সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ব্যবস্থার ত্রুটি ধরেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছাত্র, ৭ বছর পর পরিচয় প্রকাশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৭:২৮
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অশ্বিন রামাস্বামী
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অশ্বিন রামাস্বামী

২০১৯ সালে বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভর্তি সিস্টেমে থাকা একটি মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি জনসমক্ষে আসে। দীর্ঘ সাত বছর পর জানা গেল, সেই ত্রুটিটি যিনি ধরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর কেউ নন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অশ্বিন রামাস্বামী। সম্প্রতি মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত প্রবন্ধে তিনি জানান যে, তিনিই ছিলেন সেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্ট্যানফোর্ডের ছাত্র, যিনি নিজের নথির অনুরোধ করতে গিয়ে এই বিশাল গলদটি আবিষ্কার করেছিলেন। বর্তমানে অশ্বিন সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক স্টার্টআপ ‘করিডোর’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটে যখন অশ্বিন ‘ফ্যামিলি এডুকেশনাল রাইটস অ্যান্ড প্রাইভেসি অ্যাক্ট’-এর (FERPA) অধীনে নিজের ভর্তির নথিপত্র দেখার জন্য আবেদন করেন। ভর্তির সময় কর্মকর্তারা কী মন্তব্য করেছিলেন, সেটি দেখাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। মন্তব্যগুলো দেখতে না পেলেও তিনি গুগল ক্রোমের ডেভেলপার টুল ব্যবহার করে খেয়াল করেন যে, ইউআরএল-এ (URL) থাকা নথির একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা (ID) পরিবর্তন করলেই অন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংবেদনশীল তথ্য লোড হয়ে যাচ্ছে। ওয়েব নিরাপত্তার ভাষায় এটিকে ‘ইনসিকিউর ডাইরেক্ট অবজেক্ট রেফারেন্স’ বা আইডিওআর (IDOR) বলা হয়। এই ত্রুটির ফলে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, ট্রান্সক্রিপ্ট, বাড়ির ঠিকানা, নাগরিকত্বের তথ্য, আর্থিক সহায়তার তথ্য, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের (SSN) মতো অতি গোপন তথ্যও উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল।

 

ত্রুটিটি আবিষ্কারের পর তিনি বিষয়টি স্ট্যানফোর্ড ডেইলিকে জানান, যেখানে তিনি তখন পত্রিকার প্রথম প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এবং ‘কম্পিউটার ফ্রড অ্যান্ড অ্যাবিউজ অ্যাক্ট’ (CFAA)-এর অধীনে সম্ভাব্য শাস্তির কথা ভেবে আইনজীবীর পরামর্শে তিনি সিস্টেমে প্রবেশ করা বন্ধ করেন। স্ট্যানফোর্ড কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তদন্তে দেখা যায়, মোট ৯৩ জন শিক্ষার্থীর তথ্য অননুমোদিতভাবে দেখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং সিস্টেম সুরক্ষিত করে। অশ্বিনকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তবে তাকে বাধ্যতামূলক কিছু কাউন্সেলিং সেশনে অংশ নিতে হয়েছিল। এই ঘটনার পর স্ট্যানফোর্ড তাদের বাগ বাউন্টি প্রোগ্রামকে আরও প্রসারিত করে।

 

