আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে টিকার দোষ দিয়ে সহানুভূতি কুড়ানো মা, যমজ সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৯:৩৭
যমজ সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা
যমজ সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা

১৮ মাস বয়সী যমজ সন্তান টিকা নেওয়ার কারণে মারা গেছে বলে দাবি করে সহানুভূতি কুড়িয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের এক নারী। তবে এবার চাঞ্চল্যকর এক মোড় নিয়েছে ঘটনাটি। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, টিকার কারণে নয়, বরং নিজের হাতেই সন্তানদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন ওই মা। এই লোমহর্ষক অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া শ নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

 

গত বছর টিকা-বিরোধী সংগঠন ‘চিলড্রেনস হেলথ ডিফেন্স’-এর একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আন্দ্রেয়া শ দাবি করেছিলেন, ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ কয়েকটি রোগের টিকা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার যমজ সন্তান মারা যায়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, দুই নার্স শিশু দুটিকে একই সময়ে টিকা দেওয়ার পরপরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছেন যে, শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হেপাটাইটিস-এ, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ডিটিএপি (DTaP) টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর এবং বিশ্বের স্বনামধন্য স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নিয়মিত এসব টিকা নেওয়ার জোরালো সুপারিশ করে থাকে।

 

পায়েট পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে শিশু দুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। গত ২৯ জুন একটি গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন করে। এরপর মঙ্গলবার বোইসি শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি ২০ লাখ ডলারের জামিনে আটক রয়েছেন। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার আজীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। আগামী ১৪ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও আন্দ্রেয়ার আইনজীবী জো ফিলিচেত্তি দাবি করেছেন, তার মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাষ্ট্রপক্ষ এই অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হবে।

 

চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আন্দ্রেয়া শ নিজেই একটি ফেডারেল মামলার বাদী। চিলড্রেনস হেলথ ডিফেন্সের সাথে মিলে তিনি আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, যেখানে অভিযোগ করা হয় শিশুদের টিকার নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন পরিবারগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ওই মামলায় আন্দ্রেয়াকে এমন একজন ভুক্তভোগী মা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যার সন্তানরা নিয়মিত টিকা নেওয়ার পর মারা গেছে। অন্যদিকে, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস আদালতকে মামলাটি খারিজের আবেদন জানিয়ে বলেছে, এটি বিজ্ঞানভিত্তিক টিকানীতিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়া ভলকানো দাবানলের ধোঁয়া। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুত ছড়াচ্ছে ‘ভলকানো’ দাবানল, নিরাপত্তার জন্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড কাউন্টিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি দাবানল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ‘ভলকানো ফায়ার’ নামে পরিচিত এই দাবানল মঙ্গলবার বিকেলে মুরিয়েটা এলাকার লা ক্রেস্তা কমিউনিটির কাছে শুরু হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় বাধ্যতামূলকভাবে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগ (ক্যাল ফায়ার) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫২ মিনিটের দিকে ভিয়া ভলকানো ও তেনাহা রোডের কাছ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিকেল পর্যন্ত আগুনে প্রায় ৭৫ একর এলাকা পুড়ে গেছে এবং তখনও আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের কারণ এখনও তদন্তাধীন।   আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মাই ভ্যালি নিউজ জানিয়েছে, ১২৫ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক সদস্য ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় রয়েছে ১৯টি ফায়ার ইঞ্জিন, তিনটি হেলিকপ্টার, দুটি বুলডোজার, চারটি বিশেষ অগ্নিনির্বাপক দল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা একাধিক বিমান, যেগুলো সুযোগ পেলেই আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্নি প্রতিরোধক রাসায়নিক ছিটিয়ে দিচ্ছে।   আগুনের কারণে ঘন ধোঁয়ায় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে। দাবানল যাতে আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তেনাহা রোডের অ্যাভোকাডো মেসা থেকে অ্যাভেনিদা লা ক্রেস্তা পর্যন্ত এবং লস গ্যাটোস রোডের কারানচো রোড অংশ যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে দমকলকর্মীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারছেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সহজ হচ্ছে।   যেসব বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছে, তাদের জন্য টেমেকুলার চ্যাপারাল হাই স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে গৃহপালিত প্রাণীও নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ঘোড়াসহ বড় আকারের প্রাণীগুলোকে মুরিয়েটা ইকুয়েস্ট্রিয়ান সেন্টারে স্থানান্তর করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আগুনের এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে জরুরি সেবাকর্মীদের চলাচল সহজ হবে এবং নির্ধারিত সরিয়ে নেওয়ার পথগুলো খোলা রাখা সম্ভব হবে।   গ্রীষ্মকালে শুষ্ক আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রবল বাতাসের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায়ই বড় ধরনের দাবানলের ঘটনা ঘটে। এসব আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে বসতবাড়ি, বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই ভলকানো দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ২০:৩৭
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহের সতর্কতা

