যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা অপরা উইনফ্রে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে অবস্থিত তার বিখ্যাত ‘প্রমিসড ল্যান্ড’ (Promised Land) এস্টেটের আরও একটি অংশ বিক্রি করেছেন। নতুন মালিক হয়েছেন মার্কিন ব্যান্ড ম্যারুন ফাইভ–এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী অ্যাডাম লেভিন এবং তার স্ত্রী, নামিবিয়ান সুপারমডেল বেহাতি প্রিন্সলু।
রিয়েল এস্টেটবিষয়ক একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চার একর আয়তনের এই সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য ১৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জানা গেছে, সম্পত্তিটি মূলত ১৯১৯ সালে স্প্যানিশ রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়। ২০১৯ সালে অপরা এটি অস্কারজয়ী অভিনেতা জেফ ব্রিজেসের কাছ থেকে ৬ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিলেন। এরপর তার ৬৬ একর আয়তনের বিশাল এস্টেটের কিছু অংশ ধীরে ধীরে বিক্রির পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এবার এই জমি বিক্রি করলেন তিনি।
অন্যদিকে, অ্যাডাম লেভিন ও বেহাতি প্রিন্সলুও সম্প্রতি মন্টেসিটোতেই তাদের আগের বাড়িটি প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছেন। ফলে একই এলাকায় এই নতুন সম্পত্তি কেনাকে তারকাদের আবাসন বিনিয়োগে নতুন রদবদল হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকরা।
নতুন কেনা বাড়িটির আয়তন প্রায় ৩ হাজার ৫১৭ বর্গফুট। এতে রয়েছে দুটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং একতলা নকশার বিস্তৃত বসবাসের ব্যবস্থা। বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণ পাঁচটি অগ্নিকুণ্ড, মূল নকশার জানালা ও দরজা, বিশাল বাগান, আধুনিকভাবে সংস্কার করা রান্নাঘর ও বাথরুম এবং নিরিবিলি পরিবেশ।
বাড়ির ভেতরে কাঠের উন্মুক্ত বিম, প্রশস্ত বসার ঘর, বড় বড় জানালা এবং প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংস্কার করা রান্নাঘরে রয়েছে কোয়ার্টজ পাথরের কাউন্টার, বড় আইল্যান্ড, পেশাদার মানের রান্নার চুলা এবং কাঠের তৈরি ক্যাবিনেট।
প্রধান শয়নকক্ষে অগ্নিকুণ্ড, বড় জানালা এবং ফরাসি ধাঁচের দরজা রয়েছে, যেখান থেকে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখা যায়। সংযুক্ত বাথরুমে রয়েছে উষ্ণ মেঝে, মার্বেলের শাওয়ার, আলাদা বাথটাব এবং ডাবল ভ্যানিটি। এছাড়া দুটি ওয়াক-ইন ক্লোজেটও রয়েছে।
অতিথিদের জন্য আলাদা স্যুট, সুইমিং পুল, পুল হাউস, খোলা আকাশের নিচে ফায়ার পিট, পাথরের ঝরনাসহ প্রাঙ্গণ, বিশাল সবুজ লন এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী একটি বড় বার্ন-স্টাইল কাঠামোও সম্পত্তিটির অংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাডাম লেভিন ও বেহাতি প্রিন্সলু বাড়িটি কেনার পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের পরিকল্পনা করেছেন। নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বাড়ি ও এর আশপাশের পরিবেশ নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে চান তারা।
মন্টেসিটো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলঘেঁষা এই এলাকায় অপরা উইনফ্রে, প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলসহ হলিউড ও ব্যবসা জগতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বাসস্থান রয়েছে। ফলে এখানকার যেকোনো বড় সম্পত্তি কেনাবেচা সাধারণত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ এবং অরেঞ্জ কাউন্টি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিন (ইউসি আরভিন) ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে গ্রেপ্তারের পর বুকিং প্রক্রিয়ার সময় তাদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল। বাদী দুই নারীর নাম সালমা নাসুরউদ্দিন এবং শেনাই আইনি। মামলাটি দায়েরে তাদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, লস অ্যাঞ্জেলেস (CAIR-LA) এবং এশিয়ান ল' ককাস। মামলায় ক্ষতিপূরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য