ওয়েস্ট হলিউডে পানির প্রধান পাইপ বিস্ফোরণ: পাঁচ দিন পরও শেষ নয় মেরামত, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউডে শতবর্ষী একটি প্রধান পানির পাইপ বিস্ফোরণের পাঁচ দিন পরও মেরামতকাজ শেষ হয়নি। সোমবারও প্রকৌশলী ও জরুরি সেবাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত সানসেট বুলেভার্ড এবং আশপাশের এলাকা দ্রুত যান চলাচলের জন্য খুলে দিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কবে নাগাদ সড়ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএলএ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পানি ও বিদ্যুৎ বিভাগ (এলএডিডব্লিউপি) জানায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে সানসেট বুলেভার্ড ও হোলোওয়ে ড্রাইভের সংযোগস্থলের নিচে থাকা প্রায় ১০০ বছর পুরোনো ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের একটি প্রধান পানির পাইপ হঠাৎ ফেটে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়।
পানির তীব্র স্রোতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোথাও কোথাও বড় গর্তের সৃষ্টি হয় এবং একাধিক যানবাহন পানিতে আটকে পড়ে। পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
এলএডিডব্লিউপির কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ অপসারণ করে নতুন পাইপ বসানো, ঢালাই, চাপ পরীক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো জটিল ধাপ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণও চলছে। এসব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পানির সরবরাহ বেশিরভাগ এলাকায় স্বাভাবিক থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত মেরামতকাজ অব্যাহত থাকবে। ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো পাইপের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সড়ক বন্ধ থাকায় এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো চালককে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ থাকায় তাদের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক দোকান ও রেস্তোরাঁয় ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ওয়েস্ট হলিউড সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। মেরামতকাজ শেষ হলেই পর্যায়ক্রমে সড়ক খুলে দেওয়া হবে।
লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ কয়েক দশক আগে নির্মিত। ফলে পুরোনো পাইপলাইনগুলো ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা আবারও নগরীর পুরোনো অবকাঠামো আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির মালিকদের জন্য সহায়তা কার্যক্রম চালু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চালকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং নির্মাণকাজ চলাকালে নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সিয়েরা নেভাডা গ্রেজিয়ার্স ব্র্যান্ডের কাঁচা দুধের চিজের সঙ্গে সম্পর্কিত ই. কোলাই সংক্রমণে নয় রাজ্যে ১৩ জন অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং তিনজনের গুরুতর কিডনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এফডিএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট চিজ সারা দেশে বিক্রি হয়েছে। প্রত্যাহার করা পণ্য না খেতে, বিক্রি না করতে এবং পরিবেশন না করতে নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। এফডিএর প্রকাশিত হিসাবে, সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, জর্জিয়া, কেনটাকি, মিশিগান, নেভাডা, ওরেগন, টেনেসি ও ইউটাহতে। এই প্রাদুর্ভাবে কোনো মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়নি। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি জানিয়েছে, অসুস্থদের অর্ধেকের বেশি পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী শিশু। প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে গ্রেজিয়ার্স ব্র্যান্ডের র মিল্ক মন্টেরে জ্যাক, হালাপেনো জ্যাক, মিডিয়াম চেডার ও শার্প চেডার। খুচরা বাজারের আট ও ১৬ আউন্সের প্যাকেটের পাশাপাশি পাইকারি ও খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য সরবরাহ করা পাঁচ পাউন্ডের চিজ এবং ৪০ পাউন্ডের চেডার ব্লকও তালিকায় রয়েছে। প্রস্তুতকারক সিয়েরা নেভাডা চিজ কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কোনো লট, উৎপাদনের তারিখ বা ডেট কোডে সমস্যাটি সীমিত করা যায়নি। তাই বাজারে থাকা সংশ্লিষ্ট সব গ্রেজিয়ার্স র মিল্ক চিজ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এফডিএ ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে জানিয়ে পণ্য প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। একই দিন স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু করে কোম্পানিটি। পরে প্রকাশিত ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সংশ্লিষ্ট চিজের উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। তদন্তে গ্রেজিয়ার্স র মিল্ক মিডিয়াম চেডার খাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে দূষণের নির্দিষ্ট উৎস অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, ফ্রিজ ও ফ্রিজারে এসব চিজ আছে কি না পরীক্ষা করতে হবে। প্রত্যাহার করা পণ্য পাওয়া গেলে তা ফেলে দিতে হবে অথবা কেনার জায়গায় ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নিতে হবে। মূল প্যাকেট ছাড়া রাখা চিজ প্রত্যাহারের তালিকাভুক্ত কি না নিশ্চিত হওয়া না গেলে সেটিও ফেলে দিতে বলেছে এফডিএ। চিজের সংস্পর্শে আসা পাত্র, সরঞ্জাম ও জায়গা পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, শিগা টক্সিন উৎপাদনকারী ই. কোলাই সংক্রমণে তীব্র পেটব্যথা, ডায়রিয়া, রক্তযুক্ত পায়খানা ও বমি হতে পারে। কিছু রোগীর হিমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম বা এইচইউএস দেখা দেয়, যা কিডনির গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। প্রত্যাহার করা চিজ খাওয়ার পর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। রক্তযুক্ত ডায়রিয়া, দুই দিনের বেশি ডায়রিয়া থেকেও উন্নতি না হওয়া, তরল খাবারও পেটে রাখতে না পারার মতো বমি কিংবা প্রস্রাব কমে যাওয়া ও দাঁড়ালে মাথা ঘোরার মতো পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলেছে সিডিসি। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য পাস্তুরিত দুধ ও তা দিয়ে তৈরি দুগ্ধজাত খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫ শহরে দেড় ঘণ্টার রিসার্চ স্টাডিতে একবার অংশ নিলেই ১৫০ ডলার
