমানে ভয়াবহ বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের
বাক্সের ভেতরে ছিল চার বছরের শিশুর মরদেহ, নাম জানতেই পুলিশের লাগল ৬৫ বছর
প্রাথমিকের ইংরেজি পরীক্ষায় আসছে স্পিকিং টেস্ট, প্রত্যেক শিক্ষার্থী পাবে ইউনিক আইডি
যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার ও ফেডারেল ঠিকাদারি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য ভার্জিনিয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি চাকরির বাজার। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি উত্তর ভার্জিনিয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ফেডারেল ঠিকাদার, তথ্যকেন্দ্র ও সরকারি প্রকল্পের উপস্থিতি এই অঞ্চলের কর্মসংস্থানের বাজারকে আরও শক্তিশালী করেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে ভার্জিনিয়ায় বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে রাজ্যে মোট কৃষি খাতের বাইরের চাকরি ছিল প্রায় ৪২ লাখ ৪৪ হাজার। তবে সামগ্রিক বেকারত্বের হার কম হওয়াকে সরাসরি যেকোনো চাকরি সহজে পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট পেশায় সুযোগ নির্ভর করে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার চাহিদার ওপর। প্রযুক্তিখাতে ভার্জিনিয়ার অবস্থান বিশেষভাবে শক্তিশালী। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পেশাভিত্তিক সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে কম্পিউটার ও গণিতভিত্তিক পেশায় প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ মানুষ কাজ করছিলেন। এসব পেশায় গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৬১০ ডলার। তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ ডলার। সফটওয়্যার উন্নয়ন, মেঘভিত্তিক কম্পিউটিং, নেটওয়ার্কিং, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা প্রকৌশল ও তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় এই প্রযুক্তি অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে উত্তর ভার্জিনিয়ার সঙ্গে ফেডারেল সরকারের ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে ফেডারেল ঠিকাদারদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। তবে এসব চাকরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা ছাড়পত্র। প্রতিরক্ষা ও কিছু সরকারি প্রকল্পের চাকরিতে নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রয়োজন হতে পারে এবং নির্দিষ্ট পদে মার্কিন নাগরিকত্বও বাধ্যতামূলক হতে পারে। তাই শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা থাকলেই সব ধরনের ফেডারেল ঠিকাদারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি তথ্যকেন্দ্র শিল্পও ভার্জিনিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উত্তর ভার্জিনিয়ার লাউডন ও আশপাশের এলাকায় বড় তথ্যকেন্দ্র অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এর সঙ্গে মেঘভিত্তিক অবকাঠামো, নেটওয়ার্কিং, বৈদ্যুতিক প্রকৌশল, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার মতো ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আর্লিংটনের ন্যাশনাল ল্যান্ডিং এলাকায় অ্যামাজনের প্রধান কার্যালয়-২-ও এই অঞ্চলের প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে উত্তর ভার্জিনিয়া প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য শুধু চাকরির বাজার নয়, বড় একটি প্রযুক্তি পরিবেশ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। তবে চাকরির সুযোগের সঙ্গে বসবাসের খরচও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ভার্জিনিয়া আবাসন ব্যবসায়ী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে পুরো ভার্জিনিয়া রাজ্যে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। উত্তর ভার্জিনিয়ার অনেক এলাকায় বাড়ি ও ভাড়ার খরচ রাজ্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশিদের কাছেও ভার্জিনিয়া ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে শুধু চাকরি ও পেশাগত সুযোগের কারণে নয়, শক্তিশালী সম্প্রদায়ের উপস্থিতির কারণেও। উত্তর ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা, নর্দার্ন ভার্জিনিয়া বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন বাংলা সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পহেলা বৈশাখ, ঈদ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাংলা ভাষা ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানসহ নানা আয়োজনও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করছে। আগামী ২৩ আগস্ট ভার্জিনিয়ায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজনের খবরও প্রকাশ হয়েছে, যেখানে খাবারের পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নতুন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পেশাগত জীবনের পাশাপাশি নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ অনেক পরিবারের বসবাসের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। ভার্জিনিয়ার বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে ভার্জিনিয়ায় বসবাস করলেই চাকরি নিশ্চিত হবে এমন নয়। একইভাবে কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যে বসবাসের কারণে অভিবাসনের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো সুবিধাও তৈরি হয় না। চাকরির সুযোগ নির্ভর করে প্রার্থীর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির ধরন এবং অভিবাসন সুবিধা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম ও যোগ্যতার ওপর। সব মিলিয়ে, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি পেশায় শক্তিশালী কর্মসংস্থান বাজার, ফেডারেল ঠিকাদারির বড় উপস্থিতি, তথ্যকেন্দ্র শিল্প এবং ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থান ভার্জিনিয়াকে পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আর এর সঙ্গে সক্রিয় বাংলাদেশি সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশি পেশাজীবী ও পরিবারগুলোর কাছেও রাজ্যটি ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
হিউস্টনের গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ
নিউ ইয়র্কে থাকেন, ড্রাইভার লাইসেন্স আছে? রিনিউয়ের আগে যা জানা জরুরি