সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, আদালতে পরিবারের মুখোমুখি হতেও ভয় ঘাতকের

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৯:২১
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, আদালতে পরিবারের মুখোমুখি হতেও ভয় ঘাতকের
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, আদালতে পরিবারের মুখোমুখি হতেও ভয় ঘাতকের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার ১২ বছর বয়সী নিরপরাধ ছেলেকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক দাগি অপরাধী আদালতে নিহতের পরিবারের মুখোমুখি হতে কাপুরুষোচিত অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত শুক্রবার ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে এই মামলার নিয়মিত শুনানির দিন ধার্য ছিল। নিহত জ্যাকব ফ্রেয়টেসের বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘাতকের মুখোমুখি হওয়ার জন্য এজলাসে উপস্থিত থাকলেও ৪৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত উইলিয়াম ফেরার আদালতে হাজির হননি। ডিপার্টমেন্ট অফ কারেকশন্স তাকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে এলেও শেষ মুহূর্তে তার আইনজীবী রেমন্ড গাজারের মাধ্যমে তিনি বিচারকের সামনে উপস্থিত হওয়া থেকে অব্যাহতি নেন।

 

গত শনিবার ব্রঙ্কসের মাউন্ট ইডেন এলাকার ওয়ান্ডা ডেলি গ্রোসারি নামক একটি দোকানের বাইরে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি (NYPD) ডিটেকটিভ সার্জেন্ট জেসুস ফ্রেয়টেসের ছেলে জ্যাকব সাইকেল চালিয়ে ওই দোকানে একটি বল কিনতে গিয়েছিল।

 

প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সে সময় দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে জ্যাকবের বুকে গুলি লাগে এবং পরবর্তীতে ব্রঙ্কসের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দোকানটির বাইরে মারামারি চলার সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ বন্দুক বের করে গুলি ছুড়তে শুরু করে এবং গুলিবিদ্ধ জ্যাকব বুকে হাত চেপে ধরে দৌড়ে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় আরও দুজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রমতে, উইলিয়াম ফেরার মূলত তার ভাইয়ের একটি বিরোধ মেটাতে গিয়ে এই গোলাগুলির সূত্রপাত করেন।

 

ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন জ্যাকবের মা মিগডালিয়া মার্টিনেজ। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি শহরের ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বর্তমান ব্যবস্থা ভুক্তভোগীদের চেয়ে অপরাধীদের পক্ষেই বেশি কাজ করছে। শহরটি এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, কারণ আইন আর আগের মতো কঠোর নেই।" এদিকে, শুক্রবার আদালতে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন যে, তারা হত্যাসহ অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট বা ইনডাইক্টমেন্ট পেতে গ্র্যান্ড জুরির কাছে মামলাটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারক জোসেফ সোরেন্টিনো অভিযুক্ত ফেরারকে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে অন্তত ছয়বার গ্রেপ্তার হওয়া এই দাগি অপরাধীর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নরহত্যা, হামলা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্পের সীমান্ত দেয়াল ঠেকাতে মামলায় টেক্সাসের জমির মালিকরা
ট্রাম্পের সীমান্ত দেয়াল ঠেকাতে মামলায় টেক্সাসের জমির মালিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একদল ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, সীমান্ত দেয়াল, ব্যারিয়ার ও সড়ক নির্মাণের জন্য তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।    মামলাটি করা হয়েছে টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ ঠেকাতে। ছয়জন জমির মালিক এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কনজার্ভ বিগ বেন্ড মামলাটিতে যুক্ত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, আরও প্রায় ২৩০ জন জমির মালিক এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছেন।    ঘটনাটির বিশেষ দিক হলো, মামলাকারীদের মধ্যে এমন স্থানীয় বাসিন্দাও রয়েছেন যারা কয়েক বছর আগে সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দাবি জানিয়েছিলেন এবং তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের সীমান্তনীতি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। তাদের বক্তব্য, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন তারা অস্বীকার করছেন না; তবে এর অর্থ ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে দেয়াল নির্মাণ মেনে নেওয়া নয়।    ভ্যাল ভার্দে কাউন্টির র‍্যাঞ্চার ও সাবেক কাউন্টি বিচারক লরা অ্যালেন, যিনি নিজেকে দুইবারের ট্রাম্প ভোটার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনে বলেন—সীমান্ত নিরাপদ করার জন্য তারা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, কিন্তু এখন দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার সময় এসেছে।    ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে বড় পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু স্টিলের দেয়াল, যানবাহন ঠেকানোর ব্যারিয়ার, টহল সড়ক, আলো, ক্যামেরা ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো সীমান্ত প্রকল্পে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    মামলাকারীদের মূল আপত্তি হলো, বিগ বেন্ড এলাকাকে ‘অবৈধ প্রবেশের উচ্চ ঝুঁকির এলাকা’ হিসেবে দেখিয়ে প্রশাসন দ্রুত নির্মাণের জন্য পরিবেশ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অন্যান্য সুরক্ষা-সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করছে। তাদের দাবি, এই অঞ্চলে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক কম। সিবিপির তথ্য উদ্ধৃত করে মামলায় বলা হয়েছে, বিগ বেন্ড সেক্টরে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের মোট আটক বা গ্রেপ্তারের প্রায় ১ শতাংশ ঘটে, যদিও মেক্সিকোর সঙ্গে এই অঞ্চলের সীমান্তের দৈর্ঘ্য মোট সীমান্তের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।    মামলায় ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ও তোলা হয়েছে। স্থানীয় জমির মালিকদের অনেকে আশঙ্কা করছেন, সীমান্ত ব্যারিয়ার নির্মাণ হলে তাদের র‍্যাঞ্চ ও কৃষিজমি থেকে রিও গ্রান্ডে নদীর পানির প্রবেশাধিকার সীমিত হতে পারে। এতে কৃষিকাজ, পশুপালন ও স্থানীয় ব্যবসায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।    এদিকে বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের আশপাশে সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক চলছে। পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এসব নির্মাণের কারণে বন্যপ্রাণীর চলাচল, প্রাকৃতিক পরিবেশ, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা এবং পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ৭:৬
মহাকাশে অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বদলে যেতে পারে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ধরন

মহাকাশে অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বদলে যেতে পারে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ধরন

সেনারা দেশ রক্ষায়, অথচ পরিবারের সদস্যদেরই আটক করছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ

সেনারা দেশ রক্ষায়, অথচ পরিবারের সদস্যদেরই আটক করছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ

শিক্ষক ছাড়াই স্কুল, এআইয়ে পড়াশোনা

শিক্ষক ছাড়াই স্কুল, এআইয়ে পড়াশোনা - যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ অঙ্গরাজ্যে নতুন মডেল

আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়
আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়, বাঁচবে বাড়তি খরচ

নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি মেরামত করাতে গিয়ে অনেকেই অপ্রত্যাশিত বড় বিলের মুখে পড়েন। কোনো কাজের খরচ আগে পরিষ্কার না করা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করানো কিংবা যন্ত্রাংশ ও শ্রমের খরচ সম্পর্কে না জানার কারণে শেষ পর্যন্ত গুনতে হতে পারে অতিরিক্ত টাকা। তবে মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করলে অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।   প্রথমেই গাড়ির সমস্যার প্রাথমিক তথ্য জেনে নিন। বিশেষ করে ইঞ্জিনের ত্রুটির সংকেত জ্বললে সরাসরি বড় ধরনের মেরামতের সিদ্ধান্ত না নিয়ে ওবিডি স্ক্যানের মাধ্যমে সমস্যার সংকেত জানা যেতে পারে। কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকানে এই ধরনের স্ক্যান বিনামূল্যে করা হয়, তবে সেবার নিয়ম ও খরচ দোকানভেদে ভিন্ন হতে পারে। সমস্যার সংকেত জানা থাকলে মেকানিকের সঙ্গে কথা বলার সময় বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে শুধু স্ক্যানের সংকেত দেখে কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। প্রকৃত কারণ জানতে পেশাদারভাবে গাড়ি পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।   দ্বিতীয়ত, কাজ শুরু করার আগে লিখিত খরচের হিসাব নিন। সেখানে কী সমস্যা, কোন যন্ত্রাংশ লাগবে, শ্রমের খরচ কত এবং মোট সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। ফেডারেল ট্রেড কমিশনও গাড়ি মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দেয়। ব্যয়বহুল বা জটিল মেরামতের ক্ষেত্রে একাধিক দোকান থেকে হিসাব নিয়ে তুলনা করাও ভালো। গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা কোনো ফি আছে কি না, সেটিও আগে জেনে নিন।   নিউইয়র্কে গাড়ির মালিকদের জন্য লিখিত হিসাব এবং অনুমতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহক চাইলে মেরামতের দোকানকে খরচের হিসাব দিতে হয়। অনুমোদিত হিসাবের চেয়ে বেশি খরচ করতে হলে অতিরিক্ত কাজের জন্য গ্রাহকের অনুমতি প্রয়োজন। তাই মুখের কথায় কাজ শুরু না করে লিখিত কাগজে মেরামতের ধরন ও সম্ভাব্য খরচ পরিষ্কার করে নেওয়া নিরাপদ।   তৃতীয়ত, গাড়িতে কোন ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে তা জেনে নিন। প্রস্তুতকারকের মূল যন্ত্রাংশ, বিকল্প প্রস্তুতকারকের যন্ত্রাংশ, পুনর্নির্মিত যন্ত্রাংশ এবং ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দামও এক নয়। সব ক্ষেত্রে সবচেয়ে দামি যন্ত্রাংশই প্রয়োজনীয়, এমন নয়। আবার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক বা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে সস্তা বিকল্প নেওয়ার আগে এর মান, গাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং গ্যারান্টি সম্পর্কে জানতে হবে। সম্ভব হলে হিসাবের কাগজে যন্ত্রাংশের নাম ও নম্বর লিখিয়ে রাখুন।   চতুর্থত, শ্রমের ঘণ্টাপ্রতি খরচ এবং গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার ফি আগে জেনে নিন। কোনো দোকান ঘণ্টা হিসেবে শ্রমের খরচ নেয়, আবার কোনো কাজের জন্য নির্ধারিত হারে খরচ নেয়। একইভাবে গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা ফি থাকতে পারে। মেরামতের কাজ করালে সেই ফি মোট বিল থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সেটিও আগে জেনে নেওয়া উচিত। কাজ শুরুর আগেই দোকানটি কীভাবে শ্রমের খরচ হিসাব করে, তা পরিষ্কার করে নিন।   পঞ্চমত, পুরনো যন্ত্রাংশের বিষয়ে আগে থেকেই কথা বলুন। বদলে দেওয়া যন্ত্রাংশ দেখতে বা ফেরত নিতে চাইলে কাজ শুরুর আগেই দোকানকে জানানো ভালো। নিউইয়র্কে গ্রাহক আগে লিখিতভাবে অনুরোধ করলে বদলে দেওয়া কিছু যন্ত্রাংশ ফেরত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, যদিও এর কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। কাজ শেষে বিস্তারিত বিল নিন। সেখানে কোন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে এবং শ্রমের জন্য কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা দেখে নিন।   ষষ্ঠত, গ্যারান্টির বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে নিন। শুধু গ্যারান্টি আছে শুনে কাজ করাবেন না। কোন যন্ত্রাংশের ওপর গ্যারান্টি রয়েছে, কতদিন বা কত মাইল পর্যন্ত তা কার্যকর, যন্ত্রাংশ ও শ্রম দুটোই এর আওতায় রয়েছে কি না এবং কোনো বিশেষ শর্ত আছে কি না, লিখিতভাবে জেনে নিন। গাড়ির মেরামতের সঙ্গে কোনো সেবা চুক্তি থাকলে কোন কাজ বা যন্ত্রাংশ তার আওতায় পড়বে, সেটিও আগে দেখে নেওয়া উচিত।   সপ্তমত, মেরামতের দোকানের সুনাম ও মেকানিকের যোগ্যতা যাচাই করুন। পরিচিত মানুষ বা বিশ্বস্ত কমিউনিটির কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়া যেতে পারে। অনলাইন পর্যালোচনা দেখার সময় শুধু সামগ্রিক নম্বর নয়, সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং গ্রাহকদের বিস্তারিত অভিজ্ঞতাও পড়ুন। এএসই সনদ থাকা মেকানিকদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মানদণ্ড পূরণের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে শুধু সনদ দেখেই কোনো দোকানকে ভালো বা বিশ্বস্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বড় ধরনের গাড়ি মেরামতের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। একই সমস্যার জন্য সম্ভব হলে একাধিক দোকান থেকে লিখিত হিসাব নিন এবং কোন কাজটি জরুরি, আর কোনটি পরে করা যেতে পারে, তা মেকানিককে জিজ্ঞেস করুন। গাড়ি মেরামতের সব হিসাব, অনুমতিপত্র এবং যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। এতে ভুল বিল বা অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত কাজ নিয়ে কোনো সমস্যা হলে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারবেন।   নিউইয়র্কে নিবন্ধিত কোনো গাড়ি মেরামতের দোকান নিয়ে অভিযোগ থাকলে গ্রাহক স্টেট ডিএমভির মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান। তবে গাড়ি মেরামতসংক্রান্ত আইন ও গ্রাহকের অধিকার অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই বড় ধরনের মেরামতের আগে নিজের অঙ্গরাজ্যের নিয়ম জেনে নেওয়া এবং লিখিত হিসাব ও অনুমতি ছাড়া বড় অঙ্কের কাজে সম্মতি না দেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ৩:২৪
চীন-রাশিয়াকে চাপে রাখতে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র রাখার কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

চীন-রাশিয়াকে চাপে রাখতে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র রাখার কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

কিছুতেই ভয় পেতে চান না নিউইয়র্কের জোডি স্মিথ

কিছুতেই ভয় পেতে চান না নিউইয়র্কের জোডি স্মিথ, তাই অপসারণ করালেন মস্তিষ্কের বিশেষ অংশ

বাড়ি কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপে পরবেন ক্রেতারা

মর্টগেজ রেট বাড়ার শঙ্কা, বাড়ি কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপে পরবেন ক্রেতারা

পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাউপাথ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ল্যান্সডেলে বসবাস করতেন এবং হ্যাটফিল্ড মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আওয়াজ বিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে কাউপাথ রোডের ১০০ ব্লকে একটি ধূসর ও একটি রুপালি রঙের সেডানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য গ্র্যান্ড ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়।   দুর্ঘটনার পর কাউপাথ রোডের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেইডি রোড থেকে মিডো উড লেন পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল কাজ করে।   ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপ পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হ্যাটফিল্ড ও টোওয়ামেসিন পুলিশ এবং মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেকটিভ ব্যুরো সহায়তা করছে। তবে দুই গাড়ির সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   নিহত আবুল কালাম আজাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই ছেলে, ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৯ মাস বয়সী যমজ দুই ছেলে রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ল্যান্সডেল ও হ্যাটফিল্ড এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: আওয়াজ বিডির

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ০:১৭
পেনসিলভানিয়ার ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপের কাউপাথ রোডে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ। ছবি: সংগৃহীত

পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত

আগুনে পুড়ে যাওয়া প্যাট্রিক হার্ডিসনের মুখমণ্ডল ২৬ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসকরা। ছবি: সংগৃহীত

নারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের মুখ হারান প্যাট্রিক, ১৪ বছর পর পেলেন নতুন চেহারা

সরকারি ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযানের ঘোষণা দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির সন্দেহে ৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে সরকারি ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments