আন্তর্জাতিক

কাতারের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি, দাফন সম্পন্ন শেখ হামাদের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১৮:১৩
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারকে একটি অতি-ধনী ও আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের মহানায়ক এবং বিশ্বমঞ্চে এক প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কারিগর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে দোহার লুসাইল কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সে তার এই চিরবিদায়ের মধ্য দিয়ে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

 

১৯৯৫ সাল থেকে শুরু করে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা এই নেতার মৃত্যুর খবরটি রবিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সূর্যাস্তের পর রাজধানীর বিখ্যাত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-ওয়াহাব মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক অত্যন্ত অনাড়ম্বর পরিবেশে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জানাজার নামাজে ঐতিহ্যবাহী কাতারি পোশাক পরিহিত শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। তারা পরম শ্রদ্ধায় শেখ হামাদের কফিনের সামনে করজোড়ে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন। জানাজা শেষে তার ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা পরম যতন আর ভালোবাসায় কফিনটি মসজিদ থেকে বের করে আনেন।

 

আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি এই আয়োজনের বর্ণনায় বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত বিনম্র একটি অনুষ্ঠান এবং তাকে খুবই সাধারণ একটি কবরে সমাহিত করা হয়েছে। এই অনাড়ম্বর বিদায় শুধু ইসলামী ঐতিহ্যেরই অংশ নয়, বরং ফাদার আমির তার ব্যক্তিগত জীবনে কতটা সাদামাটা ছিলেন, এটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি কখনো সম্পদের মোহে আবদ্ধ ছিলেন না, বরং সর্বদা নিজ দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

 

১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শেখ হামাদের শাসনামলে কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। মূলত দেশের বিপুল গ্যাস সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের ফলেই এই অসামান্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছিল। তার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে ২০০৬ সালের মধ্যেই ছোট এই দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।

 

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কাতারের যে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, তার ভিত মূলত তিনিই গড়ে দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান বিরোধসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা দ্বন্দ্বে কাতার আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ২০২২ সালে কাতারের সফলভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনও তারই স্বপ্নের এক বড় প্রতিফলন, যেখানে উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত হয়ে তিনি ফুটবলপ্রেমীদের বিপুল করতালিতে সিক্ত হয়েছিলেন।

 

তার শাসনামলেই ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে সংবাদমাধ্যম 'আল জাজিরা', যা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মিডিয়া নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। আল জাজিরার ডিরেক্টর জেনারেল শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল থানি গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, শেখ হামাদই ছিলেন এই মহান প্রতিষ্ঠানের মূল স্বপ্নদ্রষ্টা এবং তিনি এর যে বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ বিশ্বজুড়ে সত্যের আলোকবর্তিকা ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে।

 

পাশাপাশি শেখ হামাদের হাত ধরেই ২০০৪ সালে কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণীত হয় এবং পৌরসভা নির্বাচন চালু হয়, যেখানে প্রথমবারের মতো নারীদের ভোটদান ও প্রার্থী হওয়ার ঐতিহাসিক অধিকার দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে ২০১৩ সালে তিনি তার ছেলে শেখ তামিমের কাছে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, যা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থায় এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ওতাইবি বলেন, শেখ হামাদ শুধু কাতারেই নয়, বরং সারা বিশ্বে তার অসামান্য কাজের ছাপ রেখে গেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে আবারও বোমাবর্ষণ, বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করেছে। হরমোজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির যে সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে, তা দুর্বল করার লক্ষ্যেই নতুন দফায় এই হামলা চালানো হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।   সেন্টকমের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মূলত ইরানি বাহিনীকে তাদের নানা কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন।   বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ইস্টার্ন টাইম (ইটি) বিকেল ৫টায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে এই নতুন ধাপের হামলা শুরু করে। হরমোজ প্রণালি দিয়ে অবাধে যাতায়াতকারী বেসামরিক নাবিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে আক্রমণ করার যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, তা ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করতেই এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১৮:২৭
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

কাতারের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি, দাফন সম্পন্ন শেখ হামাদের

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নরওয়ের সাগরে মিলল ‘টাইম ক্যাপসুল’ জাহাজ, অক্ষত রয়েছে আঠারো শতকের মূল্যবান পণ্য

জার্মানিতে ৬২ দেশের নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার I ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে ৬২ দেশের নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

টরন্টোর আনন্দমুখর ‘সালসা’ উৎসবে গোলাগুলির পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান চরম আতঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত
দুই ব্যক্তির গুলিতে কানাডার উৎসবের আমেজ বদলে গেল আতঙ্কে, নিহত ২, আহত ৪

