ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান, শেষ মুহূর্তে প্রাণে বাঁচলেন পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে মেরিন কোরের একটি এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার ঠিক আগে পাইলট সফলভাবে ইজেক্ট করে বেরিয়ে আসায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন মেরিন কোর জানায়, শুক্রবার সকালে মেরিন কোর এয়ার স্টেশন মিরামারের রানওয়ের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটি অবতরণ বা হোভারিং অনুশীলনের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি, মানবিক ভুল বা অন্য কোনো কারণ, কোনোটিই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এফ-৩৫বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমানের একটি সংস্করণ, যা স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন এবং উল্লম্বভাবে অবতরণ করতে সক্ষম। মূলত মার্কিন মেরিন কোর এই সংস্করণটি ব্যবহার করে। প্রতিটি বিমানের মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এই ঘটনাকে ‘ক্লাস এ মিশ্যাপ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সামরিক পরিভাষায় এটি সবচেয়ে গুরুতর ধরনের বিমান দুর্ঘটনা, যেখানে বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়, প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে বা ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইজেকশন ব্যবস্থার কারণে পাইলটদের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনাও সেই তালিকায় যুক্ত হলো, আর এর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreহোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোলা কয়েকটি ক্লোজআপ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তার ঘাড়ের সামনের অংশে দেখা যাওয়া ত্বকের ভাঁজ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবহারকারী মন্তব্য ও রসিকতা করছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে তোলা ট্রাম্পের কয়েকটি ছবি সাংবাদিক অ্যারন রুপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করার পর সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে ট্রাম্পের ঘাড়ের সামনের অংশে একটি স্পষ্ট ত্বকের ভাঁজ দেখা যায়। এরপর অনেক ব্যবহারকারী ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও অনুমান করতে শুরু করেন। কিছু ব্যবহারকারী এটিকে বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন ওজন কমানোর ওষুধ বা স্বাস্থ্যগত কারণের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত বা সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ছবিগুলো তোলা হয় হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে। ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের অধিকাংশের প্রতি সম্মান জানালেও তার দীর্ঘদিনের সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করে কিছু সংবাদমাধ্যমকে 'ভুয়া সংবাদ' ছড়ানোর অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি 'ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম' মন্তব্যও করেন। এটি প্রথম নয়, চলতি বছরেও ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। গত মার্চে মেডেল অব অনার প্রদান অনুষ্ঠানে তার ঘাড়ের ডান পাশে লালচে দাগ দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। পরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ঘাড়ের ডান পাশে একটি সাধারণ ত্বক সুরক্ষাকারী ক্রিম ব্যবহার করছিলেন। তিনি বলেন, এটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার অংশ ছিল এবং এর কারণে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লালচে দাগ দেখা যেতে পারে। তবে কী কারণে ওই চিকিৎসা প্রয়োজন হয়েছিল বা কোন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক কয়েকটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ডান হাতে মেকআপ দিয়ে ঢেকে রাখা একটি কালশিটের দাগও আলোচনায় আসে। এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ঘন ঘন মানুষের সঙ্গে করমর্দন, দীর্ঘমেয়াদি শিরার সমস্যা (ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি) এবং অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে তার হাতে এমন দাগ দেখা দিতে পারে। তবে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কেবল ছবি দেখে কারও শারীরিক অবস্থা বা রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। চিকিৎসা পরীক্ষার ফল বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের তথ্য ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন দাবি যাচাই করা যায় না।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান, শেষ মুহূর্তে প্রাণে বাঁচলেন পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রে মরতে থাকা ৬ মাসের সন্তানের পাশে বসে পর্ন আর টিকটক দেখছিলেন মা
মিসৌরিতে গাছে ডাক্ট টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে রাখা ইগুয়ানা উদ্ধার, পানিশূন্যতা ও প্রচণ্ড মানসিক চাপে প্রাণীটি
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ন মজুরি বেড়ে ১৭ দশমিক ৪০ ডলারে উন্নীত হবে। শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। ক্যালিফোর্নিয়ার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বনিম্ন মজুরি সমন্বয় করা হয়। সেই ব্যবস্থার আওতাতেই নতুন এই হার কার্যকর হবে। নতুন হার কার্যকর হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যের বর্তমান সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন মজুরির মধ্যে থাকবে। একই সঙ্গে এটি ফেডারেল সরকারের নির্ধারিত ঘণ্টাপ্রতি ৭ দশমিক ২৫ ডলারের সর্বনিম্ন মজুরির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ঘোষণার সময় গভর্নর গ্যাভিন নিউজম কেন্দ্রীয় সরকারের মজুরি নীতির সমালোচনা করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা ফেডারেল সর্বনিম্ন মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগে বাধা দিয়েছেন, অথচ বড় বড় করপোরেশন ও ধনীদের জন্য কর ছাড় অব্যাহত রেখেছেন। নিউজম বলেন, ক্যালিফোর্নিয়া ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। এখানে কঠোর পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার ভাষায়, যারা পরিশ্রম করেন, তারা সম্মানজনক আয় পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে গভর্নরের এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্কট মেয়ার বলেন, ফেডারেল সর্বনিম্ন মজুরির সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ অঙ্গরাজ্যটিতে অনেক আগেই নিজস্ব মজুরি কাঠামো কার্যকর হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সর্বনিম্ন মজুরি যত বাড়বে, তত বেশি