আমেরিকা

তীব্র গরমের মাঝেও স্বস্তির শহর বাফেলো, শীতল আবহাওয়ার কারণে বাড়ছে আবাসন ক্রেতাদের আগ্রহ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৮:২৯
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে গত মার্চ মাস থেকেই তীব্র দাবদাহ বইছে। সল্টলেক সিটি থেকে শুরু করে বোস্টন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতার মধ্যে বসবাস করছেন। তবে এর মধ্যেও অন্তত একটি মেট্রোপলিটন এলাকা অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় অনেকটাই শীতল রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো হলো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি সংলগ্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে একমাত্র বড় শহর, যেখানে তাপমাত্রা কখনোই ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট স্পর্শ করেনি। ইরি হ্রদের পূর্ব তীরে অবস্থিত হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবেই শহরটি একটি স্বয়ংক্রিয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পেয়ে গেছে, যা একে গ্রীষ্মের চরম বৈরী আবহাওয়া থেকে সুরক্ষিত রেখেছে।

 

অনেকের কাছেই বাফেলো মানেই বিলস দল, চিকেন উইংস আর প্রচুর বরফ। তবে যে ভৌগোলিক সুবিধা শহরটিকে গ্রীষ্মে শীতল রাখে, সেটিই আবার শীতকালে এখানে প্রচুর তুষারপাতের কারণ ঘটায়। ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর চিফ সাসটেইনেবিলিটি অফিসার রায়ান ম্যাকফারসনের মতে, গ্রেট লেকসের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় শহরটি প্রাকৃতিকভাবেই একটি স্থিতিশীল ও নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ উপভোগ করে।

 

শহরের বিস্তৃত পার্ক সিস্টেম, প্রচুর গাছপালা এবং উত্তরাঞ্চলীয় অবস্থান এই শীতলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বাফেলো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। ম্যাকফারসন শহরটিকে 'ক্লাইমেট হ্যাভেন' বা জলবায়ু স্বর্গ আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, জলবায়ুর যে বর্তমান গতিপ্রকৃতি, তাতে কোনো এক সময় বাফেলোতেও তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে। এছাড়া ২০২৩ সালে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া এবং ক্রমবর্ধমান ভারী বৃষ্টিপাত প্রমাণ করেছে যে, চরম তাপমাত্রাই শহরটির একমাত্র সমস্যা নয়।

 

তবে বাফেলোর এই সাময়িক জলবায়ুগত সুবিধাটি স্থানীয় আবাসন এবং বিমা বাজারে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রাইভেট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ডায়ান ডেলানির মতে, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া বা টেক্সাসের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিমা কোম্পানিগুলো যখন কঠোর শর্ত দিচ্ছে এবং প্রিমিয়াম ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন বাফেলোর চিত্র বেশ স্বস্তিদায়ক।

 

ইনস্যুরিফাই-এর তথ্যমতে, বাফেলোতে একটি ৩ লাখ ডলারের সম্পদের গড় বার্ষিক প্রিমিয়াম মাত্র ১,২৮৫ ডলার। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে এটি ২,৩৬৪ ডলার এবং মিয়ামিতে আকাশছোঁয়া ১৪,৫২০ ডলার। তবে ডেলানি ও ম্যাকফারসন দুজনেই একমত যে, জলবায়ুর পরিবর্তনশীল এই সময়ে কোনো অঞ্চলকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাবার সুযোগ নেই। তাই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে কেবল শহর পরিবর্তন না করে, বাফেলোর মতো থার্মাল এনার্জি নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য টেকসই অবকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পে এখনই বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিয়ামিতে গ্রেপ্তার শিক্ষক
১৫ বছরের ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিয়ামিতে গ্রেপ্তার শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথওয়েস্ট মিয়ামি-ডেডের একটি চার্টার স্কুলের সাবেক ব্যান্ড শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার হেইহাচিরো নাকশিমা (৩৩) নামের ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে মিয়ামি-ডেড শেরিফ অফিস। তদন্তের ভিত্তিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অশ্লীল ও কামুক কার্যকলাপে জড়িত থাকার তিনটি পৃথক অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   সিবিএস নিউজ মিয়ামির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা জেসুস ল্যানেসের নেতৃত্বাধীন একটি তদন্তে জানা গেছে, গত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ডেডল্যান্ড মলের কাছে নাকশিমার অ্যাপার্টমেন্টে এই আপত্তিকর ঘটনাগুলো ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের এক সদস্য বিষয়টি প্রথম শেরিফ অফিসকে অবহিত করেন।   গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মিন্ডি গ্লেজার অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ৪৫ হাজার ডলারের জামিন নির্ধারণ করে জিপিএস মনিটরসহ তাকে গৃহবন্দী (হাউস অ্যারেস্ট) রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া আদালত তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।   গ্রেপ্তারি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত নাকশিমা পাম গ্লেডস প্রিপারেটরি একাডেমি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ল্যানেস জানান, শিক্ষক-ছাত্রী সম্পর্কের সুযোগ নিয়েই এই অনৈতিক সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং প্রেমের মিথ্যা জালে ফাঁসিয়েছিলেন। এমনকি তিনি নিজের বিভিন্ন মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের টিকিটও ওই ছাত্রীকে দিতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবক ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গোয়েন্দা ল্যানেস। তিনি বলেন, সন্তানরা হঠাৎ করে দামি বা অজানা কোনো জিনিসপত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। যদি তাদের কোনো আয়ের উৎস না থাকে, তবে তারা কীভাবে এসব জিনিস পাচ্ছে তা অভিভাবকদের গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপেও নিয়মিত নজর রাখার তাগিদ দেন তিনি।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহ করছে যে, এই শিক্ষকের দ্বারা আরও কেউ হয়রানির শিকার হয়ে থাকতে পারে। তাই এ বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, শুনানিকালে নাকশিমার আইনজীবী দাবি করেন যে, তার মক্কেল পালিয়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকিতে নেই বা সমাজের জন্য তিনি হুমকিস্বরূপ নন।   কারণ তার আগের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় গোয়েন্দাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে চার্টার স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৯:৩৫
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে ৯ পেগ মদ পান করা মাতাল চালকের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন পুলিশ কর্মকর্তা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

