তীব্র গরমের মাঝেও স্বস্তির শহর বাফেলো, শীতল আবহাওয়ার কারণে বাড়ছে আবাসন ক্রেতাদের আগ্রহ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে গত মার্চ মাস থেকেই তীব্র দাবদাহ বইছে। সল্টলেক সিটি থেকে শুরু করে বোস্টন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতার মধ্যে বসবাস করছেন। তবে এর মধ্যেও অন্তত একটি মেট্রোপলিটন এলাকা অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় অনেকটাই শীতল রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো হলো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি সংলগ্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে একমাত্র বড় শহর, যেখানে তাপমাত্রা কখনোই ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট স্পর্শ করেনি। ইরি হ্রদের পূর্ব তীরে অবস্থিত হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবেই শহরটি একটি স্বয়ংক্রিয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পেয়ে গেছে, যা একে গ্রীষ্মের চরম বৈরী আবহাওয়া থেকে সুরক্ষিত রেখেছে।
অনেকের কাছেই বাফেলো মানেই বিলস দল, চিকেন উইংস আর প্রচুর বরফ। তবে যে ভৌগোলিক সুবিধা শহরটিকে গ্রীষ্মে শীতল রাখে, সেটিই আবার শীতকালে এখানে প্রচুর তুষারপাতের কারণ ঘটায়। ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর চিফ সাসটেইনেবিলিটি অফিসার রায়ান ম্যাকফারসনের মতে, গ্রেট লেকসের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় শহরটি প্রাকৃতিকভাবেই একটি স্থিতিশীল ও নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ উপভোগ করে।
শহরের বিস্তৃত পার্ক সিস্টেম, প্রচুর গাছপালা এবং উত্তরাঞ্চলীয় অবস্থান এই শীতলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বাফেলো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। ম্যাকফারসন শহরটিকে 'ক্লাইমেট হ্যাভেন' বা জলবায়ু স্বর্গ আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, জলবায়ুর যে বর্তমান গতিপ্রকৃতি, তাতে কোনো এক সময় বাফেলোতেও তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে। এছাড়া ২০২৩ সালে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া এবং ক্রমবর্ধমান ভারী বৃষ্টিপাত প্রমাণ করেছে যে, চরম তাপমাত্রাই শহরটির একমাত্র সমস্যা নয়।
তবে বাফেলোর এই সাময়িক জলবায়ুগত সুবিধাটি স্থানীয় আবাসন এবং বিমা বাজারে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রাইভেট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ডায়ান ডেলানির মতে, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া বা টেক্সাসের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিমা কোম্পানিগুলো যখন কঠোর শর্ত দিচ্ছে এবং প্রিমিয়াম ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন বাফেলোর চিত্র বেশ স্বস্তিদায়ক।
ইনস্যুরিফাই-এর তথ্যমতে, বাফেলোতে একটি ৩ লাখ ডলারের সম্পদের গড় বার্ষিক প্রিমিয়াম মাত্র ১,২৮৫ ডলার। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে এটি ২,৩৬৪ ডলার এবং মিয়ামিতে আকাশছোঁয়া ১৪,৫২০ ডলার। তবে ডেলানি ও ম্যাকফারসন দুজনেই একমত যে, জলবায়ুর পরিবর্তনশীল এই সময়ে কোনো অঞ্চলকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাবার সুযোগ নেই। তাই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে কেবল শহর পরিবর্তন না করে, বাফেলোর মতো থার্মাল এনার্জি নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য টেকসই অবকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পে এখনই বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কব কাউন্টিতে নিজের জন্মদিনের পার্টিতে সুইমিংপুলে ডুবে গিয়ে প্রায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছিল দুই বছরের এক শিশু। তবে পার্টিতে উপস্থিত অতিথিদের তাৎক্ষণিক উপস্থিত বুদ্ধিতে শেষ পর্যন্ত শিশুটির প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জ্ঞান ফেরার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার রাত ৯টার পরপর কব কাউন্টির ৪৫০১ সার্কেল ৭৫ পার্কওয়েতে অবস্থিত স্টেডিয়াম ওয়াক অ্যাপার্টমেন্টে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির জন্মদিন উদ্যাপনের জন্যই সেখানে একটি পুল পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। উৎসবের আনন্দের মাঝেই হঠাৎ উপস্থিত লোকজন শিশুটিকে সুইমিংপুলের পানিতে অচেতন অবস্থায় ভাসতে দেখেন। তাকে দ্রুত পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পার্টিতে উপস্থিত কয়েকজন কালক্ষেপণ না করে শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়া শুরু করেন। তাদের এই সময়োচিত পদক্ষেপের ফলেই অলৌকিকভাবে শিশুটি জ্ঞান ফিরে পায়। খবর পেয়ে কব কাউন্টি পুলিশের পাশাপাশি ম্যারিয়েটা ফায়ার সার্ভিসের জরুরি চিকিৎসা দলের (ইএমটি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং শিশুটির চিকিৎসায় সার্বিক সহায়তা করেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক তৎপরতা নেই; এটি নিছকই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ
ফিলাডেলফিয়ার ‘হাউস অব হররস’ নামের সেই বাড়িতে মিলল নারীকে শ্বাসরোধে হ ত্যার ভিডিও
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নির্ভরশীল জীবনসঙ্গীদের (এইচ-৪ ভিসা) ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে দেশটিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, যা বহু প্রবাসী পরিবারের কর্মজীবন ও আর্থিক আয়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের 'অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স'-এর ওয়েবসাইটে (Reginfo.gov) সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই বিধিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে চালু হওয়া একটি নিয়মকে বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে এইচ-৪ ভিসাধারীরা কাজের অনুমতি বা 'এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট' (ইএডি) পেয়ে আসছিলেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এইচ-১বি ভিসা থাকা কর্মীর গ্রিন কার্ডের আবেদন (ফর্ম আই-১৪০) অনুমোদিত হলে কিংবা গ্রিন কার্ড ব্যাকলগের কারণে ভিসার মেয়াদ ছয় বছরের বেশি বাড়ানো হলে, তাদের এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী কাজের অনুমতির আবেদন করতে পারেন। নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অর্থায়নসহ বিভিন্ন পেশাগত খাতে কর্মরত হাজার হাজার দক্ষ এইচ-৪ ভিসাধারী তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাবেন। বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং পরিবারের ব্যয় নির্বাহে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর এটি সরাসরি নেতিবাচক আর্থিক চাপ তৈরি করবে। এই প্রস্তাবের সমর্থকরা দাবি করছেন, এইচ-৪ ক্যাটাগরির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হলে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান স্থানীয় আমেরিকান কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবলই একটি প্রাথমিক অনুমান এবং চূড়ান্ত নীতিমালার ওপর ভিত্তি করেই এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর হয়নি এবং বর্তমান কার্ডধারীদের কাজের অনুমতি অবিলম্বে বাতিল হচ্ছে না। যেকোনো প্রশাসনিক প্রস্তাব চূড়ান্ত বিধিতে রূপ নেওয়ার আগে ফেডারেল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জনসাধারণের মতামত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়। ফলে প্রশাসন থেকে চূড়ান্ত কোনো আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান এইচ-৪ ইএডি কার্ডধারীরা তাঁদের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী আগের নিয়মেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। অভিবাসন নীতিমালা কঠোর করার সামগ্রিক কৌশলের অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের খোঁজে নাসার ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘রোমান’ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ
মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি পরিবারের স্ত্রী ও বড় মেয়ে নিহত, স্বামী ও ছোট মেয়ে হাসপাতালে
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, গ্রেপ্তারের পর ঘাতকের মুখে ঈশ্বরের প্রশংসা
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতারা। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে ইরান অভিযানে বিপুলসংখ্যক সেনা, যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অস্ত্র ব্যবহৃত হলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের হুমকি মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা-সংক্রান্ত একটি গোপন নথিতে সামরিক নেতাদের এই উদ্বেগ উঠে এসেছে। গত ১৪ আগস্টের ওই নথি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী চার তারকা কর্মকর্তারা হেগসেথকে তাদের মূল্যায়ন জানিয়েছেন। ওই নথিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং কিছু সেনাকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত রাখার নির্দেশনার কথা রয়েছে। ইরান অভিযানে এসব বাহিনীর উপস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনাই সামরিক নেতাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইউরোপ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের নেতৃত্ব এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এই বাহিনী বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে নির্দেশনা কার্যকর করার কথা তারা জানিয়েছেন। ইরান যুদ্ধের কারণে ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কমান্ডগুলোর জাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলগুলোর নিজস্ব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিশেষ করে নৌবাহিনীকে যুদ্ধকালীন চাহিদা পূরণে নিজেদের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান অভিযানে নৌবাহিনী যে মাত্রায় সহায়তা দিচ্ছে, তা আর দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা সম্ভব নয়, কারণ যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যুদ্ধের কারণে নৌবাহিনীর জাহাজ ও নাবিকদের মোতায়েনের মেয়াদও কয়েক মাস করে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নৌবাহিনীর ধ্বংসকারী জাহাজের মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ইরান অভিযানের বর্তমান চাপ অব্যাহত থাকলে জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো সংঘাত তৈরি হলে নৌবহরের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সামরিক নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু নৌবাহিনীতেই সীমাবদ্ধ নেই। সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনা মার্চে ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই অঞ্চলে থাকার কথা রয়েছে। কিছু সামরিক কর্মকর্তা ধারণা করছেন, এই মোতায়েনের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। এদিকে বিমানবাহিনীর যেসব ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে নিয়মিত বোমা হামলা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের অনেককেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনকে আগের দেওয়া অস্ত্রের কারণে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রীপার ড্রোন বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ হারিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছিলেন যে দীর্ঘমেয়াদি বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও মিত্রদের সহায়তা নেই। সাম্প্রতিক সময়েও ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ পর্যাপ্ত নৌবাহিনীর সক্ষমতা না থাকার বিষয়ে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো সামরিক কমান্ডে কতটা এবং কতদিন বাহিনী মোতায়েন থাকবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বর্তমান হুমকি, প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং সামরিক নেতৃত্বের পরামর্শের ভিত্তিতে। তবে পেন্টাগন গোপন নির্দেশনা নথির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, সামরিক কমান্ডগুলোর মতপার্থক্য বা ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস? সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক
প্রতি বছর মেয়ের কবরে ফেরেন বাবা, ছবিতে ধরা পড়ে অশ্রুসিক্ত মুহূর্ত