আমেরিকা

অরল্যান্ডো বাসস্টপে বৃদ্ধাকে গুলি: নিউইয়র্কে ধরা পড়া অভিযুক্ত আদালতে নির্দোষ দাবি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ৮:৩৫
সংগৃহীত
সংগৃহীত

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো শহরের একটি বাসস্টপে ৭০ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ২৭ বছর বয়সী কেভিন আর্জেনিস মিলারেস আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং এর পরবর্তী শুনানির প্রস্তুতি চলছে। 

 

তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন অরল্যান্ডোর আজালিয়া পার্ক এলাকায় প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হওয়া ওই বৃদ্ধা একটি বাসস্টপের কাছে পৌঁছালে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার পেছন থেকে পরপর তিনটি গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। ভুক্তভোগী পুলিশকে জানান, তিনি হামলাকারীকে চিনতেন না এবং কেন তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই।

 

ঘটনার পর আশপাশের বাড়ির নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা কেভিন মিলারেসকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। পুলিশ তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলির খোসার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন গোলাবারুদ এবং সন্দেহভাজনের পরিহিত পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করে বলে জানায়। 

 

এরপর অভিযুক্ত ফ্লোরিডা ছেড়ে নিউইয়র্কে পালিয়ে যান। পরে U.S. Marshals Service তাকে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

 

প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছে। তবে আদালতে হাজির হয়ে মিলারেস অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় আদালত দোষী সাব্যস্ত না করা পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সন্তানদের সাথে থাকার পরও নিউইয়র্কে কিছু প্রবীণ বাংলাদেশি বাবা-মার একাকী ও বিষণ্ণ জীবন কাটানোর বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বৃদ্ধ বাবা-মাকে দিনে ঘরে থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ, পার্কে মানুষের কাছে চান খাবারের টাকা

সন্তানের কাছে ভালো থাকবেন, শেষ বয়সটা কাটবে নিশ্চিন্তে - এমন আশা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু নিউইয়র্কে তাদের কারও কারও জীবনের বাস্তবতা নাকি একেবারেই ভিন্ন। সন্তানদের কাছে থাকার পরও দিনের বেলা ঘরের বাইরে কাটানো, পার্কে বসে কান্না করা, এমনকি পরিচিত মানুষের কাছে চা-খাবারের জন্য এক থেকে দশ ডলার চাওয়ার মতো ঘটনা দেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি লাকি খানম।   নিউইয়র্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাকি খানম বলেন, রাস্তাঘাট ও পার্কে চলাফেরার সময় এমন একাধিক বয়স্ক বাংলাদেশির সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন।   লাকি খানম বলেন, “আমাদের কাছেই হাত পাতে। বলে, দশটা টাকা দেবেন, চা খাব। একটা টাকা দেবেন - এমন কথাও শুনতে পাই।”   তার দাবি, এসব বৃদ্ধের অনেককেই ছেলে-মেয়েরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন। তাদের দেখাশোনার জন্য হোম কেয়ার সুবিধাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা সেই সুবিধার সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।   নিজের দেখা একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লাকি খানম। নিউইয়র্কের একটি পার্কের পাশে এক বৃদ্ধের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বসে কথা বলেছিলেন তিনি।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই ব্যক্তি শিক্ষিত ও ভালো অবস্থানে ছিলেন। মেয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কেঁদেছিলেন।   আরেকটি ঘটনার বর্ণনায় লাকি খানম দাবি করেন, এক বৃদ্ধ তাকে জানিয়েছেন, মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় খাওয়াদাওয়া করার পর চলে যান। পরে তাকেই থালা-বাসন পরিষ্কার করতে হয়।   তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বৃদ্ধ বা তাদের পরিবারের বক্তব্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে নিউইয়র্কের সব বাংলাদেশি পরিবারের চিত্র হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই।   লাকি খানম বিশেষভাবে পরিষ্কার করেছেন, তার অভিযোগ হোম কেয়ার ব্যবস্থা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে নয়।   তিনি বলেন, হোম কেয়ার কর্মীরা পরিশ্রম করেন এবং বয়স্কদের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তার অভিযোগ সেইসব সন্তানের বিরুদ্ধে, যারা বাবা-মায়ের জন্য পাওয়া সুবিধা ব্যবহার করলেও তাদের যথাযথ যত্ন নেন না।   লাকি খানম বলেন, “এজেন্সিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না। অভিযোগ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে। টাকা দিচ্ছে, কিন্তু এরা পায় না।”   নিউইয়র্কের আইনে বিষয়টি গুরুতর। বয়স্ক ব্যক্তির অর্থ বা সম্পদ অন্য কেউ অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করা কিংবা তাকে নিজের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করাও আর্থিক শোষণের আওতায় পড়তে পারে। একইভাবে খাবার, আশ্রয় বা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত করা অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যও দেখাচ্ছে, বয়স্কদের নির্যাতন ও অবহেলা নিউইয়র্কে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিংয়ের হিসাবে, রাজ্যটিতে প্রতিবছর আনুমানিক তিন লাখ ষাটোর্ধ্ব মানুষ কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে আর্থিক শোষণ এবং পরিচর্যাকারীর অবহেলাও রয়েছে।   লাকি খানম নিজেও আগে হোম কেয়ারে কাজ করেছেন। তার বক্তব্য, সন্তানদের কর্মব্যস্ততা বাস্তব সমস্যা। কিন্তু বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং সম্মানের সঙ্গে রাখার সামর্থ্য আছে কি না - সেটিও ভাবা প্রয়োজন।   এ কারণেই বাংলাদেশে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উদ্দেশে কঠিন একটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি - শুধু আমেরিকায় আসার সুযোগ আছে বলেই চলে আসবেন না, আগে ভাবুন এখানে এসে জীবনটা কেমন হবে।   তার মতে, বাংলাদেশে হয়তো অর্থনৈতিক সুযোগ কম, কিন্তু পরিচিত পরিবেশে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে দিনের বড় অংশ একাকী কাটাতে হলে শেষ বয়সে সেই প্রবাসজীবন অনেকের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   তবে কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে অবহেলা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় খাবার-আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না কিংবা আর্থিকভাবে শোষণ করা হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে নিউইয়র্ক সিটির অ্যাডাল্ট প্রোটেকটিভ সার্ভিসেসে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংস্থাটি নির্যাতন, অবহেলা ও আর্থিক শোষণের ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।   শেষ পর্যন্ত লাকি খানমের সাক্ষাৎকার নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে -   বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে আসাই কি সন্তানের দায়িত্বের শেষ কথা? নাকি শেষ বয়সে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ, একটু সময় এবং সম্মানের জীবন নিশ্চিত করাটাই আসল দায়িত্ব?   এই নিউজটি একজন অনলাইনভিত্তিক ব্লগারের সাক্ষাৎকারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আমেরিকা বাংলা সরাসরি এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ পায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য বা আপডেট পাওয়া গেলে তা পাঠকদের জানানো হবে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১১:২৯
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারির দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক খরচে সাশ্রয় আনতে ক্যাশব্যাক অ্যাপের ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