তীব্র গরমের মাঝেও স্বস্তির শহর বাফেলো, শীতল আবহাওয়ার কারণে বাড়ছে আবাসন ক্রেতাদের আগ্রহ

১৮ বছর বয়সী দুই যমজ বোন অ্যাঞ্জেলি জেরেজ-মেদিনা ও অ্যালেক্সকা জেরেজ-মেদিনা

মিশিগানের ডেট্রয়েটের দুই যমজ বোনকে আটক করে আলাদা ডিটেনশন সেন্টারে পাঠাল আইসিই, ক্ষুব্ধ কমিউনিটি

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অশ্বিন রামাস্বামী
স্ট্যানফোর্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ব্যবস্থার ত্রুটি ধরেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছাত্র, ৭ বছর পর পরিচয় প্রকাশ

২০১৯ সালে বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভর্তি সিস্টেমে থাকা একটি মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি জনসমক্ষে আসে। দীর্ঘ সাত বছর পর জানা গেল, সেই ত্রুটিটি যিনি ধরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর কেউ নন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অশ্বিন রামাস্বামী। সম্প্রতি মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত প্রবন্ধে তিনি জানান যে, তিনিই ছিলেন সেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্ট্যানফোর্ডের ছাত্র, যিনি নিজের নথির অনুরোধ করতে গিয়ে এই বিশাল গলদটি আবিষ্কার করেছিলেন। বর্তমানে অশ্বিন সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক স্টার্টআপ ‘করিডোর’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) হিসেবে কর্মরত আছেন।   ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটে যখন অশ্বিন ‘ফ্যামিলি এডুকেশনাল রাইটস অ্যান্ড প্রাইভেসি অ্যাক্ট’-এর (FERPA) অধীনে নিজের ভর্তির নথিপত্র দেখার জন্য আবেদন করেন। ভর্তির সময় কর্মকর্তারা কী মন্তব্য করেছিলেন, সেটি দেখাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। মন্তব্যগুলো দেখতে না পেলেও তিনি গুগল ক্রোমের ডেভেলপার টুল ব্যবহার করে খেয়াল করেন যে, ইউআরএল-এ (URL) থাকা নথির একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা (ID) পরিবর্তন করলেই অন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংবেদনশীল তথ্য লোড হয়ে যাচ্ছে। ওয়েব নিরাপত্তার ভাষায় এটিকে ‘ইনসিকিউর ডাইরেক্ট অবজেক্ট রেফারেন্স’ বা আইডিওআর (IDOR) বলা হয়। এই ত্রুটির ফলে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, ট্রান্সক্রিপ্ট, বাড়ির ঠিকানা, নাগরিকত্বের তথ্য, আর্থিক সহায়তার তথ্য, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের (SSN) মতো অতি গোপন তথ্যও উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল।   ত্রুটিটি আবিষ্কারের পর তিনি বিষয়টি স্ট্যানফোর্ড ডেইলিকে জানান, যেখানে তিনি তখন পত্রিকার প্রথম প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এবং ‘কম্পিউটার ফ্রড অ্যান্ড অ্যাবিউজ অ্যাক্ট’ (CFAA)-এর অধীনে সম্ভাব্য শাস্তির কথা ভেবে আইনজীবীর পরামর্শে তিনি সিস্টেমে প্রবেশ করা বন্ধ করেন। স্ট্যানফোর্ড কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তদন্তে দেখা যায়, মোট ৯৩ জন শিক্ষার্থীর তথ্য অননুমোদিতভাবে দেখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং সিস্টেম সুরক্ষিত করে। অশ্বিনকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তবে তাকে বাধ্যতামূলক কিছু কাউন্সেলিং সেশনে অংশ নিতে হয়েছিল। এই ঘটনার পর স্ট্যানফোর্ড তাদের বাগ বাউন্টি প্রোগ্রামকে আরও প্রসারিত করে।   অশ্বিন জানান, এই অনাকাঙ্ক্ষিত আবিষ্কারটি তার সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি নীতি এবং দায়িত্বশীল দুর্বলতা প্রকাশের বিষয়ে কাজ করার আগ্রহকে আরও দৃঢ় করেছিল। এই ঘটনার পরই তিনি সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে বিশদ পড়াশোনা করেন এবং ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সিতে (CISA) যোগ দেন। সেখানে তিনি নির্বাচনী অবকাঠামোর দুর্বলতা শনাক্তের সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ল সেন্টারে পড়াশোনা শেষে সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জ্যাক কেবলের সঙ্গে মিলে ‘করিডোর’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার ভিত্তি মূলত রচিত হয়েছিল স্ট্যানফোর্ডের সেই আলোচিত ঘটনার মধ্য দিয়েই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৭:২৮
নোবেলজয়ী প্রখ্যাত রসায়নবিদ ওমার ইয়াঘি I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চীনে পাড়ি জমালেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, মেধা পাচারের শঙ্কায় আমেরিকা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৮ বছরের তরুণের মৃত্যুর জেরে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের দাবি পরিবারের

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে পড়াশোনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রেমিককে নিয়ে দাদীসহ ৫ স্বজনকে হত্যা করল ১৫ বছরের কিশোরী

ক্যালিফোর্নিয়ায় কার্যকর হচ্ছে নতুন প্যাকেজিং ফি I ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় কার্যকর হচ্ছে নতুন প্যাকেজিং ফি, বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে আগামী মাস থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এমন প্যাকেজিংয়ের ওপর নতুন ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে। পরিবেশ দূষণ রোধে রাজ্য সরকারের নেওয়া এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের বিপরীতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ২০২২ সালে পাস হওয়া ‘প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ ও প্যাকেজিং উৎপাদক দায়বদ্ধতা আইন’ বা সেনেট বিল ৫৪ (SB 54)-এর আওতায় এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং ২০৩২ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিক্রি হওয়া সব ধরনের প্যাকেজিং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা কম্পোস্টযোগ্য করা। নতুন নিয়মের ফলে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক কম খরচের সুবিধা পাবে, অন্যদিকে যারা পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এমন প্যাকেজিং ব্যবহার করবে, তাদের অতিরিক্ত ফি গুণতে হবে।   ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই ফি কার্যকর হলে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অতিরিক্ত খরচ পণ্যের দামের মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। ফলে প্রতিটি পরিবারকে বছরে অতিরিক্ত ৬৬ থেকে ১৯০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হতে পারে।   রাজ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘ক্যালরিসাইকেল’ জানিয়েছে, প্রায় ৫ হাজার ৭৪১টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন বিধিমালা মেনে চলতে হবে, যাদের বার্ষিক গড় সম্মতি ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ লাখ ৫৭ হাজার ডলারে। তবে যেসব ছোট প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক মোট বিক্রি ১০ লাখ ডলারের কম, তারা এই আইনের অনেক শর্ত থেকেই ছাড় পাবে। ক্যালরিসাইকেলের হিসাবে, প্রায় ৭ হাজার ৮৭৪টি এমন ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য বছরে গড়ে মাত্র ১৫৫ ডলার প্রশাসনিক খরচ হতে পারে।   উৎপাদকরা যদি নতুন ফি সামাল দিতে পণ্যের দাম বাড়ায়, তবে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ৫ লাখ ৪৬ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও পরোক্ষভাবে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়বে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বছরে গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০৬ ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হতে পারে। তবে উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতারা যদি বাড়তি ব্যয়ের মাত্র ৩০ শতাংশ সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপায়, তবে একজন ভোক্তার বছরে গড়ে মাত্র ২০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হবে বলে রাজ্য সরকার অনুমান করছে।   তবে সরকারি এই হিসাবের বাইরে বিশেষজ্ঞদের ধারণা আরও উদ্বেগজনক। ডেইরি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাহী পরিচালক কেটি ডেভির মতে, বাস্তবে এই ব্যয় সরকারের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তিনি সতর্ক করে জানান, নতুন বিধিমালার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার একজন বাসিন্দাকে বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় এমনিতেই অনেক বেশি, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৩:২৯
জাতীয় জরিপে মার্কিন তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ভোটারদের মধ্যে দ্রুত কমছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

মহামারি আমলের উন্মাদনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭০ শতাংশ বড় শহর এখন ক্রেতাদের বাজারে পরিণত হয়েছে। ছবি: অ্যাডোবি স্টক

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বড় শহরে এখন বাড়ি কেনার সুবিধা পাচ্ছেন ক্রেতারা

মুসলিম ভোটারদের নিয়ে আশঙ্কার কথা সাক্ষাৎকারে স্বীকার করলেন মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী মেলিসা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম ভোটাররা অসন্তুষ্ট হতে পারেন এই ভয়ে সমকামীদের পক্ষে মুখ খুলছেন না মার্কিন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী!

0 Comments