আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন, বাড়ি কেনায় প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১৮:৫৭
বাড়ি কেনায় প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা I ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি কেনায় প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যসহ পুরো দেশজুড়ে আবাসন খাতে কর্পোরেট মালিকানা হ্রাসের লক্ষ্যে সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনকের একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল আইনে পরিণত হয়েছে। গত শনিবার ওয়ারনক ঘোষণা করেন, বৃহৎ প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর একক পরিবারের ব্যবহারের উপযোগী বা 'সিঙ্গেল-ফ্যামিলি' বাড়ি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার এই বিধানটি কার্যকর হয়েছে।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছাড়াই বৃহত্তর দ্বিদলীয় এই আবাসন প্যাকেজটি আইনে পরিণত হয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের অধিবেশন চলাকালে কংগ্রেস কর্তৃক পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত ১০ দিনের মধ্যে স্বাক্ষর বা ভেটো প্রদান না করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হয়।

 

নতুন এই আইনটি '২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফেডারেল আবাসন সংস্কার প্যাকেজ বলে মনে করছেন আইনপ্রণেতারা। এই আইনে আবাসনের সরবরাহ বৃদ্ধি, মূল্যায়ন বা অ্যাপ্রাইজাল প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, গ্রামীণ আবাসন কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি বাড়ি নির্মাণে স্থানীয় সরকারগুলোকে উৎসাহিত করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

এক বিবৃতিতে ওয়ারনক বলেন, সাশ্রয়ী আবাসনের সংকটের সমাধানে জর্জিয়াবাসী দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে আসছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতির বদলে যখন সাধারণ মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তখনই এ ধরনের ভালো ও জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা সম্ভব।

 

জর্জিয়ার আবাসন বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকা উদ্বেগের পটভূমিতেই নতুন এই আইনটি পাস হলো। সিবিএস নিউজ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেট্রো আটলান্টার প্রতি চারটি ভাড়া দেওয়া সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির মধ্যে অন্তত একটির মালিকানা বৃহৎ কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের হাতে। সংখ্যায় যা ৭২ হাজারের বেশি বাড়ি।

 

এর ফলে এই অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানার আধিক্য দেখা যায়। আবাসন অধিকারকর্মীরা দাবি করে আসছিলেন যে, নগদ অর্থের জোরে এসব কোম্পানি সাধারণ পরিবারগুলোকে পেছনে ফেলে বাড়ি কিনে নেয়, যা প্রথমবার ক্রেতাদের জন্য সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি ও ভাড়ার দাম বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা তুলে ধরে ওয়ারনক বারবার বলেছেন, কর্পোরেট বিনিয়োগকারীরা বাড়িগুলোকে মানুষের বসবাসের জায়গার বদলে কেবল একটি আর্থিক সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করে আসছেন।

 

প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ভবিষ্যতের বাড়ি ক্রয়ের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি এই আবাসন প্যাকেজে স্থানীয় সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বাড়ি নির্মাণে উৎসাহিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো, বাড়ি মেরামত ও আবহাওয়া-উপযোগী করার জন্য অনুদান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ফেডারেল আবাসন কর্মসূচির সংস্কারের বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

এই আইনে ওয়ারনকের 'অ্যাপ্রাইজাল মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট'-ও সংযুক্ত করা হয়েছে, যা বাড়ির মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেট্রো আটলান্টায় ক্রমবর্ধমান দাম ও আবাসনের অপর্যাপ্ততার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে জর্জিয়ার আবাসন বাজারে দীর্ঘমেয়াদে এই আইনের প্রভাব কী হবে, তা এখনো দেখার বিষয়।

 

তবে দেশজুড়ে সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রভাব মোকাবিলায় এটি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ একটি ফেডারেল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কের ফুটপাতে অবৈধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, আধা ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে এলো আগের চিত্র

দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কের ক্যানাল স্ট্রিট এবং সংলগ্ন চায়নাটাউন এলাকার ফুটপাত দখল করে অবৈধ ও নকল পণ্যের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন একদল অসাধু বিক্রেতা। এসব অবৈধ বিক্রেতাদের উচ্ছেদ করতে গত রবিবার ফের অভিযান চালিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)। পুলিশের এই আকস্মিক অভিযানে ফুটপাত থেকে বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া ও নকল পণ্য জব্দ করে ট্রাকে তোলা হয়।   তবে স্থানীয় দোকান মালিক ও বৈধ ব্যবসায়ীদের মতে, পুলিশের এই ইঁদুর-বিড়াল খেলায় বাস্তব পরিস্থিতির কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন হচ্ছে না।   পুলিশের অভিযান চলাকালে অনেক বিক্রেতাই তাদের মালামাল ফেলে রেখে পালিয়ে যান বা আশপাশে লুকিয়ে থাকেন। এর আগেও বহুবার এমন অভিযান চালানো হয়েছে, এমনকি ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরাও এই রাস্তায় হানা দিয়েছে। কিন্তু অতীতের মতো এবারও পুলিশের গাড়ি চলে যাওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই অবৈধ বিক্রেতারা ফিরে এসে পুনরায় তাদের পসরা সাজিয়ে বসেন। বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লুই ভিটনের (Louis Vuitton) নকল ব্যাগ থেকে শুরু করে দামি যন্ত্রপাতি—সবকিছুই আবার অবাধে বিক্রি হতে শুরু করে।   অবৈধ বিক্রেতাদের এমন কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যানাল স্ট্রিটের বৈধ ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, ফুটপাত দখল করে অবৈধ পণ্যের পসরা সাজানোর কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জায়গা থাকছে না, তেমনি বৈধ ক্রেতারাও দোকানে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। স্থানীয় এক বিউটি সেলুনের ম্যানেজার ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "তারা যেখান থেকেই মালামাল আনুক না কেন, পুলিশ চলে যাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আবার দোকান খুলে বসে যায়।"   এর আগে গত এপ্রিলে চালানো এক অভিযানে পুলিশ অন্তত একজন বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে দ্বিতীয় মাত্রার ট্রেডমার্ক জালিয়াতির অভিযোগে কারাগারে পাঠিয়েছিল, যা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে জামিন অযোগ্য একটি অপরাধ। তা সত্ত্বেও এই অবৈধ ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের চোখ এড়াতে এই বিক্রেতারা, যাদের অনেকেই অবৈধ অভিবাসী বলে সন্দেহ করা হয়, প্রায়ই ভিন রাজ্যের লাইসেন্সধারী গাড়িতে তাদের মালামাল লুকিয়ে রাখেন।   স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ, পুলিশ চলে গেলেই তারা ফিরে আসে এবং দিনের পর দিন এভাবেই এই চক্রটি অবিরত চলতে থাকে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১৯:৩১
বাড়ি কেনায় প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন, বাড়ি কেনায় প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন পার্কে বন্য মহিষের ভয়াবহ হামলা, পর্যটককে ৮ ফুট ওপরে ছুড়ে মারল

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কে অল্পের জন্য বাঁচলেন পুলিশ, মার্সিডিজের ধাক্কায় দোকানে ঢুকে পড়ল অডি

যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস, আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রে পরজীবীজনিত অন্ত্রের সংক্রমণ 'সাইক্লোস্পোরিয়াসিস' অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩২টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২ হাজার ৯৪৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সিডিসির আশঙ্কা, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ, আক্রান্তদের অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তাদের রোগ শনাক্তের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরীক্ষাও করা হয় না।   বর্তমানে এই সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে মিশিগান অঙ্গরাজ্য। শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেখানেই ১ হাজার ৫৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৪৪ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সাধারণত মিশিগানে বছরে গড়ে প্রায় ৫০টি সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ঘটনা দেখা গেলেও, এবার আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩১ গুণ বেশি। মিশিগানের পর আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্ক, যেখানে গত ১ মে থেকে ৪৭০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া ওহাইওতে ৩৬৪ জন এবং ইলিনয় ও ফ্লোরিডায় ১০০ জনের বেশি মানুষের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন পর্যন্ত এক থেকে দশটি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, মল দ্বারা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে 'সাইক্লোস্পোরা' নামের একটি পরজীবীর সংক্রমণে এই রোগটি ছড়াচ্ছে। অতীতে রাস্পবেরি, তুলসী পাতা, স্নো পি, মিশ্র লেটুস এবং ধনেপাতার মতো আমদানি করা বিভিন্ন তাজা ফল ও সবজির সঙ্গে এই রোগের গভীর সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, এবারের সংক্রমণে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য, উৎপাদক বা সরবরাহকারীকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী করা সম্ভব হয়নি। সিডিসি জানিয়েছে, এই রোগের সবচেয়ে সাধারণ ও প্রধান লক্ষণ হলো পাতলা পানির মতো ডায়রিয়া, যা অনেক ক্ষেত্রে ঘন ঘন এবং তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।   এর পাশাপাশি বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। সংক্রমণের পর সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পেলেও, কারও কারও ক্ষেত্রে এটি দুই দিন থেকে শুরু করে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে, যার ফলে সংক্রমণের মূল উৎস শনাক্ত করা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে।   সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের চিকিৎসায় সাধারণত ট্রাইমেথোপ্রিম-সালফামেথক্সাজল (টিএমপি-এসএমএক্স) নামক অ্যান্টিবায়োটিক ১০ দিন সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। রোগটি প্রতিরোধে সিডিসির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খাওয়ার আগে ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া, নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ফেলে দেওয়া এবং কাটা ফল ও সবজি সঠিক নিয়মে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা। এছাড়া কাঁচা ফল ও সবজি স্পর্শ করার বা প্রস্তুত করার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালোভাবে দুই হাত ধুয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১৭:১৫
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ছুটি কাটাতে গিয়ে ভাড়া করা বাড়ির দেয়ালে মিলল নিজেদেরই ১০ বছর আগের ছবি, বিস্ময়ে হতবাক পরিবার

তেলের পাইপলাইন ফেটে পরিবেশ বিপর্যয় I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে তেলের পাইপলাইন ফেটে পরিবেশ বিপর্যয়, অপারেটরকে ২৬.৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুতে শোক, লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে পতাকা অর্ধনমিতের নির্দেশ ট্রাম্পের

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
পুলিশের হেলিকপ্টারের দিকে এয়ারগান তাক, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার তিন কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হিলসবরো কাউন্টিতে পুলিশের একটি হেলিকপ্টারের দিকে রাইফেলের আদলে তৈরি এয়ারগান তাক করার অভিযোগে তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানায়, শনিবার ভোরে লুটজ এলাকার একটি আবাসিক এলাকা থেকে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ঘোরাফেরার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তিনজনকে অস্ত্রসদৃশ বস্তু হাতে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।   অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের এভিয়েশন ইউনিট আকাশ থেকে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এ সময় নজরদারি হেলিকপ্টারটি তাদের অবস্থান শনাক্ত করলে তিন কিশোর সেটির দিকেই অস্ত্রের মতো দেখতে এয়ারগান তাক করে। ঘটনাটি হেলিকপ্টারের ক্যামেরায় ধারণ হয়।   পরে তিনজন পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়লে মাটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পুলিশের নির্দেশে তারা কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই বাইরে এসে আত্মসমর্পণ করে। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পরে বিবি পেলেট নিক্ষেপকারী এয়ারগান বলে নিশ্চিত করা হয়।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ১৯ বছর বয়সী জারট্রেল হ্যামিল্টন এবং ১৫ বছর বয়সী জাভিস হ্যামিল্টন ও ব্রেইডেন ইসন।   হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে অস্ত্র বা অস্ত্রের মতো দেখতে কোনো বস্তু তাক করাও অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গুরুতর অপরাধ। এতে মাঠে ও আকাশে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের বিরুদ্ধেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:৩৭
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভালো ও নিরাপদ ড্রাইভিং করলেই গাড়ির বিমায় মিলবে ছাড়

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে ২০০ কনস্ট্রাকশন শ্রমিক নিয়োগ, ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে আবেদন

নর্থইস্ট ডিসিতে কিশোরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অচেতন উদ্ধার; সাইকেলে পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনকে খুঁজছে এমপিডি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে গুলিতে নিহত ১৩ বছরের কিশোর, সন্দেহভাজন কিশোরের খোঁজে পুলিশ

0 Comments