বাজার খরচ কমান এই ৪ অ্যাপে, ওয়ালমার্টে মিলতে পারে ক্যাশব্যাক

রেস্তোরাঁয় কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া সাবেক মার্কিন মেরিন জো বেলজিও। ছবি: সংগৃহীত

রেস্তোরাঁয় ঝিনুক খেয়ে গুরুতর অসুস্থ সাবেক মার্কিন মেরিন, মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি

কলোরাডোর পাহাড়ে পথ হারিয়েও অচেনা নম্বর মনে করে উদ্ধারকারীদের ফোনকল ধরেননি এক হাইকার। ছবি: সংগৃহীত

হারানো হাইকারকে খুঁজতে চলল রাতভর অভিযান, অচেনা নম্বর ভেবে ধরেননি রেসকিউ টিমের ফোন

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা খাত ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৪০ হাজার চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকায় ২০২৬ সালের শরৎ সেমিস্টারে দেশটির অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংগঠন নাফসা।   নাফসা এবং জেবি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শরতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কমে যেতে পারে। এই হ্রাসের সরাসরি প্রভাব পড়বে টিউশন ফি, বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থানীয় ব্যবসায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের ওপর।   নাফসার হিসাবে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণে অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান ৩.৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। এর সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার চাকরি হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবদান থেকে সমর্থিত চাকরির সংখ্যা প্রায় ৯ শতাংশ কমে যেতে পারে।   ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ ৭৮ হাজার। তারা দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৪২.৯ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছিলেন এবং ৩ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি চাকরিকে সমর্থন করেছিলেন।   নাফসার মধ্যম পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে প্রায় ১১ লাখ ৫ হাজারে নেমে আসতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এই সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ৫৭ হাজারে নামার আশঙ্কা রয়েছে।   সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে। নাফসা বলছে, আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির বড় কারণ। কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডক্টরাল প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক আবেদন ২১ শতাংশ কমেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অ্যাডমিশন কমেছে ১৭ শতাংশ।   কমন অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন ৯ শতাংশ কমেছে। ভারতের শিক্ষার্থীদের আবেদন কমেছে ১৪ শতাংশ। নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে এই হার ১৭ শতাংশ এবং ঘানার ক্ষেত্রে ৩৪ শতাংশ।   ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় পতন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ২৩০ জনে, যা গত ২৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত টানা ১০ মাস ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এই সময়ে মোট পতন প্রায় ১২ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের পতন ছিল মাত্র ৪.৪ শতাংশ।   এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৮.৬ শতাংশ কমেছে। পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পতন আরও বেশি। এই পর্যায়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক বছরে ১১.৩ শতাংশ কমে ২ লাখ ৬৬ হাজার ১০৪ জনে দাঁড়িয়েছে।   ভারত যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর অন্যতম প্রধান উৎস। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বড় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এই শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন আয় এবং গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছে নাফসা। এর মধ্যে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংকট, ভিসা প্রসেসিংয়ে বিলম্ব, নতুন ইমিগ্রেশন নীতি, কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন এবং পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   ভারত ও চীনের মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতে স্টুডেন্ট ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সীমিত বা বিলম্বিত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় উৎস দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও চীন শীর্ষে থাকায় এই দুই দেশের পরিস্থিতি সামগ্রিক শিক্ষার্থী সংখ্যার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।   এ ছাড়া এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন চালু থাকা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক থাকার নিয়ম চালুর সিদ্ধান্তও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পাশাপাশি অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাও বিদেশি শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।   নাফসা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দিয়েই অর্থনীতিতে অবদান রাখেন না। তারা বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন, বিনোদন এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকেও সচল রাখেন। ফলে শিক্ষার্থী কমলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরেও ব্যবসা ও চাকরির বাজারে প্রভাব পড়ে।   অঙ্গরাজ্যভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক অবদান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্কে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ৪৭ কোটি ডলার। ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানে প্রায় ২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার করে এবং টেক্সাসে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ক্ষতি হতে পারে।   তবে নাফসা স্পষ্ট করেছে, এগুলো চূড়ান্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা নয়, বরং বর্তমান আবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যাশা এবং বিদ্যমান প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি পূর্বাভাস। ২০২৬ সালের শরৎ সেমিস্টারের পূর্ণাঙ্গ এনরোলমেন্ট তথ্য প্রকাশের পর প্রকৃত পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে দীর্ঘদিন বিশ্বের শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আবেদন ও এনরোলমেন্টের সাম্প্রতিক পতন অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক অবস্থায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা, দক্ষ জনশক্তি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১০:১২
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ ঝড় ও রেকর্ড ভাঙা বন্যায় প্লাবিত বিস্তীর্ণ লোকালয় এবং জলমগ্ন ঘরবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

ইন্ডিয়ানায় রেকর্ড ভাঙা বন্যা, চার বছরের শিশুসহ মৃত্যু বেড়ে ৭

কর্মস্থল থেকে অর্থ আত্মসাতের পর কোমার নাটক সাজিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ফ্লোরিডার বাসিন্দা বাহা আবুঘালিয়া। ছবি: সংগৃহীত

কোম্পানির ১ লাখ ৯১ হাজার ডলার আত্মসাৎ, ধরা পড়ার ভয়ে কোমায়’ যাওয়ার নাটক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক। ছবি:সংগৃহীত

হরমুজে বাধা দিলে ওমানে ভয়াবহ বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

শিশুটি ছবি:সংগৃহীত
বাক্সের ভেতরে ছিল চার বছরের শিশুর মরদেহ, নাম জানতেই পুলিশের লাগল ৬৫ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার একটি জঙ্গলে কার্ডবোর্ডের বাক্সের ভেতর পাওয়া গিয়েছিল চার বছরের এক শিশুর মরদেহ। পরিচয় জানতে শহরজুড়ে ছবি ছড়িয়েছিল পুলিশ, তদন্ত হয়েছিল হাজারো সূত্র ধরে। তবু দশকের পর দশক তার নামটুকুও জানা যায়নি। শেষ পর্যন্ত আধুনিক ডিএনএ ও জেনেটিক জিনিয়োলজি প্রযুক্তির সাহায্যে ৬৫ বছর পর পরিচয় ফিরে পায় সেই শিশু। তার নাম জোসেফ অগাস্টাস জারেলি।   ঘটনার শুরু ১৯৫৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ফিলাডেলফিয়ার ফক্স চেজ এলাকার একটি জঙ্গলঘেরা জায়গায় জেসিপেনির একটি কার্ডবোর্ড বাক্সের মধ্যে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। তখন তার বয়স আনুমানিক চার বছর বলে ধারণা করেছিলেন তদন্তকারীরা।   মরদেহ উদ্ধারের পর শুরু হয় শিশুটির পরিচয় জানার চেষ্টা। ফিলাডেলফিয়া পুলিশ তার ছবি প্রকাশ করে এবং ব্যাপক প্রচার চালায়। হাজারো তথ্য ও সূত্র যাচাই করা হয়। কিন্তু শিশুটির নাম কিংবা সে কোন পরিবারের সন্তান, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।   পরিচয় না পাওয়ায় মামলাটি একসময় ‘বয় ইন দ্য বক্স’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এটি পরবর্তী সময়ে ফিলাডেলফিয়ার সবচেয়ে আলোচিত অমীমাংসিত শিশু হত্যাকাণ্ডগুলোর একটিতে পরিণত হয়।   শিশুটিকে প্রথমে ফিলাডেলফিয়ার একটি পটার্স ফিল্ডে সমাহিত করা হয়েছিল। পরে তার মরদেহ অন্য কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন তার কবরের ফলকে লেখা ছিল ‘আমেরিকাস আননোন চাইল্ড’। অর্থাৎ মৃত্যুর বহু বছর পরও তার পরিচয় ছিল শুধুই একটি অজ্ঞাত শিশু।   কিন্তু তদন্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সময়ের সঙ্গে ডিএনএ বিশ্লেষণ প্রযুক্তির উন্নতি হলে পুরোনো এই মামলাটি নতুন করে সামনে আসে। তদন্তকারীরা শিশুটির দেহাবশেষ থেকে পাওয়া জেনেটিক তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য আত্মীয়দের খুঁজতে শুরু করেন।   ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়োলজির মাধ্যমে ডিএনএ তথ্যের সঙ্গে বংশপরিচয়ের রেকর্ড মিলিয়ে সম্ভাব্য পরিবারের একটি কাঠামো তৈরি করা হয়। তদন্তকারীরা শিশুটির মা ও বাবার উভয় দিকের আত্মীয়দের সূত্র ধরে এগোতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পারিবারিক সংযোগ একটি শিশুর পরিচয়ের দিকেই নির্দেশ করে।   ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর ফিলাডেলফিয়া পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ৬৫ বছর ধরে ‘বয় ইন দ্য বক্স’ নামে পরিচিত শিশুটির আসল নাম জোসেফ অগাস্টাস জারেলি।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জোসেফের জন্ম হয়েছিল ১৯৫৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। অর্থাৎ মরদেহ উদ্ধারের সময় তার বয়স ছিল চার বছর।   তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, ডিএনএ বিশ্লেষণ ও দীর্ঘ অনুসন্ধানের সমন্বয়েই জোসেফের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তার মা ও বাবার পরিবারের দিক থেকে পাওয়া জেনেটিক সংযোগও পরিচয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   পরবর্তী সময়ে ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারারের অনুসন্ধানে জোসেফের জৈবিক বাবা-মায়ের পরিচয়ও সামনে আসে। তবে পুলিশ তাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি এবং জোসেফের মৃত্যুর জন্য পরিবারের কোনো নির্দিষ্ট সদস্যকে দায়ীও করেনি।   শিশুটির পরিচয় জানা গেলেও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটির উত্তর এখনো মেলেনি। জোসেফকে কে হত্যা করেছিল এবং কেন তার মরদেহ একটি কার্ডবোর্ডের বাক্সে ফেলে রাখা হয়েছিল, তা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা।   জোসেফের পরিচয় প্রকাশের সময় ফিলাডেলফিয়া পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সক্রিয় রয়েছে। শিশুটির পরিচয় শনাক্ত হওয়াকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও এটি হত্যার রহস্য সমাধানের সমান নয়।   পরিচয় প্রকাশের পর অনলাইনে জোসেফের পরিবার ও হত্যাকারীকে ঘিরে অসংখ্য তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তবে তদন্তকারীরা প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যকে দায়ী না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। জোসেফের হত্যাকারীর পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত করেনি।   এই মামলার অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রে বহু পুরোনো অজ্ঞাত মরদেহ ও কোল্ড কেস তদন্তে ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়োলজির সম্ভাবনাও সামনে আনে। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরোনো মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।   ১৯৫৭ সালে যে শিশুকে পৃথিবী চিনেছিল শুধু ‘বয় ইন দ্য বক্স’ নামে, ৬৫ বছর পর অন্তত সেই পরিচয়হীনতার অবসান হয়েছে। তার হত্যার বিচার এখনো হয়নি, হত্যাকারীর নামও জানা যায়নি। তবে কবরের ফলকে আর তাকে শুধু ‘আমেরিকার অজ্ঞাত শিশু’ হয়ে থাকতে হয়নি। সে ফিরে পেয়েছে নিজের নাম, জোসেফ অগাস্টাস জারেলি।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৯:৬
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ছবি:সংগৃহীত

প্রাথমিকের ইংরেজি পরীক্ষায় আসছে স্পিকিং টেস্ট, প্রত্যেক শিক্ষার্থী পাবে ইউনিক আইডি

তিনজন কর্মকর্তা। ছবি:সংগৃহীত

আইটি ও সাইবার নিরাপত্তায় চাকরির বড় বাজার ভার্জিনিয়ায়, বাংলাদেশিদের কাছেও হয়ে উঠছে আকর্ষণীয়

ঘটনাস্থলে পুলিশ ছবি সংগৃহীত

হিউস্টনের গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ

0 Comments