যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে এক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার চলাকালে ১৭ বছর বয়সী এক ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর বহুমূল্য জিনিসপত্র ও অর্থ চুরির অভিযোগ উঠেছে। সাহারা মরকেচো নামের ওই কিশোরী অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের (স্টেজ ৪) চিকিৎসাধীন। ইউসি সান ডিয়েগো হেলথ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার চলাকালীন রোগীর কক্ষ থেকে নগদ অর্থ, পরিচয়পত্র, অলংকার এবং তার প্রয়াত বাবার কিছু অমূল্য ছবিসহ একটি পার্স চুরি হয়ে যায়। জীবনের এমন এক কঠিন সময়ে এই অমানবিক ঘটনার শিকার হয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
কিশোরীর বোন কালিনা মরকেচো জানান, চুরির বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের কর্মীদের জানানো হলেও তারা এটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তারা দাবি করেন, হয়তো বিছানার চাদরের মধ্যে জিনিসগুলো হারিয়ে গেছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও সে সময় গ্রহণ করা হয়নি। তবে অস্ত্রোপচারের পর সাহারা কিছুটা সুস্থ হয়ে তার অ্যাপল আইফোনের ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপ ব্যবহার করে চুরি যাওয়া এয়ারপডসের অবস্থান ট্র্যাক করেন। অ্যাপের তথ্যানুযায়ী, ডিভাইসগুলোর অবস্থান সান ডিয়েগো কাউন্টির লেমন গ্রোভ এলাকার একটি বাড়িতে দেখা যায়, যা এই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ওই ঠিকানায় পৌঁছালে বাড়ির মালিকের সাহায্যে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। কালিনার দাবি, পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায় যে সন্দেহভাজন ওই নারী সাহারার হাসপাতালেই কাজ করেন এবং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই চুরি ও ডাকাতির অন্তত চারটি রেকর্ড রয়েছে। তবে ইউসি সান ডিয়েগো হেলথ কর্তৃপক্ষ গোপনীয়তা আইনের কারণ দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের কর্মী কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যদিও এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে যে, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং রোগীদের ব্যক্তিগত সামগ্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি তারা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
কালিনা মরকেচো আক্ষেপ করে বলেন, "হাসপাতালের মতো নিরাপদ একটি জায়গায় এমন চুরির ঘটনা ঘটবে তা আমরা ভাবতেও পারিনি। অসুস্থ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়াটা চরম নিষ্ঠুরতা।" তিনি আরও জানান, আর্থিক ক্ষতির চেয়ে সাহারার মৃত বাবার ছবিগুলো চুরি যাওয়াই তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি কষ্টের। ছবিগুলো সাহারাকে তার বাবার শোক ভুলতে ও মানসিক শান্তি পেতে সাহায্য করত। বর্তমানে সান ডিয়েগো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এই চুরির ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নর্ক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। গত ১১ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে ১,০২২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ইহুদির ওপর পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, মার্কিন ইহুদিদের ৪৪ শতাংশ মামদানির প্রতি অত্যন্ত বা মোটামুটি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। অন্যদিকে, মাত্র ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা নেতানিয়াহুকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। জরিপ অনুযায়ী, ৩৯ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মামদানিকে এবং ৫৯ শতাংশ নেতানিয়াহুকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন। নেতৃত্বের পছন্দের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতি নিয়েও ইহুদি সম্প্রদায়ের স্পষ্ট অবস্থান উঠে এসেছে এই সমীক্ষায়। জরিপ অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেন এবং মাত্র ২৯ শতাংশ তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। জাতীয় গড়ের তুলনায় এই চিত্রটি বেশ ভিন্ন, যেখানে সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক ও নেতিবাচক মনোভাব যথাক্রমে ৩৮ ও ৫৯ শতাংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়েও বেশিরভাগ ইহুদি অসন্তুষ্ট। অর্থনীতি পরিচালনায় ৭৪ শতাংশ, অভিবাসন নীতিতে ৬৯ শতাংশ এবং ইরান ইস্যুতে ৭৩ শতাংশ ইহুদি ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসমর্থন জানিয়েছেন। ইসরায়েল ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গেও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৮ শতাংশের কাছে ইসরায়েল ব্যক্তিগতভাবে "অত্যন্ত বা খুব গুরুত্বপূর্ণ" এবং ২৮ শতাংশের কাছে "কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ"। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে "অতিরিক্ত সমর্থন" দিচ্ছে বলে মনে করেন ৩৮ শতাংশ ইহুদি। বিপরীতে ২৮ শতাংশ মনে করেন সমর্থন অপর্যাপ্ত এবং ৩২ শতাংশ মনে করেন সমর্থন ঠিক পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি মার্কিন সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে মত দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা। পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৩ শতাংশ মার্কিন ইহুদি, যেখানে ৩৬ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন এবং ৩০ শতাংশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন। জরিপে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিয়েও প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, ৭ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মনে করেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ন্যায়সঙ্গত ছিল। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর হামাসের অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোকে যৌক্তিক মনে করেন ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা। তবে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বা ৭৯ শতাংশ ৭ অক্টোবরের হামলাকে সম্পূর্ণ অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি, হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন ৭৩ শতাংশ ইহুদি। গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা "হ্যাঁ" বলেছেন এবং ৪৯ শতাংশ এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন; বাকি ২১ শতাংশ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ ইহুদি ধর্মীয়ভাবে খুব একটা সক্রিয় নন বলে জানা গেছে। ধর্মীয় উপাসনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৩৪ শতাংশ জানান তারা কখনোই যান না, ১৮ শতাংশ বছরে একবারের কম যান এবং ১৬ শতাংশ বছরে এক বা দুবার যান। ধর্মতাত্ত্বিক পরিচয়ের দিক থেকে মাত্র ১০ শতাংশ ছিলেন গোঁড়া বা অর্থোডক্স ইহুদি। অন্যদিকে ৪৩ শতাংশ নিজেদের রিফর্ম এবং ২৩ শতাংশ কনজারভেটিভ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তাদের নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় বিভাজন নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য একটি বিলাসবহুল 'ডেল্টা ওয়ান লাউঞ্জ' তৈরি হতে যাচ্ছে। আটলান্টা সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পের জন্য ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাথে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের একটি বিশাল চুক্তি অনুমোদন করেছে। গত সোমবার সিটি কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাবটি ১৩-১ ভোটে পাস হয়। এই চুক্তির আওতায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ডেল্টা এয়ারলাইন্সকে লাউঞ্জ তৈরির প্রাথমিক অবকাঠামোগত কাজের জন্য ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ ফেরত বা পরিশোধ করবে। তবে লাউঞ্জের ভেতরের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নকশার সমস্ত খরচ ডেল্টা এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। নতুন এই লাউঞ্জটি বিমানবন্দরের কনকোর্স ই-তে প্রায় ৩৯ হাজার ২১০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি করা হবে। ডেল্টা এয়ারলাইন্স বর্তমানে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি, লস অ্যাঞ্জেলেস, বোস্টন এবং সিয়াটেল বিমানবন্দরে এই ধরণের বিশেষ লাউঞ্জ পরিচালনা করছে। আটলান্টা ডেল্টার প্রধান কেন্দ্র এবং সদর দফতর হওয়ায় এখানে একটি বড় লাউঞ্জ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই প্রিমিয়াম লাউঞ্জে যাত্রীদের জন্য থাকবে উচ্চমানের ডাইনিং বা রেস্তোরাঁ ব্যবস্থা, স্পা সুবিধা এবং ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার জন্য নিরিবিলি জোন। তবে সরকারি নথিতে লাউঞ্জটি ঠিক কবে নাগাদ সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় খাবার সরবরাহের কাজ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মো. মাহফুজুল হক (৪৩)। তিনি বাংলাদেশের রাজশাহীর সন্তান এবং বর্তমানে ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজুল হকের ব্যবহৃত গাড়িটি চালু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ এবং গুলির ব্যবহৃত খোসাও উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। কমিউনিটি সূত্রের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। স্থানীয় পত্রিকা ফিলাডেলফিয়া পেপারের সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (আরিফ) আমেরিকা বাংলাকে জানান, ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে ঘটেছে। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা গভীর শোকাহত। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাহফুজুল হকের জানাজার সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রেই দাফন করা হবে—সেই সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি। কমিউনিটি সূত্র জানায়, মাহফুজুল হক এর আগে উইলো গ্রোভ এলাকার আল-শাম রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরে ডোরড্যাশে খাবার সরবরাহের কাজ শুরু করেন। তিনি স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন। ঘটনার পর ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। প্রবাসীরা দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন।