অভিযান

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) প্রধান ক্রিস্টি নোয়েম
চাপের মুখে ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার অভিযানে বড় রদবদল

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘গণ-ডিপোর্টেশন’ বা গণ-বহিষ্কার অভিযানে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। জনমনে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন এনে এই অভিযানের ধরনে কিছুটা নমনীয়তার আভাস দেওয়া হচ্ছে।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সিনেটর মার্কওয়েন মুলিন। একই সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বর্ডার প্যাট্রোল) প্রভাবশালী কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনোকেও তার পদ থেকে অবনমন (Demote) করা হয়েছে। প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, নোয়েম এবং বোভিনো ছিলেন ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রধান মুখ। তাদের অধীনে বড় বড় শহরে যেভাবে ঝটিকা অভিযান (Raids) চালিয়ে অভিবাসীদের আটক করা হচ্ছিল, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের এই গণ-বহিষ্কার কর্মসূচির জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানদের বড় একটি অংশ এই হার্ডলাইন কৌশলের বিপক্ষে। বিশেষ করে মিনেয়াপোলিসের মতো শহরগুলোতে অভিযানের সময় সংঘাত এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এই সিদ্ধান্তকে আরও বিতর্কিত করে তোলে। অভিযোগ উঠেছে যে, নোয়েম এবং বোভিনোর ‘যুদ্ধংদেহী’ মনোভাবের কারণে আইনি জটিলতা বাড়ছিল এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন ডিএইচএস প্রধান মার্কওয়েন মুলিন এবং ‘বর্ডার জার’ হিসেবে পরিচিত টম হোম্যান এখন এই অভিযানের দায়িত্ব সামলাবেন। হোম্যান ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা আগের মতো বড় শহরগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী অভিযানের চেয়ে ‘টার্গেটেড’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর গুরুত্ব দেবেন। অর্থাৎ, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাদের বহিষ্কারেই বেশি জোর দেওয়া হবে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, কেবল মুখ পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, গ্রেফতারের হার কিছুটা কমলেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অভিবাসীদের আটকে রাখার অভিযোগ এখনও রয়ে গেছে। শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। অনেকে মনে করছেন, এটি প্রশাসনের একটি কৌশলগত চাল মাত্র। লোকচক্ষুর অন্তরালে বহিষ্কার অভিযান আরও নিখুঁতভাবে চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বহিষ্কার অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কয়েক লক্ষ মানুষকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
এবার ইকুয়েডরে মার্কিন বাহিনীর অভিযান শুরু

ইকুয়েডরে সক্রিয় শক্তিশালী মাদক কার্টেল ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দমনে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইকুয়েডরের সশস্ত্র বাহিনী। গত ৩ মার্চ থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (US Southern Command)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, ইকুয়েডরের অভ্যন্তরে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে এই সামরিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে 'নারকো-টেরোরিজম' বা মাদক-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মার্কিন অংশীদারদের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এই অভিযান ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা এবং প্রস্তুতির একটি বড় উদাহরণ। মূলত ইকুয়েডরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসে ইকুয়েডর থেকে আসা একটি বিশাল মাদকের চালান জব্দ করার পর এই যৌথ অভিযানের বিষয়টি সামনে এল। ডাচ প্রসিকিউশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইকুয়েডর থেকে একটি জাহাজে করে আসা ইলেকট্রিক ম্যাগনেটের কন্টেইনার তল্লাশি করে প্রায় ৪.৮ টন কোকেন উদ্ধার করা হয়, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম মাদকের চালান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইকুয়েডর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় মাদকের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দুই দেশ এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ইকুয়েডরের বিভিন্ন স্থানে মাদক কার্টেল বিরোধী এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা
আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক দাবি: পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)-এর ইউরোপ শাখা শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন।   সংস্থাটি শুক্রবার ভোর ৬টা ৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-ে একটি পোস্টে দাবি প্রকাশ করে যে পাকিস্তানের বাহিনী পরিচালিত ‘অপারশন গজব-লিল হক’ অভিযানে কাবুলে সদর দপ্তর লক্ষ্য করে বিমান হামলায় তিনি ও কয়েকজন সিনিয়র তালেবান কমান্ডার নিহত হয়েছেন।   ওসিন্ট ইউরোপের এই দাবিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে অতর্কিত বিমান চালিয়ে তালেবান দলের অবস্থান লক্ষ্য করা হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগান বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ২০০ এর বেশি আহত হয়েছে।   তবে এই আখুন্দজাদার নিহত হওয়ার দাবি সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে। পাকিস্তানও এখন পর্যন্ত এ দাবিকে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৫৫ জন সেনা নিহত হওয়ার দাবি এসেছে।   আফগানিস্তানে ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফা ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান বলিষ্ঠভাবে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সরকারের নীতিনির্ধারণ ও দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।   বর্তমানে এই দাবিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, এবং উভয় পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি অস্বচ্ছ।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নকল টাকা উদ্ধারের নামে পৌনে ৪ কোটি টাকা লোপাট, গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান ‘নাটক’ বলে প্রমাণিত

