বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী হচ্ছে মার্কিন ভিসা বন্ড, জমা দিতে হতে পারে ২০ হাজার ডলার
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা চাইতে পারবেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার অনলাইনে প্রকাশিত এক ফেডারেল নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, নতুন নিয়ম বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এই দুই ধরনের ভিসা ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে আওতাভুক্ত অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন।
এতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের পরীক্ষামূলক ভিসা বন্ড কর্মসূচি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ট্রেজারি বিভাগকে কর্মসূচিটির কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুযোগ দিয়েছে। ওই কর্মসূচি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা ভিসাধারীদের নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে কার্যকর বলে মনে হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড চাইতে পারতেন। তবে নতুন চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
চূড়ান্ত এই নিয়ম ৩ আগস্ট ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হবে। কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে এ নীতি নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন-অধিকারকর্মীদের মতে, এ নিয়মের কারণে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক অনেক আবেদনকারী নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
সূত্র: রয়টার্স
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নয়জন সদস্যের পদোন্নতি উপলক্ষে অভিনন্দন ও সম্মাননা জানিয়েছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন বাপা। সংগঠনটির মতে, সদস্যদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান পেশাগত সাফল্য ও নেতৃত্বের প্রতিফলন। গতকাল শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ সদর দপ্তর ওয়ান পুলিশ প্লাজায় অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক পদোন্নতি অনুষ্ঠানে তারা নতুন পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পদোন্নতি পাওয়া সদস্যদের মধ্যে সার্জেন্ট পদে উন্নীত হয়েছেন ইফতেখারুল আলম, মোহাম্মদ এরফান, তৌহিদুল আলম এবং এম. ডি. এস. ইসলাম। লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন তানিম এ. চৌধুরী ও মোহাম্মদ এ. কাদের। এছাড়া অ্যাসোসিয়েট ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল–১ পদে উন্নীত হয়েছেন মাহমুদ হাসান, শিকান্দার এম. হক এবং সৈয়দ এম. হাদি। এক অভিনন্দন বার্তায় বাপা জানায়, নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের সেবায় তাদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদোন্নতি এসেছে। সংগঠনটি নবপদোন্নতিপ্রাপ্ত সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছে, নতুন দায়িত্বেও তারা একই নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে জনগণের সেবা করবেন। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একটি পেশাজীবী সংগঠন। সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করতে সংগঠনটি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া কমিউনিটি ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি, নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং তরুণ প্রজন্মকে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যোগদানে উৎসাহিত করতে বাপা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে তাদের সদস্যদের পেশাগত অর্জন, পদোন্নতি, বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। বাপার নেতাদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি সদস্যদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক অবদানও বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তাদের অনেকেই এখন তদারকি ও নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই নয় সদস্যের পদোন্নতিকেও সেই অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী হচ্ছে মার্কিন ভিসা বন্ড, জমা দিতে হতে পারে ২০ হাজার ডলার
'দুই মাসেই পেয়েছি গ্রিন কার্ড', মার্কিন সেনাকে বিয়ে করা ভারতীয় নারীকে ঘিরে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ইসলাম ও আরব স্টাডিজ শেখাতে নতুন কারিকুলাম
