জর্জিয়ায় স্কুল হামলায় ৪ জন নিহত, ছেলের অপরাধে বাবার ১৫ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় অ্যাপালাচি হাইস্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনায় হামলাকারী কিশোরের বাবাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছেলেকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল কিনে দেওয়ার কথা স্বীকার করার পর, ৫৫ বছর বয়সী কলিন গ্রে-কে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারসহ অন্যান্য অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংঘটিত ওই হামলায় দুজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক নিহত হন। উল্লেখ্য, এর মাত্র দুদিন আগে এই হামলার মূল হোতা ১৬ বছর বয়সী কোল্ট গ্রে-কে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ব্যারো কাউন্টি কোর্টহাউসে বিচারক নিকোলাস প্রিম এই রায় ঘোষণা করেন। কলিন গ্রে-র বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার, অনিচ্ছাকৃত হত্যা এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতাসহ ২৭টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার ১০০ বছরের বেশি সাজা হওয়ার কথা ছিল। তবে বিচারক তাকে প্রতিটি সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার অভিযোগের জন্য ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন, যা অন্যান্য সাজার সাথে একযোগে চলবে। যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের বন্দুক হামলায় অভিভাবকদের দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বিচারক প্রিম জানান, জর্জিয়াতে এ ধরনের মামলা এটিই প্রথম। বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, ছেলের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ এবং বিপদের স্পষ্ট লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও বাবা তাকে সাহায্য করেননি বা তার কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেননি।
রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় কলিনের ৮০ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, ছেলের ঘরে ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ড স্কুল হামলার এক খুনির প্রতি সম্মান জানিয়ে তৈরি করা একটি ‘শ্রাইন’ বা বেদি থাকা সত্ত্বেও তিনি ছেলেকে বড়দিনে একটি এআর-১৫ (AR-15) মডেলের অস্ত্র উপহার দেন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে সতর্ক করার পরও তিনি ছেলেকে অস্ত্র থেকে দূরে রাখেননি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ১০ বছরের সাজার আবেদন করে বলেন, এটি বাবার অবহেলা হলেও তার কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। কলিন গ্রে নিজেও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান যে তিনি তার ছেলের মধ্যে এমন ভয়ংকর কোনো লক্ষণ দেখতে পাননি যা থেকে মনে হতে পারে সে এত বড় একটি হত্যাকাণ্ড ঘটাতে সক্ষম।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে রাস্তা পার হওয়ার সময় সিটি কর্পোরেশনের (ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন বা ডিএসএনওয়াই) একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ৩০ বছর বয়সী এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকার বে পার্কওয়ে এবং ক্রপসি অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী এক চালক ময়লার গাড়িটি নিয়ে বে পার্কওয়ের দিকে ডান দিকে মোড় ঘোরার সময় অসাবধানতাবশত ওই পথচারীকে চাপা দেন। দুর্ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা (ইএমএস) কর্মীরা দ্রুত এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর ময়লার গাড়ির চালক ঘটনাস্থলেই অবস্থান করছিলেন এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিহত তরুণীর পরিবারকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগে তাঁর পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ডিএসএনওয়াইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিহত তরুণীর পরিবারের প্রতি তাঁদের সমবেদনা রয়েছে এবং তাঁরা চলমান তদন্তের কাজে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।
গ্রিন কার্ডের বাড়ছে খরচ, ইবি ৫ কর্মসূচিতে ফি দ্বিগুণেরও বেশি, কার্যকর ৩০ নভেম্বর
পেন্টাগনে একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত, এবার পদ হারালেন ৩২ বছরের অভিজ্ঞ জেনারেল
ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীন প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের রাত কাটছে গাড়িতে
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) তথ্যভাণ্ডারে ভয়াবহ সাইবার হামলার মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর গোপন ডেটা ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ডেটা স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট 'ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস' গত বুধবার এই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। ফাঁস হওয়া এসব তথ্যের মধ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির মতো গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সংস্থাগুলোর কর্মীদের নাম, ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নজরদারি, সাইবার ফরেনসিক এবং অত্যন্ত গোপন অভিযানে (আন্ডারকাভার) যুক্ত থাকা কর্মকর্তাদের পদবি ও কাজের বিবরণও এই ডেটাবেসে উন্মুক্ত হয়ে গেছে। ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য এই ডেটা ফাঁসের বিষয়ে অবগত রয়েছে এবং অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মীদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলেও সংস্থাটি আশ্বস্ত করেছে। এই বিশাল তথ্য চুরির দায় স্বীকার করেছে 'ডিপার্টমেন্ট অব পিস' নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। তারা জানিয়েছে, ডিএইচএস কর্মীদের সাইন-অনের জন্য ব্যবহৃত 'ওকটা' (Okta) পরিষেবা থেকে এসব ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ওকটা তাদের সিস্টেম হ্যাক হওয়ার দাবিটি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট জানিয়েছেন, মাইয়া আরসন ক্রাইমিউ নামের এক সাংবাদিক ও হ্যাকটিভিস্ট এই ডেটাগুলো সহজে খোঁজার জন্য একটি বিশেষ সার্চ টুল তৈরি করেছেন, যা সাধারণ মানুষকে এসব তথ্য ব্রাউজ করতে সাহায্য করবে। হ্যাকার গ্রুপটি তাদের এক বার্তায় উল্লেখ করেছে, ডিএইচএস যেহেতু সাধারণ মানুষের তথ্য সংরক্ষণ করে, তাই তাদের তথ্যও সবার জানা থাকা উচিত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ইতিমধ্যে ফাঁস হওয়া ডেটাবেস থেকে বেশ কয়েকজন কর্মীর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং অন্তত তিনজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, গত এক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ডেটা ফাঁসের এটি তৃতীয় বড় ঘটনা। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে 'শাইনিহান্টারস' নামের হ্যাকার গোষ্ঠী এফবিআইয়ের হাজার হাজার কর্মীর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করেছিল এবং গত সপ্তাহে পেন্টাগনের লাখ লাখ সামরিক কর্মীর ডেটা ফাঁসের ঘটনায় একটি বড় ধরনের মামলা দায়ের করা হয়।
মহাকাশে পানি ও রাসায়নিক উপাদান শনাক্তে বাংলাদেশি নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদার উদ্ভাবন!
ফ্লোরিডায় পাখির প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে সাগরে তলিয়ে গেলেন ৩১ বছরের বাবা, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে রেখে চিরবিদায়
ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে সভায় আজান বাজালেন বোরকা পরিহিত নারী, বের করে দিল পুলিশ
২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিউইয়র্কের প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি) আবির্ভূত হতে পারেন বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ। তিনি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টিকে সতর্ক করে বলেছেন, সাধারণ নির্বাচনে এওসি হেরে যাবেন—এমনটা ধরে নেওয়া মোটেও ঠিক হবে না। বুধবার মিশিগানের গ্রোস পয়েন্ট উডস-এ রিপাবলিকানদের এক প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ক্রুজ মূলত মিশিগানের সেনেট নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যেখানে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ক্রুজের মতে, মিশিগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে এল-সায়েদের মতো একজন প্রগতিশীল নেতার জয় প্রমাণ করবে যে, জাতীয় পর্যায়েও ভোটাররা এওসির মতো চরম প্রগতিশীল প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী ২০২৮ সালের নির্বাচনের জন্য প্রচারণা শুরু করেননি, তবে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছেন এওসি। পলিমার্কেট, কালশি এবং প্রেডিক্টইট-এর মতো প্ল্যাটফর্মের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের (১৮.৭%) পরই ১১.৮ শতাংশ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন তিনি। এদিকে মিশিগানের সেনেট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ চড়ছে। টেড ক্রুজ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি সেনেটের গোয়েন্দা কমিটিতে সুযোগ পেলে তিনি মার্কিন অভিযান সংক্রান্ত গোপন তথ্য সন্দেহভাজনদের কাছে ফাঁস করে দিতে পারেন বলেও ভিত্তিহীন শঙ্কা প্রকাশ করেন টেক্সাসের এই সিনেটর। তবে ক্রুজের এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন আবদুল এল-সায়েদ। তিনি এসব দাবিকে স্রেফ 'গুজব' আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, তার বা তার পরিবারের সঙ্গে ওই সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের মুখপাত্র কোল ওজনিয়াক পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, টেড ক্রুজ একজন অত্যন্ত অজনপ্রিয় রাজনীতিক যিনি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কমানোর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন এবং তিনি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকতেই এসব কথা বলছেন। উল্লেখ্য, মিশিগান সেনেট নির্বাচনের সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন এল-সায়েদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেবে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান ঠিক কতটা শক্তিশালী হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের সমর্থন চাইলেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় তামান্নার জোড়া পুরস্কার