ফ্লোরিডায় পুলিশের জন্য উড়ন্ত বৈদ্যুতিক যান উন্মোচন, ব্যবহারের অনুমোদন বাকি
২৮ অক্টোবর ফেডের সুদ বাড়লে চাপে পড়তে পারেন ৩১ লাখ বাড়ির মালিক ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী
যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য শিশুদের নামে এককালীন এক হাজার ডলার বিনিয়োগ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক শিশুরা এই সরকারি অর্থ পাওয়ার যোগ্য। শিশুর বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থটি পরিবারের হাতে নগদ দেওয়ার পরিবর্তে শিশুর নিজস্ব বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে জমা হয়। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ জুলাই থেকে এসব অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা নেওয়া ও যোগ্য শিশুদের সরকারি অনুদান দেওয়া শুরু হয়েছে। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য, অল্প বয়স থেকেই শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা। অ্যাকাউন্ট থাকা এবং সরকারি এক হাজার ডলার পাওয়ার যোগ্যতা এক নয়। নির্ধারিত জন্মসালের বাইরের শিশুরাও বয়স ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের সুবিধা পেতে পারে। তবে এককালীন সরকারি অর্থের জন্য ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য। ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই এই অর্থ পাওয়া যাবে না। ট্রেজারি বিভাগ ১ অক্টোবর জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের মাধ্যমে আরও ছয় কোটির বেশি যোগ্য শিশুর জন্য অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে অভিভাবককে অ্যাকাউন্টটি নিজের তত্ত্বাবধানে নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানাতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় পরিচয় ও শিশুর সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই, শিশুর তথ্য পর্যালোচনা এবং অ্যাকাউন্টের শর্ত গ্রহণ করতে হয়। যোগ্য শিশুর সরকারি এক হাজার ডলার পাওয়ার জন্যও এই ধাপ সম্পন্ন করা প্রয়োজন। অফিশিয়াল ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস অ্যাপের মাধ্যমে অভিভাবকেরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। আইআরএসের ব্যবস্থায় ফরম ৪৫৪৭ জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। আইআরএস জানিয়েছে, অনলাইনে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার জন্য অভিভাবকের পরিচয় যাচাইয়ের অ্যাকাউন্ট এবং শিশুর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, জন্মতারিখ ও ঠিকানা প্রয়োজন হয়। সরকারি অর্থের পাশাপাশি পরিবার, স্বজন ও নিয়োগকর্তারাও নির্ধারিত নিয়মে অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারেন। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সাধারণ সীমার আওতাধীন মোট জমার সর্বোচ্চ পরিমাণ বছরে পাঁচ হাজার ডলার। সরকারি প্রাথমিক অনুদানসহ কিছু নির্দিষ্ট ধরনের অর্থ এই সীমার বাইরে থাকে। এটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট নয়। কর্মসূচিতে কম খরচের শেয়ারবাজারভিত্তিক ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে জমা অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য বাজারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে। সরকারি এক হাজার ডলার প্রাথমিক মূলধন হলেও তা নির্দিষ্ট হারে লাভের নিশ্চয়তা দেয় না। অর্থ তোলার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশু যে বছরে ১৮ বছরে পা দেবে, সেই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণত ট্র্যাডিশনাল আইআরএর অর্থ উত্তোলনের নিয়ম প্রযোজ্য হয়। উত্তোলিত অর্থের করযোগ্য অংশে আয়কর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগাম উত্তোলনের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর লাগতে পারে। যোগ্য উচ্চশিক্ষার ব্যয় বা প্রথম বাড়ি কেনার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করের ব্যতিক্রম থাকলেও সব উত্তোলন সম্পূর্ণ করমুক্ত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ২০২৭ সালে সংকট আরও চরম আকারে বাড়াবে, স্যাকসের পূর্বাভাস
. ট্রাম্পের জয়ের পর দেশ ছেড়ে ইউরোপে, এবার কেন ফিরতে চাইছেন অনেক মার্কিন
অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, দলটির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দুজনেরই সম্ভাবনা কমেছে। তবে এই পরিবর্তনকে এখনই রিপাবলিকান ভোটারদের মতামতের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নসংক্রান্ত বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। মঙ্গলবার সেই হার নেমে এসেছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশে। অন্যদিকে, ৩ আগস্ট রুবিওর সম্ভাবনা ছিল ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রিত আরেকটি প্রেডিকশন মার্কেট কালশির হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যদিও সেখানে পরিবর্তনের মাত্রা তুলনামূলক কম। ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের সম্ভাবনা ছিল ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ, মঙ্গলবার তা কমে হয়েছে ৪৩ শতাংশ। রুবিওর ক্ষেত্রে ৩ আগস্টের ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে সম্ভাবনা নেমে এসেছে ১৮ শতাংশে। এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার। ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমার পেছনে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। সপ্তাহান্তে এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সম্ভাবনাও রয়েছে। নিজের চারটি ছোট সন্তান এবং তাঁর স্ত্রীর রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে অর্থনীতির অধ্যাপক ও প্রেডিকশন মার্কেট গবেষক কোলম্যান স্ট্রাম্পফ মনে করেন, ভ্যান্সের বক্তব্যকে বাজারের পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, গত এক সপ্তাহে ভ্যান্সের সম্ভাবনা প্রায় চার শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। এর কেবল একটি অংশ তাঁর বক্তব্যের পর ঘটেছে। বাজারের এই পরিবর্তনকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাধারণত ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমলে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী রুবিওর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার কথা। কিন্তু এবার দুজনের সম্ভাবনাই কমছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের মতো সম্ভাব্য বিকল্পদের সম্ভাবনাও এখনো এক অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাজারে ভ্যান্স বা রুবিওর পরিবর্তে কোনো একজন নতুন প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে আসছেন—এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। স্ট্রাম্পফের মতে, দুই শীর্ষ প্রার্থীর সম্ভাবনা কমলেও অন্য কোনো প্রার্থী উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে না আসার অর্থ হতে পারে, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখনো ভ্যান্সের বক্তব্যকে বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং একাধিক অপেক্ষাকৃত কম সম্ভাবনাময় প্রার্থীর দিকে বাজারের হিসাব কিছুটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কস্টাস প্যানাগোপোলস মনে করেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, রিপাবলিকানরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নেতাদের জন্য সেই সম্পর্ক রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও—দুজনই ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ায় এর প্রভাব তাঁদের ওপরও পড়তে পারে। প্যানাগোপোলসের মতে, কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ভবিষ্যতের সমস্যার জন্য বিরোধীদের দায়ী করার সুযোগও পেতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং তার পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাই ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থ্যাড কাউসারও মনে করেন, ভ্যান্স ও রুবিওর শক্তির একটি বড় উৎস হলো ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। গত এক দশকে রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সেই সমীকরণ বদলে যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া বা নেব্রাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দলটির জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। এমনকি যেসব এলাকায় রিপাবলিকানদের সহজে জেতার কথা, সেখানে অল্প ব্যবধানে জয়ও দলের সমর্থনে দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলের পর রিপাবলিকানদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, তারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখবে, নাকি ভিন্ন পরিচয়ের দিকে এগোবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শাটজের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলাফল হলে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সুবিধার বদলে অসুবিধা হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড় আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রেডিকশন মার্কেটের হিসাবকে সরাসরি জনমত জরিপ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। টেক্সাস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কিথ গ্যাডি সতর্ক করেছেন, বাজারের মূল্যকে ভোটারদের মতামতের বিকল্প হিসেবে দেখা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এসব বাজারে অংশগ্রহণকারীরা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও লেনদেন করেন; প্রার্থী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বা জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই কেবল তাঁদের হিসাব তৈরি হয় না। অন্যদিকে, স্ট্রাম্পফের মতে, বেশি লেনদেন হওয়া প্রেডিকশন মার্কেট দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতিফলন দিতে পারে। তবে কোনো পূর্বাভাসই শতভাগ নির্ভুল নয়। সব মিলিয়ে, ভ্যান্স ও রুবিওর সম্ভাবনা কমে যাওয়া রিপাবলিকান ভোটাররা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন প্রমাণ নয়। বরং এটি ২০২৮ সালের মনোনয়ন নিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন, অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সমর্থন এবং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই রিপাবলিকানদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্রাম্পের অনুরোধের পর রাশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের শঙ্কা, রাজ্যগুলোকে গোপনে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা