মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ, জাল টিকিট কাণ্ডে আটক ৮ দর্শক
মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিস এবং মিয়ামি পুলিশ। শুক্রবারের এই ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ, জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি ক্রীড়া ইভেন্টে বেআইনিভাবে বাধা সৃষ্টির মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুইটওয়াটারের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী ডেলফিনা দেগুই স্টেডিয়ামের গেট খোলার আগেই অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশের কথা স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, জেফারসন হনোরিও দা সিলভা (৪১) নামের এক ব্যক্তি জাল টিকিট নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে তিনি আবারও ফিরে আসেন এবং একটি গেট জোরপূর্বক খুলে সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়েন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
বিনা টিকিটে নিরাপত্তাবেষ্টনী ফাঁকি দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়েছিলেন মিয়ামি বিচ এলাকার ২১ বছর বয়সী বাসিন্দা হুয়ান ক্যাপোটে গার্সিয়া। একটি বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক থেকে খেলা দেখতে আসা নিকোলাস পিনো এবং হুলিয়ান দাউদ নামের আরও দুই সমর্থককে তিন স্তরের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হওয়ার পর আটকে দেয় পুলিশ।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আরেক ব্যক্তি, ৩৫ বছর বয়সী নিকোলাস রিকের বিরুদ্ধে দুটি লঘু অপরাধের (মিসডিমিনার) অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য তাকে প্রথমে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা দিলে এবং বিরূপ আচরণ করলে শেষ পর্যন্ত তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে একটি হাসপাতালে অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর এক নারী কোমর থেকে নিচের অংশে প্যারালাইজড হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে অ্যাসেনশন সেন্ট থমাস হসপিটাল মিডটাউনে। তবে ঠিক কী কারণে তার শারীরিক অবস্থার এমন পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো চূড়ান্ত মেডিকেল সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএন নিউজ ২-কে ওই নারীর পুত্রবধূ জানিয়েছেন, তার শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অপারেশনের সময় তাকে পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে বদলে যায় বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকে তিনি কোমরের নিচের অংশ নড়াচড়া করতে পারছেন না। পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার বিষয়টি। তবে রোগীকে কী পরিমাণ পটাশিয়াম দেওয়া হয়েছিল, কেন দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিই তার প্যারালাইসিসের সরাসরি কারণ কি না, তা নিশ্চিত করার মতো পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। পটাশিয়াম মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলেক্ট্রোলাইট। এটি স্নায়ু, পেশি ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা খুব কম বা খুব বেশি হলে গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে হাসপাতালে পটাশিয়াম দেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রক্ত পরীক্ষার ফল এবং প্রয়োজনীয় ডোজ বিবেচনা করা হয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে পটাশিয়াম দেওয়ার পর জটিলতা দেখা দিলেই সেটিকে সরাসরি কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। অপারেশনের সময় ব্যবহৃত অ্যানেসথেশিয়া, রোগীর আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যা, স্নায়ু বা মেরুদণ্ডের জটিলতা এবং অন্যান্য চিকিৎসাগত কারণও বিবেচনায় নিতে হয়। এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ছাড়া প্যারালাইসিসের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। অ্যাসেনশন সেন্ট থমাস হসপিটাল মিডটাউন ন্যাশভিলের একটি বড় হাসপাতাল। সেখানে ইমার্জেন্সি কেয়ার, সার্জারি, নিউরোলজি, অর্থোপেডিকস, হার্ট ও ভাসকুলার কেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। হাসপাতালটির সার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সুবিধাও রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন, অপারেশনের সময় রোগীর চিকিৎসায় ঠিক কী ঘটেছিল এবং তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সেই চিকিৎসার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে মেডিকেল রেকর্ড, চিকিৎসকদের মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। পরিবারটি এখন ওই নারীর চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তারা অপারেশনের সময় কী ঘটেছিল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে। চিকিৎসাজনিত ত্রুটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে না আসায় ঘটনাটিকে এই পর্যায়ে পরিবারের অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর
স্টেট ফার্মের ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্যাশব্যাক শুরু, দেখে নিন কারা পাচ্ছেন গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের এই অর্থ ফেরত
ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী, হাসপাতালে পরীক্ষায় মিলল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের লিবার্টিভিলে নদীতে ডুবে এক মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ছেলে নদীতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে ডেস প্লেইনস নদীতে ঝাঁপ দেন ৩১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিনা খলিমেন্দিক। ছেলেকে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হলেও নিজে আর ফিরতে পারেননি তিনি। লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ ও লিবার্টিভিলের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা ৭টার পর ইন্ডিপেনডেন্স গ্রোভ ফরেস্ট প্রিজার্ভের কাছের নদীতে উদ্ধারকাজের জন্য তাদের ডাকা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীরা ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তখন তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন না। দ্রুত তাকে অ্যাডভোকেট কন্ডেল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লেক কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, নিহত ওই নারী ইলিনয়ের হিনসডেল এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছেলেকে সাহায্য করতেই তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ছেলেকে নিরাপদে তীরে তুলে দেওয়ার পর তিনি নিজেই পানির নিচে তলিয়ে যান। ওই সময় এক আত্মীয় ও উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পানিতে নেমে অ্যাঞ্জেলিনাকে উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসেন। সোমবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। করোনার অফিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের ফলাফলে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ এবং লেক কাউন্টি করোনার অফিস যৌথভাবে এ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিক্রি কমে বন্ধ হচ্ছে ট্রাম্পের দুই বড় দোকান, কমেছে ক্রেতার ভিড়
নবজাতককে বুকে বেঁধে জিমে ব্যায়াম, তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফ্লুয়েন্সার মা
সন্তানদের নিতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে, টেক্সাসে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের সিটি কাউন্সিলের বৈঠককে ঘিরে উভয় পক্ষের বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বৈঠকের বাইরে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে নাৎসি প্রতীকসংবলিত পোশাক পরতেও দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মী জেক ল্যাং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিয়ারবর্ন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি হেনরি ফোর্ড সেন্টেনিয়াল লাইব্রেরিতে যান। ল্যাংয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি তার বিরোধিতাকারীরাও সেখানে জড়ো হন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ২ ডেট্রয়েটের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলার পর ল্যাং ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি দল লাইব্রেরির দিকে ছুটে যায়। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে নামে। বৈঠকের ভেতরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ল্যাং খ্রিস্টান শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে অন্যরা প্রতিস্থাপন করছে বলে দাবি করেন। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবাদ জানান এবং তাকে উদ্দেশ করে কটূক্তিও করা হয় বলে ফক্স ২ জানিয়েছে। বাইরে একই সময়ে ল্যাংয়ের সমর্থক এবং তার ইসলামবিরোধী অবস্থানের বিরোধীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরিস্থিতির মধ্যে ডিয়ারবর্নের মেয়র আবদুল্লাহ হামুদ শহরের বহুত্ববাদী চরিত্রের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ডিয়ারবর্নকে মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া একটি শহর হিসেবে উপস্থাপন করা হলে শুধু মুসলিম ও আরবদেরই আক্রমণ করা হয় না, বরং শহরের খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের অবদানও অস্বীকার করা হয়। ডিয়ারবর্নের কর্মকর্তারা আগে থেকেই বাসিন্দাদের সতর্ক করেছিলেন, যেন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে প্রয়োজনীয় কাজ না থাকলে সেখানে না যান। পুলিশের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ প্রধান ইসা শাহিন জানিয়েছিলেন, শহরের বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠী বৈঠকে আসতে পারে বলে তারা খবর পেয়েছেন। এ কারণে বৈঠকের স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর আগে স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারাও মেয়র ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা ডিয়ারবর্নকে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের শহর হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘৃণার পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেন। ডিয়ারবর্নের ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ শহরটিতে বড় আরব-আমেরিকান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এর আগেও শহরটি জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। এবার ল্যাংয়ের ঘোষিত ‘ক্রিশ্চিয়ান ক্রুসেডার মার্চ’কে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করে। জেক ল্যাং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় অংশ নেওয়ার পর কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজন করে আসছেন। ডিয়ারবর্নের পুলিশ জানিয়েছে, ল্যাংয়ের বক্তব্য দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মতপ্রকাশের অধিকার বজায় রেখেই সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো এবং অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি মিশিগান স্টেট পুলিশ, ওয়েইন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়। ল্যাংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ডেট্রয়েটের যাজক ও ট্রাম্প সমর্থক লরেঞ্জো সেওয়েলেরও। সেওয়েল দাবি করেন, তিনি ইসলামবিরোধী নন; বরং ডিয়ারবর্নে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের জন্য সমান সুযোগের প্রশ্ন তুলতেই তিনি ল্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে শহরের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন, বাইরের বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি স্থানীয় পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ডিয়ারবর্ন পুলিশ ও মিশিগানের আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিলের মিশিগান শাখাও বাসিন্দাদের বৈঠক এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। মঙ্গলবারের ঘটনাকে ঘিরে ডিয়ারবর্নে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী, পুলিশ ও সংবাদকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান থেকে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর ফিচার বাতিলের দাবিতে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা
১০০ ডলারে যতটা বাজার হবে ভাবছেন, বাস্তবে তার চেয়েও কম: বদলে যাচ্ছে আমেরিকানদের কেনাকাটার অভ্যাস