নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট মানুষ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালাতে কাজ করছেন এমআইটি শিক্ষার্থী লরেন ফোর্টিয়ার
নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনায় মানুষের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির পিএইচডি শিক্ষার্থী লরেন ফোর্টিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এমন একটি কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরির চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যতের নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট, বিশেষ করে ছোট মাইক্রোরিঅ্যাক্টরকে অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার পথ তৈরি করতে পারে।
২৪ জুলাই এমআইটি নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফোর্টিয়ারের গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বর্তমানে এমআইটির নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পিএইচডি শিক্ষার্থী।
ফোর্টিয়ারের গবেষণার মূল লক্ষ্য নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের জন্য এমন একটি সুপারভাইজরি কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরি করা, যা প্ল্যান্টের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে পারবে। তবে গবেষণাটি এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টগুলো মানুষ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বা শিগগিরই সব অপারেটরকে সরিয়ে দেওয়া হবে, এমন নয়।
ফোর্টিয়ারের এই গবেষণার ধারণা এসেছে তার নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে দক্ষিণ চীন সাগরে একটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনা তদারকির দায়িত্ব পালন করেন।
কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার অনেক প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্রমনির্ভর এবং অপারেটরদের হাতে সম্পন্ন করতে হয়। সেখান থেকেই তার মনে প্রশ্ন আসে, নিরাপত্তা বজায় রেখে এসব কাজের আরও বেশি অংশ স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব কি না।
পরবর্তী সময়ে নৌবাহিনী তাকে অনুমোদিত কয়েকটি বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ দিলে তিনি এমআইটিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নেন। মাস্টার্সের গবেষণায় তিনি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য একটি সুপারভাইজরি কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরি করেন এবং সিমুলেটরের মাধ্যমে সেটি পরীক্ষা করেন।
২০২৫ সালে মাস্টার্স শেষ করার পর একই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে পিএইচডি শুরু করেন ফোর্টিয়ার।
তার গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য ভবিষ্যতের মাইক্রোরিঅ্যাক্টর। এগুলো প্রচলিত বড় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের তুলনায় অনেক ছোট এবং প্রত্যন্ত এলাকাতেও স্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু ছোট একটি রিঅ্যাক্টর পরিচালনার জন্য বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত কর্মী রাখতে হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে এসব রিঅ্যাক্টর কার্যকর করার ক্ষেত্রে অটোমেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিও মাইক্রোরিঅ্যাক্টরকে এমন ছোট নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেগুলো সীমিত স্থানীয় অপারেশনাল সহায়তায় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত জনপদ ও শিল্প এলাকায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ফোর্টিয়ারের পরিকল্পনায় মানুষের ভূমিকা একেবারে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বরং মানুষ ও কম্পিউটারের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যে কাজ ভালোভাবে করতে পারে সেটি কম্পিউটার করবে, আবার প্রয়োজন হলে মানুষ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।
এমআইটির প্রতিবেদনে ফোর্টিয়ার বলেছেন, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের বর্তমান ব্যবস্থাগুলো মূলত মানুষের জন্য তৈরি। তার গবেষণায় সেই কাঠামোকে এমনভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে, যাতে মানুষ ও মেশিন দুটিই প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যান্ট পরিচালনার অংশ হতে পারে।
গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট নিয়ন্ত্রণে তিনি বর্তমানে মেশিন লার্নিংভিত্তিক এআই ব্যবহার করছেন না। এর পরিবর্তে ফাইনাইট স্টেট অটোমাটা নামের একটি প্রচলিত অটোমেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই ব্যবস্থায় প্রতিটি পদক্ষেপ নির্দিষ্ট ঘটনা ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ফলে সিস্টেম কেন একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং এরপর কী করবে, সেটি স্পষ্টভাবে অনুসরণ করা যায়।
ফোর্টিয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেশিন লার্নিংয়ের মতো ডেটানির্ভর প্রযুক্তির কার্যক্রম নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের প্রয়োজনীয় মান অনুযায়ী যাচাই করার মতো ব্যবস্থা এখনো তাদের হাতে নেই। এ কারণেই গবেষণায় প্রচলিত এবং সহজে যাচাইযোগ্য অটোমেশন প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গবেষণাটি এগিয়ে নিতে ফোর্টিয়ার আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির হিউম্যান সিস্টেম সিমুলেশন ল্যাবরেটরির গবেষকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে ইন্টার্নশিপ করেন। পরের বছর নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউসে ইন্টার্নশিপ করে স্বয়ংক্রিয় অপারেশন নিয়ে নিজের ধারণাগুলো আরও পরীক্ষা করার সুযোগ পান।