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহের সতর্কতা, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ১১৫ ডিগ্রিতে

যমজ সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে টিকার দোষ দিয়ে সহানুভূতি কুড়ানো মা, যমজ সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

সান ডিয়েগোতে অস্ত্রোপচারের সময় কিশোরীর ব্যাগ চুরি, হারাল মৃত বাবার অমূল্য স্মৃতি

ফিলাডেলফিয়ায় নোংরা বাড়ি থেকে উদ্ধার ২ শিশু I ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ায় নোংরা বাড়ি থেকে উদ্ধার ২ শিশু, মিলল একাধিক মৃত প্রাণী

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করা দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। মঙ্গলবার পরিচালিত এই অভিযানে বাড়িটির ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি মৃত বিড়াল এবং অন্তত একটি মৃত কুকুরও উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিভিআই (WPVI)-এর সূত্রমতে, চরম অবহেলার শিকার হলেও শিশু দুটি শারীরিকভাবে সুস্থ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য পর্যালোচনার জন্য তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআইয়ের এজেন্টরা কয়েক ঘণ্টা ধরে বাড়িটি ঘিরে রেখেছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তদন্তকারীরা বিশেষ হ্যাজমাট স্যুট পরে বাড়িটিতে প্রবেশ করছেন এবং সেখান থেকে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছেন। সংবাদমাধ্যমটির ক্যামেরায় বাড়িটি থেকে একটি রাইফেলও উদ্ধার করে আনতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বাড়ির প্রবেশদ্বারে ময়লার স্তূপের মধ্যে একটি বিড়ালকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।   বাড়িটিতে ঠিক কী কারণে অভিযান চালানো হয়েছে বা কার বিরুদ্ধে এই তল্লাশি পরোয়ানা জারি ছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে এফবিআইয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, আদালতের অনুমতিক্রমে তারা আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।   এদিকে, প্রতিবেশী ভেক্স হোমকুইস্ট জানান যে তিনি নিয়মিতই ওই বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেতেন। তিনি বলেন, "ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবারই বিড়ালের মলমূত্রসহ চরম উৎকট গন্ধ আসত, যা রাস্তার ওপার থেকেও বোঝা যেত।" তিনি আরও জানান যে, ওই বাড়ির কাউকে তিনি কখনো বাইরে বের হতে দেখেননি, তবে কেবল একবার একটি শিশুকে প্রতিবেশীদের সাথে খেলতে দেখেছিলেন।   মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফিলাডেলফিয়ার লাইসেন্স ও পরিদর্শন বিভাগের কর্মকর্তারা এবং একটি আবর্জনা সংগ্রহের ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি, ফিলাডেলফিয়া গ্যাস ওয়ার্কসের কর্মীরা এসে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাড়িটির গ্যাস সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৮:৫৯
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

৩০ বছরে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত, চীনের সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

প্রতীকী ছবি: ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে স্পেসএক্সের শেয়ার দানের ঘোষণা

ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে ২০ লাখের বেশি নির্বাচিত শিশুকে স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দিচ্ছেন গুইন শটওয়েল

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় প্রাক্তন প্রেমিকাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারতে গিয়ে নিজেই দগ্ধ ৮৪ বছরের বৃদ্ধ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া টেক্সট মেসেজের ফাঁদে পড়ে ৭২ হাজার ডলার হারালেন সাবেক নিউজ অ্যাঙ্কর

দীর্ঘ ২২ বছর ধরে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে টেলিভিশনের পর্দায় খবর পড়েছেন তিনি। মানুষকে সতর্ক করেছেন নানা প্রতারণার বিষয়ে। অথচ সেই তিনিই এবার একটি সাধারণ টেক্সট মেসেজ প্রতারণার শিকার হয়ে খুইয়েছেন ৭২ হাজার মার্কিন ডলার! যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরের ‘কেএসইই ২৪’ (KSEE 24) চ্যানেলের সাবেক সংবাদ পাঠিকা অ্যালেক্স ডেলগাডো নিজেই এখন এক চাঞ্চল্যকর খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ডেলগাডোর ফোনে জনপ্রিয় স্টক ট্রেডিং অ্যাপ ‘রবিনহুড’-এর নাম করে একটি সন্দেহজনক টেক্সট মেসেজ আসে। মেসেজটিতে বলা হয়, তার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত একটি নম্বরে কল করে রিপোর্ট করতে বলা হয়। একটি ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকা ডেলগাডো খুব একটা না ভেবেই ওই নম্বরে কল করে বসেন। আর সেটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। কলটি রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে তাকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে ‘ফ্রড ডিপার্টমেন্টে’ ট্রান্সফার করার কথা বলা হয়, যা শুনে তার কাছে পুরো বিষয়টি একেবারে আসল বলেই মনে হয়েছিল।   ফোনের ওই প্রান্তে থাকা ভুয়া প্রতিনিধি ডেলগাডোকে জানান যে, এশিয়া থেকে কেউ একজন অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে তার ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে তার বিনিয়োগকৃত অর্থ অন্য একটি অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে হবে। ডেলগাডো জানান, এরপর টানা দুদিন ধরে প্রতারকরা ফোনে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দিয়ে তাকে অর্থ স্থানান্তরে বাধ্য করে। মাঝে মাঝে তিনি কলটি কেটে দিতে চাইলেও প্রতারকরা নানা কৌশলে তাকে আটকে রাখে। যখন তিনি বুঝতে পারেন যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে হাজার হাজার ডলার উধাও হয়ে গেছে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।   নিজের এমন বোকামিতে চরম হতাশ এই সাবেক সাংবাদিক বলেন, “আমি নিজেকে খুব বোকা মনে করছি। খবরের মানুষ হিসেবে আমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আমি এসব বিষয়ে খবর সংগ্রহ করেছি, সব সময় শুনেছি। এটি যদি আমার সাথে ঘটতে পারে, তবে যে কারও সাথেই হতে পারে।” ঘটনার পর তিনি আসল ‘রবিনহুড’ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলেও তাদের কিছুই করার ছিল না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানালেও তার খোয়া যাওয়া অর্থ কবে ফেরত পাবেন বা আদৌ পাবেন কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হতাশ ডেলগাডোর এখন একটাই পরামর্শ, “দুর্ভাগ্যবশত, নিজের মা ছাড়া আর কাউকেই বিশ্বাস করবেন না!”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৭:৪১
সাউথ ডিয়ারবর্ন কমিউনিটি স্কুল কর্পোরেশন

স্ন্যাপচ্যাটে ১৪ বছরের ছাত্রকে নগ্ন ছবি পাঠিয়ে কারাদণ্ডিত ইন্ডিয়ানার সাবস্টিটিউট শিক্ষিকা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বাজি নিয়ে খেলতে গিয়ে হাত হারাল ১৮ বছরের কিশোর

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ পরিবারকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িসহ খাদে ফেলা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা বাতিল

0 Comments