সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি, প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার এসইউভি ফিরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা কিয়া

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১২:৭
গাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগার ঝুঁকিতে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ‘টেলুরাইড’ এসইউভি বাজার থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিল কিয়া আমেরিকা। ছবি: সংগৃহীত
গাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগার ঝুঁকিতে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ‘টেলুরাইড’ এসইউভি বাজার থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিল কিয়া আমেরিকা। ছবি: সংগৃহীত

বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিয়া আমেরিকা তাদের জনপ্রিয় 'টেলুরাইড' মডেলের প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার মিডসাইজ ক্রসওভার এসইউভি গাড়ি বাজার থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গাড়িগুলো চলন্ত অবস্থায় কিংবা পার্কিংয়ে থাকা অবস্থায় হুট করেই আগুন ধরে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ মডেল বর্ষের টেলুরাইড এসইউভি গাড়িগুলোর সামনের পাওয়ার সিটের মোটরে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি বা ওভারহিট হওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাওয়ার সিটের স্লাইড নবটি কোনো কারণে আটকে গেলে কিংবা আগের কোনো মেরামতের সময় সঠিকভাবে কাজ না করার ফলে এই ত্রুটি দেখা দিতে পারে। আর এই অতিরিক্ত তাপ থেকেই মূলত চলন্ত বা পার্কিংয়ে থাকা গাড়িতে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।

 

এই ভয়াবহ ঝুঁকির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা সাময়িকভাবে গাড়িগুলোর মালিকদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ এই টেলুরাইড গাড়িগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন করে মেরামত করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেগুলোকে কোনো গ্যারেজ বা ভবনের ভেতরে পার্ক না করে বাইরে খোলা জায়গায় এবং যেকোনো ধরনের স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে পার্ক করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

সমস্যা সমাধানে কিয়া আমেরিকার অনুমোদিত ডিলাররা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আক্রান্ত গাড়িগুলোতে একটি নতুন ইলেকট্রনিক ফিউজ অ্যাসেম্বলি বা যন্ত্রাংশ স্থাপন করে দেবে বলে জানানো হয়েছে। এই ত্রুটি এবং গাড়ি মেরামতের বিষয়ে আগামী ১৩ আগস্ট থেকে গাড়ির মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো শুরু হবে বলে কিয়া কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

 

সাধারণত যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ি নির্মাতারা এভাবে ত্রুটিপূর্ণ মডেল বাজার থেকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে নিয়ে ফ্রিতে ঠিক করে দেয়। কিয়া আমেরিকা জানিয়েছে, তারা এই ত্রুটিটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব গাড়ির ফিউজ অ্যাসেম্বলি পরিবর্তনের কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জ্বলতে থাকা স্কুল বাস থেকে ২০ জন শিশুকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করা চালক রেনিটা স্মিথ। ছবি: সংগৃহীত
জ্বলন্ত স্কুল বাস থেকে ২০ শিশুকে বাঁচিয়ে ফের আগুনের ভেতর ঢুকেছিলেন চালক রেনিটা

২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে স্কুল বাসে আগুন লাগার পর চালক রেনিটা স্মিথ দ্রুত ২০ শিশুকে বাস থেকে নামিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেন। কিন্তু সবার বের হওয়া নিশ্চিত করতে আগুনে জ্বলতে থাকা বাসে তিনি আবারও ঢুকে পড়েন। ঘটনায় কোনো শিশুই আহত হয়নি।    সেদিন বিকেলে প্রিন্স জর্জেস কাউন্টির স্কুল বাসে গ্লেনার্ডেন উডস এলিমেন্টারি স্কুলের ২০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাড়ির পথে ছিলেন স্মিথ। বাসের ড্যাশবোর্ডে ব্রেকের সতর্ক সংকেত দেখার পর তিনি বাস থামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই পোড়া গন্ধ পান এবং রিয়ারভিউ মিররে আগুনের শিখা দেখতে পান।    সময় নষ্ট না করে সিটবেল্ট খুলে তিনি একে একে সব শিশুকে বাস থেকে বের করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। আগুন তখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল এবং কালো ধোঁয়ায় পুরো বাস ঢেকে যাচ্ছিল।   শিশুরা নিরাপদে বেরিয়ে গেলেও রেনিটা নিশ্চিত ছিলেন না যে সবাই বাস থেকে বের হয়েছে কি না। কোনো বাস অ্যাটেনডেন্ট না থাকায় তিনি আবারও জ্বলন্ত বাসের ভেতরে ঢুকে প্রতিটি সিট পরীক্ষা করেন। শেষবার বাস থেকে বের হওয়ার সময় আগুন আরও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে।    ফায়ার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগুনটি বাসের পেছনের একটি চাকার কাছ থেকে শুরু হয়ে দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুনের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীর কেউ আহত হয়নি।    দুই সন্তানের মা রেনিটা পরে বলেন, বাসে থাকা শিশুরা তার কাছে নিজের সন্তানের মতো। তাদের বাবা-মায়ের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব নিজের সন্তানের মতো করেই দেখেন তিনি।  তার সাহসিকতার স্বীকৃতিও আসে দ্রুত। প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস তাকে সম্মাননা দেয়। পরে তিনি ‘দ্য এলেন ডেজেনারেস শো’তেও অংশ নেন, যেখানে তার সাহসিকতার জন্য তাকে ২০ হাজার ডলারের একটি চেক দেওয়া হয়।    রেনিটা অবশ্য নিজের কাজকে আলাদা কোনো বীরত্ব হিসেবে দেখেননি। তার কাছে সেদিনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ২০ শিশুকে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১০:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে আইসিই কর্তৃক আটক ইকুয়েডরের মা ও মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর মা-মেয়েকে আটক করল আইসিই

নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত রাজু (বামে) ও টেনেসিতে ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত মহসিন রানা (ডানে)

নিউইয়র্কের পর এবার টেনেসিতে, ডাকাতির সময় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

দুই তরুণ প্রাইস জ্যাকসন ও কিরান  তাদের সহপাঠী ম্যাডিসন মুর

১৩ বছর ধরে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত সহপাঠীকে আগলে রাখলো দুই বন্ধু, শেষে একসঙ্গেই গ্র্যাজুয়েশন

সিলেটের পংকজ তালুকদার
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ তালুকদার

সিলেটের টিলাগড়ের তরুণ পংকজ তালুকদার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই অর্জনের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও অভিনন্দন।   পংকজ সিলেটের হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় ও এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পরিবারের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পংকজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। শারীরিক প্রশিক্ষণ, মানসিক প্রস্তুতি এবং বিশেষায়িত সামরিক প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপেই তাঁকে কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।   তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, অনেক দিন ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হতো এবং শেষ হতো রাত ৮টা থেকে ৯টার দিকে। দীর্ঘ সময় ঘুম ও বিশ্রামের সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রতিদিনই শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও সহনশীলতার পরীক্ষা দিতে হয়েছে।   মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও ছিল অত্যন্ত কঠিন। প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টানা চার দিন জঙ্গলে অবস্থান করতে হয়েছে তাঁকে। প্রচণ্ড গরম, সাপ, পোকামাকড় ও শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে।   প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এম৪ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর অনুশীলন, জীবন্ত গ্রেনেড নিক্ষেপ, মাইন শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্গম বাধা অতিক্রমের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন পংকজ। প্রায় পাঁচ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণে তাঁর ওজন কমেছে ২৬ পাউন্ড। পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়েছে।   সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি ছিল কাঁধে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ পাউন্ড ওজনের ভারী ব্যাগ নিয়ে টানা ১০ মাইল হাঁটা। কখনো মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও এই প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। শরীর ভিজে গেলেও থেমে যাওয়ার সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।   পংকজ বলেন, অনেক সময় শরীর মনে করত আর পারছে না, আবার মন চাইত একটু বিশ্রাম নিতে। কিন্তু থেমে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তখন নিজেকেই বারবার সাহস দিয়ে আরও একবার চেষ্টা করার মানসিকতা ধরে রাখতে হয়েছে।   শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকাও ছিল বড় মানসিক পরীক্ষা। প্রশিক্ষণের সময় মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ ছিল সীমিত। কখনো মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য ফোন হাতে পাওয়ার সুযোগ মিলত। সেই অল্প সময়টুকুতেই পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতো।   দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য। নিজের এই যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়ে পংকজ মনে করেন, নির্ঘুম রাত, কঠোর পরিশ্রম, ঘাম ও শারীরিক কষ্টই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। এই পুরো সময়ে যারা তাঁকে সাহস ও মানসিক শক্তি দিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।   নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পংকজ বলেন, বেসামরিক জীবন থেকে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে এখন তিনি গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য।”   তিনি আরও বলেন, “এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিটি কষ্ট সার্থক হয়েছে। কষ্ট ছিল সাময়িক, গর্ব থাকবে চিরদিন।”   সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রযুক্তি খাতে পেশাজীবন শুরু করার পর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ পেরিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে পংকজের এই যাত্রা এখন তাঁর পরিচিতজনদের কাছে পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। সূত্র : sylhettoday24

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৭:৩৮
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে একের পর এক বিদায়

ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে একের পর এক বিদায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে কর্মী ছাড়ার চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে ২ বছরের কনডিশনাল গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ২ বছরের কনডিশনাল গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম,নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন ভিসা নির্দেশনা, ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হবে

মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ৩০টি বাড়ির মালিক
মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ৩০টি বাড়ির মালিক, কলেজে পড়ার সময়ই শুরু রিয়েল এস্টেট ব্যবসা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ২৪ বছর বয়সী লরেন্স গুয়েরগুইস কলেজে পড়ার সময় রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ শুরু করে এখন ৩০টিরও বেশি বাড়ির মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি পূর্ণকালীন বাড়িওয়ালা হিসেবে কাজ করছেন এবং তার বেশিরভাগ সম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট অঞ্চলে।   Business Insider-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গুয়েরগুইসের লক্ষ্য ছিল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ার গড়া। কিন্তু এক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকারের সঙ্গে কথোপকথনের পর তিনি নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বদলে রিয়েল এস্টেটে মনোযোগ দেন।   ২১ বছর বয়সে প্রথম বিনিয়োগের জন্য নিজের গাড়িই বিক্রি করে দেন তিনি। গাড়ি বিক্রি করে পাওয়া ১৬ হাজার ডলারের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ডলার ব্যবহার করেন ইলিনয়ের একটি বাড়ির ডাউন পেমেন্ট হিসেবে। বাকি অর্থ দিয়ে কয়েক মাসের মর্টগেজ খরচ মেটানোর পরিকল্পনা করেন।    প্রচলিত ব্যাংক ঋণের বদলে তিনি ডিএসসিআর ঋণ ব্যবহার করেন। এ ধরনের ঋণে ঋণগ্রহীতার ব্যক্তিগত বেতনের চেয়ে সম্পত্তি থেকে প্রত্যাশিত ভাড়া দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব কি না, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম বাড়িটির মাসিক পেমেন্ট ছিল প্রায় ৪০০ ডলার, বিপরীতে ওই এলাকায় সরকারি হিসাবের ভাড়া ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার।   প্রথম বাড়িতে তিনি সেকশন-৮ কর্মসূচির একজন ভাড়াটিয়া পান। সেখান থেকে ভাড়ার আয় আসতে শুরু করার পর রিয়েল এস্টেটকেই নিজের মূল ব্যবসা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়।   ২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর গুয়েরগুইস ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ওহাইও চলে যান। সেখানে প্রায় দুই বছর থেকে তিনি একের পর এক সম্পত্তি কেনা, সংস্কার এবং ভাড়াটিয়া ব্যবস্থাপনার কাজ নিজেই করেন।    শুরুর দিকে তার কাজ ছিল বেশ পরিশ্রমের। বাড়িতে রং করা, মেঝে পরিবর্তন, পুরোনো কার্পেট সরানো থেকে শুরু করে ছোটখাটো প্লাম্বিংয়ের কাজও নিজেই শিখে করতেন। নির্মাণকাজে অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন ভিডিও দেখে বিভিন্ন কাজ শেখার কথাও জানান তিনি।   প্রথম দেড় বছর তিনি নিজেই ভাড়াটিয়াদের যাচাই, বাড়ি দেখানো, যোগাযোগ এবং মেরামতের কাজ সামলাতেন। পরে নিজের প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ চালু করেন। এখন মেরামত, বাড়ি দেখানোসহ অনেক কাজ অন্যরা পরিচালনা করায় তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় থেকেও দূর থেকে সম্পত্তিগুলো পরিচালনা করতে পারছেন।    Business Insider-এর প্রতিবেদনে গুয়েরগুইস জানান, প্রচলিত অফিসের চাকরির চেয়ে বাড়িওয়ালা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এবং ব্যস্ত জীবনযাপনই তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়। বর্তমানে ৩০টির বেশি সম্পত্তি নিয়ে তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবস্থাপনানির্ভর ও দূর থেকে পরিচালনাযোগ্য হয়েছে।   তবে তার এই সাফল্যের পেছনে শুধু বাড়ির সংখ্যা নয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির ভাড়া, সংস্কার খরচ এবং নিয়মিত ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অর্থাৎ ৩০টি বাড়ির মালিক হওয়া মানেই ৩০টি বাড়ির পুরো মূল্য নিজের নগদ অর্থে কেনা—এমন নয়; প্রথম বাড়ি থেকেই তিনি ঋণভিত্তিক বিনিয়োগের মডেল ব্যবহার করেছেন।   কলেজে পড়ার সময় একটি গাড়ি বিক্রি করে শুরু করা সেই বিনিয়োগই কয়েক বছরের মধ্যে ৩০টির বেশি সম্পত্তির পোর্টফোলিওতে পরিণত হয়েছে—আর ২৪ বছর বয়সেই রিয়েল এস্টেটকে নিজের পূর্ণকালীন পেশায় পরিণত করেছেন গুয়েরগুইস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৫:১২
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, মানতে হবে নতুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলারে নিতে কংগ্রেসে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলারে নিতে কংগ্রেসে নতুন বিল

ছবি: বাংলা টিভি

চাঁদপুরের জুম্মান তপদার যোগ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে

0 Comments