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মার্কিন সেনাসদস্য সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারা র্যাম্পারসাডের শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও অনুষ্ঠানজুড়ে তার নাম আর ঘোষণা করা হয়নি। শুক্রবার নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজোন পার্কের ক্যালভারি অ্যাসেম্বলি অব গড গির্জায় র্যাম্পারসাডের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডসসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেন। তবে উপস্থিত থাকলেও মামদানিকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, মামদানি নিজের প্রস্তুত করা বক্তব্য একটি ট্যাবলেটে দেখছিলেন এবং বক্তব্য দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। একে একে অন্যদের নাম ঘোষণা হলেও তার নাম আর ডাকা হয়নি। পরে তিনি ট্যাবলেট গুটিয়ে রেখে দেন। শেষকৃত্যের আয়োজনে যুক্ত একটি সূত্রের দাবি, র্যাম্পারসাডের পরিবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক হওয়ায় তারা মামদানিকে বক্তব্য দিতে চাননি। আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, পরিবারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারা র্যাম্পারসাড গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনাসদস্যের একজন ছিলেন। নিউইয়র্কের ওজোন পার্কে বেড়ে ওঠা র্যাম্পারসাড জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিস থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পেলেও শেষকৃত্যের জন্য প্রস্তুত করা নিজের বক্তব্য পরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করে মামদানির কার্যালয়। সেখানে তিনি র্যাম্পারসাডের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি নিজের ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এবং দেশের প্রতি তার এই আত্মত্যাগ কখনো ভোলা যাবে না। শেষকৃত্যে শত শত স্বজন, প্রতিবেশী, সহকর্মী সেনাসদস্য ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পুলিশের সদস্যরা র্যাম্পারসাডের কফিন শববাহী গাড়িতে তোলেন। পরে দীর্ঘ শোভাযাত্রার মাধ্যমে তার মরদেহ লং আইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে সমাহিত করা হয়।
ওহাইওতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাড়ি ধ্বংস, কারণ খুঁজছে দমকল ও তদন্তকারীরা
যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টজুড়ে ছাঁটাইয়ের ঢেউ, যে শতাধিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরি হারানোর শঙ্কা
গোপন অঙ্গে লুকানো কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় যাত্রী বিমানবন্দরে আটক
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি পরিবার ভালো আয় করলেও মাস শেষে সঞ্চয় করতে পারেন না। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কোনো খরচ নয়; বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট ব্যয়ই মাস শেষে বড় অঙ্কে পরিণত হয়। পরিকল্পিত ব্যয় ও সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে একই আয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয় বাইরে খাবার খাওয়া এবং খাবার ডেলিভারি অ্যাপ ব্যবহারে। সপ্তাহে কয়েকবার ডোরড্যাশ বা উবার ইটসের মতো সেবায় অর্ডার দিলে মাসিক ব্যয় কয়েকশ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা অনেক পরিবারের বাজেটে বড় চাপ তৈরি করে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশনও অনেকের অজান্তেই নিয়মিত অর্থ কেটে নিচ্ছে। নেটফ্লিক্স, হুলু, ইউটিউব প্রিমিয়াম, স্পটিফাই, আইক্লাউড বা জিম সদস্যপদ—একাধিক সেবা চালু থাকলেও বাস্তবে অনেকগুলোই নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। গাড়ির বীমার ক্ষেত্রেও তুলনামূলক যাচাই না করায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে মনে করছেন আর্থিক পরামর্শকরা। একই ধরনের কভারেজের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রিমিয়ামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে। নির্দিষ্ট সময় পরপর নতুন কোটেশন তুলনা করলে ব্যয় কমানো সম্ভব। খাদ্য অপচয়ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবারের বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ। বিশেষ করে বড় পরিমাণে বাজার করার পর সময়মতো ব্যবহার না করায় অনেক খাবার নষ্ট হয়ে যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মোট খাদ্যের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অপচয় হয়, যা পরিবারগুলোর জন্যও বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ। অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে শুধু ন্যূনতম কিস্তি পরিশোধ করলে উচ্চ সুদের কারণে ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা তাই সম্ভব হলে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। দৈনন্দিন কেনাকাটায় পরিচিত ব্র্যান্ডের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য স্টোর ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে খরচ কমানো সম্ভব। একই ধরনের মানের পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে ভোক্তা বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত অনেকের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে আকস্মিকভাবে পণ্য কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক সব খরচ লিখে রাখা, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার আগে অন্তত ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয় হিসাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করলে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়। তারা মনে করেন, আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতন ব্যয় ও পরিকল্পিত সঞ্চয়ই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
২০ বছর পর নাজমুননেসার নাগরিকত্ব কেন কেড়ে নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র!
সৌদির ৮ জাহাজকে আটকে দিলো ইরানের মিত্ররা, লোহিত সাগরে উত্তেজনা চরমে