গত বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় একটি গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ নকল টাকা উদ্ধারের দাবি করা হয়েছিল। তবে পুলিশের বিশেষ তদন্তে দেখা গেছে, ওই অভিযানটি ছিল সাজানো নাটক; প্রকৃতপক্ষে ঐদিন সেখানে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের সদস্যরা এক ব্যবসায়ীর নগদ পৌনে চার কোটি টাকা লুকিয়ে নিয়ে গেছে।   ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশের সোর্সের জবানবন্দি এবং বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি পুনরায় এবং অভ্যন্তরীণভাবে তদন্তে পেয়েছে যে, অভিযানের নামে টাকা লোপাটের বিষয়টি সত্য রয়েছে। তদন্তে পোস্টের হাতে আসা ভিডিও বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার এক সোর্স ঢাকায় পরিচিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে ওয়ারীর একটি বাসায় বিপুল টাকার খবর দেন। ৮ নভেম্বর রাতে ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার তারেক সেকান্দারের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের আভিযানিক টিম ওই বাসায় অভিযান চালায়। তল্লাশিতে একটি কক্ষে ৪–৫ কোটি টাকার মতো নগদ টাকা পাওয়া যায়।   তল্লাশি চালানোর পর ডিবি পুলিশ ওই টাকা কয়েকটি ব্যাগে ভরে নিচে পাঠায়। পরে গণমাধ্যম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখানোর জন্য সেখানে ১০–১৫ লাখ টাকা এবং কিছু ব্যাগে জাল নোট রাখা হয় এবং অভিযানে আটক দুজনকে জাল টাকার সাথে জড়িত দেখানো হয়। পরে ওই তথ্য ভিত্তিতে পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়।   পুলিশ সোর্স ও জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, অভিযান শেষের পর এএসআই সুম্ময় শর্মা সোর্সদের অর্থিক ‘মানি’ হিসেবে নগদ টাকা দেয় এবং ঘটনায় অংশগ্রহণকারী পুলিশের কিছু সদস্য টাকা ভাগের পেছনের পরিকল্পনাকে স্বীকার করেছে। পরে প্রকৃত মালিকের অভিযোগে এবং আলামতের ভিত্তিতে পুনঃতদন্ত শুরু হয়।   ডিবি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও নির্দোষ ব্যাখ্যা না পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নতুন তদন্ত শুরু করেন।  সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল সিডিআর বিশ্লেষণে অপরাধীদের অবস্থান ও ঘটনাস্থলের তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তের একটি পর্যায়ে ডিবি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-এর কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল সড়ক

গাজীপুরের কাশিমপুরে উদ্বোধনের আগেই নবনির্মিত সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার দুদকের গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ধনঞ্জয়খালী এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন দুদক কর্মকর্তারা দেখেন, সড়ক নির্মাণে চরম গাফিলতি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সামান্য আঘাতেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে ধসে পড়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে সংশ্লিষ্ট রাস্তার নথিপত্র এবং প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নথিপত্র ও সরজমিন পরিদর্শন শেষে তদন্ত দল নিশ্চিত হয়েছে যে, রাস্তা নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এই অনিয়মের বিস্তারিত প্রতিবেদন খুব দ্রুতই কমিশনের কাছে দাখিল করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই দিনে দুদক রাজধানীতে পৃথক আরও একটি অভিযান চালিয়েছে। লিজের শর্ত ভঙ্গ করে সরকারি জমি আত্মসাৎ ও তহবিল তছরুপের অভিযোগে বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে এ তল্লাশি চালানো হয়। ট্রাস্টের আয় অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগটি বর্তমানে অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেনেভা ক্যাম্পে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।  বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া এই সাঁড়াশি অভিযানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, রাত সোয়া ৮টা নাগাদ পুলিশের এই বিশেষ অভিযান চলছিল। এর আগে মাত্র একদিন আগেই বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় টানা চার ঘণ্টার এক ঝটিকা অভিযানে শতাধিক চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজানের নেতৃত্বে পরিচালিত সেই অভিযানে সাফল্য আসার পর আজ আবারও জেনেভা ক্যাম্পে এই বড় ধরনের পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ডিসি মো. ইবনে মিজান জানিয়েছেন, এলাকায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য নির্মূল করতেই এই ধারাবাহিক অভিযান। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ডিএমপির এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযান
উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক

সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর অভিযানে কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করা অন্তত ১৫শ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে ।   রোববার ভোরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ আশেপাশের এলাকায় এই অভিযান শুরু হয় বলে জানিয়েছেন যৌথবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। অভিযান অব্যাহত থাকায় আটকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।   আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের অপব্যবহার করা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই এই অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।   তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্পে জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া আছে। কিন্তু তারপরও তারা নিয়ম ভেঙ্গে বাঙালিদের জমি দখল করে অবস্থান করছে। যা স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।”   বর্তমানে আটককৃতদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত করা হচ্ছে। পরে তাদেরকে স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে এবং ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।   “তাদেরকে আমরা এখনই ক্যাম্পে পাঠাবো না। আগে সবাইকে আটক করা হবে। তারপর অনুসন্ধান করা হবে যে তারা কেন ক্যাম্পে নিজেদের নির্ধারিত জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার পর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদেরকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো ব্যবস্থা করা হবে।”   এদিকে ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।   এর আগে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারিতে বার্মা কলোনিসহ আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠায় যৌথ বাহিনী।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0