তার গবেষণা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০২৫ সালের ইনোভেশনস ইন নিউক্লিয়ার এনার্জি রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টুডেন্ট কম্পেটিশন এর বিজয়ীদের একজন ছিলেন ফোর্টিয়ার।
যুক্তরাষ্ট্রে এমন গবেষণা এমন এক সময়ে এগোচ্ছে, যখন দেশটিতে অ্যাডভান্সড নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ও মাইক্রোরিঅ্যাক্টর প্রযুক্তির উন্নয়ন দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি জানিয়েছে, তাদের উদ্যোগের আওতায় একাধিক অ্যাডভান্সড রিঅ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক মাইলফলক অর্জন করেছে।
ফোর্টিয়ারের গবেষণার পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো ছোট পরিসরে পরীক্ষিত সুপারভাইজরি কন্ট্রোল সিস্টেমকে আরও বড় ও জটিল নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের জন্য উপযোগী করে তোলা। তার গবেষণার একটি পরীক্ষামূলক মডেলে এমআইটি রিসার্চ রিঅ্যাক্টরের সিস্টেম ও পদ্ধতি ব্যবহার করে রিঅ্যাক্টর স্টার্টআপের কিছু কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা দেখানো হয়েছে।
এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে ছোট নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় মাইক্রোরিঅ্যাক্টর স্থাপনের অন্যতম বড় বাস্তব বাধা মোকাবিলায়ও অটোমেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া থেকে বর্তমানে পাঁচটি কোম্পানিকে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। সর্বশেষ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ফ্লোরিডার ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক, ইনকরপোরেটেড, যা ডেইন ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচালিত হয়। শ্রম বিভাগের তালিকাটি ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর এবং ২৮ আগস্ট সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ কোম্পানিগুলো হলো গোয়ারাটেক এলএলসি, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসি, সিলোজ ইনকরপোরেটেড, শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনকরপোরেটেড, যা শেরউড একাডেমি নামে পরিচালিত, এবং ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনকরপোরেটেড, যা ডেইন ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচিত। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ডিবারমেন্টের আওতায় আনা হয়েছে। তালিকায় গোয়ারাটেকের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৫ সালের ১২ মে থেকে ২০২৭ সালের ১১ মে পর্যন্ত। রেনোটেক গ্রুপ ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ। সিলোজের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ৪ মার্চ থেকে ২০২৮ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত। শেরউড একাডেমির নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ২০২৮ সালের ২৫ মে পর্যন্ত। নতুন করে যুক্ত হওয়া ডেইন ভিঞ্চি একাডেমির নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ওয়েজ অ্যান্ড আওয়ার ডিভিশন এসব প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি প্রোগ্রামের ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এইচ-১বি প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শ্রম ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। উইলফুল ভায়োলেটর হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রম বিভাগের বাড়তি নজরদারির আওতায়ও আনা হতে পারে। এইচ-১বি প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত পেশায় প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ পায় নিয়োগদাতারা। তবে কর্মীদের মজুরি, চাকরির শর্ত, মার্কিন কর্মীদের ওপর প্রভাব এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। নিয়ম লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে শ্রম বিভাগ বকেয়া মজুরি আদায়, আর্থিক জরিমানা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এইচ-১বি প্রোগ্রাম থেকে প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কোম্পানি এইচ-১বি প্রোগ্রাম থেকে ডিবার করা হলে সেই কোম্পানির অধীনে থাকা কর্মীদের বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। তবে ডিবারমেন্ট চলাকালে ওই নিয়োগদাতা নতুন এইচ-১বি আবেদন করতে পারে না এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভিসা এক্সটেনশন বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায়ও বাধার মুখে পড়তে পারে। শ্রম বিভাগের এই তালিকা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি স্পনসরশিপের ওপর নির্ভরশীল চাকরিপ্রার্থী ও বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোম্পানিতে চাকরি নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এইচ-১বি স্পনসর করতে পারছে কি না, তা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা এই তালিকা আবারও সামনে এনেছে।
নিউইয়র্কে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা চালিয়ে নিজের বান্ধবীকেই হত্যা করলেন তরুণী
নিউইয়র্কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেল পণ্যবাহী ট্রাক, নিহত ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, আহত ২
