যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপজুড়ে চালানো এক বিশাল যৌথ অভিযানে ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ চক্রের ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 'অপারেশন হার্ড বল' নামের কয়েক বছরব্যাপী চলা মার্কিন ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই অপরাধী চক্রগুলো ক্যালিফোর্নিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড, অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মতো মারাত্মক সহিংসতার সাথে জড়িত। এছাড়াও তারা বিভিন্ন কমিউনিটিতে বিপুল পরিমাণ কোকেন এবং মেথামফেটামিনের মতো মারাত্মক মাদক চোরাচালান করে আসছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ২৪ জনের মধ্যে ১১ জনকেই ধরা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হাইল্যান্ড পার্কের বেশ কয়েকটি বাড়িতে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এজেন্টরা একযোগে হানা দিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।
ফেডারেল প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তিনটি ভিন্ন অভিযোগপত্রে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং গ্যাংস্টার সংস্কৃতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের প্রধান দুই হোতা বর্তমানে ভারতের কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকেই মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছিলেন।
এই চক্রের মূল টার্গেট ছিল আমেরিকা ও কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীরা। তারা প্রবাসীদের এবং ভারতে থাকা তাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে লাখ লাখ ডলার দাবি করত। এই অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রায় এক হাজার কিলোগ্রাম কোকেন, এক কিলোগ্রাম হেরোইন, চলিশ হাজার ডলার নগদ অর্থ এবং এক ডজন আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস এবং স্যাক্রামেন্টো এলাকায় মোট ৩৪টি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রায় ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের দাবি, বৈধভাবে কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার জন্যও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন নিষ্পত্তির আগেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এক অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ৩৯ বছর বয়সী এই মেক্সিকান অভিবাসী। ঘটনাটি ঘটে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে। বার্তা সংস্থা এপি নিউজ জানায়, মঙ্গলবার সকালে একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিবাসন অভিযানের সময় সালগাদো আরাউহোকে আটক করতে যায় আইসিই। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, তিনি গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেন, আইসিইর একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং নিজের গাড়ি দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে নিহতের পরিবার সরকারি এই বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালগাদো আরাউহো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তাঁর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের কোনো অভিযোগ ছিল না। পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে অন্য শ্রমিকদের নিয়ে আসতে বের হয়েছিলেন। পরিবার আরও জানিয়েছে, সালগাদো আরাউহো বৈধভাবে কাজের অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে তাঁর সেই আবেদন তখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই ঘটনাকে সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁর স্বজনরা। এপি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়া গুলির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ হিস্পানিক নাগরিক অধিকার সংগঠন লিগ অব ইউনাইটেড লাতিন আমেরিকান সিটিজেনস (LULAC)। সংগঠনটির মতে, প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের ঘটনায় সব তথ্য ও প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত। এপি নিউজ আরও জানায়, ঘটনাটি সম্ভাব্য ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এফবিআই তদন্ত করছে। একই সঙ্গে ডিএইচএসও আইসিই কর্মকর্তার গুলি চালানোর বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার সময় প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নীতি, জবাবদিহি এবং অভিবাসীদের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের গোপন তথ্য ইরান সরকারের কাছে সরবরাহ করে তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য তেহরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়েছে, যা তাদের দেশে ফিরে গেলে নিপীড়ন, নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মামলায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছিলেন এই আশঙ্কায় যে, ইরানে ফিরে গেলে তারা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা অন্যান্য কারণে রাষ্ট্রের নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। তাদের পরিচয় ও আশ্রয়-সংক্রান্ত তথ্য ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে গেলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হোক এবং বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। তাদের দাবি, আশ্রয়প্রার্থীদের গোপনীয়তা রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম মার্কিন আইন অনুযায়ী পরিচালনা করে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনি বিধান অনুসরণ করে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য সাধারণত কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়, যাতে তাদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, এ ধরনের তথ্য নিজ দেশের সরকারের হাতে পৌঁছালে আশ্রয়প্রার্থীরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। এ মামলায় এখনো আদালতের কোনো রায় হয়নি। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিচারিকভাবে প্রমাণিত নয়। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় মাত্র ৭,৫০০ মার্কিন ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য চালু হওয়া এই আবাসন কর্মসূচি ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। অ্যাপার্টমেন্টগুলো আর্ল ডব্লিউ. জিমারসন কো-অপারেটিভ অ্যাপার্টমেন্টস আবাসন প্রকল্পের অংশ। প্রকল্পটি ব্রুকলিনের ১৪০৭ লিন্ডেন বুলেভার্ডে অবস্থিত। এটি একটি কো-অপারেটিভ আবাসন ব্যবস্থা, যেখানে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে যোগ্য ব্যক্তিরা তুলনামূলক কম মূল্যে ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারবেন। আবাসন প্রকল্পটিতে বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সবুজায়ন করা বাগান, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ঘেরা খেলার মাঠ, ভূগর্ভস্থ পার্কিং গ্যারেজ এবং কিছু অ্যাপার্টমেন্টে ব্যক্তিগত বারান্দা বা টেরেস। এছাড়া প্রকল্পটিতে পরিবারবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনকারীদের নির্ধারিত আয়সীমা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যদের মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হবে। অ্যাপার্টমেন্টের ধরন ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী ক্রয়মূল্য ভিন্ন হতে পারে। নিউইয়র্কে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ আবাসন ব্যয় এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থানের সংকটের মধ্যে এই কর্মসূচিকে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।