আমেরিকা

সিস্টেম ত্রুটিতে সান ফ্রান্সিসকোতে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ছড়ায় ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ২১:৩১
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সান ফ্রান্সিসকোর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল অচল হয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সান ফ্রান্সিসকোর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল অচল হয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে শনিবার সকালে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কোম্পানি (পিজিঅ্যান্ডই)-এর একটি সিস্টেম ত্রুটির কারণে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তায় এক লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানানো হলেও পরে পিজিঅ্যান্ডই স্পষ্ট করে জানায়, সেটি ছিল প্রযুক্তিগত ত্রুটিজনিত ভুল তথ্য। প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হন।

 

স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটের কিছু পর এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়। শহরের রিচমন্ড, প্রেসিডিওসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অসংখ্য ট্রাফিক সিগন্যাল অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। 

পিজিঅ্যান্ডই জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের আউটেজ রিপোর্টিং সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ভুলভাবে অনেক বেশি দেখানো হয়েছিল। পরে তথ্য যাচাই করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত পরিধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়।

 

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বয়ংচালিত গাড়ি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েমোও নিরাপত্তার স্বার্থে সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের রাইড সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় সেবা চালু করে। 

ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় দমকল বাহিনী শহরের একটি এলাকায় উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারে আর্কিং বা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। একই সময়ে একটি সাবস্টেশনেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

এটি চলতি বছরের মধ্যে সান ফ্রান্সিসকোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে আলোচিত আরেকটি ঘটনা। গত বছরের ডিসেম্বরে একটি সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে শহরের এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিলেন। সেই ঘটনার পর বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শনিবারের ঘটনায় পিজিঅ্যান্ডই বলছে, এটি মূলত একটি সিস্টেম গ্লিচের কারণে ভুল তথ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সীমিত পরিসরের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ সদস্যের মধ্যে কোটি কোটি ডলারের সরকারি তহবিল নিয়ে গৃহযুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অলটুরাস ইন্ডিয়ান র্যাঞ্চেরিয়া নামের একটি ফেডারেল স্বীকৃত আদিবাসী গোষ্ঠীর বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলারের সরকারি ও উপজাতীয় তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন গোষ্ঠীটির কয়েকজন সদস্য। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের উন্নয়ন, শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবার জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থ সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।  গোষ্ঠীর সদস্য ওয়েন্ডি ডেল রোসা এবং তার আইনজীবীর দাবি, চেয়ারম্যান ফিলিপ ডেল রোসা ও ভাইস চেয়ারম্যান ড্যারেন রোজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তাদের অভিযোগ, এই সময়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি সরকারি ও উপজাতীয় তহবিল নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।        অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উপজাতির জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা প্রায় দেওয়া হয়নি, অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ অর্থের বড় অংশের সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (বিআইএ) কাছেও একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছে।  অলটুরাস ইন্ডিয়ান র্যাঞ্চেরিয়া ক্যালিফোর্নিয়ার মোডক কাউন্টিতে অবস্থিত একটি ছোট ফেডারেল স্বীকৃত উপজাতি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০০৮ সালের পর থেকে সেখানে নিয়মিত নির্বাচন হয়নি। নেতৃত্ব, সদস্যপদ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে।        এদিকে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স সম্প্রতি ওই উপজাতির ট্রাস্টভুক্ত জমিতে প্রয়োজনীয় ফেডারেল অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত কিছু বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমিতে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথি তাদের কাছে নেই।  তবে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা তহবিল তছরুপের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাব এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২:৫১
ছবি: সংগৃহীত

ল্যাবে কী ঘটেছিল? নারী কর্মীর যৌন নিপীড়ন অভিযোগের পর পদ ছাড়লেন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী

ভাগ্য বদলে দেওয়া সেই টিকিট বিক্রি করে ৫ হাজার ডলার কমিশন পেয়েছে সংশ্লিষ্ট দোকান। ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্নের ইঙ্গিতেই কিনলেন লটারি, জিতে নিলেন ৫ লাখ ডলার

স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

চতুর্থ সন্তানের জন্মের খবর জানালেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও উষা ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘরে এলো চতুর্থ সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন। রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় তারা জানান, তাঁদের নবজাতক পুত্রের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক নিল ভ্যান্স। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন এবং পরিবারের অন্য তিন সন্তানও নতুন ভাইকে পেয়ে দারুণ আনন্দিত।    জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার এবং হোয়াইট হাউস মেডিকেল ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি তাঁদের পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের যত্ন ও সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।    অ্যালেক নিল ভ্যান্স দম্পতির তৃতীয় ছেলে। এর আগে তাঁদের দুই ছেলে ইওয়ান ও বিবেক এবং এক মেয়ে মিরাবেল রয়েছে। জেডি ও উষা ভ্যান্স ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে উষা ভ্যান্স সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং তৎকালীন আপিল আদালতের বিচারক ব্রেট কাভানার ক্লার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   এই জন্মটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৫০ বছরেরও বেশি সময় পর দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স দায়িত্বে থাকাকালে।    চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেডি ও উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে একটি পুত্রসন্তান আসছে। সেই ঘোষণার প্রায় ছয় মাস পর নতুন সদস্যকে স্বাগত জানালেন তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ২৩:১৬
ওহাইওর নতুন শিক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ পাঠ্যসূচি। ছবি: সংগৃহীত

সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে, এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলেই শেখানো হতে পারে শিক্ষার্থীদের

ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্মোচিত হয় চার দশকের পুরোনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য। ছবি: সংগৃহীত

৪৪ বছর পর মিলল বিচার, ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সন্তানকে সুইমিংপুলে ডুবিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার টেনেসির এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

নিজের সন্তানকে সুইমিং পুলের পানিতে চুবিয়ে হত্যাচেষ্টা, মা গ্রেপ্তার

অভিবাসীর কন্যাকে বিয়ে করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা?’ জেডি ভ্যান্সকে ওবামার প্রশ্ন
অভিবাসীর কন্যাকে বিয়ে করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা?’ জেডি ভ্যান্সকে ওবামার প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিবাসনবিষয়ক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। লেখক ও সাংবাদিক ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি বলেন, একজন মানুষের আমেরিকান পরিচয়কে তার বাবা-মায়ের জন্মস্থান বা পারিবারিক শিকড় দিয়ে বিচার করার বক্তব্যের সঙ্গে ভ্যান্সের ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্পষ্ট সাংঘর্ষিক দিক রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।    ওবামা বলেন, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট এমন একটি ধারণা তুলে ধরছেন, যা মূলত ‘We the People’-এর একটি ‘blood-and-soil’ বা বংশপরিচয়ভিত্তিক সংস্করণ। তার ভাষায়, সেখানে একজন মানুষের বাবা-মা কে এবং তারা কতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অথচ ভ্যান্স নিজেই একজন অভিবাসী পরিবারের কন্যাকে বিয়ে করেছেন।    ওবামার এই মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সকে ঘিরে। উষা ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও তার বাবা-মা ভারত থেকে অভিবাসন করেছিলেন। জেডি ও উষা ভ্যান্সের তিন সন্তান রয়েছে এবং তারা তাদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন।    আলোচনায় ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল বলেন, এক শতাব্দী আগে অভিবাসীবিরোধী অবস্থান নেওয়া কোনো শীর্ষ রাজনীতিকের পক্ষে অভিবাসী পরিবারের সদস্যকে বিয়ে করা প্রায় অকল্পনীয় ছিল। এর জবাবে ওবামা বলেন, “Hypocrisy is progress” বা “ভণ্ডামিও এক ধরনের অগ্রগতি।” তার ব্যাখ্যায়, অন্তত তখন মানুষ বুঝতে পারে যে তার অবস্থানের সঙ্গে বাস্তবতার একটি অসঙ্গতি রয়েছে এবং সেটিই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে।    সাম্প্রতিক সময়ে জেডি ভ্যান্স জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল একটি ধারণা নয়, বরং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর একটি জাতি হিসেবে তুলে ধরার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অবস্থানকে ঘিরেই ওবামা তার সমালোচনা করেন।    ওবামা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তার বহুত্ববাদে। বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা মানুষ একসঙ্গে আমেরিকান পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তার মতে, নাগরিকত্ব বা জাতীয় পরিচয়কে বংশপরিচয়ের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৯:৪২
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে মেগাসিটি প্রকল্প, টেক্সাসে গেল ১০ হাজার চাকরির সুযোগ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিসে ১৩ বছরের মেয়ের খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা।

যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ব্যবসার জন্য গ্রান্টের সুযোগ I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ব্যবসার জন্য গ্রান্টের সুযোগ, স্যানট্যান্ডারের কর্মসূচিতে মিলতে পারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত

0 Comments