এইচ-১বি ভিসার নিয়ম ভাঙায় যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ৫ প্রতিষ্ঠান, বিপাকে পড়তে পারেন বিদেশি কর্মীরা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মীদের যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়, তা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বি-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ক ভিসার কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার বর্তমান সুযোগ হারাতে পারেন। এতে ভারতীয় কর্মীদের ওপর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে, কারণ ভারতীয় নাগরিকরা এইচ-১বি কর্মীদের বড় একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের প্রস্তাবটির নাম দেওয়া হয়েছে “৬০ দিনের বিবেচনামূলক গ্রেস পিরিয়ড বাতিল”। প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান অভিবাসন বিধির সেই অংশটি বাদ দেওয়া, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। বর্তমান নিয়মে যোগ্য কর্মীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়ে গেলে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন অথবা আই-৯৪-এ অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে আসে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। এই সময়ে নতুন চাকরি খোঁজা, নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এই ৬০ দিনের সুরক্ষা আর থাকবে না। চাকরি বা সংশ্লিষ্ট যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর বর্তমান নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ভিত্তি শেষ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ ভিত্তি না থাকলে তাকে দেশ ছাড়তে হতে পারে। প্রস্তাবটি শুধু এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নয়। এইচ-১বি১, এল-১, ও-১, টি-এন, ই-১, ই-২ এবং ই-৩ ভিসার কর্মীরাও এর আওতায় পড়তে পারেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ওপরও পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও চীন থেকে আসা কর্মীদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হতে পারে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি হলো, কর্মসংস্থানভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চাকরি বা যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক থাকা উচিত। চাকরি শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় একই স্ট্যাটাস বজায় রাখার সুযোগ বর্তমান ব্যবস্থায় সেই সম্পর্ককে দুর্বল করে বলে মনে করছে বিভাগটি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কোনো কর্মীর নতুন নিয়োগকর্তা চাইলে কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার পর নতুন আই-১২৯ আবেদন করতে পারেন। আবেদন অনুমোদন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ হলে কর্মী নতুন চাকরির জন্য আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এই মতামত পর্যালোচনার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবটি পরিবর্তন, প্রত্যাহার অথবা চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অর্থাৎ এখনই এইচ-১বি বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভিসার ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়নি। বর্তমান নিয়ম এখনো কার্যকর রয়েছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য কর্মীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয়সহ অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য এটি অভিবাসন পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
ডাউন সিনড্রোম জয় করে ১৭ বছর বয়সেই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট শ্যানি
নিজ দেশের রাজনীতি ও ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে প্যারিসে বাড়ি কিনছেন মার্কিনীরা
৩০ অঙ্গরাজ্যের ১০ লাখ ওবামাকেয়ার গ্রাহককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চুরি করা শিশুখাদ্য বা বেবি ফর্মুলা কেনাবেচার ১১ লাখ ডলারের এক বিশাল চক্রের মূল হোতা হিসেবে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন ৫৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলসাইদি এবং ৪৯ বছর বয়সী জেইনা আব্দুল-হাসান সু জাবিব। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এবং পাম বিচ শেরিফ অফিস গত বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চুরি করা সম্পত্তি কেনাবেচার ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে লেক ওয়ার্থের একটি বাড়ি এবং ডেভি এলাকার একটি গুদাম থেকে এই অবৈধ চক্রটি পরিচালিত হওয়ার প্রমাণ পায় কর্তৃপক্ষ। চক্রের সাথে জড়িত পেশাদার চোরেরা (যাদের বুস্টার বলা হয়) পুবলিক্স, টার্গেট, ওয়ালমার্ট, সিভিএস এবং ওয়ালগ্রিনসের মতো বড় স্টোর থেকে বেবি ফর্মুলা চুরি করে আনত। এরপর তারা বাজারদরের মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ দামে, অর্থাৎ প্রতি কৌটা ১০ ডলারে সেগুলো ওই দম্পতির কাছে বিক্রি করে দিত। পরবর্তীতে আলসাইদি এবং জাবিব বেশি লাভের আশায় এই শিশুখাদ্যগুলো গুদামে মজুত করে পুনরায় চড়া দামে বিক্রি করতেন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ফ্লোরিডাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি চুরির ঘটনার সাথে এই সংঘবদ্ধ চক্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই ন্যক্কারজনক অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার বলেন, যেসব বাবা-মা সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য বেবি ফর্মুলার ওপর নির্ভরশীল, তাদের কাছ থেকে এটি চুরি করা অত্যন্ত বিবেকহীন কাজ। পাম বিচ শেরিফ রিক ব্র্যাডশ জানান, স্টোরগুলোতে শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিলে তা সাধারণ পরিবারগুলোর মধ্যে মারাত্মক ভীতি ও ভোগান্তির সৃষ্টি করে। এই ঘটনার সাথে জড়িত কেনেথ এল. জোন্স জুনিয়রসহ মোট ৯ জন পেশাদার চোরকে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু কেনেথই ৭০ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের শিশুখাদ্য চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের বার্ষিকী ঘিরে বাড়ছে ইসলামভীতি, সতর্ক ডালাসের মসজিদগুলো
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নিজের দুই শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যার অভিযোগে আদালতে হাজির মা