প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় সেলফ-চেকআউট বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। এতে নতুন ও স্বল্প অভিজ্ঞ কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে। এর আগে গত ১ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও নির্ধারিত মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী তাদের সর্বনিম্ন ঘণ্টাপ্রতি মজুরি এখন ১৯ দশমিক ২৮ ডলার থেকে ২৫ ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। গভর্নর নিউজমের আমলে মজুরি বৃদ্ধির এটি প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগে তার প্রশাসন ফাস্টফুড খাতের কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ২০ ডলার সর্বনিম্ন মজুরি কার্যকর করেছিল। তবে এ নীতির বিরোধীরা বলছেন, মজুরি বৃদ্ধির ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করেছে, কিছু ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে। এমপ্লয়মেন্ট পলিসিজ ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক রেবেকা প্যাক্সটন বলেন, সর্বোচ্চ মজুরি নির্ধারণকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হলেও এর বাস্তব প্রভাব ভিন্ন। তার দাবি, ফাস্টফুড খাতে ২০ ডলারের সর্বনিম্ন মজুরি চালুর পর হাজার হাজার চাকরি হারিয়েছে, অনেক ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়েছে এবং ভোক্তাদের খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসেম্বলি রিপাবলিকান ককাস এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রতিটি বাসিন্দাই বেতন বৃদ্ধি চান। কিন্তু একই সঙ্গে যদি জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে থাকে, তাহলে সেই বাড়তি আয়ের সুফল অনেকটাই কমে যায়। তাদের মতে, নতুন মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা উদযাপনের বদলে অঙ্গরাজ্যে কেন জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যের সিনেটর টনি স্ট্রিকল্যান্ডও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা আগেই কঠিন হয়ে উঠেছে। নতুন করে সর্বনিম্ন মজুরি বাড়ানো হলে বিশেষ করে ছোট ও পারিবারিক মালিকানাধীন ফাস্টফুড ব্যবসাগুলো আরও বেশি চাপে পড়বে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি কর্মীদের আয় বাড়াতে সহায়ক হলেও একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও বাড়ায়। ফলে এর প্রভাব কর্মসংস্থান, পণ্যের দাম এবং ভোক্তা ব্যয়ের ওপর কীভাবে পড়বে, তা নির্ভর করবে বিভিন্ন খাতের ব্যবসা ও শ্রমবাজারের বাস্তব পরিস্থিতির ওপর।
নর্থ ক্যারোলিনায় বাবাকে কুপিয়ে হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২০ বছরের তরুণী, সামনে এলো ভয়ংকর ফেসবুক স্ট্যাটাস
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, আদালতে পরিবারের মুখোমুখি হতেও ভয় ঘাতকের
মার্কিন প্রবীণদের জন্য সুখবর, মাসে ৭৭ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে রুটিন চেক-ইন করার সময় হোসে গ্রেগোরিও গঞ্জালেস নামের এক ভেনেজুয়েলান অভিবাসীকে আবারও আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। প্রায় এক বছর আগে নিজের ছোট ভাইকে কিডনি দিয়ে তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন হোসে। গত ২১ জুলাই তাকে আটক করা হয়। গত এপ্রিল মাসে এক বছরের ‘মানবিক প্যারোল’-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে তিনি আইসিই-এর নিবিড় নজরদারি কর্মসূচির অধীনে ছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছিলেন। তার আইনজীবী পিটার মেইনেকে জানিয়েছেন, হোসের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি নজরদারির সব নিয়ম মেনেই চলছিলেন, তাই নিঃস্বার্থ এই মানুষটিকে এভাবে আটক করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ছোট ভাই হোসে আলফ্রেডো পাচেকো গত আগস্টে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকে বড় ভাই হোসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। সম্প্রতি একটি মেডিকেল চেকআপ শেষে পাচেকো তার ভাইকে আনতে যাওয়ার কথা জানিয়ে টেক্সট করলে হোসে শুধু লেখেন, "ভাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তারা আমাকে নির্বাসনে (ডিপোর্ট) পাঠাতে যাচ্ছে।" এই মেসেজ পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন পাচেকো। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, হোসে শুধু তার বড় ভাই নন, তার একমাত্র দেখভালকারীও। তাকে ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে একা হয়ে যাওয়ার চরম আতঙ্কে ভুগছেন পাচেকো। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসেও হোসেকে আটক করেছিল আইসিই, যার ফলে তার ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপন বাধাগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সে সময় শিকাগোবাসীর ব্যাপক আন্দোলনের মুখে মানবিক কারণে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয় এবং আগস্টে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হোসে ২০২৩ সালের জুনে প্রথমবার অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করে বিতাড়িত হন। পরবর্তীতে ভাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি পুনরায় প্রবেশ করেন। তার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হলেও তাকে গোড়ালি-মনিটর পরিয়ে দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ডিএইচএস-এর মতে, প্যারোলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেখানে অবস্থান করে তিনি দেশের আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার আইনজীবী নির্বাসন ঠেকাতে পুনরায় মানবিক প্যারোলের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্তমানে হোসেকে মিসৌরির একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং তাকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই সিদ্ধান্ত হোসে ও তার ভাই উভয়ের জীবনের জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাচেকো কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকে বেশ কিছু জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং জানুয়ারিতে মারাত্মক রক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, কিডনি দাতা হিসেবে হোসেরও নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এমনিতেই ভঙ্গুর, তার ওপর সম্প্রতি শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এত কিছুর পরও আটক কেন্দ্র থেকে ফোন করে ছোট ভাইকে নিজের জন্য দুশ্চিন্তা না করার সান্ত্বনা দিয়েছেন হোসে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ১০ ফুটের বিশাল ট্রফি
বৈধ স্ট্যাটাস থাকা সত্ত্বেও মেক্সিকোতে নির্বাসন, পরে ড্যাকা বাতিল; আদালতে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা