যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে ৫০ বছরের রেকর্ড, ৭ বছরে বেড়েছে ৩৩%
গত সাত বছরে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্যস্ফীতির ঘটনা। অদূর ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বা স্বস্তির কোনো সম্ভাবনাও আপাতত দেখা যাচ্ছে না। করোনা মহামারির সময় মাত্রাতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির কারণে দামের যে বিশাল উল্লম্ফন শুরু হয়েছিল, তা আজও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে প্রতি পাউন্ড গরুর মাংসের দাম ৬.৮২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৭৯ শতাংশ বেশি। লাগামহীন ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া বাজারের এটি একটি অন্যতম বড় প্রমাণ।
কিংসভিউ ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট ফার্মের অংশীদার স্কট ডি. মার্টিনের মতে, বছরের পর বছর ধরে দাম এমন চড়া থাকার অর্থ হলো এটি এখন আমেরিকান ক্রেতাদের জন্য নতুন স্বাভাবিক বা 'নিউ নরমাল' পরিস্থিতি। তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির হার তার সর্বোচ্চ চূড়া থেকে কিছুটা কমলেও নিত্যপণ্যের দাম ক্রেতাদের আগের পরিচিত জায়গায় ফিরে আসেনি। সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন, শ্রমিক সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্যপণ্যের দাম স্থায়ীভাবে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের প্রেসিডেন্ট ডগলাস হোল্টজ-একিন জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুর রোগবালাই, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী ও স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
বিএলএস-এর পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছিল মাত্র ৬.৪ শতাংশ। কিন্তু মহামারির পর ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তা একলাফে প্রায় ২১ শতাংশ বাড়ে এবং এরপর থেকে খরচ আরও প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লাগামহীন এই দামের কারণে মার্কিনিদের কেনাকাটার অভ্যাসে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। মার্টিন জানান, মানুষ এখন তুলনামূলক সস্তা বা প্রাইভেট ব্র্যান্ড কিনছেন, বিভিন্ন দোকানে দাম যাচাই করছেন এবং ছাড় পেলে একসঙ্গে বেশি পণ্য কিনে রাখছেন। দৈনন্দিন খরচের সবচেয়ে বড় অংশটি বাজারে যায় বলে বর্তমানে উচ্চ আয়ের ক্রেতারাও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি হিসেবি হয়ে উঠেছেন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সহসাই এই সংকট থেকে সাধারণ মানুষের স্বস্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, নতুন করে আরোপিত শুল্ক এবং পরিবহন ও জ্বালানি খরচের ঊর্ধ্বমুখী চাপের সঙ্গে লড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটিতে সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম আরও ৩.১ শতাংশ এবং আগামী বছর আরও ৩.১ শতাংশ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা বিদেশে অবস্থান করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ ওই দিন থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন নিয়মে এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের আগের মতো ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা নির্দিষ্ট শেষ তারিখ ছাড়া থাকার ব্যবস্থা বদলে নির্দিষ্ট মেয়াদের প্রবেশ-অনুমতি চালু হবে। হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক অফিস জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে শিক্ষার্থীদের আই-৯৪ নথিতে নতুন ধরনের ‘অ্যাডমিট আনটিল ডেট’ যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ তখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি একটি নির্দিষ্ট তারিখের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে বিদেশে যাওয়ার পর ফেরার সময়টি শিক্ষার্থীদের অভিবাসন অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান ব্যবস্থায় এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের সাধারণত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো, শিক্ষার্থী নিয়ম মেনে অনুমোদিত পড়াশোনা বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালিয়ে গেলে তার অবস্থানের মেয়াদ নির্দিষ্ট কোনো তারিখের পরিবর্তে সেই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই কাঠামো বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ভর্তি-অনুমতি চালু করবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে প্রবেশ করা এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ভর্তি করা হবে। সাধারণভাবে এই মেয়াদ শিক্ষার্থীর প্রোগ্রামের সময়কাল বা সর্বোচ্চ চার বছর, যেটি কম, তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতে পারে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি একই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে না। নতুন আইনে তাদের জন্য একটি ট্রানজিশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে যারা এফ বা জে স্ট্যাটাসে থেকে নিয়ম মেনে চলবেন, তারা নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে আগের ব্যবস্থার সুরক্ষা পাবেন। এই কারণেই হার্ভার্ডের পরামর্শে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। হার্ভার্ড জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদেশ ভ্রমণ করে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এমন ভ্রমণের পর