কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আবাসনের সংকটের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়িভাড়া নতুন রেকর্ড গড়েছে। সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরটিতে এক বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া প্রথমবারের মতো ৪ হাজার ডলার অতিক্রম করেছে।
অনলাইন ভাড়াবিষয়ক মার্কেটপ্লেস জাম্পারের জুলাই ২০২৬ সালের ন্যাশনাল রেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০ ডলার। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে এই ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে শহরটিতে এক বেডরুমের ভাড়া প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি। একই সময়ে জাতীয় পর্যায়ে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫২৬ ডলারে পৌঁছেছে।
জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, এক বেডরুমের ভাড়ার দিক থেকে নিউইয়র্ক এখনো সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর। সেখানে মধ্যম ভাড়া ৪ হাজার ৬৬০ ডলার। তবে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়ায় সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষে রয়েছে।
জাম্পারের আবাসন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টাল চেন জানান, চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো সান ফ্রান্সিসকোতে এক বেডরুমের ভাড়া ৪ হাজার ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে জুন মাসে সেই হার স্থায়ীভাবে ৪ হাজার ডলারের ওপরে অবস্থান করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের জুনে একই শহরে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ছিল ২ হাজার ৭৯০ ডলার। এরপর কয়েক বছর ভাড়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত বছর থেকে বাড়তি চাপ তৈরি হয় এবং চলতি বছরে তা নতুন রেকর্ডে পৌঁছায়।
জাম্পারের গবেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ সান ফ্রান্সিসকোতে এআই শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ। নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ বাড়ানোয় উচ্চ আয়ের কর্মীরা আবার শহরে ফিরছেন। পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের অফিসে উপস্থিত হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ায় আবাসনের চাহিদা আরও বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শহরটিতে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি খুবই ধীর। বর্তমানে ভাড়ার জন্য খালি আবাসনের হার ৪ শতাংশেরও কম। ফলে বাড়তি চাহিদার বিপরীতে নতুন সরবরাহ না থাকায় ভাড়া দ্রুত বাড়ছে।
এআই শিল্পের এই প্রভাব সান ফ্রান্সিসকোর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ওকল্যান্ডে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া বেড়ে ২ হাজার ৭০ ডলার এবং সান হোসেতে ২ হাজার ৭৬০ ডলারে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, একই এআইনির্ভর চাহিদার কারণে এই দুই শহরেও ভাড়ার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
জাম্পারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন আবাসন নির্মাণ না বাড়লে সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি প্রশাসন ব্যবহৃত সিরিঞ্জ জমা দিলে নগদ অর্থ দেওয়ার বিতর্কিত পরীক্ষামূলক কর্মসূচিকে স্থায়ী করেছে। নতুন অর্থবছরের ১২৬ বিলিয়ন ডলারের সিটি বাজেটে এই কর্মসূচি চালিয়ে যেতে ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের আগে গত ৩০ জুন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে জমা দেওয়া স্বাস্থ্য বিভাগের নথিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সংগ্রহকেন্দ্রে প্রতিটি ব্যবহৃত সিরিঞ্জ জমা দিলে ২০ সেন্ট করে দেওয়া হয়। একজন অংশগ্রহণকারী প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০টি সিরিঞ্জ জমা দিয়ে ১০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। বর্তমানে নিউইয়র্কের আটটি কেন্দ্রে সিরিঞ্জ জমা দেওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্রঙ্কসে, এবং ব্রুকলিন, ম্যানহাটন ও কুইন্সে একটি করে কেন্দ্র রয়েছে। বস্টনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা Addiction Response Resources ২০২০ সালে একই ধরনের কর্মসূচি চালু করেছিল। সংস্থাটি ১১.১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের এই কর্মসূচি পরিচালনা করবে। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ব্যবহৃত সিরিঞ্জের বিনিময়ে নগদ অর্থ দেওয়া অবৈধ মাদক ব্যবহারে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিতে পারে। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘হার্ম রিডাকশন’ নীতির অংশ, যার লক্ষ্য ব্যবহৃত সিরিঞ্জ নিরাপদে সংগ্রহ করে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি কমানো।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক টালসি গ্যাবার্ডের বড় ভাই ভক্তি (বাটার্তি) গ্যাবার্ডকে শিশুদের একটি হোটেল কক্ষে প্রলুব্ধ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে হাওয়াই পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি কয়েকজন শিশুকে চুইংগাম ও টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে নিজের হোটেল কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। হোনোলুলু স্টার অ্যাডভার্টাইজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার হাওয়াইয়ের হনোলুলুতে ৫৫ বছর বয়সী বাটার্তি গ্যাবার্ড কয়েকজন শিশুর কাছে যান। তাদের মধ্যে ৯ বছর বয়সী এক ছেলেও ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি শিশুদের চুইংগাম ও টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তার হোটেল কক্ষে যেতে বলেন। এছাড়া শিশুদের নাম জিজ্ঞাসা করে একটি নোটবুকে লিখেও রাখেন। তবে শিশুরা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে ঘটনাটি পুলিশের নজরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বাটার্তি গ্যাবার্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির ‘কাস্টোডিয়াল ইন্টারফেরেন্স’ অভিযোগ আনা হয়েছে, যা হাওয়াই আইনে একটি লঘু অপরাধ (মিসডিমিনর) হিসেবে বিবেচিত হয়। ঘটনার দিনই তার স্ত্রী কিম্বারলি গ্যাবার্ড আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ (প্রোটেকটিভ অর্ডার) চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আগের দিন বাটার্তি গ্যাবার্ডের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। তিনি জনসমক্ষে উচ্চস্বরে গান গাওয়া এবং অন্যদের বিরক্ত করার মতো আচরণ করেন। কিম্বারলি গ্যাবার্ড আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে আসছিলেন, কারণ তার মানসিক অবস্থা ও বিচারবোধের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। টালসি গ্যাবার্ড যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের উচ্চ বেতনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটেছেন ২৯ বছর বয়সী মিশেল ইয়ুং। দীর্ঘ পরিকল্পনা, সঞ্চয় এবং প্রশিক্ষণের পর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইডে তিনি চালু করেন ‘ম্যাচা হাউস’ নামে একটি বিশেষায়িত ম্যাচা ক্যাফে। ব্যবসা শুরুর এক বছরের মধ্যেই সেটি লাভজনক হওয়ার পথে রয়েছে। সিএনবিসি মেক ইট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়লেও ২০২২ সালের পর থেকে নিজের কাজের প্রতি আগ্রহ হারাতে শুরু করেন ইয়ুং। তার ভাষায়, তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যা মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে এবং কাজের মধ্যেই অর্থপূর্ণতা খুঁজে পাবেন। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচা পান করতে গিয়ে ম্যানহাটনে উচ্চমানের ম্যাচা ক্যাফের অভাব তার চোখে পড়ে। তখনই নিজের ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেন। তবে চাকরি ছেড়ে ঝুঁকি নেওয়ার আগে তিনি কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নেন। ম্যাচা সম্পর্কে গভীরভাবে জানার জন্য তিনি জাপান সফর করেন। সেখানে চা সংগ্রহ, প্রস্তুত প্রণালী, পরিবেশন পদ্ধতি এবং বিভিন্ন ধরনের ম্যাচার গুণগত মান নিয়ে গবেষণা করেন। একই সময়ে ভোর ৫টা থেকে স্টারবাকসে কাজ করে ক্যাফে পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন। এরপর নিজের সঞ্চিত দুই লাখ ডলারের বেশি অর্থের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করে ক্যাফেটি চালু করেন। বর্তমানে ‘ম্যাচা হাউস’-এ প্রায় ১০ জন খণ্ডকালীন কর্মী কাজ করছেন। শুরুতে প্রতিটি পানীয় নিজেই তৈরি করলেও এখন তিনি ধীরে ধীরে দায়িত্ব কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। ব্যবসার বেশির ভাগ আয় আবার ব্যবসার সম্প্রসারণেই বিনিয়োগ করছেন। ফলে আগে বছরে আয় ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হলেও, ২০২৬ সালে নিজের জন্য মাত্র ৩৩ হাজার ডলার বেতন নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। ইয়ুংয়ের ভাষায়, এখন তার জীবনের মূল্যায়ন আয়ের অঙ্কে নয়, প্রতিদিন কী কাজ করছেন এবং সেটি তাকে কতটা তৃপ্তি দিচ্ছে—সেখানেই। তিনি বলেন, ব্যবসার প্রথম বছর টিকে থাকতে পারাই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষায়িত কফি ও চা-ভিত্তিক ক্যাফের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সেই প্রবণতার মধ্যেই সীমিত মেনু, মানসম্মত উপকরণ এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন মিশেল ইয়ুং। তার এই যাত্রা দেখিয়ে দিচ্ছে, অনেকের কাছে আর্থিক নিরাপত্তার চেয়ে নিজের পছন্দের কাজ থেকে পাওয়া তৃপ্তিই বড় হয়ে উঠতে পারে।