কানাডার টরন্টো শহরের একটি ব্যস্ত রাস্তার উৎসবের কাছে গুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো একক হামলাকারীর আক্রমণ নয়; বরং দুই ব্যক্তি একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন।   টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক বারেডো জানান, শনিবার রাত ৮টা ১২ মিনিটে সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ওয়েস্ট এবং আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলির খবর পাওয়া যায়। ওই সময় সেখানে লাতিন আমেরিকান সংস্কৃতির বার্ষিক ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ উৎসব চলছিল।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে রাতের সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত দুজনই পুরুষ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।   ঘটনার পরপরই এলাকায় সক্রিয় বন্দুকধারীর আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এলাকাটি নিরাপদ।   ডেপুটি চিফ বারেডো বলেন, প্রাথমিকভাবে সক্রিয় হামলাকারীর আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে তদন্তে জানা যায়, এটি দুই ব্যক্তির মধ্যে গুলির ঘটনা। তবে এ ধরনের ঘটনা উৎসবে থাকা অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দের পর উৎসবে থাকা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। কাছের একটি রেস্টুরেন্টে থাকা ভ্যালেরি রদ্রিগেজ বলেন, মানুষ একে অপরকে মাটিতে শুয়ে পড়ার জন্য বলছিলেন, কারণ কেউ বুঝতে পারছিলেন না কী ঘটছে।   উৎসবের এক বিক্রেতা প্যাটসি গুতিয়েরেজ জানান, মুহূর্তের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন। পরে আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।   ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে প্রতিবছর হাজারো মানুষ লাইভ সংগীত, নাচ, খাবার ও লাতিন সংস্কৃতির বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করতে জড়ো হন।   ঘটনার পর টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এমন জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:৪৮
এআই খাতে সক্ষমতা বাড়াতে ৮,৯০০ বিশেষজ্ঞের নতুন দল গঠনের পরিকল্পনা ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি জায়ান্ট টিসিএসের। ছবি: সংগৃহীত

এআই খাতে বড় বাজি ভারতের প্রযুক্তি জায়ান্ট টাটা কনসালটেন্সি, গড়ে তুলবে ৮,৯০০ বিশেষজ্ঞের দল

সু চির শারীরিক অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হতে তাঁর সাথে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ চাইল আসিয়ান জোট। ছবি: সংগৃহীত

কারাবন্দী অং সান সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুলল মিয়ানমার

সোমবার মার্কিন সফরে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি; জ্বালানি খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, তেল-গ্যাস খাতে বড় চুক্তির সম্ভাবনা

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)-এর সদস্য
ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলা, গুলি ও স্টান গ্রেনেডে আহত ১০ বছরের শিশুসহ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন, রামাল্লাহ, বেথলেহেম, জেনিন ও নাবলুসে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের পৃথক অভিযানে অন্তত কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। হেবরনে একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ১০ বছর বয়সী এক শিশু মাথায় আঘাত পেয়েছে।   স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রামাল্লাহর পূর্বে আল-মুঘাইয়ির গ্রামে মোহাম্মদ হামেদ আবু আলিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। এ সময় একজন ফিলিস্তিনি জীবন্ত গুলিতে উরুতে আহত হন এবং আরও দুজন রাবার মোড়ানো ধাতব বুলেটে আহত হন। এছাড়া ১০ বছর বয়সী রায়েদ ওদেহ আবু আলিয়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে মাথায় আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী বেথলেহেমের পশ্চিমে দোহা শহরে অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গ্রেপ্তার বা বাড়িতে তল্লাশির খবর পাওয়া যায়নি।   এদিকে জেনিনের দক্ষিণে খাবিরাত মাসউদ এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা তাদের ভেড়ার পাল ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে ছেড়ে দেয়। এতে ফসল ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাবলুসের দক্ষিণে কাবালান এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করছিলেন এমন পৌরসভার কর্মীদেরও হামলার মুখে পড়তে হয়। হামলার কারণে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।   অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ ধরনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে তাদের কৃষিজমি ও বসতি থেকে উচ্ছেদের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৬:৩৮
ইউক্রেনে হামলা ছবি সংগৃহীত

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের সুমি শহরে নিহত ৫, আহত ৩০-এর বেশি

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসনের মধ্যেই ড্রোন উৎপাদন তিনগুণ বাড়ানোর দাবি তেহরানের

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

বাহামায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীসহ নিহত ১০

0 Comments