ধর্মীয় অধিকারবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং নীতিমালায় পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ মে ইউসি আরভিনে ফিলিস্তিনপন্থী একটি শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বহু শিক্ষার্থী ও কর্মীর সঙ্গে এই দুই নারীও গ্রেপ্তার হন। পরে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার পর বুকিংয়ের জন্য তাদের হিজাব খুলে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। তাদের দাবি, এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হিজাব ছাড়া তোলা ছবিগুলো এমন একটি ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়, যেখানে পুরুষ কর্মীদেরও সেগুলো দেখার সুযোগ ছিল। বাদীপক্ষের দাবি, মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এটি তাদের জন্য গভীর মানসিক ও ধর্মীয় আঘাতের কারণ। অন্যদিকে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বন্দিদের বুকিং প্রক্রিয়ায় অনুসৃত নিরাপত্তাব্যবস্থা সবার জন্য একই। বিভাগের দাবি, হিজাব অপসারণের প্রয়োজন হলে তা ব্যক্তিগত কক্ষে এবং নারী ডেপুটিদের উপস্থিতিতেই করা হয়, যা নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের মানসম্মত পদ্ধতির অংশ। এদিকে মামলাটি আদালতে যাওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিলে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালত নির্দেশ দেন, বাদীদের হিজাববিহীন ছবি পুরুষদের জন্য উন্মুক্ত রাখা যাবে না, জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না এবং সংরক্ষিত ছবিতে তাদের চুল, ঘাড় ও কান আড়াল করতে হবে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই মামলা শুধু দুই নারীর ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ভিনটন কাউন্টিতে একটি মলমূত্রপূর্ণ বাড়ি থেকে অত্যন্ত শোচনীয় ও 'প্রায় বন্য' অবস্থায় ১৬ জন ভাইবোনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের সাহায্যার্থে ১ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ওহাইও রাজ্য সরকার। সোমবার ওহাইওর শিশু ও যুব বিষয়ক দপ্তরের এই আর্থিক সহায়তার অনুরোধ একটি রাজ্য আইনসভা প্যানেল অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, এই ভয়াবহ ঘটনায় শিশুদের বাবা-মা এবং দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে কারাগারে পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন প্রসিকিউটররা। উদ্ধার হওয়া সাইডার্স পরিবারের এই ১৬ ভাইবোনের বয়স ১৮ মাস থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে অনেকেই ঠিকমতো কথা বলতে পারে না, আর কয়েকজনকে তো 'প্রায় বন্য' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো শিশুকে সাময়িক হেফাজতে নেওয়ার পর ভিনটন কাউন্টির মতো ছোট এলাকার শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়। মাত্র ১২ হাজার ৬০০ জন বাসিন্দার এই কাউন্টির বাজেট ওহাইওর ৮৮টি কাউন্টির মধ্যে সবচেয়ে কম। এতগুলো শিশুর একসঙ্গে থাকা-খাওয়ার বিপুল খরচের ধাক্কা সামলাতেই মূলত রাজ্য সরকার ১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ভিনটন কাউন্টির প্রসিকিউটর উইলিয়াম আর্চার জুনিয়র জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে শিশুদের দাদা গ্যারি সাইডার্স সিনিয়রের চিকিৎসা ব্যয় পুরো কাউন্টিকে দেউলিয়া করে দিতে পারে। কারাগারে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হওয়ায় তার বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। করদাতাদের ওপর এই বিপুল খরচের বোঝা না চাপিয়ে আদালত তার জামিনের শর্ত পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত জিম্মায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এর আগে গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র, তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা স্যান্ডার্স (৬৭), ছেলে গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র (৩৬) এবং পুত্রবধূ এলিজাবেথ সাইডার্সকে (৩৩) ৩ লাখ ডলারের ক্যাশ বন্ডে কাউন্টি জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। গত ৩০ জুন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মামলার ওয়ারেন্ট তামিল করতে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ হ্যামডেনের ওই বাড়িতে যায়। সেখানে তল্লাশি চালাতে গিয়েই তারা মলমূত্র ও আবর্জনায় ভরা মাত্র ১২ বাই ১২ ফুটের একটি ছোট বদ্ধ ঘরে ১৬ জন শিশুকে অমানবিক অবস্থায় আবিষ্কার করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই শিশুরা গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র এবং এলিজাবেথ সাইডার্সের সন্তান। তাদের কখনোই স্কুলে ভর্তি করা হয়নি এবং অনেকেই একেবারেই কথা বলতে পারে না। উদ্ধারের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কয়েকজনকে ওহাইওর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু ও যুব দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এই শিশুদের পুনর্বাসনে প্রতিদিন মাথাপিছু ১৫০ থেকে ২৫০ ডলার খরচ হবে, যা বছরে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ডলারে দাঁড়াবে। এমন অমানবিক পরিস্থিতির জন্য ওই চার অভিভাবকের বিরুদ্ধে ৬৮টি শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় একটি সামার ক্যাম্পে আটকা পড়া দুই শতাধিক মানুষকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ওই অঞ্চলে ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের কারণে চারপাশের সব সড়ক তলিয়ে গেলে লেস্টারভিলের ক্যাম্প টম সকের ২০২ জন শিশু ও কর্মী পানিবন্দি হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিসৌরির ন্যাশনাল গার্ড আটটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মাইক কেহো উদ্ধারকর্মীদের অসামান্য সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং যেকোনো জরুরি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বন্যায় মিসৌরির ক্রফোর্ড, আয়রন, ম্যাডিসন, রেনল্ডস এবং ওয়েনসহ বেশ কয়েকটি কাউন্টি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নর কেহো এটিকে এসব এলাকার জন্য 'হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ' বৃষ্টিপাতের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে সেন্ট লুইস থেকে প্রায় ৮৫ মাইল দক্ষিণে ব্ল্যাক নদীর কাছাকাছি বিয়ারক্যাট গেটওয়ে ক্যাম্পগ্রাউন্ডে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন প্রবল স্রোত থেকে বাঁচতে একটি ভবনের ছাদে উঠেছিলেন। কিন্তু জলের প্রবল তোড়ে ভবনটি ধসে পড়লে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাইওয়ে প্যাট্রলের সার্জেন্ট এডি ইয়াং জানান, জলের চাপ এবং ভবনের দুর্বল কাঠামোর কারণেই এমনটি ঘটেছে। তবে রেনল্ডস কাউন্টিতে গাছে আটকে পড়া তিনজনকে শুক্রবার সন্ধ্যায় জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার তৎপরতা চলাকালে দুটি উদ্ধারকারী নৌকা উল্টে গেলেও অন্য জরুরি কর্মীরা তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এই বন্যায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও ক্রফোর্ড কাউন্টিতে ফেইথ গ্রেগরি নামের এক নারী নিখোঁজ রয়েছেন। সেন্ট লুইস থেকে প্রায় ৭১ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওই এলাকায় বন্যার স্রোতে তার বাড়িটি ভেসে গেলে তিনি ও তার পোষা কুকুরগুলো নিখোঁজ হন। তার সন্ধানে পরিবার ও বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের সেন্ট লুইস কার্যালয়ের প্রধান আবহাওয়াবিদ ম্যাট বেইচার জানিয়েছেন, একের পর এক বজ্রঝড়ের কারণে সৃষ্ট এই অতিবৃষ্টিতে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় ওই অঞ্চলগুলোতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অনেক ক্যাম্পগ্রাউন্ড থাকায় দর্শনার্থীরা সহজেই বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন। মিসৌরির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ব্ল্যাক নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে এবং তা আন্নাপোলিসের কাছে রেকর্ড ২৮ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।