শিক্ষার্থীদের আই-৯৪ নথিতে থাকা অনুমোদিত থাকার মেয়াদ তাদের প্রোগ্রামের সময়সীমার সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হতে পারে। হার্ভার্ডের পরামর্শের অর্থ এই নয় যে ১৫ সেপ্টেম্বরের দিন সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে না পারলে তাদের বৈধ অবস্থান শেষ হয়ে যাবে। বরং বিষয়টি মূলত নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সময় শিক্ষার্থীর অবস্থান এবং তার পরবর্তী আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। যারা ওই তারিখের পর বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন, তাদের নতুন প্রবেশ-নিয়মের আওতায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও পরিবর্তন আসছে। কারও প্রোগ্রাম নির্ধারিত ভর্তি-সময়ের চেয়ে বেশি দীর্ঘ হলে তাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য অনুমোদন নিতে হতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু ভিসার মেয়াদ নয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আই-৯৪ নথিতে নির্ধারিত অনুমোদিত থাকার তারিখও নিয়মিত যাচাই করতে হবে। মার্কিন সরকারের নতুন নিয়মটি শুধু এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। এতে জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং আই-শ্রেণির বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বদলে নির্দিষ্ট সময়ের ভর্তি-অনুমতি চালু করা হচ্ছে। নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক অফিস জানিয়েছে, নতুন নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থী ও স্কলারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তারা আলাদা পরামর্শ ও তথ্যসেবা চালু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে নতুন নিয়মের প্রভাব বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ সেপ্টেম্বরের আশপাশে যাদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়া বা ফিরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নিয়ম ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের ব্যবস্থায় যাচ্ছে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা বিদেশ ভ্রমণ শেষে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের আই-৯৪তে নির্দিষ্ট থাকার শেষ তারিখ থাকতে পারে। আর ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে আলাদা ট্রানজিশন ব্যবস্থা।
মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম, হাসপাতালে ৩৩৪ দিনের লড়াই শেষে বাড়ি ফিরল ‘মিরাকেল বেবি’
মেরিল্যান্ডে বসছে সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা, ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘিরে জমজমাট প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফ আয় ফেরতের চেয়ে বেশি, আগস্টে ফেরত ১০.৫ বিলিয়ন ডলার
আলাস্কার উপকূলের কাছে বরফশীতল পানিতে মাছ ধরার বোট উল্টে যাওয়ার পর সেটির ওপর রাত কাটিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। পরে মার্কিন কোস্টগার্ড তাকে উল্টে যাওয়া বোটের ওপর থেকে জীবিত উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কিশোরটির সঙ্গে থাকা দুই নৌযাত্রী মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটে আলাস্কার সেন্ট লরেন্স দ্বীপের কাছে বেরিং সাগরে। ১৮ ফুট দীর্ঘ মাছ ধরার বোটটি শুক্রবার সেন্ট লরেন্স দ্বীপের সাভুঙ্গা এলাকা থেকে যাত্রা করে। রোববার ভোরে বোটটির ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেটি ফিরে না আসায় রোববার রাতে নিখোঁজ হিসেবে প্রতিবেদন করা হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে কোস্টগার্ডের এইচসি-১৩০ হারকিউলিস বিমানের সদস্যরা সোমবারের আগে অনুসন্ধান শুরু করতে পারেননি। সোমবার সকালে কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জনাথন রেশ সেন্ট লরেন্স দ্বীপ থেকে প্রায় চার মাইল দূরে উল্টে যাওয়া বোটটি দেখতে পান। তখন ১৫ বছর বয়সী কিশোরটি বোটটির ওপর বসে ছিল। রেশ ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এমন পরিস্থিতিতে মানুষ সাধারণত বেঁচে থাকতে পারে না। বিশেষ করে প্রায় ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে একটি বোট উল্টে যাওয়ার পর রাত পার করে জীবিত থাকা অত্যন্ত কঠিন। কিশোরটিকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাকে তিনি অলৌকিকের মতো বলে উল্লেখ করেন। কিশোরটিকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ডের বিমান থেকে পানিতে সংকেত দেওয়ার সরঞ্জাম ও লাইফ র্যাফট ফেলা হয়। একই সময়ে কাছাকাছি থাকা নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার নামের একটি জাহাজকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে ওই জাহাজটি সেখানে পৌঁছে কিশোরটিকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটি উল্টে যাওয়া বোটের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে ছিল। পরে একটি দড়ির সাহায্যে তাকে টেনে নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার জাহাজে তোলা হয়। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় কিশোরটির শরীরে হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণ ছিল। অন্যদিকে, বোটে থাকা দুই নৌযাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের মরদেহ পানির মধ্য থেকে উদ্ধার করে কিশোরটির সঙ্গে আলাস্কার নোম শহরে নেওয়া হয়। কোস্টগার্ড এখনো নিহত দুই নৌযাত্রী এবং উদ্ধার হওয়া কিশোরটির পরিচয় প্রকাশ করেনি। কোস্টগার্ডের আর্কটিক ডিস্ট্রিক্টের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল বব লিটল এই ঘটনায় নিহতদের পরিবার, বন্ধু ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কিশোরটিকে জীবিত উদ্ধারে সহায়তা করা নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার, বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। উদ্ধারকারী দলের কাছে ঘটনাটি একই সঙ্গে স্বস্তি ও শোকের হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোস্টগার্ডের সদস্যরা কিশোরটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করলেও তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই নৌযাত্রীকে সময়মতো খুঁজে না পাওয়ায় দুঃখ জানিয়েছেন। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে উল্টে যাওয়া বোটের ওপর অবস্থান করে কিশোরটির বেঁচে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়াকে তারা অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন। সূত্র: এবিসি নিউজ
এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে ট্রাম্প বললেন ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’
৩০ বছর পর প্রথমবার ‘সন্ত্রাসী আদালত’ ব্যবহার করে আফগান নারীকে ডিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের
আমেরিকান পণ্য বয়কট করছেন কানাডিয়ানরা, নতুন দেশ থেকে পণ্য আনছে সুপারমার্কেটগুলো
আয়ারল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ এক হয়ে গেলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার আয়ারল্যান্ড সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা করে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে নিজের সমর্থনের কথা জানান তিনি। উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ, আর আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন দেশ। এই দুই অংশকে এক করার বিষয়টি বহু বছর ধরে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, তিনি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চান না। এরপরই নিজের মত জানিয়ে বলেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান। ট্রাম্প বলেন, “আমি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চাই।” তার মতে, দুই অংশ এক হয়ে গেলে সেটি সবার জন্যই একটি বড় অর্জন হবে। আয়ারল্যান্ডকে এক করার প্রশ্নে দেশটির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। যারা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে রাখতে চান, তারা মূলত ইউনিয়নিস্ট হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩০ বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলেছে। এই সময়টি ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত। ১৯৯৭ সালের মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটে। এই চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে গণভোট হলে দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এক হওয়ার পক্ষে ভোট দিলেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। বিষয়টি আপাতত আলোচনার বাইরে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গুড ফ্রাইডে চুক্তির নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ট্রাম্প অবশ্য মনে করেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, “এটা শেষ পর্যন্ত ঘটবেই।” এরপর পাশে থাকা আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এটি এগিয়ে নিতে আপনারা সঠিক মানুষকে পেয়েছেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ হওয়ায় এ বিষয়ে ব্রিটেনেরও অবশ্যই কিছু বলার থাকবে। তবে তার প্রশ্ন, আয়ারল্যান্ড এক হলে সেটি খারাপই বা হবে কেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নতুন করে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তারা বার্নহ্যামের আগস্টের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, এই মুহূর্তে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ বিষয়ে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় নেই। শনিবার সকালে আয়ারল্যান্ডে পৌঁছান ট্রাম্প। ডাবলিনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভেরও আয়োজন করা হয়। ডাবলিনের পাশাপাশি ডুনবেগ ও শ্যানন বিমানবন্দরেও প্রতিবাদের পরিকল্পনা ছিল। ডুনবেগে ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন একটি গলফ কোর্স রয়েছে। তবে বিক্ষোভ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানতেন না। তিনি বলেন, “আমি কোনো বিক্ষোভ দেখিনি।” আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রোববার ট্রাম্প ডুনবেগে তার গলফ কোর্সে যাবেন এবং সেখানে আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। দিনের শেষ দিকে মার্কিন দূতাবাসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, আয়ারল্যান্ড এক করার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নটি তাকে বেশ কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। তিনি বলেন, এমন প্রশ্নের উত্তর যেভাবেই দেওয়া হোক, সেটি নিয়ে খবর হবেই। তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া তার কাছে “খুবই চমৎকার” একটি বিষয়। এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসিরও সৃষ্টি হয়।
ট্রাম্পকে হুতিদের অনুরোধ, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবেন না’
গৃহহীন শিক্ষার্থীকে স্কুলে রাখতে চাকরি হারালেন প্রধান শিক্ষক, পরে হলেন সেই ছাত্রেরই অভিভাবক