অশ্বিন জানান, এই অনাকাঙ্ক্ষিত আবিষ্কারটি তার সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি নীতি এবং দায়িত্বশীল দুর্বলতা প্রকাশের বিষয়ে কাজ করার আগ্রহকে আরও দৃঢ় করেছিল। এই ঘটনার পরই তিনি সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে বিশদ পড়াশোনা করেন এবং ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সিতে (CISA) যোগ দেন। সেখানে তিনি নির্বাচনী অবকাঠামোর দুর্বলতা শনাক্তের সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ল সেন্টারে পড়াশোনা শেষে সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জ্যাক কেবলের সঙ্গে মিলে ‘করিডোর’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার ভিত্তি মূলত রচিত হয়েছিল স্ট্যানফোর্ডের সেই আলোচিত ঘটনার মধ্য দিয়েই।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নির্মাণশ্রমিকের ঘাটতি বাড়ায় হিউস্টনের আবাসন খাতে কাজের সময় ও ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান বাড়ায় শ্রমিক সংকটে হিউস্টনের নির্মাণশিল্প, পিছিয়ে পড়ছে বাড়ি নির্মাণ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে অভিবাসনবিরোধী তৎপরতা জোরদার হওয়ার মধ্যে নির্মাণশ্রমিকের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। নির্মাণকাজে যুক্ত অনেক শ্রমিক কর্মস্থলে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন, আবার কেউ কেউ কাজ ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাচ্ছেন। এতে নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যেতে শ্রমিকের দল ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন ঠিকাদারেরা। দেশটির অন্যতম ব্যস্ত আবাসন বাজার হিসেবে পরিচিত হিউস্টনে এই সংকট বাড়ির নির্মাণকাজের সময় ও ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি ২।   শহরের উত্তরাঞ্চলে সূর্য ওঠার আগেই নতুন বাড়ির কাঠামো তৈরির কাজে নেমে পড়েন নির্মাণকর্মীরা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া এবং একই কর্মীদল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নির্মাতারা। বৃহত্তর হিউস্টন অঞ্চলের কয়েকজন ঠিকাদার কেপিআরসি ২-কে জানিয়েছেন, গত এক বছরে অভিবাসন আইন প্রয়োগের তৎপরতার কারণে তাঁদের একাধিক কর্মী হারাতে হয়েছে। কেউ কর্মস্থলে আসা বন্ধ করেছেন, আবার কেউ টেক্সাস ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে কাজ খুঁজছেন। ফলে চলমান প্রকল্পের কাজের গতি ধরে রাখা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির (এনএএইচবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির নির্মাণশ্রমিকদের চারজনের মধ্যে একজনেরও বেশি অভিবাসী। আবাসন চাহিদা মেটাতে এই কর্মীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নির্মাণশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো। তবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযান ও কর্মস্থলে তল্লাশির আশঙ্কা শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এমনকি বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা কিছু শ্রমিকও কর্মস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সমিতিটি। এর ফলে নির্মাণ খাতে আগে থেকেই থাকা কর্মীসংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।   বৃহত্তর হিউস্টন গৃহনির্মাতা সমিতির প্রধান নির্বাহী অ্যাইমি বার্ট্রান্ড বলেন, নতুন বাড়ি নির্মাণের বাজারের আকার বিবেচনায় হিউস্টন এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে হিউস্টন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটি, যেখানে ডালাসের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক মাসে শ্রমিকসংকট নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলেও জানান তিনি। বার্ট্রান্ডের মতে, নির্মাতারা তাঁদের কর্মীদলের নিরাপত্তা ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া নিয়ে চিন্তিত। কারণ, শ্রমিকের অভাবে নির্মাণকাজ ব্যাহত হলে নতুন বাড়ির সরবরাহেও তার প্রভাব পড়তে পারে।   জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণশ্রমিকের ঘাটতির কারণে একটি বাড়ি নির্মাণে গড়ে প্রায় দুই মাস বেশি সময় লাগতে পারে। একই সংকটের কারণে বছরে প্রায় ১৯ হাজার বাড়ি কম নির্মিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্মাতা ও ক্রেতাদের সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১ হাজার কোটি ডলার বলে সমিতিটি জানিয়েছে। শ্রমিকের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্মাণকাজের সময় বাড়ার পাশাপাশি শ্রম ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব নতুন বাড়ির দাম এবং বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের ওপরও পড়তে পারে।   শ্রমিকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বাড়ির কাঠামো তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মী, বাগান ও বাইরের জায়গা পরিচর্যার শ্রমিক এবং ছাদ নির্মাণকর্মীদের মধ্যে। জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, কাঠামো তৈরির শ্রমিকের সংকটের কথা জানিয়েছেন ৫৭ শতাংশ নির্মাতা, যা আগের জরিপের তুলনায় ৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। বাগান পরিচর্যার শ্রমিকের ক্ষেত্রে এই হার ৩৯ শতাংশ, আর ছাদ নির্মাণকর্মীদের ক্ষেত্রে ৩৬ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট খাতের নিয়োগদাতাদের মতে, এসব কাজে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়লে নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না।   শ্রমিকসংকটের কারণ হিসেবে শুধু অভিবাসন অভিযানকেই দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। নির্মাণ খাতে কর্মীর চাহিদা, অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে শ্রমিক পাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং শ্রম ব্যয় বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। তবে জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ শ্রমিকসংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। কর্মস্থলে তল্লাশি হলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে ঠিকাদারদের জন্য নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের প্রস্তুতি জরুরি হয়ে উঠেছে, কারণ একটি কর্মীদল থেকে কয়েকজন শ্রমিক হারালেও পুরো প্রকল্পের সময়সূচি ব্যাহত হতে পারে।   হিউস্টনের নির্মাণশিল্পে এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসনসংকট নিয়ে চলমান উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির হিসাবে, দেশটিতে প্রায় ১২ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাড়ি তৈরির গতি কমে গেলে সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শ্রমিকসংকটের কারণে নির্মাণ ব্যয় বাড়লে তার চাপ শেষ পর্যন্ত বাড়ি কিনতে আগ্রহী পরিবারগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তবে হিউস্টনে ঠিক কতটি প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে বা সাম্প্রতিক অভিবাসন অভিযানের কারণে মোট কতজন শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।   সূত্র: কেপিআরসি ২, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতি (এনএএইচবি)।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ০:১৬
ওবামাকেয়ারের আওতায় স্বাস্থ্যবিমার করছাড়ের যোগ্যতা যাচাইয়ে নতুন নিয়মের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জালিয়াতি রোধে ওবামাকেয়ারের করছাড়ে কড়াকড়ি, সুবিধা হারাতে পারেন অভিবাসীদের একাংশ

