দাবানলের ধোঁয়া শুধু ফুসফুস নয়, প্রভাব ফেলছে প্রজনন ক্ষমতাতেও! গবেষণায় উঠে এলো উদ্বেগজনক তথ্য
বনাঞ্চলের দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধোঁয়ার দূষিত কণাগুলো নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষকদের মতে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা ক্ষুদ্র দূষণ কণা শরীরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে পুরুষদের শুক্রাণুর গুণগত মান ও সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাণুর স্বাস্থ্য ও গর্ভধারণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঘটনা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় বড় আকারের দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা সূক্ষ্ম কণা বা পিএম ২.৫ শরীরের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এসব কণা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা প্রজনন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন নারী এবং সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন পুরুষদের দীর্ঘ সময় দাবানলের ধোঁয়ার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, প্রজনন ক্ষমতার ওপর দাবানলের ধোঁয়ার সঠিক প্রভাব বুঝতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। ব্যক্তির বয়স, জীবনযাপন, পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং দূষণের মাত্রার ওপরও এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দাবানলের সময় বাইরে বের হলে সতর্ক থাকা, বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া-নেভাডা সীমান্তবর্তী পর্যটনকেন্দ্র লেক তাহো অঞ্চলে কালো ভালুকের উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। খাবারের সন্ধানে ভালুকের বাড়িতে ঢুকে পড়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়ি সুরক্ষিত রাখতে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত শুধু সাউথ লেক তাহো পুলিশই ভালুক-সংক্রান্ত ১৭৪টি অভিযোগ পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৭। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনায় কালো ভালুক সরাসরি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এক দম্পতি জানান, তারা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ ঘুরে দেখেন, একটি কালো ভালুক তাদের বসার ঘরে দাঁড়িয়ে আছে। পরে প্রাণীটি পুরো বাড়ি ঘুরে দেখে, বাথরুমে রাখা টুথপেস্টের টিউব শুঁকে দেখে, মেঝেতে প্রস্রাব করে বেরিয়ে যায়। এক মাসের ব্যবধানে এটি ছিল তাদের বাড়িতে ভালুকের দ্বিতীয় অনুপ্রবেশের ঘটনা। ঘটনাগুলো বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দা বৈদ্যুতিক প্রতিরোধক ম্যাট, স্টিলের দরজা, শক্তিশালী তালা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করছেন। লেক তাহোর বাসিন্দা মার্গারেট ডিনেসলি জিগলার জানান, নিজের গ্রীষ্মকালীন বাড়িকে ভালুকের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি বৈদ্যুতিক প্রতিরোধক ব্যবস্থা, স্টিলের দরজাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম বসিয়েছেন। এতে তার প্রায় ৭ হাজার ৫০০ ডলার খরচ হয়েছে। তবু তিনি বলছেন, "মনে হচ্ছে জিতছে ভালুকই, আর খরচটা করছি আমি।" সম্প্রতি একই অঞ্চলে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে এক ব্যক্তি নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্রের গ্যারেজে একটি কালো ভালুককে ময়লার পাত্রে খাবার খুঁজতে দেখে ভালুক প্রতিরোধক স্প্রে ব্যবহার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ভালুকটি তার দিকে এগিয়ে আসার পর স্প্রে প্রয়োগ করলে সেটি দ্রুত সরে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ জানিয়েছে, কালো ভালুক স্বভাবগতভাবেই খাবারের গন্ধে আকৃষ্ট হয়। মানুষের ফেলে রাখা খাবার, উন্মুক্ত আবর্জনা কিংবা সহজে প্রবেশযোগ্য গ্যারেজ ও বাড়ি তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। একবার মানুষের খাবারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে তারা আরও সাহসী হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আচরণ বারবার করতে পারে। এমনকি মা ভালুকের কাছ থেকে শাবকেরাও এই অভ্যাস শিখে ফেলে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে খাবার বা আবর্জনা না রাখার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি ভালুক-প্রতিরোধী ময়লার পাত্র, বৈদ্যুতিক বেড়া বা বৈদ্যুতিক ম্যাট ব্যবহারের সুপারিশও করা হয়েছে। ভালুকের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, "এটি ভালুকের সমস্যা নয়, মানুষের সমস্যা।" তার মতে, মানুষ যদি খাবার ও আবর্জনা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে, তাহলে সংঘাত অনেকটাই কমে আসবে। আবার আরেক বাসিন্দা জানান, সব ধরনের সতর্কতা নেওয়ার পরও তার বাড়িতে ভালুক ঢুকেছিল। শেষ পর্যন্ত তাকেও বৈদ্যুতিক ভালুক-প্রতিরোধক ম্যাট বসাতে হয়েছে। তার ভাষায়, "ভালুকের সঙ্গে একই এলাকায় বসবাসের এটাই হয়তো মূল্য।" বিশেষজ্ঞদের মতে, লেক তাহো উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ঘন কালো ভালুকের আবাসস্থলগুলোর একটি। পর্যটক ও বাসিন্দাদের অসচেতনতা, উন্মুক্ত খাবার এবং আবর্জনা সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা কমাতে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, মানুষের আচরণেও পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
ডে-কেয়ারে শিশুকে শারীরিক নির্যাতন ও আটকে রেখে মদ কিনতে যাওয়ার অভিযোগে মামলা
সেন্ট্রাল পার্কে কনিষ্ঠ সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, বরখাস্তের মুখে নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী আইনজীবী
১৬ বছরের কিশোরের সাহসিকতায় বাঁচল শিশুর প্রাণ, এবার হোয়াইট হাউসে সম্মান জানাবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসক ডা. অদিতি সাহা অনন্যাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা কলেজ অব মেডিসিনের শিক্ষক ডা. বি এম আতীকুজ্জামান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অদিতিকে অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী এবং স্বপ্নপূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ একজন তরুণ চিকিৎসক হিসেবে স্মরণ করেন। ডা. আতীকুজ্জামান জানান, গত বছরের মে মাসে ডা. অদিতি সাহা অনন্যা তার সেন্টারে ক্লিনিক্যাল রোটেশনের জন্য এসেছিলেন। প্রথম দিন থেকেই তিনি অনন্যার মধ্যে অসাধারণ মেধা, শেখার আগ্রহ এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা লক্ষ্য করেছিলেন। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। এ আগ্রহের ধারাবাহিকতায় তিনি আমেরিকান কলেজ অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির (এসিজি) বার্ষিক সম্মেলনে একটি গবেষণাপত্রও উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, পরে জানতে পারেন অনন্যা যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিন রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে ম্যাচ করেছেন এবং চিকিৎসক হিসেবে নিজের স্বপ্নপূরণের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছেন। সে সময় তাকে অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন। সেটিই ছিল তাদের শেষ যোগাযোগ। ডা. আতীকুজ্জামান লেখেন, অনন্যার মৃত্যুর খবর তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। ব্যস্ত কর্মদিবসের মাঝেও এ সংবাদ তাকে জীবনের অনিশ্চয়তার কথা নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে তার সঙ্গে আরও দুজন বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসক ক্লিনিক্যাল রোটেশন করছেন। তিনি সব সময় তাদের বলেন, স্বপ্নের পেছনে অবশ্যই ছুটতে হবে, তবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তও উপভোগ করতে হবে। পরিবার, প্রিয়জন এবং নিজের জন্য সময় রাখতে হবে, কারণ কেউ জানে না আগামীকাল কী অপেক্ষা করছে। সম্প্রতি শিকাগোতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ডা. অদিতি সাহা অনন্যা। তিনি রাজধানীর জহিরুল হক শিকদার মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইউনাইটেড স্টেটস মেডিক্যাল লাইসেন্সিং এক্সামিনেশন (ইউএসএমএলই) সম্পন্ন করে চলতি বছরের জুলাই মাসে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি শুরু করেছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে নতুন পথচলা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই তার অকাল মৃত্যু দেশ-বিদেশের চিকিৎসক সমাজ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পোস্টের শেষে ডা. বি এম আতীকুজ্জামান ডা. অদিতি সাহা অনন্যার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দাবানলের ধোঁয়া শুধু ফুসফুস নয়, প্রভাব ফেলছে প্রজনন ক্ষমতাতেও! গবেষণায় উঠে এলো উদ্বেগজনক তথ্য
নিউইয়র্কের কুইন্সে স্ত্রীর সামনে গুলি করে হত্যা মামলার সন্দেহভাজন জর্জিয়ায় আটক
কিশোরকে কাউন্সেলিংয়ের নামে ফুসলিয়ে ধর্ষণ, ক্যালিফোর্নিয়ায় নারী থেরাপিস্ট গ্রেফতার
যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ফেডারেল সংস্থা অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট (ওআরআর) থেকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) কাছে তথ্য সরবরাহের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ১২ হাজারের বেশি শিশু, তাদের অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ওআরআর অভিভাবকহীন শিশু, তাদের অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি তথ্য ও তদন্তসূত্র আইসের কাছে পাঠিয়েছে। অতীতে শিশু কল্যাণ কার্যক্রমকে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম থেকে আলাদা রাখা হলেও বর্তমান নীতিতে সেই অবস্থান বদলে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ২৪ বছর বয়সী এক অভিবাসী মা, ছদ্মনাম অরোরার ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় নিজের ছয় বছরের মেয়েকে ফিরে পেতে তিনি ছয় মাস চেষ্টা করেন। মা ও মেয়ের পুনর্মিলনের কয়েক দিনের মধ্যেই দুজনকে আইস আটক করে টেক্সাসের একটি পারিবারিক আটক কেন্দ্রে পাঠায়। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হলেও অরোরাকে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে নিয়মিত কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওআরআর ১৯৮০ সালে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো সীমান্তে একা আসা শিশুদের আশ্রয় ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সংস্থাটিকে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের আইনের উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের দ্রুত নিরাপদ অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিভাবকদের অভিবাসনগত অবস্থান নির্বিশেষে পারিবারিক পুনর্মিলন নিশ্চিত করা। বাইডেন প্রশাসনের সময় ওআরআরের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেন স্মায়ার্স রয়টার্সকে বলেন, শিশু সুরক্ষার জন্য আগে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল তা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে এবং শিশু কল্যাণ কর্মসূচিকে আরও বেশি মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ওআরআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশুদের গ্রেপ্তারে তাদের কোনো ভূমিকা নেই এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন। অন্যদিকে ডিএইচএস বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপর্যাপ্তভাবে যাচাই করা বা অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যেই ওআরআর থেকে আইসের তদন্ত শাখায় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে একদিনে ৪টি টর্নেডোর আঘাত, প্রবল ঝড়ে প্লাবিত শত শত বাড়ি, ৫ লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎহীন
লস অ্যাঞ্জেলেসে পুলিশ ও তাদের গাড়িতে জ্বলন্ত বস্তুনিক্ষেপ, আইস-বিরোধী বিক্ষোভকারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড