নিউইয়র্কে আবাসন সংকটের সমাধানে পড়ে থাকা সরকারি জমিতে ৫০ হাজার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা মামদানির
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকায় একটি ডাবল-ডেকার বাসে চড়ে সম্প্রতি নগরবাসীকে এমন কিছু দেখিয়েছেন মেয়র মামদানি, যা সাধারণত আগের মেয়ররা আড়াল করতেই পছন্দ করতেন। বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা সরকারি জমিগুলোকে এবার আবাসনের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। নগরীর প্রায় ১০০টি এমন স্থানে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার বাড়ি নির্মাণের বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু জায়গাও রয়েছে, যার জন্য ২০১৮ সালে জমি পুনঃনির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা কখনোই আলোর মুখ দেখেনি।
নিউইয়র্কের পূর্ববর্তী দুই মেয়র আবাসন সংকট মেটাতে অব্যবহৃত সরকারি জমি চিহ্নিত করলেও সেখানে কোনো ভবন নির্মাণ করে যেতে পারেননি। তবে মেয়র মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেন। ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে নিউইয়র্কবাসী যখন শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, তখন এই টাস্কফোর্সের একমাত্র কাজ ছিল শহরের পড়ে থাকা প্রতিটি সরকারি জমি খুঁজে বের করা। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মেয়র জানান, দীর্ঘকাল ধরে পড়ে থাকা বা বিলম্বিত হওয়া এই জায়গাগুলোর উন্নয়নকাজ কীভাবে দ্রুততর করা যায়, সেটাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাসের মাথায় মামদানির প্রশাসন একটি অনলাইন ট্র্যাকার চালু করেছে। এর মাধ্যমে নিউইয়র্কবাসী এখন নিজ চোখেই এসব প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে পারবেন। এটি কেবল কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ফাঁকা বুলি নয়। পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর আমলে প্রায় এক দশক ধরে পড়ে থাকা জমিগুলোতে অবশেষে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, প্রতি বছর অন্তত পাঁচটি নতুন সাইটের জন্য তারা উন্নয়নের প্রস্তাবনা প্রকাশ করবে।
এখন আর নগরবাসীকে সিটি হলের কথার ওপর অন্ধবিশ্বাস রাখতে হবে না। ট্র্যাকারের মাধ্যমে যে কেউ রিয়েল-টাইমে দেখতে পারবেন তাদের পাশের রাস্তার পড়ে থাকা জমিটির কী অবস্থা। মেয়রের আবাসন বিষয়ক ডেপুটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শহরে এখন আর সহজে কাজ করার মতো খালি জায়গা খুব একটা অবশিষ্ট নেই; আগের প্রশাসনগুলোর ফেলে রাখা জটিল জায়গাগুলো নিয়েই তাদের কাজ করতে হচ্ছে। কোনো ডেভেলপারকে বছরের পর বছর জমি ফেলে রাখার সুযোগ না দিয়ে, সরকারি জমিকে সত্যিকার অর্থে জনগণের সম্পদ হিসেবে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, মেয়র মামদানির এই ৫০ হাজার বাড়ির উদ্যোগ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম সামাল দিতে তিন বছরেরও বেশি সময় পর বেঞ্চমার্ক সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেড কর্মকর্তারা সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে পারেন। আগস্ট মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যের চেয়ে অনেক বেশি। তাই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদের হার কমানোর ধারাবাহিক আহ্বান সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেড এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় দেশটিতে জ্বালানির দাম সম্প্রতি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রিপল-এ (AAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম গ্যালন প্রতি ৬ দশমিক ২৭ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং গ্যাসোলিনের দাম ৪ দশমিক ৩৩ ডলারে পৌঁছেছে। জনসন ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্র্যান্ডন জুরেইক জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম ও অর্থনীতি এমন শক্তিশালী অবস্থানে থাকলে আগামী কয়েক মাসে আরও এক-দুটি সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে জ্বালানির দাম কমে আসতে পারে, যা ফেডকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সাহায্য করবে। ফেডারেল রিজার্ভের এই সিদ্ধান্তের পরপরই ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানা গেছে। সুদের হার বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনে মিশ্র প্রভাব পড়বে। লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বা এপিআর (APR) এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। ফলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের মাসিক খরচ কিছুটা বেড়ে যাবে। তবে ঋণগ্রহীতাদের জন্য এটি অস্বস্তিকর হলেও