বিচারক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির কথা জানিয়েছেন আসমা আলী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মিসিসিপিটিতে বিচারক নিয়োগের পর সাবেক আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেলেন আসমা আলী

অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের মধ্যে রয়েছেন মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর ফোন জব্দ, পরিবারের সদস্যদের তলব

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির কারণে মুদি বাজার ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে, বাড়ছে নিত্যপণ্য, গ্যাস ও বিদ্যুতের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে মুদি পণ্য, গাড়ির জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে পরিবারের ব্যয় আরও বাড়ছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় সাধারণ পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচের তথ্য ও উপাত্তবিষয়ক দল এ পরিস্থিতিতে একটি ইন্টার‌্যাকটিভ অনলাইন টুল তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মুদি পণ্য, গাড়ির জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিশুদের দিবাযত্নকেন্দ্র বা প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার খরচ এবং পোষা প্রাণীর খাবার, এই পাঁচটি খাতে তাঁদের মাসিক ব্যয় কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তা হিসাব করে দেখতে পারবেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব খাতের মূল্য পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে এটি ব্যক্তিগত কেনাকাটার রসিদভিত্তিক হিসাব নয়, বরং ভোক্তা মূল্যসূচকের ওপর নির্ভরশীল একটি আনুমানিক হিসাব।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের গাড়ির জ্বালানির ভোক্তা মূল্যসূচক প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বিদ্যুতের মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচই বাড়ে না, পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাজেটের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও চাপে পড়ার আশঙ্কা থাকে।   খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও দাম বৃদ্ধির চিত্র একরকম নয়। ডব্লিউইএসএইচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে কিছু পণ্যের দাম সামগ্রিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে কাঁচা গরুর কিমার মূল্যসূচক ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার দিয়ে সব পণ্যের মূল্য পরিবর্তন বোঝা যায় না। কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্রুত বাড়তে পারে, আবার অন্য কিছু পণ্যের দাম কমতেও পারে।   বিএলএসের সরকারি তথ্যেও জ্বালানির দামের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পেট্রোলের মূল্যসূচক এক মাসে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক মাসিক হিসাবে বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে আগস্টে বৃদ্ধি ছিল ০ দশমিক ৪ শতাংশ। গত ১২ মাসে জ্বালানি খাতের মূল্যসূচক বেড়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যসূচক সেপ্টেম্বরে আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। ঘরে ব্যবহারের জন্য কেনা খাবারের মূল্যসূচক সামান্য কমলেও রেস্তোরাঁয় খাবারের ব্যয় বেড়েছে।   ডব্লিউইএসএইচের তৈরি অনলাইন টুলটি মূলত ভোক্তা মূল্যসূচকের পরিবর্তনকে ব্যক্তিগত মাসিক বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে বোঝার সুযোগ দেয়। ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট খাতে তাঁদের মাসিক ব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে আগের সময়ের তুলনায় সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিবর্তন দেখতে পারেন। তবে প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কেনাকাটার ধরন, বসবাসের এলাকা এবং বিদ্যুৎ বা জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণের ওপর। তাই টুলে পাওয়া হিসাবকে প্রত্যেক পরিবারের প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধির চূড়ান্ত পরিমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।   মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো, আগের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে এখন তুলনামূলক কম পণ্য বা সেবা কেনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয়ের তুলনায় খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও শিশুদের দেখাশোনার খরচের অংশ বেশি, তাদের বাজেটে চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে। মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও প্রতিটি পরিবারের ব্যয় একই হারে বাড়বে, এমন নয়। কোন খাতে কতটা ব্যয় হয়, তার ওপরই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পার্থক্য নির্ভর করে।   সূত্র: ডব্লিউইএসএইচ, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ২২:১৮
ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে গুলির ঘটনার পর তদন্ত চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোলাগুলি, তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত

সাউথ রিচমন্ড হিলের একটি বাড়িতে শিশুর মৃত্যুর পর তদন্ত শুরু করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে মর্মান্তিক ঘটনা, ৯১১ এ কল করে পাঁচ বছরের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার মায়ের

১. যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লক্ষ্যে যাদব। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলারে প্রাইভেট আইল্যান্ডসহ বাড়ি, রয়েছে ১৮০০ সালের খামারবাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলারে প্রাইভেট আইল্যান্ডসহ বাড়ি, রয়েছে ১৮০০ সালের খামারবাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের মিডলসেক্স এলাকায় ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে প্রায় ২৩ একর জমির একটি সম্পত্তি। এতে রয়েছে র‍্যাপাহ্যানক নদীর তীরে বালুকাময় সৈকত, ১৮০০ সালের একটি খামারবাড়ি এবং নিজস্ব প্রায় এক একরের প্রাইভেট আইল্যান্ড।    রিয়েল এস্টেটবিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল্টর ডটকমের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্পত্তিটিকে সপ্তাহের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাড়ির তালিকায় শীর্ষে রাখা হয়েছে। সম্পত্তিটির মূল আকর্ষণ ‘অয়েস্টার হাউস’ নামের প্রাইভেট আইল্যান্ড। নদীর মাঝখানে অবস্থিত দ্বীপটিতে রয়েছে একটি দোতলা বাড়ি। ওপরের তলায় দুটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, বসার ঘর ও একটি বাথরুম রয়েছে। নিচের তলাটিও আংশিকভাবে নির্মিত, সেখানে বাথরুম তৈরির প্রাথমিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সম্পত্তিতে ছোট নৌকা নামানোর জন্য একটি বোট র‍্যাম্পও রয়েছে।   মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত ১৮০০ সালের খামারবাড়িটির সঙ্গে রয়েছে পুরোনো পোস্ট অফিস ও দোকানঘর। প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট নদীতীরজুড়ে বিস্তৃত এই সম্পত্তিতে বালুকাময় সৈকত ছাড়াও রয়েছে ব্যক্তিগত পুকুরে যাওয়ার পথ। নদীর তীরবর্তী অবস্থান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে সম্পত্তিটি সাধারণ আবাসিক বাড়ির তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করছে।   তবে সম্পত্তিটি কেনার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। দ্বীপে যাওয়ার সংযোগপথটি আগে গাড়ি চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্তমানে সেটি মেরামত করা প্রয়োজন। ভাটার সময় পথটি ব্যবহার করে দ্বীপে যাওয়া সম্ভব বলে বিক্রির বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল খামারবাড়িটি থেকে আগের ভাড়াটিয়ার জিনিসপত্র সরানোর কাজ চলায় সেটি পরিদর্শনের জন্য সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকতে পারে।   রিয়েল্টর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি আগে ভাড়া দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে ভবিষ্যতে ভাড়ার মাধ্যমে আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের আয় নিশ্চিত নয়। সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ির বর্তমান অবস্থা, সংস্কার ব্যয়, দ্বীপে যাতায়াতের সুবিধা এবং সম্পত্তি ব্যবহারের প্রযোজ্য বিধিনিষেধ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   ২৯৭৭ বুটিলো রোডের এই সম্পত্তিটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রাইভেট আইল্যান্ড, ঐতিহাসিক খামারবাড়ি এবং নদীতীরবর্তী বিস্তৃত জমির সমন্বয়ে তৈরি এই সম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসনবাজারে ব্যতিক্রমী একটি বিক্রয়প্রস্তাব হিসেবে নজর কেড়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৯:৫
বিশ্ববিদ্যালয় ডব্লিউইউএসটি

পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রে ষষ্ঠ বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ডব্লিউইউএসটি

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে হিন্দু মন্দিরে

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে হিন্দু মন্দিরে গু লি ব র্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার

বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশি মানুষের দীর্ঘ সারি

নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার নিতে বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সারি, কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

0 Comments