সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্বাস্থ্য সতর্কতা

ঘুমের মধ্যে মুখে বাদুড়ের সংস্পর্শে আসেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমন্ত চিকিৎসকের মুখে ঢোকার চেষ্টা করছিল বাদুড়, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। স্বপ্নে ছোট একটি ইঁদুর মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে মনে হলেও ঘুম ভাঙার পর তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি কোনো স্বপ্ন নয়। সত্যিই একটি বাদুড় তার ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল।   ঘটনাটি ঘটে রিচমন্ডে এডেলম্যানের প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বাড়িতে। তিনি একজন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অভিজ্ঞতাটি তুলে ধরে মানুষকে বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন করেছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিভিআরও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   এডেলম্যান জানান, প্রথমে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন একটি ছোট মাঠের ইঁদুর তার মুখের কাছে এসে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। ঘুম ভাঙার সময় তিনি মুখের কাছে হাত নিয়ে কিছু একটা স্পর্শ করেন। সেটি ছিল পিচ্ছিল, লোমশ এবং ঠান্ডা। কিছুক্ষণ পরই তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ইঁদুর নয়, একটি বাদুড়।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি বাদুড়টিকে ধরে ঘরের অন্যদিকে ছুড়ে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্বামীও জেগে ওঠেন। প্রথমে বাদুড়টিকে মেরে ফেলার কথা মনে হলেও চিকিৎসক হিসেবে এডেলম্যান জানতেন, সেটি করা ঠিক হবে না। বাদুড়টিকে ধরে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন, বিশেষ করে জলাতঙ্কের ভাইরাস রয়েছে কি না তা জানার জন্য।   পরে দ্রুত কী করা উচিত তা জানতে তিনি ফোনে খোঁজ করেন এবং একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন। বন্ধুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর এডেলম্যান তার কর্মস্থল সেন্ট মেরিস হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে জলাতঙ্কের সম্ভাব্য সংস্পর্শ হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।   এডেলম্যানের স্বামী শেষ পর্যন্ত বাদুড়টিকে একটি পাত্রে আটকে ফেলতে সক্ষম হন। এরপর প্রাণীটিকে জলাতঙ্ক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় বাদুড়টির শরীরে জলাতঙ্কের ভাইরাস পাওয়া যায়নি। তবে সরাসরি সংস্পর্শের কারণে এবং আগে জলাতঙ্কের টিকা না নেওয়ায় এডেলম্যান সতর্কতামূলকভাবে জলাতঙ্কের টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন গ্রহণ করেন।   ঘটনার পর এডেলম্যানের মূল বার্তা ছিল, বাড়িতে বাদুড় পাওয়া গেলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ঘুমন্ত অবস্থায় কেউ বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে তিনি আদৌ কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়েছেন কি না, তা সবসময় বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, সিডিসি বলছে, বাদুড়ের কামড়ের দাগ খুব ছোট হতে পারে এবং অনেক সময় তা চোখে পড়েও না। কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে ঘরে বাদুড় দেখতে পেলে এবং সরাসরি সংস্পর্শ হয়েছিল কি না নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত।   বাদুড়ের ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে বাদুড়ের সংস্পর্শ একটি প্রধান কারণ। দেশটিতে জলাতঙ্কে মারা যাওয়া অন্তত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের সংক্রমণের সঙ্গে বাদুড়ের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব বাদুড় জলাতঙ্কে আক্রান্ত। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাদুড় সুস্থ এবং পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   জলাতঙ্কের চিকিৎসা সময়মতো শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাসটির লক্ষণ প্রকাশের আগে সংস্পর্শের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশের পর রোগটি প্রায় সবসময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে বাদুড় ঢুকে পড়লে খালি হাতে সেটিকে ধরা উচিত নয়। নিরাপদে সম্ভব হলে উপযুক্ত সুরক্ষা নিয়ে পাত্রের মধ্যে আটকে রেখে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তারা বাদুড়টি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে এবং মানুষের চিকিৎসা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে।   বাদুড় সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। তবে বাড়ির ছাদ, চিমনি, চিলেকোঠা কিংবা দেয়ালের ছোট ফাঁক দিয়ে তারা ঘরে ঢুকতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বাদুড় প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইঞ্চি বা ৬ মিলিমিটারের মতো ছোট ফাঁক দিয়েও ঢুকতে পারে। তাই পুরোনো বাড়ির ছাদ, দরজা, জানালা, চিমনি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রবেশপথ নিয়মিত পরীক্ষা করে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।   নিজের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যও এডেলম্যান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক হয়েও এমন পরিস্থিতিতে ঠিক কী করা উচিত, তা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তাকে তথ্য খুঁজতে হয়েছিল। তাই অন্য কেউ যেন একই পরিস্থিতিতে পড়ে বিভ্রান্ত না হন, সে কারণেই তিনি ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন। তার অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।   সূত্র: ডব্লিউটিভিআর

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফাল্টন কাউন্টির স্যান্ডি স্প্রিংস এলাকায় জলাতঙ্ক আক্রান্ত র‍্যাকুন শনাক্তের পর নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে জলাতঙ্ক আক্রান্ত র‍্যাকুন শনাক্ত, বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তর ফাল্টন কাউন্টিতে এক জলাতঙ্ক আক্রান্ত র‍্যাকুনের সন্ধান পাওয়ার পর সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সংক্রমিত এই বন্য প্রাণীটির সঙ্গে অন্তত এক স্থানীয় বাসিন্দা সরাসরি সংস্পর্শে এসেছেন বলে নিশ্চিত হওয়ার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।   ফাল্টন কাউন্টি বোর্ড অব হেলথের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৬ জুলাই স্যান্ডি স্প্রিংস ও ডানউডি সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার করা একটি র‍্যাকুনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় প্রাণীটির শরীরে প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক ভাইরাসের অস্তিত্ব বা পজিটিভ ফলাফল পাওয়া যায়। এরপরই ফাল্টন কাউন্টি বোর্ড অব হেলথের জেলা স্বাস্থ্য পরিচালক ড. মার্কাস প্লেসিয়া এক অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে স্থানীয় অধিবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, অন্তত একজন ব্যক্তি সরাসরি এই আক্রান্ত র‍্যাকুনটির সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের মতে, কোনো বেওয়ারিশ বা সম্ভাব্য জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণীর কামড় কিংবা আঁচড়ের শিকার হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।   ফাল্টন কাউন্টি বোর্ড অব হেলথ স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে যে, বন্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসার মতো ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে স্বাস্থ্য প্রদানকারীর কাছে রিপোর্ট করার পাশাপাশি বোর্ড অব হেলথের মহামারিবিদ্যা বিভাগে (ফোন: ৭৭৮-৫২০-৭৫০০, অপশন ৭) যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া এলাকা থেকে কোনো বিপজ্জনক বা সন্দেহভাজন প্রাণী সরানোর প্রয়োজন হলে ফাল্টন কাউন্টি অ্যানিমেল সার্ভিসেসের (ফোন: ৪০৪-৬১৩-০৩৫৮) সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।   তবে সংক্রমিত এই র‍্যাকুনটি ফাল্টন কাউন্টির অন্য কোনো পোষা প্রাণী বা বন্য প্রাণীর সংস্পর্শে এসেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।   মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে মানবদেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। সাধারণত র‍্যাকুন, কোয়োটি কিংবা শেয়ালের মতো বন্য প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষ ও পোষা প্রাণীর শরীরে এই ভাইরাস ছড়ায়। মানবদেহে সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা এবং শারীরিক দুর্বলতা বা অস্বস্তি দেখা দেয়।   বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পোষা প্রাণীর মালিকদের তাদের কুকুর বা বিড়ালের জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকাদান কার্ড জরুরি ভিত্তিতে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট পাবলিক হেলথ ভেটেরিনারিয়ানসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি টিকাদান না করা কোনো কুকুর বা বিড়াল জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে আসে, তবে সেটিকে চার মাসের জন্য কঠোর কোয়ারেন্টাইন বা সঙ্গরোধে রাখতে হবে। এমনকি মুক্ত করার অন্তত এক মাস আগে ওই প্রাণীকে বাধ্যতামূলকভাবে জলাতঙ্কের টিকা দিতে হবে।   যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ করা বন্য প্রাণী থেকে নিজেদের ও পরিবারকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার জন্য ফাল্টন কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে প্রথমবার শনাক্ত হয়েছে টিকবাহিত বিরল বোরবন ভাইরাস। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে প্রথম ধরা পড়ল ‘বারবন ভাইরাসে’ আক্রান্ত রোগী, নেই টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা

আমেরিকার নিউ ইয়র্কে এই প্রথম অতীব বিরল ও বিপজ্জনক 'বারবন ভাইরাস'-এ আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। পোকামাকড়ের (টিক বা উকুনের মতো এক ধরনের পোকা) কামড় থেকে ছড়ানো এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা কার্যকর কোনো ওষুধ নেই। নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নতুন করে এই রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই সময়ে ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসাসেবা ও সঠিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে পারে।   ​নিউ ইয়র্কের স্টোন ব্রুক মেডিসিনের এক সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, স্থানীয় অঞ্চলে ব্যাপকভাবে দেখা যাওয়া 'লোন স্টার টিক' নামের এক প্রজাতির পোকামাকড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাসটি মানবদেহে ছড়ায়। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অজানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর অবশেষে ৬৭ বছর বয়সী মাইকেল লারকিন নামে লং আইল্যান্ডের এক বাসিন্দার শরীরে এই ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।   ​সংবাদ সম্মেলন ও স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে নিজের বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় পোকার কামড় খেয়েছিলেন লারকিন। এরপর থেকেই তিনি তীব্র জ্বর, অসহ্য মাথা ব্যথা এবং রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিলেন। লারকিন জানান, দিনের পর দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছিলেন না। অসহ্য যন্ত্রণার মুখে একাধিকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।   ​প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা ধারণা করেছিলেন তিনি 'লাইম ডিজিস'-এ আক্রান্ত, কিন্তু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে। দীর্ঘ সময় রোগ নির্ণয় না হওয়ায় চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অবশেষে স্টোন ব্রুক হাসপাতালের চিকিৎসক ড. লুইস মার্কোসের নেতৃত্বে টানা এক বছর ধরে চলে বিশেষ অ্যান্টিবডি গবেষণা। আর তাতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য লারকিন বিরল 'বারবন ভাইরাস'-এ আক্রান্ত।   ​যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের 'বারবন কাউন্টি'তে প্রথম এই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল। আর সেখান থেকেই এর নামকরণ করা হয় বারবন ভাইরাস। চিকিৎসকরা জানান, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রোগীর শরীরে অতিরিক্ত জ্বর, ক্লান্তি, চামড়ায় লালচে র্যাশ, তীব্র মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ভাইরাস রোগীর জন্য প্রাণঘাতী বা মারাত্মক রূপ নিতে পারে।   ​সংবাদ সম্মেলনে ড. লুইস মার্কোস সতর্ক করে বলেন, এই ভাইরাসের উপসর্গ প্রকাশ পেলেও বাণিজ্যিকভাবে সাধারণ কোনো পরীক্ষা বা কিট না থাকায় রোগ নির্ণয় অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। লং আইল্যান্ডসহ আশপাশের এলাকায় এই নির্দিষ্ট প্রজাতির পোকা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। ফলে লারকিনের কেসটি হয়তো হিমশৈলের চূড়ামাত্র, বাস্তবে আড়ালে থাকা রোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।   ​বর্তমানে এই রোগের নিশ্চিত কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ না থাকায় চিকিৎসকরা কেবল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপরই জোর দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঝোপঝাড় বা বনাঞ্চলসংক্রান্ত এলাকায় চলাফেরার সময় পোকামাকড়ের কামড় থেকে বাঁচতে শরীর ঢেকে রাখা এবং বিশেষ স্প্রে বা প্রতিরোধক ব্যবহার করা জরুরি। গবেষকরা আশা করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এই ভাইরাসের ব্যাপ্তি বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে এর সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি বের করা সহজ হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় বিরল ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় প্রাণঘাতী 'মাংসখেকো' ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে চলতি বছরের প্রথম মৃত্যু, স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) নামের বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ায় চলতি বছরের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ। রাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির একজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে এই সংক্রমণে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী ও সমুদ্রসৈকতে যাতায়াতকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।   ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ১১টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। গত বছর ফ্লোরিডায় এই ব্যাকটেরিয়ায় ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিব্রিও ভালনিফিকাস উষ্ণ লবণাক্ত ও অল্প লবণাক্ত (ব্র্যাকিশ) পানিতে স্বাভাবিকভাবেই বাস করে। সাধারণত কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুক, বিশেষ করে অয়েস্টার খাওয়ার মাধ্যমে মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়া শরীরে কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই ক্ষত সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।   চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ অনেক সময় তুলনামূলক হালকা হতে পারে। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, দীর্ঘদিনের লিভারের রোগ রয়েছে বা অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় জ্বর, কাঁপুনি, রক্তদূষণ (সেপসিস) এবং ত্বকে ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দিতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, এই সংক্রমণে আক্রান্ত প্রায় পাঁচজনের একজনের মৃত্যু হতে পারে, অনেক সময় অসুস্থ হওয়ার এক বা দুই দিনের মধ্যেই। গুরুতর রোগীদের অনেকের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হয়, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অঙ্গ কেটে ফেলতেও হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।   ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, হারিকেন, বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের পর উপকূলীয় এলাকায় জমে থাকা পানি ও বন্যার পানি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অতীতেও বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের পর রাজ্যের কয়েকটি কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাঁচা ঝিনুক বা অন্যান্য শেলফিশ না খাওয়া, সামুদ্রিক খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া এবং শরীরে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা অল্প লবণাক্ত পানিতে নামা থেকে বিরত থাকা উচিত। সমুদ্রের পানি বা কাঁচা শেলফিশের সংস্পর্শে আসার পর জ্বর, তীব্র ব্যথা, ক্ষত ফুলে যাওয়া বা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও সালাদ শাকসবজি তদন্ত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের প্রাদুর্ভাব, লেটুস কেনা ও খাওয়ায় সতর্কতার পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও অন্যান্য সালাদ শাকসবজিকে সন্দেহ করছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণ বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছানোর পর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সালাদজাতীয় শাকসবজি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (MDHHS) জানিয়েছে, চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী লেটুস বা সালাদ শাকসবজির সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পণ্য, উৎপাদক বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি। এমডিএইচএইচএসের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান বলেন, "এখনও নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকে এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বারবার লেটুস একটি সাধারণ খাদ্য হিসেবে সামনে এসেছে। তাই আমরা এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি, যাতে তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে পারেন।"   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানে সাধারণত বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ঘটনা শনাক্ত হয়। কিন্তু চলতি প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছেছে, যা অঙ্গরাজ্যের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, Cyclospora নামের একটি পরজীবীর কারণে এই রোগ হয়। এতে সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী পানির মতো ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি এবং পেটের খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।   স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই রোগের ইনকিউবেশন বা সুপ্তকাল সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ইতোমধ্যে আরও অনেকে সংক্রমিত হলেও তাদের উপসর্গ পরে দেখা দিতে পারে। প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছে এমডিএইচএইচএস। সংস্থাটি বলছে, সম্ভব হলে আগে থেকে ধোয়া ও প্যাকেটজাত লেটুস বা প্রস্তুত সালাদ না কিনে সম্পূর্ণ লেটুস কেনা ভালো। রান্নার আগে বাইরের দুই থেকে তিন স্তরের পাতা ফেলে দিতে হবে এবং ভেতরের পাতাগুলো পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।   যেসব শাকসবজি রান্না করে খাওয়া সম্ভব, সেগুলো অন্তত ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় রান্না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কারণ, সাইক্লোস্পোরা পরজীবী সাধারণ রাসায়নিক জীবাণুনাশক এবং শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ দূর করা যায় না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের বিভিন্ন সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে প্যাকেটজাত সালাদ, ধনেপাতা, তুলসী পাতা, রাস্পবেরি, স্নো পি এবং কাঁচা পেঁয়াজেরও সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।   এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সুইমিং পুল বা অন্য কোনো বিনোদনমূলক জলক্রীড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। যদিও সাঁতারের সময় পানি গিলে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমান তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু দূষিত খাদ্য, বিশেষ করে শাকসবজি।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত এখনো চলমান। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে দ্রুত জানানো হবে। এর মধ্যে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, বমিভাব বা তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
তাজা ফলমূল ও শাকসবজিতে ক্ষতিকর পরজীবীর প্রাদুর্ভাব; যুক্তরাষ্ট্রে শত শত মানুষকে নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জরুরি সতর্কতা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ফল ও শাকসবজি থেকে ছড়াচ্ছে পেটের বিপজ্জনক রোগ, আক্রান্ত হাজারো মানুষ

সংবাদ চলতি গ্রীষ্মে আমেরিকার বাসিন্দারা যখন তাদের রান্নাঘর তাজা ফলমূল ও শাকসবজিতে ভরিয়ে তুলছেন, ঠিক তখনই দেশজুড়ে শত শত মানুষকে অসুস্থ করে তোলা একটি পরজীবী সম্পর্কে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে ৩১টি অঙ্গরাজ্যে ৮৪০ জনেরও বেশি মানুষের সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরেও দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে; যেমন শুধুমাত্র মিশিগান অঙ্গরাজ্যেই পূর্ববর্তী রেকর্ড অনুযায়ী ১,৫০০-র বেশি মানুষ এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তদন্তকারীরা এখনও এই প্রাদুর্ভাবের মূল উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।   সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগটি মূলত 'সাইক্লোস্পোরা কায়োটেনেনসিস' নামক একটি অণুবীক্ষণিক পরজীবীর কারণে ঘটে থাকে, যা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের অন্ত্রে সংক্রমণ তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত দূষিত কৃষিপণ্যের মাধ্যমে এই পরজীবীটি ছড়ায়। তবে অন্যান্য অনেক পেটের রোগের মতো এই সংক্রমণটি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে ছড়ায় না।   দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারী, যিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক, সম্প্রতি এই রোগ থেকে সুস্থ উঠেছেন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, এটি তার জীবনের অন্য যেকোনো অসুস্থতার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তিনি বলেন, "এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অসুস্থতা ছিল। এর আগে আমি কখনো এতটা অসুস্থ বোধ করিনি।" তিনি তীব্র পেটব্যথা এবং খাবার ধরে রাখতে না পারার মতো বেশ কয়েক দিনের মারাত্মক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যায় ভুগেছিলেন। চিকিৎসা নেওয়ার আগে মাত্র এক সপ্তাহেই তার ওজন প্রায় ১০ পাউন্ড কমে গিয়েছিল। পরবর্তীতে রোগ নির্ণয়ের পর তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হতে শুরু করেন।   পাকস্থলী ও অন্ত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডক্টর আরিয়েল মালামুদ জানান, সংক্রমণের সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন পর এর লক্ষণগুলো দেখা দেয়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, হালকা জ্বর এবং পেটব্যথা। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক চিকিৎসা না পেলে এই লক্ষণগুলো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে অথবা সাময়িকভাবে দূর হয়ে আবার ফিরে আসতে পারে। তবে সঠিক রোগ নির্ণয়ের পর অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এর কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।   খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্যান্ডিস ক্রিশ্চিয়ান জানান, বাড়িতে ফলমূল ও শাকসবজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তিনি শসা বা তরমুজের মতো শক্ত প্রকৃতির ফল বা সবজি শুধু ধুয়ে না নিয়ে ভেজিটেবল ব্রাশ দিয়ে ভালো করে ঘষে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন। এছাড়াও খাওয়ার আগে প্রবাহিত পানিতে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া, খোসা ছাড়ানো এবং সম্ভব হলে রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

তাবাস্সুম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০