সঞ্চয়কারীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে এই সিদ্ধান্ত। উচ্চ-ফলনশীল সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং সিডি (CD) থেকে সঞ্চয়কারীরা এখন আগের চেয়ে ভালো মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ফেডের এই পদক্ষেপে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা কম, কারণ বাজার আগে থেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। তারপরও ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীদের তাদের পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন বিমানবন্দরে পাসপোর্ট ছাড়াই ইমিগ্রেশন, বিদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক চেক
নিউইয়র্ক ছাড়াও আমেরিকায় ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’ দেশি খাবার ও বাজারে জমজমাট আড্ডা
ইসরায়েলের কথামতো মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: ট্রাম্পের পক্ষে জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের অভিযান ও নজরদারি জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন নিয়মের কারণে প্রায় ২ লাখ নন-ডমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএলধারী চালকের লাইসেন্স ভবিষ্যতে হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। এ বিষয়টি এখন ফেডারেল আপিল কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ট্রাক স্টপ, ওয়েই স্টেশন ও অন্যান্য স্থানে চালকদের কাগজপত্র এবং অভিবাসন স্ট্যাটাস যাচাই করছে। এসব অভিযানে বিদেশে জন্ম নেওয়া কিছু ট্রাকচালককে আটকও করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক চালকের আইনি পরিস্থিতি এক নয়। কারও ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি আলাদা ফৌজদারি অভিযোগ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও থাকতে পারে। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএমসিএসএ নন-ডমিসাইলড সিডিএল নিয়ে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। ১৬ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে বিদেশে ডমিসাইল থাকা ব্যক্তিদের নন-ডমিসাইলড সিডিএল পাওয়ার যোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট এইচ-২এ, এইচ-২বি এবং ই-২ ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন স্ট্যাটাসধারীরাই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এই লাইসেন্স পেতে পারেন। এফএমসিএসএর যুক্তি, নতুন নিয়মের মাধ্যমে চালকদের পরিচয়, বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস এবং আগের ড্রাইভিং রেকর্ড আরও ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। সংস্থাটি বলছে, বিদেশি ড্রাইভারদের আগের ড্রাইভিং রেকর্ড যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং নতুন ব্যবস্থা সেই ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে। নতুন নিয়মের কারণে কিছু পুরোনো নন-ডমিসাইলড সিডিএলও পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। এফএমসিএসএ অঙ্গরাজ্যগুলোকে এমন লাইসেন্স শনাক্ত করে বাতিল বা ডাউনগ্রেড করার নির্দেশনা দিয়েছে, যেগুলো ইস্যুর সময়কার ফেডারেল নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরও যেসব লাইসেন্স বর্তমান শর্ত পূরণ করছে না, সেগুলোও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডাউনগ্রেড বা বাতিল হতে পারে। তবে এই নীতির বিরোধীরা বলছেন, শুধু একজন চালকের অভিবাসন স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে তাকে সড়ক নিরাপত্তার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখানোর যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাদের যুক্তি, ড্রাইভিং রেকর্ড সরাসরি যাচাইয়ের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অভিবাসন শ্রেণির চালকদের লাইসেন্সের যোগ্যতা সীমিত করা হচ্ছে। এই বিতর্ক এখন আদালতে। ১৫ সেপ্টেম্বর ডিসি সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে নতুন নিয়ম নিয়ে শুনানি হয়েছে। বিচারকেরা সরকারের আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিবাসন স্ট্যাটাসের সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই নিয়মের মাধ্যমে এত বড় একটি চালকগোষ্ঠীকে সীমিত করার প্রয়োজনীয়তা কী। ট্রাকিং শিল্পে এর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো চালক নন-ডমিসাইলড সিডিএলের যোগ্যতা হারালে বাণিজ্যিক ট্রাক চালানোর কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে চালকদের কর্মসংস্থান, ট্রাকিং কোম্পানির জনবল এবং পরিবহন খাতে চালকের সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব আদালতের সিদ্ধান্ত এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ২ লাখের সংখ্যা মানে ২ লাখ চালকের সিডিএল ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে এমন নয়। বরং এই সংখ্যা নন-ডমিসাইলড সিডিএলধারীদের সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীকে বোঝায়। নতুন নিয়মের কারণে তাদের অনেকের লাইসেন্স নবায়ন, পুনরায় ইস্যু বা ধরে রাখার যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট চালক, ট্রাকিং কোম্পানি ও অঙ্গরাজ্যগুলো। আদালত নতুন নিয়ম বহাল রাখলে যোগ্যতা হারানো চালকদের সিডিএল নিয়ে আরও পদক্ষেপ হতে পারে। আর আদালত নিয়মটি বাতিল বা স্থগিত করলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে প্রায় ২ লাখ নন-ডমিসাইলড সিডিএলধারী চালকের জন্য আগামী সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তারেক রহমানকে ঘিরে নিউইয়র্কে দলীয় মতবিরোধ, সংবর্ধনা নিয়ে টানাপোড়েন; ক্যালিফোর্নিয়া সফরও বাতিল
ফেসবুকে পানির অভিযোগ করায় মাকে গ্রেপ্তার, ভেঙে দেওয়া হচ্ছে টেক্সাসের সেই পুলিশ বিভাগ
ভোটার তালিকা নিয়ে কড়াকড়ি, অবৈধ ভোটের অভিযোগে গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন সাত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। মঙ্গলবারের ভোটে ২২০-২০৪ ব্যবধানে ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশনটি পাস হয়। এটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা জোরদার করার তৃতীয় হাউস উদ্যোগ। রেজল্যুশনটি ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে হাউসে পাস হয়। এতে ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশনের ৫(সি) ধারার আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন ও মিত্রদের ঘাঁটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে রেজল্যুশনে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। রেজল্যুশনের পক্ষে ভোট দেওয়া সাত রিপাবলিকান হলেন কেনটাকির থমাস ম্যাসি, মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, সাউথ ক্যারোলিনার ন্যান্সি মেস, আইওয়ার মারিয়্যানেট মিলার-মিক্স এবং আইওয়ার জ্যাক নান। ম্যাসি, ব্যারেট, ডেভিডসন ও ফিটজপ্যাট্রিক আগের দুটি একই ধরনের রেজল্যুশনেও সমর্থন জানিয়েছিলেন। মেস, মিলার-মিক্স ও নান এবার প্রথমবারের মতো পক্ষে ভোট দেন। হাউসের সরকারি ভোটের হিসাবে রেজল্যুশনের পক্ষে ২১৩ জন ডেমোক্র্যাট ও সাতজন রিপাবলিকান ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ২০৩ জন রিপাবলিকান ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য। মোট ৯ জন ভোট দেননি। রেজল্যুশনটির পক্ষে থাকা ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে ছিলেন ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি শেথ মলটন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে যারা রেজল্যুশনের বিরোধিতা করেছেন, তাদের অনেকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চলমান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আইওয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি জ্যাক নান ভোটের পর বলেন, তিনি আরেকটি অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধে সমর্থন দেবেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার সুযোগ শেষ হয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এটি হাউসে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তৃতীয় ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন। জুন ও জুলাইয়েও একই ধরনের উদ্যোগ পাস হয়েছিল। তবে আগের রেজল্যুশনগুলো প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। নতুন রেজল্যুশনটি সিনেটে উঠবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। ইরান যুদ্ধের আর্থিক প্রভাবও কংগ্রেসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, আগস্ট ১ পর্যন্ত ছয় মাসের যুদ্ধের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে এবং প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। তবে হাউসের এই ভোটের পরই সামরিক অভিযান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। রেজল্যুশনটির কার্যকর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সিনেটের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাহী বিভাগের অবস্থানের ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন ওয়ার পাওয়ার্স আইনের প্রয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং এই ধরনের রেজল্যুশনের আইনি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কস্টকোতে মোটর অয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ, ক্রেতা কতটুকু তেল কিনবেন, তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ
সিজারিয়ান সন্তান জন্মের ১০ দিন পর নবজাতককে কোলে নিয়েই গ্র্যাজুয়েশনে মা