ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরে নামার পর নিখোঁজ, এক সপ্তাহ পর মিলল হাঙরের শিকার ট্রায়াথলেটের মরদেহ
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরে উপকূলে সাঁতার কাটার সময় নিখোঁজ হওয়া এক নারী ট্রায়াথলেটের মৃত্যুর মর্মান্তিক কারণ প্রকাশ পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ৫৫ বছর বয়সী এরিকা ফক্স একটি হাঙরের ভয়ংকর হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৪ জন সঙ্গীর সাথে মন্টেরে-এর বরফশীতল জলে সাঁতার কাটার সময় তিনি নিখোঁজ হন। এক সপ্তাহ পর সান্তা ক্রুজ কাউন্টির ডেভেনপোর্ট বিচের কাছে প্রায় ২৫ মাইল দূরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার পরনে থাকা কালো রঙের ওয়েটসুটটি আংশিক ছেঁড়া অবস্থায় ছিল।
সান্তা ক্রুজ কাউন্টির শেরিফ-করোনার অফিস চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, হাঙরের কামড়ের ফলে সৃষ্ট গভীর ক্ষত ও পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণেই এরিকার মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, তার পেট থেকে হাঁটু পর্যন্ত হাঙরের দাঁতের অর্ধবৃত্তাকার ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাঙরের একটিমাত্র কামড়ে তার পেলভিস বা শ্রোণিচক্র ভেঙে যায় এবং একটি প্রধান ধমনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির শার্ক ল্যাবের মেরিন বায়োলজির অধ্যাপক ক্রিস লোয়ে ধারণা করছেন, হাঙরটি হয়তো এরিকাকে কোনো সিল বা সি লায়ন ভেবে ভুল করেছিল। তার মতে, হাঙরের বিশাল আকারের কারণে প্রথম আঘাতেই এরিকা সম্ভবত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।
স্বামী জিন-ফ্রান্সিস ভ্যানরিউসেলের সাথে প্যাসিফিক গ্রোভে 'কেল্প ক্রলারস' নামের একটি সুইমিং ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এরিকা। মর্মান্তিক ওই ঘটনার দিন তিনি এই ক্লাবের সাপ্তাহিক সাঁতারে অংশ নিচ্ছিলেন। হঠাৎ পানিতে বিশাল একটি শব্দ (স্প্ল্যাশ) শুনে সাঁতারুরা হাঙরের আক্রমণের আশঙ্কা করেন। বাকিরা নিরাপদে তীরে ফিরতে পারলেও এরিকার আর খোঁজ মেলেনি। কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, সে সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা একটি হাঙরকে তার মুখে মানুষের শরীর নিয়ে পানিতে ডুব দিতে দেখেছিলেন, যা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এরিকা ফক্স একসময় তার সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রেট হোয়াইট শার্কের পাশে একজন ডুবুরির সাঁতার কাটার ছবি শেয়ার করে মজা করে লিখেছিলেন, 'এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী (মানুষ), আর তার পাশেই একটি হাঙর শান্তভাবে সাঁতার কাটছে।' তার মৃত্যুর পর কেল্প ক্রলারসের ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অনেকেই শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি হাঙরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে শিকারের মতো দেখতে কালো ওয়েটসুটের বদলে ভিন্ন রঙের বা ওর্কা (কিলার হোয়েল) প্যাটার্নের ওয়েটসুট তৈরির দাবি তুলেছেন। কেউ কেউ আবার এলইডি লাইট ব্যবহার করে হাঙর তাড়ানোর আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার কথাও উল্লেখ করেছেন। ২০২২ সালের জুনের পর লাভার্স পয়েন্টে এটি তৃতীয় হাঙরের আক্রমণ। এর আগে কেল্প ক্রলারসের আরেক সদস্য ৬২ বছর বয়সী স্টিভ ব্রুমার হাঙরের হামলায় গুরুতর আহত হলেও সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreজুলাই মাসের শেষ ভাগের অস্বস্তিকর গরমের পর এবার পুরো ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহান্তে উত্তর ও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাবে, যা রাজ্যের জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। মূলত রোববারে গরমের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূল থেকে দূরের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ভয়াবহ রূপ নেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস মূল শহরে তাপমাত্রা ৮০-এর কোঠার ওপরের দিক থেকে ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকলেও, সান ফার্নান্দো ভ্যালির বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভ্যালি অঞ্চলে তাপমাত্রা অনায়াসেই তিন অঙ্কের ঘরে (ট্রিপল ডিজিট) পৌঁছে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) তাদের এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপের কারণে হিট স্ট্রোক ও চরম ক্লান্তির মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সকাল বা সন্ধ্যার আগে বাড়ির বাইরে যেকোনো ধরনের পরিশ্রমের কাজ থেকে বিরত থাকা এবং প্রচুর পানি পানের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এই চরম আবহাওয়া সতর্কতা বহাল থাকবে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের হাইড্রেটেড থাকার পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবেশী দুর্বল সদস্যদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইতিমধ্যে গত বৃহস্পতিবার ল্যাঙ্কাস্টার ও পামডেলের মতো অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে এবং শুক্রবার পাম স্প্রিংসে তা ১১০ ডিগ্রিতে গিয়ে ঠেকেছে। শনিবারের জন্য পূর্ব সান গ্যাব্রিয়েল পর্বতমালায় ৯১ থেকে ১০১ ডিগ্রি তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়। পিছিয়ে নেই উত্তর ক্যালিফোর্নিয়াও; স্যাক্রামেন্টোসহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে ইউএস ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা জানিয়েছে যে, স্যাক্রামেন্টো ভ্যালির অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা ৯০-এর কোঠায় থাকলেও উত্তরাংশে তা ১০০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। অস্বাভাবিক এই তাপমাত্রা ও শুষ্ক বাতাসের সংমিশ্রণ পুরো ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি তৈরি করেছে। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দমকল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ইঞ্জিন ও কর্মী মোতায়েন করছে। সপ্তাহান্তের পর গরমের তীব্রতা সামান্য কমার পূর্বাভাস থাকলেও, আগামী পুরো সপ্তাহজুড়েই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরে নামার পর নিখোঁজ, এক সপ্তাহ পর মিলল হাঙরের শিকার ট্রায়াথলেটের মরদেহ
নিউইয়র্কে আবাসন সংকটের সমাধানে পড়ে থাকা সরকারি জমিতে ৫০ হাজার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা মামদানির
মেড ইন ইউএসএ দেখলেই কি সত্যিই আমেরিকায় তৈরি? অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্যের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ঐতিহাসিক ফ্ল্যাটআয়রন ভবন নতুন রূপে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সংস্কারের পর ত্রিভুজ আকৃতির বিখ্যাত এই ভবনটি এবার আবাসিক ভবন হিসেবে চালু হচ্ছে, যেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্টের দাম উঠছে সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ১৯০২ সালে নির্মিত ফ্ল্যাটআয়রন ভবনটি একসময় নিউইয়র্কের অন্যতম আলোচিত স্থাপনা ছিল। ভবনের বিশেষ আকৃতির কারণে ওপর থেকে এটি কাপড় ইস্ত্রি করার যন্ত্রের মতো দেখতে হওয়ায় এর নাম হয় ফ্ল্যাটআয়রন। দীর্ঘদিন এটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হলেও এখন এর নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে আবাসিক ভবন হিসেবে। প্রায় সাত বছর ধরে সংস্কারের পর ভবনটির বাইরের অংশ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। নতুন ফ্ল্যাটআয়রনে মোট ৩৬টি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে। এর মধ্যে কিছু অ্যাপার্টমেন্ট পুরো একটি ফ্লোরজুড়ে তৈরি করা হয়েছে। ভবনে থাকছে বড় লবি, সুইমিং পুল এবং বিনোদনের জন্য আলাদা কক্ষ। সংস্কারের সময় ভবনের ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নকশায় ভবনের পুরোনো ইস্পাত কাঠামোর অংশ বিশেষ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যা নির্মাণের সময়কার আধুনিক প্রযুক্তির নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। ভবনের একটি চার বেডরুম ও চার বাথরুমের অ্যাপার্টমেন্টে আধুনিক নকশার পাশাপাশি মার্বেল ও ধাতব উপকরণের ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে পুরো ওপরের তলার অ্যাপার্টমেন্টটিকে, যার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। ওই সর্বোচ্চ দামের অ্যাপার্টমেন্টে রয়েছে পাঁচটি বেডরুম, পাঁচটি বাথরুম, সনা, দুটি পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ, ডাইনিং রুম, নাশতার কক্ষ এবং ৭২ ফুট দীর্ঘ বড় কক্ষ। এর ক্রেতার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফ্ল্যাটআয়রন ভবনের মালিক প্রতিষ্ঠান ব্রডস্কি অর্গানাইজেশনের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ড্যানিয়েল ব্রডস্কি বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংস্কার করা কঠিন হলেও এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যই এটিকে মূল্যবান করে তুলেছে। ভবনটির বাইরের টেরাকোটা ও চুনাপাথরের অংশও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সংস্কারকাজে বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার করে ভবনের পুরোনো নকশার সঙ্গে মিল রেখে হাজারো টেরাকোটা অংশ নতুন করে তৈরি ও স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাণের পর প্রথম দিকে ফ্ল্যাটআয়রন ভবন নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, ভবনটির সরু আকৃতির কারণে এটি পড়ে যেতে পারে। আবার এর বিশেষ আকৃতির কারণে আশপাশে বাতাসের প্রবাহ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে ভবনটি নিউইয়র্কের অন্যতম পরিচিত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে নতুন আবাসিক রূপে ফিরলেও এর উচ্চমূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর নাগালের বাইরে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত আদালত শুনানিতে বাড়ছে অভিবাসীদের বহিষ্কারের আদেশ
টেসলা ও ক্লাউডকিচেনসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এআইভিত্তিক কোম্পানি গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী
যুক্তরাষ্ট্রের এক এমআরআইয়ের খরচেই চীনে বিমান ভ্রমণ, পাঁচতারকা হোটেল ও চিকিৎসা!
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে অনেক বাসিন্দা এখন ‘নো-স্পেন্ড ডে’ বা ‘শূন্য খরচের দিন’ ধারণাকে বেছে নিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই—প্রয়োজনীয় যাতায়াত ছাড়া পুরো দিনটি কোনো অর্থ ব্যয় না করে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা এবং বিনা মূল্যের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানো। নিউইয়র্ক পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রবণতায় অংশ নেওয়া অনেকেই বাড়িতে কফি বা ম্যাচা তৈরি করে দিন শুরু করেন। এরপর সেন্ট্রাল পার্কে হাঁটা, বিনা মূল্যের জাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি ঘুরে দেখা, নিজস্ব খাবার নিয়ে পিকনিক করা কিংবা শহরের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে সময় কাটিয়েই দিন উপভোগ করেন। নিউইয়র্কের বাসিন্দা অ্যালি গিবসন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জনপ্রিয় হওয়ার আগেই তিনি এমনভাবে দিন কাটানো শুরু করেছিলেন। তার ভাষায়, নিউইয়র্কের আসল সৌন্দর্য পার্ক, স্থাপত্য, রাস্তার প্রাণচাঞ্চল্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে, যা উপভোগ করতে সব সময় অর্থের প্রয়োজন হয় না। তিনি দাবি করেন, গত ১৩ বছরে এভাবে চলার মাধ্যমে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পেরেছেন। গিবসনের পছন্দের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির রোজ মেইন রিডিং রুম, চেলসির আর্ট গ্যালারি, হাই লাইন, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ফেরি এবং গ্রীষ্মকালে সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত বিনা মূল্যের ‘শেকসপিয়র ইন দ্য পার্ক’ নাট্য প্রদর্শনী। টিকিট না পেলে তিনি ব্রায়ান্ট পার্কের ফ্রি মুভি নাইট, উন্মুক্ত কনসার্ট কিংবা পার্কে বসে মানুষজনের চলাফেরা দেখেও সময় কাটান। ‘এনওয়াইসি ফর ফ্রি’ নামের প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা রেবেকা গেটি বলেন, নিউইয়র্কে নিয়মিত বিভিন্ন ফ্যাশন পপ-আপ, বিউটি ইভেন্ট ও প্রচারণামূলক আয়োজন হয়, যেখানে কোনো অর্থ ছাড়াই অংশ নেওয়া যায়। তার মতে, আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করলে প্রায় প্রতি সপ্তাহান্তেই বিনা খরচে উপভোগ করার মতো নানা সুযোগ পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে সীমিত আয়ের কারণে ব্রিয়ান এলিয়ট বাড়িতে রান্না করেন, বন্ধুদের সঙ্গে নিজস্ব খাবার নিয়ে পিকনিক করেন, বিনা মূল্যের রানিং ক্লাবে অংশ নেন এবং নির্দিষ্ট দিনে ফ্রি প্রবেশের সুযোগ থাকা জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখেন। এমনকি প্রতিবেশীরা ফেলে দেওয়া ব্যবহারযোগ্য আসবাব সংগ্রহ করেও তিনি দৈনন্দিন খরচ কমিয়ে আনেন। আরেক বাসিন্দা এরিক চ্যানের মতে, নিউইয়র্ক এমন একটি শহর, যেখানে কোথায় কী পাওয়া যায় তা জানা থাকলে কোনো অর্থ ব্যয় না করেও দারুণ সময় কাটানো সম্ভব। তিনি বাড়ির তৈরি কফি নিয়ে বের হওয়া, সেন্ট্রাল পার্কের বিনা মূল্যের সামারস্টেজ কনসার্ট, পিয়ার–২৬–এ ফ্রি কায়াকিং এবং ব্রুকলিন ব্রিজে হাঁটাকে নিজের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। এ ছাড়া শিশুদের জন্য নিউইয়র্ক সিটি পার্কসের বিনা মূল্যের খেলাধুলা, ব্রায়ান্ট পার্কের স্টোরিটাইম এবং ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কের উন্মুক্ত শিল্পচর্চার মতো আয়োজনও পরিবারের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, একটু পরিকল্পনা ও তথ্য থাকলেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই নিউইয়র্ক শহরের অনেক আকর্ষণীয় স্থান ও কার্যক্রম উপভোগ করা সম্ভব।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ সদস্যের পদোন্নতি উদযাপন করল বাপা
বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী হচ্ছে মার্কিন ভিসা বন্ড, জমা দিতে হতে পারে ২০ হাজার ডলার