নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল বিলাসবহুল গাড়ি, মহাসড়কে প্রাণ গেল এক চালকের
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরউইনডেল এলাকায় ২১০ নম্বর মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একটি সাদা রঙের বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের কংক্রিট বিভাজকে ধাক্কা মেরে কয়েকবার উল্টে পাশের ঢালে গিয়ে পড়ে।
ক্যালিফোর্নিয়া মহাসড়ক পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৫৫ মিনিটে ইরউইনডেল অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম পাশে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা চালককে মৃত অবস্থায় পান।
দুর্ঘটনার তীব্রতায় গাড়িটি প্রায় ২০০ ফুটজুড়ে সড়কের নিরাপত্তাবেষ্টনী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং পরে সড়কের পাশের ঢালে গিয়ে উল্টে পড়ে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, গাড়িটিতে আরও একজন আরোহী ছিলেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের একটি লেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। যদিও অন্য লেনগুলো দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ক্যালিফোর্নিয়া মহাসড়ক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন বাড়ির মালিক ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা। সুদের হার বাড়ানো হলে কিছু ঋণগ্রহীতার মাসিক খরচ বেড়ে যেতে পারে। তবে অক্টোবরের বৈঠকেই সুদের হার বাড়বে, এমনটি এখনো নিশ্চিত নয়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত অর্থনীতিবিদদের জরিপ অনুযায়ী, ১০০ জনের মধ্যে ৯৪ জনই অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছেন। তাঁদের ধারণা, বছরের শেষ দিকে আবার সুদের হার বাড়ানো হতে পারে। মানিওয়াইজের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩১ লাখ পরিবর্তনশীল সুদের আবাসন ঋণ চালু রয়েছে। এসব ঋণের সুদের হার নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিবর্তিত হতে পারে। ফেড সুদের হার বাড়ালে বাজারের সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ঋণের খরচও বেড়ে যেতে পারে। তবে ফেডের সিদ্ধান্তের কারণে সব বাড়ির মালিকের মাসিক কিস্তি বাড়বে, এমন নয়। যাঁদের ১৫ বা ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজ রয়েছে, তাঁদের বিদ্যমান ঋণের সুদ সাধারণত ফেডের নীতিগত হার পরিবর্তনের কারণে সরাসরি বাড়ে না। পরিবর্তনশীল সুদের ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ঋণের শর্ত ও সুদ পুনর্নির্ধারণের সময় গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্যও সুদের হার বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যাঁরা প্রতি মাসে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ না করে ঋণ বহন করেন, তাঁদের সুদের খরচ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পরিবর্তনশীল সুদের সঙ্গে যুক্ত ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক সুদের হার ফেডের নীতিগত হারের পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়তে পারে। এতে একই পরিমাণ বকেয়া ঋণ পরিশোধ করতেও বেশি অর্থ ব্যয় হতে পারে। তবে সুদের হার কতটা বাড়বে, তা সংশ্লিষ্ট কার্ডের চুক্তি ও সুদ নির্ধারণের নিয়মের ওপর নির্ভর করে। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পেছনে মূল্যস্ফীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার বাড়ানো হলে ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যায় এবং ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের প্রবণতা কমতে পারে। অন্যদিকে, সুদের হার বৃদ্ধি বাড়ি কেনা, ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং পারিবারিক বাজেটের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে ফেডকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। ফেডারেল রিজার্ভের ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টায় সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে। রয়টার্সের জরিপে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দিলেও ডিসেম্বরের মধ্যে হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখেছেন। তবে এটি অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস, ফেডের নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়। এ অবস্থায় পরিবর্তনশীল সুদের মর্টগেজ রয়েছে এমন বাড়ির মালিকদের ঋণের শর্ত, সুদ পুনর্নির্ধারণের তারিখ এবং সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি যাচাই করে রাখা উচিত। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদেরও বকেয়া ঋণ ও সুদের হার পর্যালোচনা করা জরুরি। সম্ভব হলে প্রতি মাসে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ এবং উচ্চ সুদের ঋণ কমানোর পরিকল্পনা আর্থিক চাপ সামলাতে সহায়তা করতে পারে।
শিশুর নামে এক হাজার ডলার! নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ২০২৭ সালে সংকট আরও চরম আকারে বাড়াবে, স্যাকসের পূর্বাভাস
. ট্রাম্পের জয়ের পর দেশ ছেড়ে ইউরোপে, এবার কেন ফিরতে চাইছেন অনেক মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তাঁর প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো, বহিষ্কার অভিযান জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে ট্রাম্প প্রশাসন যখন অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তখন ভিসা বাতিলের এই সংখ্যা সামনে এল। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের গতি আরও বেড়েছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে প্রশাসন জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে তখন পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। নতুন হিসাবে সেই সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও দ্রুতগতিতে ভিসা বাতিল করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কোনো বিদেশি আইন ভঙ্গ করলে, জালিয়াতিতে জড়ালে কিংবা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বহিষ্কার অভিযান জোরদার করার মূল উদ্দেশ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো। তবে মানবাধিকারকর্মী ও অধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ সরকারের এই কঠোর নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপে আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা উদ্বেগ জানিয়েছে। ভিসা বাতিলের যেসব ঘটনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হ ত্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে কয়েকজন বিদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনাও সমালোচনার মুখে পড়েছে। অধিকারকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতের কারণে ভিসা বাতিলের মতো পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইন ভঙ্গ, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভিসা বাতিলের পাশাপাশি অভিবাসী ও ভিসাপ্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিদেশি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চাওয়া বিদেশিদের জন্যও প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠছে বলে সমালোচকেরা মনে করছেন। মানবাধিকারকর্মীদের আরেকটি অভিযোগ হলো, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি ব্যবহার করে প্রশাসন সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। একই সঙ্গে কিছু বিচ্ছিন্ন জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তাদের দাবি। মিনেসোটায় বসবাসরত সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়কে ঘিরে নেওয়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গও এ ক্ষেত্রে সামনে এসেছে। ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে তাঁর প্রশাসন শুধু অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর উদ্যোগই নেয়নি, বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিসার জন্য ব্যয়বহুল ফি আরোপ তার একটি উদাহরণ। তবে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল হওয়া মানেই সব ক্ষেত্রে একই ধরনের অভিযোগ বা একই আইনি প্রক্রিয়া ছিল, এমন নয়। প্রশাসনের প্রকাশিত মোট সংখ্যা থেকে কোন কোন দেশের নাগরিক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বিভিন্ন দেশের ভিসাধারীদের ওপর কতটা পড়েছে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার এসব পদক্ষেপকে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে সমালোচকেরা সতর্ক করছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা না করা হলে এসব পদক্ষেপ বৈধ অভিবাসী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
২০২৮ সালের রিপাবলিকান মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্পের অনুরোধের পর রাশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের শঙ্কা, রাজ্যগুলোকে গোপনে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না হওয়ায় আদালত এ নির্দেশ দেন। আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে আবেদন শুরুর চূড়ান্ত তারিখ, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল একটি আইন প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত ডিভি লটারি কর্মসূচি আটকে রেখেছে। এতে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের পাশাপাশি লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়। মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর আবেদন গ্রহণ শুরু করলে কর্মসূচির নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিচারক মনে করেন, সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়াকে কারণ দেখিয়ে কংগ্রেস অনুমোদিত কর্মসূচি বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিবেচনায় তিনি নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেন। ডিভি লটারি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড লটারি নামেও পরিচিত। এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্বাচিত ব্যক্তিরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিপরীতে ডিভি লটারিতে অংশ নিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব কিংবা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন হয় না। তবে লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ, কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। আবেদনের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে নিবন্ধন চালু হলে যোগ্য দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদনের শর্ত যাচাই করা জরুরি। নিবন্ধন চালুর নির্দেশ থাকলেও চূড়ান্ত সময়সূচি ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।
ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার বন্ধের দাবিতে নিউ ইয়র্কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
শৈশবে নিখোঁজ থাকার সময় স্বর্গ দেখার দাবি যিশুর ছবি আঁকা শিল্পীর