শিকাগোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ডা. অদিতি সাহা অনন্যাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন ডা. বি এম আতীকুজ্জামান
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসক ডা. অদিতি সাহা অনন্যাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা কলেজ অব মেডিসিনের শিক্ষক ডা. বি এম আতীকুজ্জামান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অদিতিকে অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী এবং স্বপ্নপূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ একজন তরুণ চিকিৎসক হিসেবে স্মরণ করেন।
ডা. আতীকুজ্জামান জানান, গত বছরের মে মাসে ডা. অদিতি সাহা অনন্যা তার সেন্টারে ক্লিনিক্যাল রোটেশনের জন্য এসেছিলেন। প্রথম দিন থেকেই তিনি অনন্যার মধ্যে অসাধারণ মেধা, শেখার আগ্রহ এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা লক্ষ্য করেছিলেন। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। এ আগ্রহের ধারাবাহিকতায় তিনি আমেরিকান কলেজ অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির (এসিজি) বার্ষিক সম্মেলনে একটি গবেষণাপত্রও উপস্থাপন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে জানতে পারেন অনন্যা যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিন রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে ম্যাচ করেছেন এবং চিকিৎসক হিসেবে নিজের স্বপ্নপূরণের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছেন। সে সময় তাকে অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন। সেটিই ছিল তাদের শেষ যোগাযোগ।
ডা. আতীকুজ্জামান লেখেন, অনন্যার মৃত্যুর খবর তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। ব্যস্ত কর্মদিবসের মাঝেও এ সংবাদ তাকে জীবনের অনিশ্চয়তার কথা নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে তার সঙ্গে আরও দুজন বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসক ক্লিনিক্যাল রোটেশন করছেন। তিনি সব সময় তাদের বলেন, স্বপ্নের পেছনে অবশ্যই ছুটতে হবে, তবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তও উপভোগ করতে হবে। পরিবার, প্রিয়জন এবং নিজের জন্য সময় রাখতে হবে, কারণ কেউ জানে না আগামীকাল কী অপেক্ষা করছে।
সম্প্রতি শিকাগোতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ডা. অদিতি সাহা অনন্যা। তিনি রাজধানীর জহিরুল হক শিকদার মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইউনাইটেড স্টেটস মেডিক্যাল লাইসেন্সিং এক্সামিনেশন (ইউএসএমএলই) সম্পন্ন করে চলতি বছরের জুলাই মাসে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি শুরু করেছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে নতুন পথচলা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই তার অকাল মৃত্যু দেশ-বিদেশের চিকিৎসক সমাজ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
পোস্টের শেষে ডা. বি এম আতীকুজ্জামান ডা. অদিতি সাহা অনন্যার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreফ্লোরিডায় সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্ঠরোগ বা হ্যানসেনস ডিজিজের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের ধারণা, দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে দেখা যায় এমন নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো নামের একটি বন্য প্রাণী এ রোগের জীবাণু বহন করে মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলছেন, কুষ্ঠরোগ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল, সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না এবং আধুনিক চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ছিল ৮টি, ২০২৩ সালে ২৩টি, ২০২৪ সালে ২০টি এবং ২০২৫ সালে ২৬টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য ফ্লোরিডা বর্তমানে সংক্রমণের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কুষ্ঠরোগের জন্য দায়ী মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি নামের ব্যাকটেরিয়া খুব ধীরে বৃদ্ধি পায়। ফলে সংক্রমণের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক মাস থেকে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ রোগ মূলত ত্বক, স্নায়ু, চোখ এবং নাকের ভেতরের আবরণকে আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না করালে ত্বকে দাগ, অসাড়তা, হাত-পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়া, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুষ্ঠরোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও ভুল ধারণা রয়েছে। বাস্তবে এ রোগ খুব সহজে ছড়ায় না। দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অন্যের জন্য আর সংক্রামক থাকেন না। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন কলেজের সহকারী অধ্যাপক হুয়ান ম্যানুয়েল কাম্পোস ক্রাউয়ারের মতে, উত্তর আমেরিকার নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো প্রাকৃতিকভাবে কুষ্ঠরোগের জীবাণু বহন করতে পারে। প্রাণীগুলো মাটির নিচে পোকামাকড় ও শামুক খুঁজে খাবার সংগ্রহ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আর্মাডিলোর বসবাস ও চলাচলের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য মাটিতে জীবাণু থাকতে পারে। পরে সেই মাটিতে বাগান করা বা বাড়ির আশপাশে কাজ করার সময় মানুষ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বহু বছর ধরেই আর্মাডিলোর বসবাস থাকলেও ধীরে ধীরে এদের বিস্তৃতি উত্তরাঞ্চলের দিকেও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতিবছর সর্বোচ্চ প্রায় ২৫০টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়। অধিকাংশ রোগী এমন দেশ থেকে সংক্রমিত হন, যেখানে এ রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যেমন ব্রাজিল, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা আর্মাডিলো স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বাগান করা বা মাটি খোঁড়ার সময় গ্লাভস ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া সড়কে আর্মাডিলো চাপা পড়লে গাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করারও পরামর্শ দিয়েছেন কয়েকজন গবেষক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লোরিডায় কুষ্ঠরোগের ঘটনা কিছুটা বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং সঠিক তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
যুক্তরাষ্ট্রের লেক তাহোতে খাবারের খোঁজে ঘরে ঢুকছে কালো ভালুক, ঘরবাড়ি সুরক্ষায় লাখ লাখ টাকা খরচ করছেন বাসিন্দারা
ডে-কেয়ারে শিশুকে শারীরিক নির্যাতন ও আটকে রেখে মদ কিনতে যাওয়ার অভিযোগে মামলা
সেন্ট্রাল পার্কে কনিষ্ঠ সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, বরখাস্তের মুখে নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী আইনজীবী
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ সমুদ্রসৈকতে ভয়ংকর ঢেউয়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক শিশুর জীবন বাঁচানো ১৬ বছর বয়সী এক লাইফগার্ড এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মান জানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাটি ঘটে সান্তা ক্রুজের সিব্রাইট স্টেট বিচে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাতে একটি শিশু সাগরে ভেসে গেলে ওই কিশোর লাইফগার্ড ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যেও তিনি শিশুটিকে শক্ত করে ধরে রাখেন এবং পরে আরেকজন লাইফগার্ডের সহায়তায় তাকে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়। উদ্ধার করা শিশুটির বয়স আনুমানিক ১০ বছর বলে জানা গেছে। তাকে চিকিৎসকদের পরীক্ষা করানোর পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর কোনো আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই কিশোরের সাহসিকতার প্রশংসা শুরু হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ওই লাইফগার্ড ও তার পরিবারকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাতে চান এবং তাকে একটি বিশেষ বেসামরিক সম্মান দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্কস জানিয়েছে, বিপজ্জনক সমুদ্র পরিস্থিতির মধ্যেও লাইফগার্ডরা নিয়মিত মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে থাকেন। ওই সপ্তাহান্তে সান্তা ক্রুজ এলাকায় বড় ঢেউয়ের কারণে একাধিক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশিক্ষণ ছাড়া সাধারণ মানুষ এমন পরিস্থিতিতে পানিতে নামলে নিজেরাও বিপদে পড়তে পারেন। পেশাদার লাইফগার্ডদের প্রশিক্ষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই অনেক সময় জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ঘটনা আবারও সমুদ্র নিরাপত্তা ও লাইফগার্ডদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
শিকাগোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ডা. অদিতি সাহা অনন্যাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন ডা. বি এম আতীকুজ্জামান
দাবানলের ধোঁয়া শুধু ফুসফুস নয়, প্রভাব ফেলছে প্রজনন ক্ষমতাতেও! গবেষণায় উঠে এলো উদ্বেগজনক তথ্য
নিউইয়র্কের কুইন্সে স্ত্রীর সামনে গুলি করে হত্যা মামলার সন্দেহভাজন জর্জিয়ায় আটক
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এক সাবেক আচরণগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে তার সাবেক কিশোর রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অভিযুক্ত থেরাপিস্ট তার পেশাগত অবস্থানের অপব্যবহার করে প্রথমে কিশোরটির আস্থা অর্জন করেন এবং পরে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্কের সীমা লঙ্ঘন করে তার সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। কনট্রা কস্টা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয় জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী সোফিয়া ড্রটসের বিরুদ্ধে অবৈধ যৌন সম্পর্ক, অপ্রাপ্তবয়স্ককে ক্ষতিকর উপাদান পাঠানো, অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ড এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণের অভিযোগসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার শুনানির জন্য শিগগিরই আদালতে তাকে হাজির করা হবে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ড্রটস ক্যালিফোর্নিয়ার মার্টিনেজে অবস্থিত জন এ. ডেভিস জুভেনাইল হলে আচরণগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোরটি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও চিকিৎসা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল এবং চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।, গত ১৪ জুলাই প্রবেশন বিভাগের এক তত্ত্বাবধায়কের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কনকর্ড পুলিশ ড্রটসকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবার কনট্রা কস্টা কাউন্টির বিরুদ্ধে পৃথক একটি দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছে। ভুক্তভোগী কিশোরের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তার মা এক বিবৃতিতে বলেন, ছেলের মানসিক সুস্থতার জন্য তারা একজন পেশাদারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, কিন্তু সেই বিশ্বাস ভেঙে গেছে। তিনি আরও বলেন, তাদের পরিবারের প্রধান লক্ষ্য এখন ছেলের সুস্থ হয়ে ওঠা এবং ভবিষ্যতে যেন অন্য কোনো পরিবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, সেটি নিশ্চিত করা। পরিবারের আইনজীবী জন বারিস আদালতে দাখিল করা নথিতে দাবি করেছেন, ড্রটস ২০২৪ সাল থেকেই কিশোরটির সঙ্গে অনুপযুক্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করেন। তখন কিশোরটির বয়স ছিল ১৪ বা ১৫ বছর এবং তিনি দুই বছরের জন্য কিশোর সংশোধনাগারে ছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ধীরে ধীরে কিশোরটির সঙ্গে এমন একটি মানসিক নির্ভরতার সম্পর্ক তৈরি করেন, যা পরে যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কিশোরটি প্রবেশনে মুক্তি পাওয়ার পরও কনট্রা কস্টা হেলথের অধীনে ড্রটস তার থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। ওই সময়েই অভিযোগ অনুযায়ী অবৈধ যৌন সম্পর্কের ঘটনাগুলো ঘটে। একই সঙ্গে মামলায় দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাউন্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়করা সম্ভাব্য সতর্ক সংকেত শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন, যার ফলে অভিযোগ অনুযায়ী নির্যাতনের ঘটনা দীর্ঘ সময় চলতে থাকে। আইনজীবী জন বারিস বলেন, শুধু একজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগই নয়, পুরো তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার মতে, বিদ্যমান পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারত। তদন্তে জানা গেছে, সোফিয়া ড্রটস ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছিল এবং পরে তিনি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ ছিল। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হলে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হবে। এখন পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য শেয়ারিং নীতিতে বিপাকে অভিবাসী পরিবার, গ্রেপ্তার ১২ হাজারের বেশি শিশু ও অভিভাবক
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে একদিনে ৪টি টর্নেডোর আঘাত, প্রবল ঝড়ে প্লাবিত শত শত বাড়ি, ৫ লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎহীন