নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় চিরতরে বন্ধ ৮৯ বছরের পুরোনো ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ার বিখ্যাত ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’ দীর্ঘ ৮৯ বছর পর চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯৩৭ সাল থেকে চালু থাকা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় প্রজন্মের মালিক ও প্রধান বেকার মারিয়া নোতারো ফেসবুকে একটি পোস্টে জানিয়েছিলেন, ‘পারিবারিক কারণে’ দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।
তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্তটি স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৯-১৫ ডিটমারস বুলেভার্ডে অবস্থিত দোকানটির সেই পুরোনো আমলের কাঠ, টেরাজো মেঝে এবং কাঁচের কাউন্টারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যেখানে একসময় সিসিলিয়ান ক্যানোলি, তেরঙা কুকিজ এবং ইতালীয় আইস বরফ সাজানো থাকত। সেই সাথে হারিয়ে গেল ছুটির মরসুমের জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব উপাদানে তৈরি তাদের সেই বিখ্যাত জিঞ্জারব্রেড হাউস।
আকস্মিক এই বন্ধের প্রকৃত কারণ এখনো অজানা, আর এ বিষয়ে মারিয়া নোতারোর সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে নগরীর অর্থ বিভাগের রেকর্ডে দেখা যায়, গত জুনে মারিয়ার বাবা রোজারিও নোতারো এবং তার স্ত্রী কনচেত্তার মালিকানাধীন ভবনটির মালিকানা মারিয়ার নিয়ন্ত্রিত একটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যা এই বন্ধের ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
এখানকার নিয়মিত এক ক্রেতা জানান, লা গুলির মাখন ও চিনির সুবাসে বিখ্যাত ইতালীয় মার্কেটপ্লেস ‘ইটালি’ (Eataly)-এর চেয়েও বেশি ইতালির আসল অনুভূতি পাওয়া যেত। অ্যাস্টোরিয়ার সাবেক বাসিন্দা জো ক্যারেলা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০১৫ সালে ৯২ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার বাবা প্রতি রোববার এখান থেকে ক্যানোলি ও মিলেফোলিয়ে (millefoglie) কিনে বাড়ি ফিরতেন।
২০১৫ সালে পোপ ফ্রান্সিসের নিউইয়র্ক শহর সফর উপলক্ষে ‘পোপ ফ্রান্সিস কুকি’ তৈরি করে দারুণ খ্যাতি অর্জন করেছিল লা গুলি। নয় বছর পর, আমেরিকান বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষেও তারা রোমের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা থেকে হাত নাড়ার ছবিযুক্ত বিশেষ শর্টব্রেড কুকি তৈরি করেছিল।
এছাড়া ২০২৪ সালে ইতালির একটি কুখ্যাত কারাগারে তৎকালীন পোপের সফরের পর রাইকার্স আইল্যান্ডের বন্দীদের মাঝেও পোপ ফ্রান্সিসের অবয়বযুক্ত কুকি বিতরণ করেছিল তারা। লা গুলির এই বিদায় ডিটমারস বুলেভার্ড সংলগ্ন অ্যাস্টোরিয়া শপিং এলাকার সাম্প্রতিক পরিবর্তনেরই একটি অংশ, যেখানে কিছুদিন আগে ‘ল’ইনকন্ট্রো’ নামের আরেকটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁও বন্ধ হয়ে গেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreদক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার কিংবদন্তি ক্লাসিক রক রেডিও স্টেশন ‘কেসিএএল ৯৬.৭’ (KCAL 96.7) তাদের সম্প্রচার কার্যক্রমে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় এবং শুধুমাত্র মিউজিক-নির্ভর ফরম্যাটে যাওয়ার লক্ষ্যে স্টেশনের অন-এয়ার বা সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মীকে (ডিজে) একসঙ্গে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। ইনল্যান্ড এম্পায়ারের রেডিও শ্রোতাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় এই স্টেশনে এই ব্যাপক পরিবর্তন গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানাহেইম ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের দাবি, এর মাধ্যমে শ্রোতারা এখন থেকে সারা দিন শুধু বিরতিহীন গান উপভোগ করতে পারবেন। স্টেশনটির চিফ অপারেটিং অফিসার কেলি স্যান্ডার্স জানিয়েছেন, ডিজে-বিহীন এই নতুন ফরম্যাটের অর্থ হলো সম্প্রচারে কোনো বাধা বা কথার বিরতি থাকবে না, চলবে নন-স্টপ ক্লাসিক রক মিউজিক। একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, "ইনল্যান্ড এম্পায়ারে কেসিএএল-এর একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। স্টেশনের এই নতুন অধ্যায়টি তার শক্তিশালী রক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, শ্রোতারা যেসব গান ও শিল্পীদের শুনে বড় হয়েছেন, সেসব ক্লাসিক রক মিউজিক দিয়েই স্টেশনটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, যা শ্রোতা ও বিজ্ঞাপনদাতা উভয়ের জন্যই আরও বেশি ধারাবাহিক ও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। কর্তৃপক্ষের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে জন ডিস্যান্টিস, নিকি প্রেস্টন এবং প্যাট্রিক টিশের মতো এক ডজনেরও বেশি জনপ্রিয় অন-এয়ার ট্যালেন্ট রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ছাঁটাইয়ের এই ঘটনাকে ‘হতাশাজনক’ আখ্যা দিয়ে ডিজে ডিস্যান্টিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, "অবশেষে আমাদের পালাও এল। আজ সকালে কেসিএএল কর্তৃপক্ষ সকল সম্প্রচার কর্মীকে অব্যাহতি দিয়েছে। তারা একটি স্বয়ংক্রিয়, মানুষ্যবিহীন ফরম্যাটের দিকে এগোচ্ছে, যাকে বিস্ময়কর বললেও কম বলা হয়।" তবে দীর্ঘদিন কেসিএএল পরিবারের অংশ হতে পেরে শ্রোতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। ছাঁটাইয়ের এই দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন স্টেশনের ৪২ বছরের প্রবীণ ও জনপ্রিয় ডিজে ড্যারিল নরসেলও। টানা ৩৬ বছর বিকালের শো সঞ্চালনা করা এই প্রবীণ বিদায়বেলায় দীর্ঘ পথচলার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি কেবল কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি উইকেন্ড ক্রু এবং ফিল-ইন স্টাফ হিসেবে কাজ করা সৈয়দা জাফরি, জেরেমিয়াহ পল, স্টিভ ব্রাজিলসহ আরও অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকা সৈয়দা জাফরি আক্ষেপের সুরে জানান, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বহু বিখ্যাত রক তারকার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তবে রেডিওরও যে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদকাল রয়েছে তা এবার প্রমাণিত হলো। সব মিলিয়ে ঠিক কতজন কর্মী এই ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
নিউইয়র্কবাসীর জন্য সুখবর, ইউটিলিটি বিলের খরচে মিলবে ২০০ ডলারের রিবেট চেক
জর্জিয়ায় অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হলো ৬ বছরের শিশুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপমাত্রার পারদ ১১০ ডিগ্রিতে, বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শঙ্কা
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরে উপকূলে সাঁতার কাটার সময় নিখোঁজ হওয়া এক নারী ট্রায়াথলেটের মৃত্যুর মর্মান্তিক কারণ প্রকাশ পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ৫৫ বছর বয়সী এরিকা ফক্স একটি হাঙরের ভয়ংকর হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৪ জন সঙ্গীর সাথে মন্টেরে-এর বরফশীতল জলে সাঁতার কাটার সময় তিনি নিখোঁজ হন। এক সপ্তাহ পর সান্তা ক্রুজ কাউন্টির ডেভেনপোর্ট বিচের কাছে প্রায় ২৫ মাইল দূরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার পরনে থাকা কালো রঙের ওয়েটসুটটি আংশিক ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। সান্তা ক্রুজ কাউন্টির শেরিফ-করোনার অফিস চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, হাঙরের কামড়ের ফলে সৃষ্ট গভীর ক্ষত ও পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণেই এরিকার মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, তার পেট থেকে হাঁটু পর্যন্ত হাঙরের দাঁতের অর্ধবৃত্তাকার ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাঙরের একটিমাত্র কামড়ে তার পেলভিস বা শ্রোণিচক্র ভেঙে যায় এবং একটি প্রধান ধমনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির শার্ক ল্যাবের মেরিন বায়োলজির অধ্যাপক ক্রিস লোয়ে ধারণা করছেন, হাঙরটি হয়তো এরিকাকে কোনো সিল বা সি লায়ন ভেবে ভুল করেছিল। তার মতে, হাঙরের বিশাল আকারের কারণে প্রথম আঘাতেই এরিকা সম্ভবত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। স্বামী জিন-ফ্রান্সিস ভ্যানরিউসেলের সাথে প্যাসিফিক গ্রোভে 'কেল্প ক্রলারস' নামের একটি সুইমিং ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এরিকা। মর্মান্তিক ওই ঘটনার দিন তিনি এই ক্লাবের সাপ্তাহিক সাঁতারে অংশ নিচ্ছিলেন। হঠাৎ পানিতে বিশাল একটি শব্দ (স্প্ল্যাশ) শুনে সাঁতারুরা হাঙরের আক্রমণের আশঙ্কা করেন। বাকিরা নিরাপদে তীরে ফিরতে পারলেও এরিকার আর খোঁজ মেলেনি। কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, সে সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা একটি হাঙরকে তার মুখে মানুষের শরীর নিয়ে পানিতে ডুব দিতে দেখেছিলেন, যা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এরিকা ফক্স একসময় তার সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রেট হোয়াইট শার্কের পাশে একজন ডুবুরির সাঁতার কাটার ছবি শেয়ার করে মজা করে লিখেছিলেন, 'এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী (মানুষ), আর তার পাশেই একটি হাঙর শান্তভাবে সাঁতার কাটছে।' তার মৃত্যুর পর কেল্প ক্রলারসের ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অনেকেই শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি হাঙরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে শিকারের মতো দেখতে কালো ওয়েটসুটের বদলে ভিন্ন রঙের বা ওর্কা (কিলার হোয়েল) প্যাটার্নের ওয়েটসুট তৈরির দাবি তুলেছেন। কেউ কেউ আবার এলইডি লাইট ব্যবহার করে হাঙর তাড়ানোর আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার কথাও উল্লেখ করেছেন। ২০২২ সালের জুনের পর লাভার্স পয়েন্টে এটি তৃতীয় হাঙরের আক্রমণ। এর আগে কেল্প ক্রলারসের আরেক সদস্য ৬২ বছর বয়সী স্টিভ ব্রুমার হাঙরের হামলায় গুরুতর আহত হলেও সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।
নিউইয়র্কে আবাসন সংকটের সমাধানে পড়ে থাকা সরকারি জমিতে ৫০ হাজার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা মামদানির
মেড ইন ইউএসএ দেখলেই কি সত্যিই আমেরিকায় তৈরি? অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্যের অভিযোগ
নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ফ্ল্যাটআয়রন ভবনে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, দাম ৫৮.৫ মিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আদালতের দ্রুত শুনানি প্রক্রিয়ার কারণে দেশছাড়ার আদেশের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, আদালতের শুনানির সময় কমে যাওয়া এবং একসঙ্গে অনেক মামলা পরিচালনার কারণে অনেক অভিবাসী নির্ধারিত শুনানিতে উপস্থিত হতে পারছেন না। ফলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিনের অভিবাসন আদালতের মামলার জট কমাতে আদালত কক্ষে শুনানির সংখ্যা বাড়িয়েছে। দেশজুড়ে অনেক আদালতে একেকজন বিচারকের সামনে একই দিনে কয়েক ডজন থেকে শতাধিক মামলা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এসব শুনানিকে ‘মেগা’ মাস্টার হিয়ারিং বলা হচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা মোবাইল পাথওয়েজের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক হাজার ৩০০টির বেশি এ ধরনের শুনানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। একই সঙ্গে অনেক অভিবাসী তাদের মামলা প্রস্তুতির জন্য আগের তুলনায় অনেক কম সময় পাচ্ছেন। আগে অনেক ক্ষেত্রে শুনানির প্রস্তুতির জন্য প্রায় ছয় মাস সময় পাওয়া গেলেও বর্তমানে অনেক অভিবাসী এক মাসের কিছু বেশি সময় পাচ্ছেন। এর ফলে অনেকে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হতে পারছেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল পাথওয়েজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২০ শতাংশ অভিবাসী আদালতের শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। চলতি বছরের জুনে সেই হার বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে বহিষ্কারের আদেশের সংখ্যাও বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৩৩ হাজার বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হলেও চলতি বছরের জুনে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৯ হাজার হয়েছে। আদালতে উপস্থিত না হলে অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিবাসন নীতির কঠোর সমর্থকদের মতে, দ্রুত শুনানি দীর্ঘদিনের মামলার জট কমাতে সহায়তা করছে। তবে অভিবাসীদের আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, কম সময়ে বেশি মামলা পরিচালনার কারণে অনেক বৈধ দাবিও যথাযথভাবে পর্যালোচনার সুযোগ পাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, বিচারকরা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন এবং একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায্যতা বজায় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের মতে, দীর্ঘসূত্রতা এমন অভিবাসীদের জন্যও সমস্যা তৈরি করে যাদের বৈধ দাবি রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক অভিবাসন বিচারক ও আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত সংখ্যক মামলা একসঙ্গে পরিচালনা করলে বিচারকদের ওপর চাপ বাড়ে এবং প্রত্যেকটি মামলা পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার সুযোগ কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতের মামলার জট কমলেও দ্রুত শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একদিকে সরকার দ্রুত নিষ্পত্তিকে প্রয়োজনীয় বলছে, অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এতে অনেক অভিবাসীর ন্যায্য আইনি সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
টেসলা ও ক্লাউডকিচেনসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এআইভিত্তিক কোম্পানি গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী
যুক্তরাষ্ট্রের এক এমআরআইয়ের খরচেই চীনে বিমান ভ্রমণ, পাঁচতারকা হোটেল ও চিকিৎসা!