দীর্ঘ অপেক্ষার পর আয়কর নথি প্রকাশ করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের বহুচর্চিত কর বিবরণী (ট্যাক্স রিটার্ন) জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম। নিজ থেকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমার শেষ দিনে তিনি চার বছরের বিস্তারিত আয়কর নথি উন্মুক্ত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিউসাম এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউসাম যৌথভাবে বছরে আনুমানিক ১৭ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার উপার্জন করেছেন। একই সময়ে তারা প্রতি বছর রাজ্য ও ফেডারেল সরকারকে গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার আয়কর প্রদান করেছেন।
গভর্নরের দপ্তর থেকে ৭০০ পৃষ্ঠারও বেশি নথি সাংবাদিকদের দেখার সুযোগ দেওয়া হলেও সেগুলোর কোনো কপি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, গভর্নর হিসেবে নিউসামের বার্ষিক সরকারি বেতন প্রায় দুই লাখ ডলার, যা তাদের মোট আয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। তাদের আয়ের প্রধান উৎস অন্ধ ট্রাস্টে (ব্লাইন্ড ট্রাস্ট) রাখা ওয়াইনরি, রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা ব্যবসা।
তবে কোন নির্দিষ্ট ব্যবসা থেকে কত লাভ বা ক্ষতি হয়েছে তা আয়কর ফাইলে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, তার স্ত্রী জেনিফারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি বেশিরভাগ বছর লোকসানে ছিল বলে জানা গেছে। পাশাপাশি এই দম্পতি প্রতি বছর ৪০ থেকে ৬৫ হাজার ডলার দাতব্য সংস্থায় দান করেছেন।
গভর্নর নিউসামের এই কর বিবরণী প্রকাশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা চলছে, কারণ সম্প্রতি তিনি ও তার স্ত্রী একটি ফেডারেল তদন্তের আওতায় এসেছেন বলে প্রকাশ পেয়েছে। তবে নিউসাম এই তদন্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হতে পারেন বলে চর্চায় থাকা এই নেতা অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই মার্কিন বিচার বিভাগকে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০০৪ সালে রাজনীতিতে আসার পর থেকেই আর্থিক স্বচ্ছতার কথা বলে আসা নিউসামের এই আয়কর নথি প্রকাশ মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ার বিখ্যাত ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’ দীর্ঘ ৮৯ বছর পর চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯৩৭ সাল থেকে চালু থাকা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় প্রজন্মের মালিক ও প্রধান বেকার মারিয়া নোতারো ফেসবুকে একটি পোস্টে জানিয়েছিলেন, ‘পারিবারিক কারণে’ দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্তটি স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৯-১৫ ডিটমারস বুলেভার্ডে অবস্থিত দোকানটির সেই পুরোনো আমলের কাঠ, টেরাজো মেঝে এবং কাঁচের কাউন্টারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যেখানে একসময় সিসিলিয়ান ক্যানোলি, তেরঙা কুকিজ এবং ইতালীয় আইস বরফ সাজানো থাকত। সেই সাথে হারিয়ে গেল ছুটির মরসুমের জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব উপাদানে তৈরি তাদের সেই বিখ্যাত জিঞ্জারব্রেড হাউস। আকস্মিক এই বন্ধের প্রকৃত কারণ এখনো অজানা, আর এ বিষয়ে মারিয়া নোতারোর সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে নগরীর অর্থ বিভাগের রেকর্ডে দেখা যায়, গত জুনে মারিয়ার বাবা রোজারিও নোতারো এবং তার স্ত্রী কনচেত্তার মালিকানাধীন ভবনটির মালিকানা মারিয়ার নিয়ন্ত্রিত একটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যা এই বন্ধের ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। এখানকার নিয়মিত এক ক্রেতা জানান, লা গুলির মাখন ও চিনির সুবাসে বিখ্যাত ইতালীয় মার্কেটপ্লেস ‘ইটালি’ (Eataly)-এর চেয়েও বেশি ইতালির আসল অনুভূতি পাওয়া যেত। অ্যাস্টোরিয়ার সাবেক বাসিন্দা জো ক্যারেলা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০১৫ সালে ৯২ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার বাবা প্রতি রোববার এখান থেকে ক্যানোলি ও মিলেফোলিয়ে (millefoglie) কিনে বাড়ি ফিরতেন। ২০১৫ সালে পোপ ফ্রান্সিসের নিউইয়র্ক শহর সফর উপলক্ষে ‘পোপ ফ্রান্সিস কুকি’ তৈরি করে দারুণ খ্যাতি অর্জন করেছিল লা গুলি। নয় বছর পর, আমেরিকান বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষেও তারা রোমের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা থেকে হাত নাড়ার ছবিযুক্ত বিশেষ শর্টব্রেড কুকি তৈরি করেছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে ইতালির একটি কুখ্যাত কারাগারে তৎকালীন পোপের সফরের পর রাইকার্স আইল্যান্ডের বন্দীদের মাঝেও পোপ ফ্রান্সিসের অবয়বযুক্ত কুকি বিতরণ করেছিল তারা। লা গুলির এই বিদায় ডিটমারস বুলেভার্ড সংলগ্ন অ্যাস্টোরিয়া শপিং এলাকার সাম্প্রতিক পরিবর্তনেরই একটি অংশ, যেখানে কিছুদিন আগে ‘ল’ইনকন্ট্রো’ নামের আরেকটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁও বন্ধ হয়ে গেছে।
কস্ককোর ৩ ডলারের ‘ভ্যানিলা কুকি ক্রাঞ্চ সানডে’ এখন ক্রেতাদের নতুন পছন্দ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আয়কর নথি প্রকাশ করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম
উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, চীনের আরও ৪৩ কোম্পানির পণ্য নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমানযাত্রীদের অন্যতম বড় ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে নতুন ধরনের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের নকশা উন্মোচন করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জেটজিরো। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন জেড–৪ মডেলের উড়োজাহাজে থাকবে বাথরুমের সামনে আলাদা অপেক্ষার জায়গা, চারটি চলাচলের পথ এবং আরও প্রশস্ত কেবিন, যা যাত্রীদের চলাফেরা সহজ করবে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির তৈরি স্টিংরে-আকৃতির এই উড়োজাহাজ বর্তমানে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক বিমানের তুলনায় বেশি চওড়া ও অপেক্ষাকৃত সমতল। এর বিশেষ নকশার কারণে বাথরুমের সামনে আলাদা অপেক্ষার স্থান রাখা সম্ভব হয়েছে। ফলে যাত্রীদের আর আসনের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না বা চলাচলের পথে ভিড় তৈরি হবে না। জেটজিরো জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজটিতে ২৫০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। বিমানের বায়ুগতীয় নকশার কারণে জ্বালানির ব্যবহারও কম হবে, যা ভ্রমণ ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক বিমানের তুলনায় বেশি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হবে। বিমানটির ভেতরে প্রচলিত সারিবদ্ধ আসনের পরিবর্তে প্রতিটি আসন আলাদাভাবে বসানো হবে। যাত্রীদের জন্য থাকবে পৃথক ওভারহেড লাগেজ রাখার ব্যবস্থা। তবে এই মডেলে যাত্রীদের জন্য জানালা রাখা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি প্রথম কারখানা নির্মাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ পাওয়ার প্রাথমিক চুক্তি করেছে। এছাড়া ডেল্টা এয়ার লাইনস, আলাস্কা এয়ারলাইনস ও ইউনাইটেডসহ প্রায় ২০টি এয়ারলাইনস এ প্রকল্পে সমর্থন দিয়েছে। তবে নতুন এই নকশা নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, বিমানের ডানার কাছাকাছি বসা যাত্রীরা মোড় নেওয়ার সময় বেশি মাত্রার মহাকর্ষীয় চাপ অনুভব করতে পারেন। এছাড়া চারটি চলাচলের পথ থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ দিকে পূর্ণাঙ্গ প্রোটোটাইপের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩০-এর দশকের শুরুতে এই মডেলের উড়োজাহাজ বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারে।
বাড়ি কিনলেই বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করতে হবে, ভাইরাল যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির বিজ্ঞাপন
ইউরোপের জনপ্রিয় দেশ বেলজিয়াম ভ্রমণে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের
প্রিয় পোষা কুকুরের দাহের ছাই ছড়াতে এসে একাধিক গুলিতে প্রাণ গেল দুই শৈশববন্ধুর
যুক্তরাষ্ট্রে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে মোবাইল ফোনের পাসকোড দেওয়ার পর সেটির সব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার ঘটনায় এক মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত স্যামুয়েল টিউনিক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র থেকে আটলান্টার হার্টসফিল্ড জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। সে সময় তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ফোনের পাসকোড চাইলে টিউনিক তা দেন। তবে কোড প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গে ফোনটির পর্দা কয়েকবার জ্বলে-নিভে পুনরায় চালু হয় এবং এতে সংরক্ষিত সব তথ্য মুছে যায়। তদন্তে জানা যায়, তার ফোনে এমন একটি বিশেষ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছিল, যাতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডিভাইসের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার সুবিধা রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ, সরকারি তদন্তে বাধা দিতে এবং সম্ভাব্য প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ওই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে টিউনিকের বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করে বিচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে টিউনিকের আইনজীবীর দাবি, তার মক্কেলকে জিজ্ঞাসাবাদের আগে আইন অনুযায়ী সাংবিধানিক অধিকার জানানো হয়নি এবং আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার একাধিক অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়। তার অভিযোগ, ফোন তল্লাশির প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশবাদী একটি আন্দোলনের সঙ্গে টিউনিকের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা, যা বৈধ তদন্তের সীমা অতিক্রম করেছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। শুনানি শেষ হলেও বিচারক এখনো টিউনিকের আবেদন এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের মুখে হোটেলে আশ্রয় নিলেন নেতানিয়াহু
নিষিদ্ধ ই-বাইকে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নিউইয়র্কের এক কিশোরের